বাসে চড়ে যাচ্ছি। একই সিটে বসে আছি দু জন । বাস ছাড়তে শুরু করতেই পাশের লোকটি প্রশ্ন করলো।
বাড়ি কই?
মেজাজটা কেমন লাগে? কথা নেই বার্তা নেই প্রশ্ন করে বসে।প্রশ্ন করে বসে বাড়ি কই? এমন ভাবে প্রশ্ন করে যেন আমি তার কাছে ভিক্ষা চাইতে এসেছি। আমি উত্তর করলাম।
কেন?
কেন মানে কি? প্রশ্ন করেছি উত্তর দিবেন। আবার প্রশ্ন করেন কেন?
আপনি প্রশ্ন করেন কেন?
কেউ কিছু জানতে চাইলে উত্তর করা ভদ্রতা। একজন মানুষতো আর একজনের বাড়ি জানতেই পারে।
তা পারে। তবে আমি আপনার উত্তর দিতে রাজি না।
কেন?
আমি আপনার উত্তর করতে বাধ্য নই।
হেই মিঞা । দাগী আসামিরা নিজের বাড়ির ঠিকানা দেয়না। আপনি কি দাগী আসামী নাকি? সন্দেহ জনক।
আমি অনেক কষ্টে রাগ নিয়ন্ত্রন করে বল্লাম।
না , আমি দাগী আসামী না। তবে আপনাকে তারচেয়ে বেশি কিছু বলে সন্দেহ হচ্ছে।
সাথে সাথে লোকটি দাঁড়িয়ে গেল।
কী আমাকে দাগী আসামী বলছেন। দেখলেন পোয়াডা কত বেয়াদব? সাক্ষী মানা মানুষটা মাঝ বয়সি। আর যিনি আমার সাথে এই বিষয় নিয়ে কথা বলছেন তিনি প্রায় বৃদ্ধ। মাথায় টুপি মুখে সাদা দাঁড়ি।
পরনে এক ধরনের আলখেল্লা। মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফেরত লোকজন এই ধরনের পোষাক নিয়ে আসতে দেখি। গলা থেকে একেবারে পা পর্যন্ত।দেখতে অনেকটা পাঞ্জাবীর মতো। আমি এর নাম দিয়েছি আলখেল্লা। অন্য কোন নাম থাকতে পারে। আমি তা জানি না । জানতে চেষ্টাও করি নি।
মধ্যপ্রাচ্যে কাজের জন্য যারা যায়। তাদের অনেকেই হজ্জ্ব করে ফিরে আসেন। ফিরে আসার সময় কিছু ঔদ্ধত্ব নিয়ে আসেন। সবাই না হলেও অনেকেই। তাদের আচরনে ধার্মীকিয় লেবাস ছাড়াও একধরনের মোড়লিয়ানা দেখতে পাওয়া যায়। সহজ কারন হতে পারে হজ্জ্ব করার কারনে সে বাড়তি একটি সম্মান আশা করে। কিন্তু যখন অন্য বিদেশ ফেরত সকলের মতোই আচরন পায় তখন কিছুটা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। তবে যারা হজ্জ্ব করার নিয়তে যান। তাদের ব্যপারটা আলাদা।
এটা কোন পরিসংখ্যান নয়। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা।
গত রমজান মাসে আমি রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি। হাতে একটা পত্রিকা। রমজান মাসের সকাল একটু দেরিতেই হয়। দশটা এগারটার দিকেও একটা মফস্বল শহরের রাস্তায় খুব একটা ভিড় দেখা যায়না।একটি রিক্সা এসে থামল। লোকটি রিক্সাওয়ালাকে দুই টাকা ভাড়া দিচ্ছে। দুইটাকা রিক্সা ভাড়া অনেক কম। আমি দাঁড়িয়ে রিক্সাওয়ালা এবং যাত্রীর মাঝে কথা কাটাকাটি দেখছি। যাত্রীটিকে দেখে তার অর্থনৈতিক দৈন্যতা কিছুটা আঁচ করতে পারলাম। অনুমান করলাম হয়তো যাত্রীটির কাছে এরচেয়ে বেশি টাকা নাই।
রিক্সাওয়ালা বলছে। দুইটাকা ভাড়া আছে? আরো দেন?
এমন সময় আলখেল্লা পরিহিত এক দাঁড়িওলা মাঝ বয়সি এসে হাজির।
আলখেল্লা এসে কথা বল্ল দুইটাকা দিছে তো কি হয়েছে? যা পারছে দিসে, আবার তর্ক করস কেন? লাইথাইয়া দুর করুম। বাড়ি কই তোর? বলতে বলতে রিক্সাওয়ালার গালে দুইটা বসিয়ে দিল। চারদিকে কিছু মানুষের জটলা হয়ে গেল। রিক্সার যাত্রীটি উধাও। রিক্সাওয়ালাকে আশ্লীল ভাষায় গালী দিয়ে যাচ্ছে আলখেল্লা। লোকজন কিছু বলার সাহস পাচ্ছেনা। আবশেষে রিক্সাওয়ালা ছেলেটি কোন রকমে রিক্সা নিয়ে পালাতে পারলো। আমি প্রথম থেকেই যেহেতু দেখছিলাম তবু আলখেল্লা পরিহিত লোকটি কেন ক্ষেপে গেল বুঝতে পারলাম না।
পরে দোকান দারের সাথে কথা বলে জানতে পারলাম তিনি কিছুদিন হয়েছেন মধ্যপ্রাচ্য থেকে এসেছেন? তাকে এখন সবাই হাজ্জী সাহেব ডাকেন।
দোকানদার অভিযোগের সুরে বল্ল। দেখলেন হাজ্জি সাহেবের কান্ডটা দেখলেন? রমজান মাসে সকাল বেলাতেই কি অশ্লিল কথা গুলো কইলো। আমি কিছু না বলে বেরিয়ে আসলাম। মনে মনে বল্লাম শেহরির খাবারটা মনে হয় ভাল হয়নি। তাই পেটভরে খেতে পারেনি। পেটে ক্ষুধা থাকলে আচরনে কিছুটা পাগলাটে ভাব আসতেই পারে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


