আমার প্রিয় পোস্ট

স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস না ভ্যালেন্টাইনস ডে? - দিবস বাণিজ্যে বিবশ তারুণ্য !

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৫২

শেয়ারঃ
0 123 0

১.
ফরাসি বিপ্লবের পর সে দেশের বুদ্ধিজীবিরা গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের বদলে একটা নতুন ক্যালেন্ডারের প্রস্তাব করেন যেটাতে ১২ মাসে বছর হবে ঠিকই, তবে প্রতিটি মাস আবার তিনটি দশকে বিভক্ত থাকবে। সেই ক্যালেন্ডারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল এই যে, প্রতিটি দিনের একটি বিশেষ নাম থাকবে; ফলে ৭ ই আগষ্ট লেখার বদলে শুধু ’বেগুন’ বা ’টমেটো’ লিখলেই চলতো! কারো জন্ম তারিখ ৭ ই আগষ্ট হলে তার জন্মতারিখের জায়গায় লেখা হতো 'বেগুন’। ব্যাপারটা একটু কেমন যেন তাই না! যাই হোক, ফরাসিরা ১৮০৮ সালে এসে সেই ক্যালেন্ডার বাতিল করে পুরাতন ক্যালেন্ডারে ফিরে আসে। স্বস্তি! স্বস্তি!

না, অত স্বস্তি পাওয়ার কিছু নেই! বোধহয় ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। এবার কেন্দ্র হলো যুক্তরাষ্ট্র। ক্যালেন্ডারের প্রায় প্রতিটা দিনই এখন একটা ’দিবস’, প্রতিটা দিনই এক একটা নামে পরিচিত। তবে ফরাসি তারিখের নামের সাথে বর্তমানের যুক্তরাষ্ট্রের এই দিবসের নামের একটা গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো এই যে, এই দিবসগুলোর উদ্যোক্তা ও পৃষ্ঠপোষক হলো বড় বড় কর্পোরেট কোম্পানি। যেমন: ন্যাশনাল হিস্টরি ডে’র স্পন্সর হলো ’হিস্টরি চ্যানেল’, আমাদের আলোচ্য ’ভ্যালেন্টাইনস ডে’ কিংবা ফ্রেন্ডশিপ ডে’র স্পৃষ্ঠপোষক হলো হলমার্ক, আর্চিস, ডিজনিল্যান্ড ইত্যাদি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো।(১৯৩৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ন্যাশনাল ফ্রেন্ডশিপ ডে’র স্বীকৃতি দেয়। এরপর ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘ ’উইনি দ্য পুহ’ কে অ্যাম্বাসেডর অব ফ্রেন্ডশিপ ঘোষণা করে। এখানে লক্ষণীয় যে, উইনি দ্য পুহ হলো একটি কার্টুন চারিত্র যেটিকে ওয়াল্ট ডিজনি সাহেব ১৯৫৮ সালে তার ডিজনি ওয়ার্ল্ড এর অন্তর্ভুক্ত করেন।)

’ফারেনহাইট ৯/১১’ খ্যাত পরিচালক মাইকেল মুর তার একটি টিভি শো'তে দেখিয়েছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কিভাবে কোনো একটি বিশেষ পণ্যের বিক্রি বাড়ানোর উদ্দেশ্যে কংগ্রেসম্যানদের টাকা খাইয়ে ঐ পণ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট কোন একটা দিবস ঘোষণা করা হয়। আর আমাদের দেশে তো আমরা দেখছি ভালেন্টাইনস ডে কিংবা ফ্রেন্ডশিপ ডে'তে হলমার্ক কিংবা আর্চিস গ্যালারির কার্ড বিক্রি কি পরিমাণ বেড়ে যায়!

২.
১৯১০ সালে জয়েস সি হলমার্ক যখন হলমার্ক নামের দোকান খুলে কার্ড ব্যাবসা শুরু করেন তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যৌথ পরিবারগুলো ভেঙে যাচ্ছে- বদলে গড়ে উঠেছে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অণু পরিবার। যেখানে পুঁিজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার চাপে দু’মুঠো অন্ন যোগাড় করতে গিয়ে মানুষকে দিনরাত পরিশ্রম করতে হচ্ছে; রুটি রুজির পেছনে ছুটতে গিয়ে মানুষ এক সময় দেখে যে, বাবা-মা, বন্ধু-বান্ধব সবাইকে ছেড়ে সে একা। অন্যদিকে যান্ত্রিক জীবন যাপন করতে গিয়ে সে হারিয়ে বসে আছে তার মননশীলতা, কেননা শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির চৌহদ্দি থেকে সে অনেক দূরে। ফলে সে তার নিজের গভীর আবেগ আর আগের মতো প্রকাশ করতে পারছে না। হলমার্ক সাহেব (এবং তার মতো আরো অনেক বুদ্ধিমান ব্যাবসায়ী) ঠিক এই অবস্থাটির সুযোগ নিল। হলমার্কের একটা বিশেষ গুণ ছিল যে, সে আবেগ অনুভুতির ব্যাপারগুলো অল্প কথায় বেশ গুছিয়ে প্রকাশ করতে পারতো। ফলে দারুণ দারুণ সব ডায়লগ লেখা কার্ডে বাজার ছেয়ে গেল এবং সেই কার্ডগুলো বিক্রয়ের উপলক্ষ তৈরী করতে আবির্ভূত হলো বিভিন্ন দিবস বা হলিডে।

৩.
কোন পণ্যের বিজ্ঞাপণ দুই পদ্ধতিতে দেয়া যায়। একটা পদ্ধতি বেশ সরাসরি- অমরা বেশ পরিস্কার বুঝি যে টিভিতে একটা বিজ্ঞাপন চলছে যখন কোন মিডিয়া স্টার নেচে গেয়ে কোন পণ্যের গুণকীর্তন করে এবং এক সময় বলে ’আমার সাফল্যের গোপন রহস্য’ হলো এই পণ্য কিংবা ’আমার আছে আপনার আছে কি?’ ইত্যাদি। এটাকে বলে ’পুশ’ করা , কোন পণ্যকে ক্রেতার চাহিদার তালিকায় ধাক্কা দিয়ে ঢোকানো।

আরেকটা পদ্ধতি হলো পরোক্ষ পদ্ধতি যেটাকে বলা হয় ’পুল’ করা- ক্রেতাকেই কোন বিশেষ ধরণের পণ্যের দিকে টেনে আনা। এর জন্য প্রয়োজন এমন একটা পরিবেশ তৈরী করা যেন ক্রেতা মনে করে যে ঐ সময়ে ঐ নির্দিষ্ট ধরণের পণ্যের ক্রেতা না হলে যেন তার তারুণ্য বা আধুনিকতা ইত্যাদি ইমেজ গুলো আর থাকে না! বিভিন্ন দিবস ঘোষণা করে এবং এগুলোকে মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচারণার মধ্যে এনে ঠিক এই কাজটিই করা হয়।

এভাবে দেখলে সহজেই বোঝা যায় যে, ভ্যালেন্টাইনস ডে কিংবা ফ্রেন্ডশিপ ডে এগুলো আসলে এক একটা গোপন বিজ্ঞাপন!

৪.
এখন প্রশ্ন হলো, এই যে দিবসগুলো যেগুলোর সাথে আমাদের সমাজ ও সাংস্কৃতিক জীবনের সাথে কোন সত্যিকারের সম্পর্ক নেই এবং যেগুলো আসলে এক একটা গোপন বিজ্ঞাপন, সেগুলোকে আমরা ঠিক কি ভাবে দেখব? এক্ষেত্রে খুব সহজেই দুটো পক্ষ পাওয়া যায়। এক পক্ষ বলে, প্রেম-ভালোবাসা বা বন্ধুত্ব কি এক দিনের ব্যাপার যে ঘটা করে বছরের একটা দিনে পালন করতে হবে? অপর পক্ষের পাল্টা জবাব, মানলাম, এগুলো একদিনের নয়, বিচ্ছিন্নতার এই যুগে, একটি বিশেষ দিনকে উপলক্ষ করে আমাদের ভালোবাসা বা বন্ধুত্বকে যদি একটু ঝালিয়ে এবং রাঙিয়ে নেয়া যায় তাহলে ক্ষতি কি?

এ বিষয়ে যেটুকু বলবার, তা হলো: হতে পারে, কোন একটি বিশেষ দিনে আমরা আমাদের বন্ধুত্ব বা ভালোবাসাকে উদযাপন করতে পারি। কিন্তু সেটা কবে করবো, কিভাবে করবো, কি উপহার দেব( বা আদৌ উপহার দেব কি-না- কেননা অনেকেই মনে করতে পারেন টাকা দিয়ে কেনা পণ্যের মাধ্যমে আর যাই হোক সম্পর্ক গভীর হয় না!) উপহারের গায়ে কি লেখা থাকবে, সেটাতো আমরা বন্ধুরা মিলেই ঠিক করতে পারি, সেটাই স্বাভাবিক নয় কি? সেটা কেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ঘোষণা করবে কিংবা হলমার্ক বা আর্চিস গ্যালারি বলে দেবে? কেন আমরা আমাদের ব্যাক্তিগত আবেগ অনুভূতি নিয়ে কোন ব্যাবসায়িক কর্পোরেশনকে মুনাফা লোটার এবং তার মাধ্যমে আমাদের মানবিক সম্পর্কগুলোকে বাণিজ্যিক সম্পর্কে পরিণত করার সুযোগ করে দেব?

আবার কিছু দিবস আছে যেগুলো ঐতিহাসিক- যেমন: আন্তর্জাতিক নারী দিবস। দিবসটি যৌথভাবে সবাইকে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আরো বেশি করে আত্মনিয়োগ করার সুযোগ এনে দেয়। কিন্তু এ দিবসটিও এখন বহুজাতিক কোম্পানির মুনাফার হাতিয়ার। যেমন: বর্ণবাদি কোম্পানি ইউনি লিভারস আজকে নারী দিবসের অন্যতম স্পন্সর। অথচ আমরা ভালো করেই জানি, নারী-অধিকার প্রতিষ্ঠা কিংবা নারীর মর্যাদা বিষয়ে এর সামান্য মাথা ব্যথাও নেই, থাকার কথাও নয়- মুনাফার প্রয়োজনে নারীকে পণ্য বানানোর দিকেই এর সমস্ত প্রচেষ্টা( ’সৌন্দর্য্য সাবান’ লাক্স কিংবা ’ফেয়ার এন্ড লাভলি’র বিজ্ঞাপন দেখলেই স্পষ্ট বোঝা যায় নারীর শরীর এবং শরীরি সৌন্দর্য্যকে এরা কিভাবে পণ্য বানাচ্ছে)। ফলে যা হবার তাই হচ্ছে- নারী দিবস ক্রমশই তার ঐতিহাসিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থেকে দূরে এবং বিপরীত দিকে সরে যাচ্ছে।

আবার, কিছু দিবস আছে যেগুলোকে এখনও কর্পোরেট হাউসগুলো মুনাফার হাতিয়ার বানাতে পারেনি যেমন- মে দিবস, হিরোশিমা দিবস ইত্যাদি। দিবসগুলো এমন কিছু ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, এমন সব চেতনা বা সংগ্রামকে সামনে নিয়ে আসে যেগুলো মুনাফালোভীদের অস্তিত্বের প্রতি হুমকি স্বরূপ। কর্পোরেট হাউসগুলো সরাসরি এসব দিবসের বিরোধীতা না করলেও, এদের দ্বারা স্পন্সরড দিবসের প্রচারণার ডামাডোলে পড়ে ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলো চাপা পড়ে যাচ্ছে যেমন: সারা বিশ্বেই ফ্রেন্ডশিপ ডে’র আড়ালে চাপা পড়ে যায় হিরোশিমা দিবস আর আমাদের দেশে ভ্যালেন্টাইনস ডে’র আড়ালে চাপ পড়ে যায় ১৪ই ফ্রেব্র“য়ারির স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস- ১৯৮৩ সালের এই দিনে তৎকালিন সামরিক শাসক হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনের অবসান ও গণবিরোধি মজিদ খান শিক্ষাকমিশন বাতিলের দাবিতে তীব্র আন্দোলন রচনা করেছিল তৎকালিন ছাত্রসমাজ। ১৪ই ফেব্র“য়ারি তারিখে শিক্ষামন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদানের উদ্দেশ্যে সামরিক আইন ভঙ্গ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে যাত্রা শুরু করে কার্জন হল ও শিক্ষাভবনের সামনে পৌছানো মাত্রই আর্মি-পুলিশের গুলিতে শহীদ হন জাফর-জয়নাল-দিপালী সাহা। এরই ধারাবাহিকতায় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে সারা দেশেই তীব্র হয়ে উঠে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন যার ফলশ্র“তিতে ’৯০ এর গণআন্দোলনের মধ্যদিয়ে সামরিক শাসনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। আজ সামরিক শাসক ক্ষমতায় নেই কিন্তু কর্পোরেট সংস্কৃতির এমনই মহিমা যে, ১৪ই ফেব্র“য়ারি তারিখে যে তারুণ্য একদিন স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস রচনা করেছিল সেই তারুণ্যেরই একটা অংশ এখন চলমান শোষণ নির্যাতন প্রতিরোধের বদলে কর্পোরেট স্পন্সরড ’ভ্যালেন্টাইনস ডে’তে বুঁদ হয়ে থাকে!

আসুন আমরা ১৪ই ফেব্রুয়ারিকে স্বৈরচার প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করি।

 

সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:১৩ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৫৭
জোকার৬৬৬ বলেছেন: + ভালো বলেছেন দাদা...
অটঃ ওয়ালী আজ কত দিয়ে গেছে কে জানে! পোস্ট গুলার বহর দেখছেন?
২. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৫৯
বিদগ্ধজন বলেছেন: আসুন আমরা ১৪ই ফেব্রুয়ারিকে স্বৈরচার প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করি।

সহমত।

পরিশ্রমী পোস্টের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।
৩. ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:০৩
শয়তান বলেছেন: ফেসবুক এ শেয়ার করলাম লেখাটা ।
১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:২৪

লেখক বলেছেন: শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।

৪. ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:০৪
স্বপ্নকথক বলেছেন: সুন্দর একটি পোস্ট।
৫. ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:০৬
পীরসাহেব বলেছেন: স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস
৬. ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:১২
মৈত্রী বলেছেন: ভয়াবহ একটা প্লাস দিলাম!!
একাধিক প্লাস দেবার সিস্টেম থাকলে ভালো হত...
১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:২৮

লেখক বলেছেন: ভয়াবহ ধন্যবাদ!

৮. ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:১৯
হোরাস্‌ বলেছেন: দুঃখের বিষয় হলো স্বৈরাচার এরশাদ, যাকে হঠানোর দিবস পালন করব সেই এরশাদ এখন বর্তমান সরকারের অংশ (জোট)। ছোটভাই কাদের সাহেব তো মন্ত্রীই। দিবসটি পালনের যৌক্তিকতা থাকবে কতটুকু?
১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:২৭

লেখক বলেছেন: সেই কারণেই তো দিবসটি পালন করা আরো বেশি জরুরী, তাই না?

৯. ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:২৩
শয়তান বলেছেন: সেইটাই@হোরাস্‌ । মাঝে মাঝে ভাবি বিশ্ববেহায়াটা আসলে কে ? এরশাদ না অন্য দলগুলা :( /:)
১০. ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:২৭
অলস ছেলে বলেছেন: সবাই এভাবে যদি ভাবতো এবং কাজও করতো!!
১১. ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৩১
দিনমজুর বলেছেন: @ যিনি মাইনাস দিলেন
মাইনাস দেয়ার কারণটি বললে ভালো হতো, ভুল শুধরে নিতে পারতাম!
১২. ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৩৮
হোরাস্‌ বলেছেন: আমি কিন্তু মাইনাস দেইনাই। ১২ নাম্বার প্লাসটা আমার। :#)

@শয়তান, আমার ধারণা দ্বিতীয় পক্ষ। কারন আমরা জানিই এরশাদ কি ছিলো বা আছে। বাট দ্বিতীয় পক্ষের দলগুলো সারাক্ষনই রঙ বদলাইতেছে। X(
১৩. ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৫১
শয়তান বলেছেন: বাই দ্যা ওয়ে পোষ্টে একবারও শফিক রেহমানের নাম আস্লো না যে #:-S
১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:১৯

লেখক বলেছেন: ভালো কথা বলছেন-- শফিক রেহমানের লাল গোলাপ অনুষ্ঠানটি এবং যায়যায়দিন সাপ্তাহিকের পাইওনিয়ার ভূমিকার উপযুক্ত সন্মান জানানোর দরকার ছিল। এরকম আরো অনেক কিছুর ভূমিকাই বাদ পড়ে গেছে- মিডিয়াগুলার ভূমিকা, স্থানীয় কোম্পানিগুলোর ভূমিকা, ভ্যালেন্টাইনস নাইট, ভ্যালেন্টাইনস পার্টি, ভালোবাসা দিবসের গানের অ্যালবাম, কার্ডের পাশাপাশি হার্ট শেপ চকোলেট কিংবা কেক ইত্যাদি অনেক গুলো ফ্যাক্টর মিলিত ভাবেই আসলে এই দিবসের উন্মাদনার স্থানীয় করণ করেছে--- সময় পেলে হয়তো একসময় লেখা যাবে--- আরেকটু পর্যবেক্ষণেরও দরকার আছে-- আপনারাও আপনাদের পর্যবেক্ষণ ও মতামত, তারুণ্যের উপর এর প্রভাব ইত্যাদি বিষয়ে আপনাদের ভাবনাগুলো শেয়ার করতে পারেন---

১৫. ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:২৯
রাজীব_নন্দী বলেছেন: স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস ছাড়া আর কিছু নয়।
প্লাস!
১৬. ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:২৯
রাজীব_নন্দী বলেছেন: স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস ছাড়া আর কিছু নয়।
প্লাস!
১৮. ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:১২
কালপুরুষ বলেছেন: চমৎকার পোস্ট। তথ্যবহুলতো বটেই। আপাতত প্রিয়তে রেখে দিলাম।
২০. ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৫৯
মইন বলেছেন: বিদগ্ধজন বলেছেন: আসুন আমরা ১৪ই ফেব্রুয়ারিকে স্বৈরচার প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করি।

সহমত।

পরিশ্রমী পোস্টের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।
২১. ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:০৯
নীরজন বলেছেন: প্রাস দেবার জন্যই লগইন করবে হলো......
২২. ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:১৮
আউটসাইডার_আউটসাইডার বলেছেন: +++
আসুন আমরা ১৪ই ফেব্রুয়ারিকে স্বৈরচার প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করি।

সহমত।
২৩. ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:৩৭
রাগ ইমন বলেছেন: এমনি কত শত দিবসের নিচে কোন দিন দেখবো আমাদের একুশ, আমাদের ২৬, আমাদের ১৬ - সব চাপা পড়ে গেছে । গেলোবার নাকি তার আগের বার বোকার বাক্সে দেখি আমাদের হিট মি বেবি তিশমা শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন , " হ্যাপি ফার্স্ট বৈশাখ " , আমি উলটে পালটে পড়েই গেলাম।

কর্পোরেট পুঁজিবাদের উপরে একটা সিরিজ লিখেছিলাম, যদিও আপনি অনেক ভালো জানেন , আমার দুর্বল লেখনি আপনার বিরক্তিই উৎপাদন করবে, তাও আপনার মতামত পেলে খুব খুশি হতাম। বিশেষ করে সমাধান কল্পে।
১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:৫৯

লেখক বলেছেন: আপনার লেখাটি চারপাচ দিন আগেই পড়েছি কিন্তু দেরী হয়ে যাওয়ায় আর কোন কমেন্ট করিনি। খুবই ভালো হয়েছে আপনার লেখাগুলো। খুব সহজ করে বিষয়গুলো( যেমন গরুর উদাহরণ দিয়ে উতপাদনের উপকরণের মালিকানা পুজিপতিদের হাতে চলে যাওয়ার ঘটনা এবং তার ফলাফল..) হাজির করেছেন আপনি। আপনাকে ধন্যবাদ।

এই পরসরে সমাধানের বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলা একটু কঠিন-এর জন্য আলাদা লেখা প্রয়োজন।(ব্যাখ্যা বিস্তার করে আলোচনা না করলে মনে হয় যেন মানুষকে উপর থেকে উপদেশ বাণী খয়রাত করছি---) আর আপনি তো অনেকগুলো প্রস্তাব হাজির করেছেনই। আপনি বলেছেন-

যেই মানুষের ভিতরে ইন্টার্নাল ভ্যালু তৈরী হয় না , সে-ই বাহ্যিক বা এক্সটার্নাল জিনিস পত্রের ভিতরে নিজের দাম খুঁজে বেড়ায়, অন্যের মত – অন্যের পথের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে ।

এখন কথা হলো এই ইন্টারনাল ভ্যালু তৈরী হবে কিভাবে। আমরা মনে করি পুজিবাদি রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-সামাজিক হেজিমনির বিরুদ্ধে সংগ্রামের মধ্যদিয়েই মানুষ তার হারানো অবস্থান, যৌথ জীবন, সতিকার মানবিক বোধ.. ইন্টারনাল ভ্যালু ফিরে পেতে পারে।

কর্পোরেট পুজিবাদ হলো পুজিবাদেরই একটি বিশেষ রুপ- পুজিবাদ বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামেই এর চূড়ান্ত প্রতিরোধ সম্ভব। পুজিবাদ বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমেই মানুষের নিজের বদল এবং সমাজের সত্যিকার বদল সম্ভব।

আশা করি আপনি আপনার সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন এবং আরো নতুন নতুন ক্ষেত্রে পুজিবাদ বিরোধী লড়াই সংগ্রামে অংশ গ্রহন করবেন।

২৪. ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:৩৯
রাগ ইমন বলেছেন: ্রথম পর্বের লিংক
Click This Link
২৫. ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:৫৮
লেখাজোকা শামীম বলেছেন: স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবসের সঙ্গে ভালোবাসা দিবসের কোন সংঘর্ষ তো দেখি না। দুটো সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।
আর কর্পোরেট সংস্কৃতির বিপক্ষে বলার সাথে সাথে ওদের পণ্য বা ধান্দাবাজির বিজ্ঞাপন বর্জনের দাবিও জানাতে পারেন। কিন্তু বিকল্প পণ্য না পেলে মানুষ ওদের পণ্যই কিনবে।
১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৪৬

লেখক বলেছেন: শিমুল ভাই নিচের কমেন্টে আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়েই দিয়েছেন। আরেকটু যোগ করি--

১৪ ই ফেব্রুয়ারি তারুণ্যের মগজের কোষে কোষে কিসের ভাবনা-- যাদের পার্টনার আছে তাদের ভাবনা কিভাবে পার্টনারকে খুশি করা যায়, যাদের পার্টনার নাই তাদের ভাবনা কিভাবে পার্টনার যোগার করা যায়, কিংবা যোগার করা না গেলে তার হতাশা, মিডিয়ায় ভ্যালেন্টাইনস ডে'র বিশেষ নাটক, টকশো, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান, পত্রিকার বিশেষ আয়োজন, কনভেশন সেন্টারগুলোতে বিশেষ আয়োজন- "লাইলি মজনু মেলা" ইত্যাদির মধ্যে তারুণ্যর কয় শতাংশ জানে ১৪ই ফেব্রুয়ারি দিনটি যে স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস! এই যে ভ্যালেন্টাইনস ডে'র ডামাডোলে রাজনৈতিক সংগ্রামের গৌরবগাথার অনুপস্থিতি এর চেয়ে বড় সাংঘর্ষিক দিক আর কি হতে পারে? এই সাংঘর্ষিক দিকটিই প্রতীকি ভাবে মূর্ত হয়ে উঠে যখন টিএসসিতে আজকের তারুণ্য ভালোবাসার দাবীতে মিছিলের শ্লোগান তোলে--- "কেউ পাবে তো কেউ পাবেনা, তা হবে না তা হবে না"।

আপনি বোধহয় এ বিষয়গুলো না ভেবেই প্রশ্নগুলো তুলেছেন।

আরেকটা বিষয় হলো, স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবসটির ভ্যালেন্টাইনস ডে'র আড়ালে পড়ে যাওয়ার বিষয়টি ভ্যালেন্টাইনস ডে'র অনেকগুলো নেগেটিভ দিকের একটি- একমাত্র নয়--- ভ্যালেন্টাইনস ডে যদি ১৪ ই ফেব্রুয়ারি না হয়ে মামুলি সাধারণ তাতপর্যহীন কোন দিনেও হতো তাহেলও সেটা আজকের মতোই তারুণ্যের উপর নেগেটিভ প্রভাব রাখতো- কেন, সে বিষয়টি নিয়ে কিছু আলোচনা উপরের লেখাতে করেছি।

আশা করি আপনার পূর্বের মতামতটির যৌক্তিতার বিষয়টি ভেবে দেখবেন।

২৬. ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৫১
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন: @লেখাজোকা শামীম, কেমনে আমি দিবসদুটির মধ্যে সংঘর্ষ দেখেন না!

ছেলেমেয়েরা কি হলমার্ক/আর্চিস গ্যালারি থণ স্বৈরাচারবিরোধী পোষ্টকার্ড কিনবো!

কর্পোরেট সংকৃতির বিপক্ষে কথা বলা বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার দিকে শুরুমাত্র।কিন্তু পুরো বিকল্পব্যবস্থা গড়ে না তুললে কথা বলা যাবেনা, এইটা বোকামি।
২৭. ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:২২
প্রতিবাদী কন্ঠস্বর বলেছেন: দিনমজুর আপনার লেখাটা দেখে লগইন না করে পারলাম না।
আপনি এত কষ্ট করে সব তথ্য একত্র করে লিখেছেন বলে ধন্যবাদ।

আর আপনার লেখাটি ও দারুন হয়েছে।

শাসকরা সবসময়ই চাবে তাদের স্বার্থটা রাখতে , তার জন্য যা করা দরকার তার সবই তারা করে।

আসুন ১৪ই ফেব্রুয়ারীকে স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস পালন করি।

শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলি..........



২৮. ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:০৫
শাহেরীন বলেছেন: অনেক দিন পর আপনার লেখা পেলাম।।
ফেসবুক থেকে আপনার লেখার লিঙ্ক পেয়ে সাথে সাথে ঢুকলাম।।

প্লাসাইলাম আর বরাবরের মত প্রিয়তে।।
৩০. ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৩১
স্বপ্নরাজ বলেছেন: অসাধারন দিনমজুরইও পোস্ট। প্রিয়তে অবশ্যই। এইদিনে এই পোস্টটা স্টিকি হলে সামহোয়্যারের সত্যিকারের অবস্থানটা বোঝা যেত।

স্টিকি করা হোক।
১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৫০

লেখক বলেছেন: আপনার মতামতের ধন্যবাদ।

৩১. ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৫০
পারভেজ আলম বলেছেন: গুরুত্বপূর্ণ লেখা। সন্দেহ নাই। প্রচার প্রচারাণা বাড়ানোর কাজে আমিও সামীল হলাম।
Click This Link
৩৪. ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:০৯
এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল বলেছেন: খুব ভালো লাগলো। +++++++++++++++++++++++++
৩৫. ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:১৯
নতুন গগন বলেছেন: অসম্ভব ভালো লাগলো.....................+++++++++++++++
৩৬. ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:১৯
দিনমজুর বলেছেন: পত্রপত্রিকা থেকে ভ্যালেন্টাইনস বাণিজ্যের কিছু আন্দাজ পাওয়া যাচ্ছে-

# আর্চিস ও হলমার্কের মতো কার্ড বিক্রেতারা তারা আজকের দিনে সারা বছরের মোট কার্ড বিক্রির ২০ শতাংশ আজকেই সেরে ফেলবে।গত বছর এদের মোট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৩০ কোটি টাকা। সেই হিসেবে এই একদিনেই বিক্রি হবে ৩০ কোটি টাকার ২০ শতাংশ অর্থাত ৬ কোটি টাকার।

# ভ্যালেন্টাইনস ডে তে Cadbury, Aero, Snickers, Maltesers, Twix, Mars, Ferrero Rocher, Meiji Almond, Black Chocolate, Safari and Toffee Crisp ইত্যাদি ব্র্যান্ডের চকোলেট-ক্যান্ডির বিক্রি হবে এক দিনেই সারা বছরের ১৫ শতাংশ।

# সরাদেশে ফুল বিক্রি হবে প্রায় ৩ কোটি টাকার যার মধ্যে শাহবাগের ফুল বিক্রেতা থেকে শুরু করে গুলশানের ফার্নস এন্ড পেটালের মতো দোকানের ভাগ রয়েছে।থাইল্যান্ড এবং ভারত থেকে আমদানীকরা লিলিয়াম, গাডিওলাস ইত্যাদি থেকে শুরু করে দেশি-বিদেশে বিভিন্ন ফুল বিক্রি করে ফার্নস এন্ড পেটালস। আজকের দিনের জন্য এরা অ্যাডভান্স অর্ডারই পেয়েছে ২,৫০০ টি।

# পাচ তারা-তিন তারা হোটেল গুলো আজকের দিনের জন্য ক্যান্ডেল লাইট ডিনার, স্পা ডেট, ওয়েলকাম ড্রিংক, লাইভ কনসার্ট ইত্যাদি আয়োজন করেছে। শুধু আজকেই এদের ব্যাবসা হবে ১৫-২০ কোটি টাকা।
যুগলদের খাওয়া-দাওয়ার বিশেষ আয়োজন করে কেএফসি, পিজ্জা হাট, বেল্লা ইটালিয়া, নন্দোস, কফি ওয়ার্ল্ড, ফ্ল্যাম্বি, কাসা-ব্লাংকা, স্পেগেটি জ্যাজ ইত্যাদি রেস্তারাগুলোও ভালো আয়-কামাই করবে।

# আড়ং, কে-ক্র্যাফট, বিবিয়ানা, অন্যমেলা, নিপুন, সাদা-কালো, দেশাল ইত্যাদি বুটিক হাউসগুলো ভ্যালেন্টাইনস ডে উপলক্ষে স্পেশাল কালেকশান বের করেছে। তাছাড়া বিভিন্ন বিউটি পার্লারগুলোও এ উপলক্ষে ভালো ব্যাবসা করবে।
৩৭. ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:১৯
এম আই এইচ রাজন বলেছেন: কিছুই লেখার নাই শুধু একটা প্লাস++
৩৮. ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:০৫
মনির হাসান বলেছেন: পোস্টে কমেন্টে অনন্য । পুরা ধুয়া ফালাইছেন ।

সাবাশ & স্যালুট ... প্রিয়তে & শেয়ারড্‌
৩৯. ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:২৯
আবু নাঈম বলেছেন: ধন্যবাদ দিনমজুর ... দেরিতে হলেও ...
৪০. ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৩০
মাসুদ রশিদ বলেছেন: অসাধারণ লেখা। অভিনন্দন। সহমত।।
৪১. ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৩৮
সাপ্নিক বলেছেন: পুঁজিবাদ আমাদের চোখের উপর এমন ঠুলি পড়িয়ে দিয়েছে যে, আমরা শুধু তাদের দেখান জিনিস গুলোই দেখি নিজের চোখ দিয়ে কিছুই দেখতে পায়না।

+++++++
৪৩. ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:৪৪
তীব্র রঙিন বলেছেন: বেশ ভাল। কিন্তু, স্যার, ভালবাসার দিনটির প্রতি এই আক্রমণ কি এর সাফল্য দেখেই?
ঘটনাটা ৮৩-এর। এতদিন পর আপনার চেতনা জাগ্রত হল? সম্ভবত, আপনি ফ্রন্ট গোষ্ঠীর। ইউনিয়ন এই দিনটি পালন করতে চায় সাম্রাজ্যবাদবিরোধী দিবস হিসেবে। এর পেছনের ঘটনাটিও ৭৩-এর!
এমনিতেই, ভালবাসার পেছনে হাজার বাধা। এরপরও আপনারা এই তথ্য দিলে তো প্রেমিকা-প্রেমিকেরা লজ্জাতেই মরে।
আর ভালবাসার বাণিজ্যিকীকরণের বিরুদ্ধে লড়াইটা সমর্থন করি, কিন্তু, গড়পড়তা ভালবাসা প্রকাশের বিরুদ্ধেই মনে হচ্ছে আক্রমণটা।
আপনার ইচ্ছে না থাকলে তো কেউ আপনাকে ক্যান্ডেললাইট ডিনারে অংশ নিতে বাধ্য করে না। কিন্তু, কেউ যদি আপনজনকে নিয়ে যেকোন একদিন ভালবেসে দামি রেস্তোরায় খাওয়াতে চায় বা চায় ফুল বা চকলেট উপহার দিতে, তাতে ঘেন্না করার বা তাদের সাম্রাজ্যবাদের শিকার বলে জিকির তোলার কিছু দেখি না।
তবে, ভালবাসা দিবসের নামে ন্যাকামির বাড়াবাড়ি বা আলাদা দিবস-মার্কা স্পিরিট সমর্থন করি না এবং ঘেন্না করি স্বৈরাচার ও সাম্রাজ্যবাদ।
শুভেচ্ছা।
১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:২৯

লেখক বলেছেন: আপনার সব প্রশ্নেরই উত্তর দেব, তবে স্যার, আপনি তার আগে বলুন তো আপনার উদ্দেশ্যটা কি- ১৪ই ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করে ছাত্র ফ্রন্ট ও ছাত্র ইউনিয়ন মুখোমুখি এবং বিপরীত ধর্মী কর্মসূচী পালন করে - এই জাতীয় পুরোপুরি ভ্রান্ত একটি তথ্য দেয়ার মানে কি? আপনি বলেছেন “সম্ভবত, আপনি ফ্রন্ট গোষ্ঠীর। ইউনিয়ন এই দিনটি পালন করতে চায় সাম্রাজ্যবাদবিরোধী দিবস হিসেবে। এর পেছনের ঘটনাটিও ৭৩-এর!” আহা! ইউনিয়নের প্রতি দেখছি আপনার ব্যপক দরদ- দরদ দেখানোর আগে ৭৩ এর ঘটনাটি কি, ঘটনাটি কবে কেন কিভাবে ঘটেছে যেনে নিলে এই রকম লজ্জাজনক প্রতিতুলনা হাজির করতেনা। বাস্তবে ১৪ ই ফেব্রয়ারি নয়, ছাত্র ইউনিয়ন ১লা জানুয়ারিকে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংহতি দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। দেখা যাক এ সম্পর্কে সামহ্যোয়ারেই শেখ রফিক এর ছাত্র ইউনিয়নের ইতিহাস নিয়ে লেখা একটা লেখায় কি বলা হয়েছে-

“সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের অংশ হিসেবে ১৯৭৩ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিবাদ মিছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে মার্কিন তথ্য কেন্দ্রের সামনে পৌছলে পুলিশ মিছিলে গুলিবর্ষণ করে। গুলিতে ছাত্র ইউনিয়ন নেতা মীর্জা কাদের ও মতিউল ইসলাম শহীদ হন। সেই থেকে প্রতি বছর ১ জানুয়ারি সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংহতি দিবস পালন করে আসছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন।“
Click This Link

তাহলে কি দাড়ালো? আপনার মত একজন রাজনীতি সচেতন থাকার চেষ্টা করা মানুষও ভ্যালেন্টাইনস ডে’র ডামাডোলে পড়ে ছাত্র-আন্দোলনের ইতিহাস গুলিয়ে ফেললেন- ১৯৭৩ সালের ১ জানুয়ারিতে ঘটা ঘটনাকে ১৯৮৩ সালের ১৪ ই ফেব্রুয়ারি’তে ঘটা ঘটনার সাথে তালগোল পাকিয়ে সেটাকে উপলক্ষ করে ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র ফ্রন্টকে মুখোমুখি দাড় করিয়েদিলেন।

ভাই আপনার জায়গায় হলে কিন্ত ভীষণ লজ্জা পেতাম এবং এ ধরণের ইতিহাস বিভ্রান্তির জন্য নি:শর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করতাম!!!

প্রসঙ্গত বলে রাখি রাজনীতির খোজ খবর রাখেন তারা ভালো করেই জানেন, শুধু ছাত্রফ্রন্ট বা ছাত্র ইউনিয়নই নয়, কোন প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের মধ্যেই ১৪ ই ফেব্রুয়ারির স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস বিষয়ে কোন মতদ্বৈততা নেই। এই ব্লগেই তো ১৪ই ফেব্রয়ারিকে স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করবার ডাক দিয়ে প্রপদের একটা লেখা দেখছি তারা আমাদের আগেই লিখেছিল-
Click This Link

এইবার আসা যাক আপনার করা প্রশ্নগুলোর বিষয়ে- আপনি প্রশ্ন করেছেন- “কিন্তু, স্যার, ভালবাসার দিনটির প্রতি এই আক্রমণ কি এর সাফল্য দেখেই? ঘটনাটা ৮৩-এর। এতদিন পর আপনার চেতনা জাগ্রত হল?”

ভাই ঘটনাটি ৮৩ এর এবং ৮৩ এর পর থেকে প্রতিবছরই সকল প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনই ১৪ই ফেব্রুয়ারিকে স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে কিন্তু সম্ভবত মিডিয়া-সংস্কৃতির পাল্লায় পড়ে এই দিকটি সম্পর্কে কোন খোজখবর রাখার প্রয়োজন বোধ করেন নি, যে কারণে আপনার মনে হচ্ছে ভালোবাসা দিবসের সাফল্য দেখে বিদ্বেষপ্রসুত হয়ে আমরা ইতিহাসের কবর খুড়ে ১৪ই ফেব্রুয়ারিকে স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করছি! ভাই কারো ভালোবাসার বাধা হওয়ার কোন উদ্দেশ্য আমাদের নাই কিংবা “কেউ যদি আপনজনকে নিয়ে যেকোন একদিন ভালবেসে দামি রেস্তোরায় খাওয়াতে চায় বা চায় ফুল বা চকলেট উপহার দিতে” চায় তাতেও আমরা আপত্তি করার কিছু দেখি না- আমাদের প্রশ্নটা ছিল ঠিক কোন ম্যাকানিজমের মাধ্যমে এরকম একটা ব্যাপার ঘটছে যে প্রিয়জনকে উপহার দেয়া কিংবা প্রিয়জনকে নিয়ে রেষ্ট্ররেন্টে খাওয়ার ইচ্ছাটা দুনিয়ার সব প্রেমিকার মাঝে এই একটা দিনেই গজিয়ে উঠছে!

আপনি বোধহয় লেখাটি ভালো ভাবে পড়েন নি-আমরা তো পরিস্কার করে বলেইছি-

“হতে পারে, কোন একটি বিশেষ দিনে আমরা আমাদের বন্ধুত্ব বা ভালোবাসাকে উদযাপন করতে পারি। কিন্তু সেটা কবে করবো, কিভাবে করবো, কি উপহার দেব( বা আদৌ উপহার দেব কি-না- কেননা অনেকেই মনে করতে পারেন টাকা দিয়ে কেনা পণ্যের মাধ্যমে আর যাই হোক সম্পর্ক গভীর হয় না!) উপহারের গায়ে কি লেখা থাকবে, সেটাতো আমরা বন্ধুরা মিলেই ঠিক করতে পারি, সেটাই স্বাভাবিক নয় কি? সেটা কেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ঘোষণা করবে কিংবা হলমার্ক বা আর্চিস গ্যালারি বলে দেবে? কেন আমরা আমাদের ব্যাক্তিগত আবেগ অনুভূতি নিয়ে কোন ব্যাবসায়িক কর্পোরেশনকে মুনাফা লোটার এবং তার মাধ্যমে আমাদের মানবিক সম্পর্কগুলোকে বাণিজ্যিক সম্পর্কে পরিণত করার সুযোগ করে দেব?”

আশা করি আপনার বিভ্রান্তি কাটাতে পেরেছি.. না পারলে বলবেন.. আবারো চেষ্টা করবো কিন্ত দয়া করে ইতিহাস না জেনেশুনে উল্টোপাল্টা বকে সময় নষ্ট করবেন না।

৪৪. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:০৮
মুনীর উদ্দীন শামীম বলেছেন: চমৎকার পোস্ট.............প্রিয়তো তুলে রাখলাম.........পরে পড়ে মন্তব্য করার ইচ্ছায়..
শুভেচ্ছা.................
৪৫. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৫১
তীব্র রঙিন বলেছেন:
ধন্যবাদ, দিনমজুর আপনার মন্তব্যের জন্যে।

প্রথমত, ইউনিয়ন আর ফ্রন্টের কারোর সাথে কারোর লড়াই বাধানোর মতো মানসিকতা বা ক্ষমতা কোনটিই আমার নেই। ইউনিয়ন সংক্রান্ত মন্তব্যটি শুনি একজন ইউনিয়ন কর্মীর মুখেই। তাই, আমার ভ্রান্তির জন্যে তিনিই দায়ি। যাহোক, নিশ্চিতভাবেই আমারো আরো খবর নেয়া দরকার ছিল। এজন্যে, ক্ষমাপ্রার্থী। কারণ, বাসায় 'ভ্যানগার্ড' আসে, 'একতা' নয়।

দ্বিতীয়ত, 'একটি ভালবাসার দিন' সম্পর্কে আমার মন্তব্যও আমার লেখায় বোধহয় স্পষ্ট করেছি।
আর ভালবাসার বাণিজ্যিকীকরণের বিরুদ্ধে লড়াইটা সমর্থন করি...
এবং, এখানে...
তবে, ভালবাসা দিবসের নামে ন্যাকামির বাড়াবাড়ি বা আলাদা দিবস-মার্কা স্পিরিট সমর্থন করি না এবং ঘেন্না করি স্বৈরাচার ও সাম্রাজ্যবাদ।
কাজেই, আর কিছু সেব্যাপারে বলার আছে বলে মনে করি না।

নিঃসন্দেহে মিডিয়া-বিভ্রান্ত, কারণ, প্রতিমিডিয়ার হাত সেভাবে ধরা হয় নি। স্বভাবেও বুর্জোয়া, কারণ, আপনাদের সব কথা বা বার্তা সমান স্বাদু বা যুক্তিযুক্ত বলে মনে করি না। সমাজতন্ত্র আর পার্টিতন্ত্র সমান নয় বলেও মনে করি। কিন্তু, স্যার সেব্যাপারে কথা নয়, কথা হচ্ছিল অন্য ব্যাপারে।

আপনারাই বলছেন যে, ভালবাসা দিবস না স্বৈরাচারবিরোধী দিবস, অর্থাত, দুটোর মধ্যে একটাকেই বেছে নিতে হবে।

আমরা, যারা ভালও বাসতে চাই, আবার স্বৈরাচারেরও বিরোধী, তারা কোনদিকে যাই?

তাই, বলছিলাম তারুণ্যের প্রকাশ শুধু বিদ্রোহে নয়, প্রেমেও বটে (আবারো অবক্ষয়ী বুর্জোয়া মানসিকতা প্রকাশ করলাম)। আপনারা তো আর পার্টির তরফ থেকে নিশ্চয় ভালোবাসার দিন ঠিক করে দেবেন না। অতএব, আক্রমণও নিশ্চয় যৌক্তিক।

আর, কিন্ত দয়া করে ইতিহাস না জেনেশুনে উল্টোপাল্টা বকে সময় নষ্ট করবেন না। আপনার সময় নষ্ট করার জন্যে দুঃখিত, আসলেই।
১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৪২

লেখক বলেছেন: ভালোবাসবেন আপনি, আর সেই ভালবাসার জন্য কোন একটা দিবস ঠিক করে দেবে বুর্জোয়া মিডিয়া কিংবা কোন সমাজতান্ত্রিক পার্টি- এই প্রত্যাশা কেন ভাই- (বিশেষ করে আপনি যখন পার্টি তন্ত্রের পক্ষে নয় বলেই মনে হচ্ছে আপনার মন্তব্য থেকে)?

আমরাও মনে করি, তারুণ্যের প্রকাশ শুধু বিদ্রোহে নয়, প্রেমেও বটে তবে সেই প্রেম জনবিচ্ছিন্ন, দেশ, সমাজ ও ইতিহাস বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে কিংবা সেই প্রেম ব্যাক্তিকে সমষ্টির থেকে আলাদা করে দিলে কিংবা সেই প্রেমের প্রকাশ চকলেট-ক্যান্ডি, ভ্যালেন্টাইনস কার্ড, ক্যান্ডেলনাইট ডিনার ইত্যাদির মধ্যে আটকে গেলে এবং তার মধ্যদিয়ে সংগ্রামের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের বদলে উল্টো স্রেফ ভোগের বিষয়ে পরিণত হয়ে গেলে তখন আর সেটা বিদ্রোহের প্রকাশ থাকে না বলেই আমরা মনে করি।

তবে আপনি ভিন্ন মত পোষণ করলে সেটা তো আর জোর করে পাল্টানো যাবে না, আমরা শুধু আরেকটু ভেবে দেখবার অনুরোধ জানাতে পারি।

আপনার এইবারের মতামত এবং আলোচনার জন্য ধন্যবাদ।

৪৬. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:০৯
ভিন্ন চিন্তা বলেছেন: দিন মুজুরের বক্তব্য একটু সংশোধন করা প্রয়োজন।

১৪ ফেব্রুয়ারি কে 'স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস ' শুধু প্রগতিশীল সংগঠনের কর্মসূচি নয়। ৯০ দশের প্রথমার্ধ পর্যন্ত ছাত্রদল- ছাত্রলীগ এটা পালণ করতো্। কিন্তু , ৯৫-৯৬ সালে স্বৈরাচরে এরশাদের জাতীয় রাজনীতিতে পুনর্বাসনের মধ্য থেকে ছাত্রদল- ছাত্রলীগ এ দিবসটি চুড়ান্ত ভাবে বিস্মৃত হয়।এমন কি ১৪ ফেব্রূয়ারি ১৯৮৩ এর মূল সংগঠনটিও এ দিবস টি কে আজ ভুলে যেতে চায়।

১৯৯৬ সালে সক্রিয় ছাত্র রাজনীতি যুক্ত হওয়ার পরও........পরবর্তী কয়েক বছর আমি ৯০ গন আন্দোলনের সকল ছাত্র নেতাদের এই দিবস টিতে তৎপর দেখেছি।

এ দেশে ভালো বাসা দিবস নিয়ে আসে 'যায় যায় দিন' ৯৩/৯৪ সালে।তারপর একে আলোকিত করেন.. মতিউর রহমানের ভোরের কাগজ। ক্রমে এই দিবস টির আড়ালে আমাদের ঐতিহ্যময় সংগ্রামের একটি অংশ হারিয়ে যাচ্ছে। যে গারিযে গেছে শহীদ মতিউরের সাথে ৬৯ এর গন অভুত্থান দিবসের দিবস।

লক্ষনীয় গত ২০০৯ সালে প্রথম বারে মত আওয়ামী লীগ ৬ ডিসেম্বর ' স্বৈরাচার পতন দিবস' নিরব থাকল। বরং জাতীয় পার্টি ' গনতন্ত্র সুরক্ষা দিবস' পালন করলো। বলা যায় না হয়তো কাকতলীয় ভাবে শীঘ্রই ৬ ডিসেম্বর ' বিশ্ব দাদা-দাদু দিবস' পালিত হলে ... তখন সকলে ই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলবে।

২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৩৮

লেখক বলেছেন: গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলোর জন্য ধন্যবাদ।

৪৭. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:১২
তীব্র রঙিন বলেছেন: "ভালোবাসবেন আপনি, আর সেই ভালবাসার জন্য কোন একটা দিবস ঠিক করে দেবে বুর্জোয়া মিডিয়া কিংবা কোন সমাজতান্ত্রিক পার্টি- এই প্রত্যাশা কেন ভাই?"

আমার মন্তব্যে তো এরকম কোন আশাবাদ ব্যক্ত করেছি বলে মনে পড়ছে না। এটা কোত্থেকে এল?


"সেই প্রেম জনবিচ্ছিন্ন, দেশ, সমাজ ও ইতিহাস বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে কিংবা সেই প্রেম ব্যাক্তিকে সমষ্টির থেকে আলাদা করে দিলে ..."

জি, প্রেমটা তো ব্যক্তিগত ব্যাপার বলেই জানতাম। ভারি ভারি তাত্ত্বিক কথাগুলো সর্বত্রই কি প্রযোজ্য?

"তার মধ্যদিয়ে সংগ্রামের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের বদলে উল্টো স্রেফ ভোগের বিষয়ে পরিণত হয়ে গেলে তখন আর সেটা বিদ্রোহের প্রকাশ..."

এখানে 'তার' বলতে কি প্রেমের কথা বোঝানো হচ্ছে? আর 'বিদ্রোহের প্রকাশ' মানেটাই বা কী? সবকিছুতে কি সংগ্রাম বা বিদ্রোহের প্রকাশ ঘটাতেই হবে?

আশা করি, আগেই বুঝতে পেরেছেন, আপনাদের সবকিছুর সাথে ভিন্নমত পোষণ করি না। তবে, সবব্যাপারে একমতও হতে পারি না। তাই, পার্টিতে কখনো ঢোকার ব্যাপারে বা সামগ্রিকভাবে কমিউনিস্ট পার্টির ওপর আস্থা নেই। আর, আপনাদের ভাষায় 'সিআইএ-র দালাল' সুনীল গঙ্গোর ভাষায় বলি, "কমিউনিজম আর কমিউনিস্ট পার্টি এক নয়।"

ধন্যবাদ।
২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:৩৩

লেখক বলেছেন: আপনার আগের মন্তব্যে একটু কষ্ট করে চোখ বোলালেই পারতেন- উত্তরটা নিজেই পেয়ে যেতেন। যাক, প্র্রশ্ন যখন করেছেন- দেখিয়ে দেই- আপনার আগের মন্তব্যে আপনি যারা ভালোওবাসতে চান এবং একই সাথে আবার স্বৈরাচারেরও বিরোধী তারা কোন দিকে যাবে বলে আফসোস প্রকাশ করার পর বলছেন- আপনারা তো আর পার্টির তরফ থেকে নিশ্চয় ভালোবাসার দিন ঠিক করে দেবেন না।

জি, প্রেমটা তো ব্যক্তিগত ব্যাপার বলেই জানতাম। ভারি ভারি তাত্ত্বিক কথাগুলো সর্বত্রই কি প্রযোজ্য? জ্বি, ভারি ভারি কথাগুলো সর্বত্র প্রযোজ্য কি-না জানি না, তবে এই প্রসংগে প্রযোজ্য। প্রেম ব্যাক্তিগত তো বটেই, কিন্তু তার মানে কি সমাজ বিচ্ছিন্ন কোন প্রপঞ্চ? ভাত খাওয়াও তো ব্যাক্তিগত- কিন্তু সেটা কি সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে আলাদা কোন বিষয়? আপনি প্রেম করেন সমাজের মধ্যেই, সে সমাজ জাহান্নামে গেলে আপনি প্রেম করতে পারবেন?

এখানে 'তার' বলতে কি প্রেমের কথা বোঝানো হচ্ছে? আর 'বিদ্রোহের প্রকাশ' মানেটাই বা কী? সবকিছুতে কি সংগ্রাম বা বিদ্রোহের প্রকাশ ঘটাতেই হবে?
পুরো বাক্যটা পড়লেই তো বুঝতে পারার কথা এখানে 'তার' বলতে 'প্রেমের কথা' নয় বরং ভ্যালেন্টাইনস ডে'তে প্রেমের যে ধরনের প্রকাশ ঘটে তার কথাই বলা হয়েছে- পুরো বাক্যটি আরেকবার পড়ুন তো-

সেই প্রেমের প্রকাশ চকলেট-ক্যান্ডি, ভ্যালেন্টাইনস কার্ড, ক্যান্ডেলনাইট ডিনার ইত্যাদির মধ্যে আটকে গেলে এবং তার মধ্যদিয়ে সংগ্রামের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের বদলে উল্টো স্রেফ ভোগের বিষয়ে পরিণত হয়ে গেলে তখন আর সেটা বিদ্রোহের প্রকাশ থাকে না বলেই আমরা মনে করি।

আর বিদ্রোহের প্রকাশ? আপনি যে বলেছিলেন তারুণ্যের প্রকাশ শুধু বিদ্রোহে নয় প্রেমেও- সেই প্রেক্ষিতেই কথাগুলো বলা হয়েছিল। আমরা তারুণ্যের প্রেম আর বিদ্রোহকে আলাদা করে দেখিনা- সেই অর্থে বিদ্রোহের প্রাসঙ্গিকতা সব সময় জরুরী।


আশা করি, আগেই বুঝতে পেরেছেন, আপনাদের সবকিছুর সাথে ভিন্নমত পোষণ করি না। তবে, সবব্যাপারে একমতও হতে পারি না। তাই, পার্টিতে কখনো ঢোকার ব্যাপারে বা সামগ্রিকভাবে কমিউনিস্ট পার্টির ওপর আস্থা নেই। আর, আপনাদের ভাষায় 'সিআইএ-র দালাল' সুনীল গঙ্গোর ভাষায় বলি, "কমিউনিজম আর কমিউনিস্ট পার্টি এক নয়।"

কি-সে আপনি একমত নন সেটা পরিস্কার কিন্তু কিসে যে আপনি একমত এবং সেটা কিভাবে-সেটা ঠিক পরিস্কার বুঝতে পারলাম না! আপনি স্বৈরাচার আর সাম্রাজ্যবাদ কে ঘেন্না করেন (কিন্তু পুজিবাদকে ঘেন্না করেন, না ভালোবাসেন সেটা বোঝা গেল না।) কিন্তু এদের নির্ধারিত দিবসে এদের নির্ধারিত রাস্তায় ক্যান্ডেল লাইট প্রেম করতে আপনার আপত্তি নাই। আপনি তারুণ্যের মাঝে প্রেম ও বিদ্রোহের প্রকাশ দুই-ই দেখতে পান কিন্তু আপনি এদেরকে বিচ্ছিন্ন ভাবেই দেখতে পছন্দ করেন- কই আমি তো দেখছিনা আপনি কোন বিষয়ে আমাদের সাথে একমত! আর আপনার উল্লেখিত সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সিআইএর দালাল কিনা জানিনা তবে তার আপ্ত বাক্যটি সম্পর্কে আমাদের কথা হলো- নিশ্চয়ই কমিউনিজম আর কমিউনিস্ট পার্টি এক নয়- কমিউনিজম হলো একটা রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক মতাদর্শ আর কমিউনিষ্ট পার্টি হলো সেই মতাদর্শ বাস্তবায়নের সাংগঠনিক কাঠামো- এ দুটো এক জিনিস হতে যাবে কেন? তবে দুটো বিষয় এক না হলেও পরস্পর বিচ্ছিন্ন নয়- কমিউনিজমের আদর্শ ছাড়া কমিউনিষ্ট পার্টি হয় না আবার কমিউনিষ্ট পার্টি ছাড়া কমিউনিজম বাস্তবায়নও করা যায় না।

৪৮. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:৫৮
নাজনীন১ বলেছেন: দিবসের কথার বাইরে যদি হলমার্ক, আর্চির পুঁজিবাদী ব্যবসার দিকে নজর দেই, সেক্ষেত্রে এই কার্ড কালচার আসার আগে আরেক ধরণের কালচার ছিল। মনে আছে, আমরা অনেকেই স্কুল জীবনে ভিউকার্ড জমাতাম। বিভিন্ন তারকাদের ছবি, এর মধ্যে নায়ক-নায়িকার ছবি, খেলোয়াড়দের ছবি, বিভিন্ন পশু-পাখী, প্রাকৃতিক দৃশ্যের ছবি......। আবার অনেকে বিভিন্ন ছবিসম্বলিত পোস্টার কিনতো, বাসার দেয়ালে সাঁটিয়ে রাখতো। তখন কোন দিবস উপলক্ষে না হলেও কারো জন্মদিনে, ঈদের সময়ে কার্ড কিনে বিভিন্ন বন্ধু-বান্ধবদেরকে উপহার দেয়া হতো। অনেকে পত্রমিতালী করতো, তারাও বিভিন্ন কার্ড উপহার দিতো। আবার কেউ গিফ্‌ট হিসেবে ক্যাসেটও দিতো। কেউ সেবা প্রকাশনীর বই উপহার দিতো। উপহারের ধরণ নির্ভর করতো যে উপহার দিচ্ছে আর যাকে দিচ্ছে তারা ছেলে কি মেয়ে তার উপর। আবার অনেকে হাতে বানানো কার্ডও উপহার দিতো। --- এখনকার মতো সেভাবে চোখে না পড়লেও বা প্রচলন কম দেখা গেলেও এই উপহার দেয়ার ব্যাপারটা অনেক আগে থেকেই আছে।
৪৯. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:০২
নাজনীন১ বলেছেন: তবে ১৪ই ফেব্রুয়ারী নির্দিষ্ট দিন হিসেবে পালন করায় বা মিডিয়ার প্রচার বেড়ে যাওয়ায়, বিভিন্ন সামাজিক নেটওয়ার্ক বেড়ে যাওয়ায় ব্যাপারটা একটা দিবসে এসে বেশী একীভূত হচ্ছে, যেটা আগে সারা বছরব্যাপী ছড়িয়ে ছিল। বেশী করে এখন চোখে পড়ছে, পরিসরও বেড়েছে। এর সাথে উশৃংখলতাও বাড়ছে।
৫০. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৫৮
জাতি জানতে চায় বলেছেন: প্রয়োজনীয় পোস্ট! ১৪ই ফেব্রুয়ারী দিবসটাই পলিটিক্যালাইজড! স্বৈরাচার জোটের বাইরে থাকলে স্বৈরাচার দিবস আর জোটে থাকলে ভালবাসা দিবস! তত্ত্ব কথা পলিটিক্সে আইসা হাওয়া হইয়া যায়!
৫১. ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:৩৭
ভাবসাধক বলেছেন: অথচ আমরা ভালো করেই জানি, নারী-অধিকার প্রতিষ্ঠা কিংবা নারীর মর্যাদা বিষয়ে এর সামান্য মাথা ব্যথাও নেই, থাকার কথাও নয়- মুনাফার প্রয়োজনে নারীকে পণ্য বানানোর দিকেই এর সমস্ত প্রচেষ্টা( ’সৌন্দর্য্য সাবান’ লাক্স কিংবা ’ফেয়ার এন্ড লাভলি’র বিজ্ঞাপন দেখলেই স্পষ্ট বোঝা যায় নারীর শরীর এবং শরীরি সৌন্দর্য্যকে এরা কিভাবে পণ্য বানাচ্ছে)। ফলে যা হবার তাই হচ্ছে- নারী দিবস ক্রমশই তার ঐতিহাসিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থেকে দূরে এবং বিপরীত দিকে সরে যাচ্ছে।
৫২. ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:৩৭
ভাবসাধক বলেছেন: অথচ আমরা ভালো করেই জানি, নারী-অধিকার প্রতিষ্ঠা কিংবা নারীর মর্যাদা বিষয়ে এর সামান্য মাথা ব্যথাও নেই, থাকার কথাও নয়- মুনাফার প্রয়োজনে নারীকে পণ্য বানানোর দিকেই এর সমস্ত প্রচেষ্টা( ’সৌন্দর্য্য সাবান’ লাক্স কিংবা ’ফেয়ার এন্ড লাভলি’র বিজ্ঞাপন দেখলেই স্পষ্ট বোঝা যায় নারীর শরীর এবং শরীরি সৌন্দর্য্যকে এরা কিভাবে পণ্য বানাচ্ছে)। ফলে যা হবার তাই হচ্ছে- নারী দিবস ক্রমশই তার ঐতিহাসিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থেকে দূরে এবং বিপরীত দিকে সরে যাচ্ছে।
৫৩. ১০ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১:৪২
আলী প্রাণ বলেছেন: অসাধারণ

শেয়ারের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

ভালো থাকবেন।
৫৪. ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সকাল ৯:৩৫
আগামি বলেছেন: শয়তান বলেছেন: সেইটাই@হোরাস্‌ । মাঝে মাঝে ভাবি বিশ্ববেহায়াটা আসলে কে ? এরশাদ না অন্য দলগুলা :( /:)

 

মোট সময় লেগেছে ১.০০০১ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
নাইল্যাকাডা ১ম বর্ষ, ২য় সংখ্যার প্রাপ্তিস্থানঃ
আজিজ সুপার মার্কেট
১। বইপত্র/ ২। জনান্তিক/ ৩। শ্রাবণ/ ৪। প্রথমা (একুশে)/ ৫। তক্ষশীলা/ ৬। লিটল...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই