somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যে রাষ্ট্রে ফ্যাসিবাদি নিপীড়নে ডিএমসির মেঝেতে পড়ে থাকেন একজন মোশরেফা মিশু

২০ শে ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ৮:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যে রাষ্ট্রে কানে চুলকানি কিংবা পাছায় ফুসকুড়ি হলেই বুর্জোয়া নেতানেত্রীরা স্কায়ার হাসপাতালের বেসরকারি তীর্থে যায় আর শ্বাসকষ্ট, হাপানি ও মেরুদন্ডে ব্যাথা নিয়াও মোশরেফা মিশুর মতো শ্রমিক নেতৃ সরকারি হাসপাতালের বারান্দায় ঠান্ডায় কাতরায় সেই রাষ্ট্র বাংলাদেশ। যে সেক্টরে দিনমান শ্রম দিয়া হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করলেও শ্রমিকের চামড়া শুকায় কিংবা পুড়ে আর মালিকের চামড়ার নীচে চর্বি জমে জমে পুরু ও তেলতেলে হয়, সেই সেক্টরের নাম গার্মেন্টস সেক্টর- আহা! সর্বোচ্চ মুদ্রা অর্জনকারী সেক্টর!একই অঙ্গে দুই রুপ তোমার- একই সাথে তুমি মালিকের জন্য সর্বোচ্চ মুনাফা আর শ্রমিকের জন্য সর্বোচ্চ বঞ্চনা পয়দা করো। হে মহামান্য গার্মেন্টস সেক্টর তোমার নামে সব জায়েজ- দিনের পর দিন শ্রমিকদের মজুরী না দেয়া, দিলেও ঠিক মত না দেয়া, ন্যূনতম মজুরী ঘোষণা করেও বাস্তবায়ন না করা উল্টো এর বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী শ্রমিকদের গুলি করে খুন করা কিংবা আন্দোলনের নেতা-নেতৃদের বিনা ওয়ারেন্টে বাসা থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন-নিপীড়ন চালানো সব! শ্রমিক শোষণ করলে, আগুনে, ধোয়ায় শ্রমিক পুড়িয়ে মেরে কেবল হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে মালিকরে বেকসুর খালাশ দিলে গার্মেন্টস সেক্টর ধ্বংস হয় না, রপ্তানি বাণিজ্যের কোন ক্ষতি হয়না কিন্তু শ্রমিকের ন্যায্য মজুরীর দাবিতে আন্দোলন করলে, বিক্ষোভ-বিদ্র্রোহে ফেটে পড়লে কিংবা সেই আন্দোলনে সমর্থন কিংবা নেতৃত্ব দিলে হয় মহাঅপরাধ, গার্মেন্টস সেক্টর ধ্বংসের য়ড়যন্ত্র!

এইরকমই একটা কথিত ষড়যন্ত্রের অভিযোগে নিজ বাসা থেইকা গ্রেফতার করা হয় মোশরেফা মিশুরে। গত ১৩ ই ডিসেম্বর ১২ জনের একটা দল ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়া কোন ধরণের ওয়ারেন্ট ছাড়াই মিশুরে গ্রেফতার কইরা নিয়া আসে। তখন তার বিরুদ্ধে কুড়িলের তিনটি গার্মেন্টসের শ্রমিকদের উস্কানি দেয়ার অভিযোগ তোলা হয়। তারে প্রথমে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়া নির্যাতন করা হয়। এরপর শুরু হয় অন্য খেলা, তাকে নাকি জামাতের ঢাকা মহানগরের আমির রফিকুল ইসলাম খানের সাথে কথা বলতে দেখা গেছে, অতএব তিনি নিশ্চয়ই জামাতের সাথে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত! তিনি জামাতের সাথে কি ষড়যন্ত্র করেছেন তার রহস্য উন্মোচনের কারণ দেখিয়ে প্রথমে আরো একদিন এবং এরপর আরও দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। যার ফলাফল রুপে বাম গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম নেতা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী র্পার্টির সাধারণ সম্পাদক এবং গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশুকে শ্বাসকষ্ট ও মেরুদন্ড ব্যাথা নিয়ে কাতরাতে হচ্ছে ঢাকা মেডিক্যালের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেঝেতে।
(সূত্র: Click This Link)


প্রথমে গার্মেন্টস সেক্টর অস্থিতিশীল করা এবং পরে জামাত কানেকশানের অভিযোগে মোশরেফা মিশুকে গ্রেফতার-রিমান্ড-নির্যাতন করা হলো এমন একটা সময়ে যখন গার্মেন্টস সেক্টরের শ্রমিকরা ন্যয্য মজুরীর দাবীতে আন্দোলন করছে আর শাসক দল মালিক পক্ষের হয়ে শ্রমিকদের গুলি করে মারছে। এ সময়ে আগুনে পুড়ে, ধোয়ায় দম বন্ধ হয়ে এবং লাফিযে পড়ে অন্তত ৩১ শ্রমিক নিহত, আরো অজানা সংখ্যক শ্রমিক নিখোজ এবং শত শত আহত হলেও মালিক পক্ষের কাউকে গ্রেফতার রিমান্ড তো দূরের কথা মামলার মুখোমুখিও হতে হয় না। এই অবস্থায় মালিক পক্ষের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ না নিয়ে গার্মেন্টস শিল্প রক্ষার অযুহাতে শ্রমিক নেতৃ মোশরেফা মিশুর গ্রেফতার ব্যাপক প্রতিবাদ ও সমালোচনার মুখোমুখি হতে শুরু করে, তখন ফ্যাসিষ্ট কায়দায় রাষ্ট্র এই বিজয়ের মাসে জনগণের জামাত বিরোধী সেন্টিমেন্ট কাজে লাগানোর জন্য আজীবন রাজপথে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করা, জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ঘাতক দালাল বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক (২২টি ছাত্র সংগঠনের জোট, যার মধ্যে ছাত্র লীগও অন্তর্ভূক্ত ছিল, সেই জোটের নেত্রী ছিলেন)মোশরেফা মিশুকে জামাত/জঙ্গী কানেকশনে সম্পৃক্ত করে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন চালায়।

এইটা হইলো একেবারে ধ্রুপদি হিটলারি ফ্যাসিবাদের জ্বলন্ত উদাহরণ। হিটলার/মুসোলিনি মরলেও ফ্যাসিবাদ মরে নাই। ঠেলায় পড়লেই বুর্জোয়া রাষ্ট্র গণতেন্ত্রর মুখোশ খুইলা যায়, তথাকথিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গণতন্ত্র ভুইলা যায়, অত্যাচার-নির্যাত-নিপীড়নের ডাইরেক্ট অ্যাকশান শুরু করে। এই ডাইরেক্ট অ্যাকশান যখন সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে করা হয় তখন সেইটা হয় সামরিক শাসন বা একনায়কতন্ত্র আর যখন এইটাকে জায়েজ করার জন্য এর সাথে জাতিগত শ্রেষ্ঠত্ব, কোন ধর্মীয় অনুভূতি, দেশপ্রেম, বিশেষ জাতীয়তাবোধের আবেগ, জরুরী অবস্থায় জরুরী কর্তব্যবোধের প্রয়োজনীয়তা ইত্যাদি মিশিয়ে দেয়া হয়, তখন সেইটা হয়ে উঠে ফ্যাসিবাদ।

শ্রমিক আন্দোলন দমনের জন্য মোশরেফা মিশুর গ্রেফতার-রিমান্ড-নির্যাতনকে জামাত কানেকশানের ধোয়া তুলে জায়েজ করার এই ধান্দা সেই ধ্রুপদী ফ্যাসিবাদেরই ন্যাংটা উদাহরণ। আমরা এই ফ্যাসিবাদকে ঘৃণা করি এবং এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-প্রতিরোধের আহবান জানাই। সেই সাথে মোশরেফা মিশুর মুক্তির দাবীতে এই ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন জোরদার করার ডাক দিয়ে যাই।

৩৫টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শরৎ বন্দনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯


শরৎ এলেই আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের ভেলা
দিনমণি আর মেঘমালার লুকোচুরি খেলা।

রুম ঝুমঝুম নূপুর পায়ে ছুটছে নদীর ঢেউ
ভাটিয়ালি গাইছে গান অচিন সুরে কেউ।

বিলে ঝিলে শাপলা পদ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×