এইরকমই একটা কথিত ষড়যন্ত্রের অভিযোগে নিজ বাসা থেইকা গ্রেফতার করা হয় মোশরেফা মিশুরে। গত ১৩ ই ডিসেম্বর ১২ জনের একটা দল ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়া কোন ধরণের ওয়ারেন্ট ছাড়াই মিশুরে গ্রেফতার কইরা নিয়া আসে। তখন তার বিরুদ্ধে কুড়িলের তিনটি গার্মেন্টসের শ্রমিকদের উস্কানি দেয়ার অভিযোগ তোলা হয়। তারে প্রথমে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়া নির্যাতন করা হয়। এরপর শুরু হয় অন্য খেলা, তাকে নাকি জামাতের ঢাকা মহানগরের আমির রফিকুল ইসলাম খানের সাথে কথা বলতে দেখা গেছে, অতএব তিনি নিশ্চয়ই জামাতের সাথে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত! তিনি জামাতের সাথে কি ষড়যন্ত্র করেছেন তার রহস্য উন্মোচনের কারণ দেখিয়ে প্রথমে আরো একদিন এবং এরপর আরও দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। যার ফলাফল রুপে বাম গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম নেতা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী র্পার্টির সাধারণ সম্পাদক এবং গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশুকে শ্বাসকষ্ট ও মেরুদন্ড ব্যাথা নিয়ে কাতরাতে হচ্ছে ঢাকা মেডিক্যালের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেঝেতে।
(সূত্র: Click This Link)
প্রথমে গার্মেন্টস সেক্টর অস্থিতিশীল করা এবং পরে জামাত কানেকশানের অভিযোগে মোশরেফা মিশুকে গ্রেফতার-রিমান্ড-নির্যাতন করা হলো এমন একটা সময়ে যখন গার্মেন্টস সেক্টরের শ্রমিকরা ন্যয্য মজুরীর দাবীতে আন্দোলন করছে আর শাসক দল মালিক পক্ষের হয়ে শ্রমিকদের গুলি করে মারছে। এ সময়ে আগুনে পুড়ে, ধোয়ায় দম বন্ধ হয়ে এবং লাফিযে পড়ে অন্তত ৩১ শ্রমিক নিহত, আরো অজানা সংখ্যক শ্রমিক নিখোজ এবং শত শত আহত হলেও মালিক পক্ষের কাউকে গ্রেফতার রিমান্ড তো দূরের কথা মামলার মুখোমুখিও হতে হয় না। এই অবস্থায় মালিক পক্ষের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ না নিয়ে গার্মেন্টস শিল্প রক্ষার অযুহাতে শ্রমিক নেতৃ মোশরেফা মিশুর গ্রেফতার ব্যাপক প্রতিবাদ ও সমালোচনার মুখোমুখি হতে শুরু করে, তখন ফ্যাসিষ্ট কায়দায় রাষ্ট্র এই বিজয়ের মাসে জনগণের জামাত বিরোধী সেন্টিমেন্ট কাজে লাগানোর জন্য আজীবন রাজপথে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করা, জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ঘাতক দালাল বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক (২২টি ছাত্র সংগঠনের জোট, যার মধ্যে ছাত্র লীগও অন্তর্ভূক্ত ছিল, সেই জোটের নেত্রী ছিলেন)মোশরেফা মিশুকে জামাত/জঙ্গী কানেকশনে সম্পৃক্ত করে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন চালায়।
এইটা হইলো একেবারে ধ্রুপদি হিটলারি ফ্যাসিবাদের জ্বলন্ত উদাহরণ। হিটলার/মুসোলিনি মরলেও ফ্যাসিবাদ মরে নাই। ঠেলায় পড়লেই বুর্জোয়া রাষ্ট্র গণতেন্ত্রর মুখোশ খুইলা যায়, তথাকথিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গণতন্ত্র ভুইলা যায়, অত্যাচার-নির্যাত-নিপীড়নের ডাইরেক্ট অ্যাকশান শুরু করে। এই ডাইরেক্ট অ্যাকশান যখন সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে করা হয় তখন সেইটা হয় সামরিক শাসন বা একনায়কতন্ত্র আর যখন এইটাকে জায়েজ করার জন্য এর সাথে জাতিগত শ্রেষ্ঠত্ব, কোন ধর্মীয় অনুভূতি, দেশপ্রেম, বিশেষ জাতীয়তাবোধের আবেগ, জরুরী অবস্থায় জরুরী কর্তব্যবোধের প্রয়োজনীয়তা ইত্যাদি মিশিয়ে দেয়া হয়, তখন সেইটা হয়ে উঠে ফ্যাসিবাদ।
শ্রমিক আন্দোলন দমনের জন্য মোশরেফা মিশুর গ্রেফতার-রিমান্ড-নির্যাতনকে জামাত কানেকশানের ধোয়া তুলে জায়েজ করার এই ধান্দা সেই ধ্রুপদী ফ্যাসিবাদেরই ন্যাংটা উদাহরণ। আমরা এই ফ্যাসিবাদকে ঘৃণা করি এবং এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-প্রতিরোধের আহবান জানাই। সেই সাথে মোশরেফা মিশুর মুক্তির দাবীতে এই ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন জোরদার করার ডাক দিয়ে যাই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


