somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছোট মাথায় বড় চিন্তা।[IMF এর দালালি]

১৯ শে জানুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৫:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

টিভিতে একটা নিউজ দেখার পর কিছু প্রশ্ন আসছে মাথায় কিন্তু উত্তর গুলো জানা নেই। আইএমএফ বাংলাদেশকে বিনা সুদে ঋণ দেবে এই আশায় আছে সরকার। তাই তাদের পরামর্শে জ্বালানি তেলের উপর থেকে ভর্তুকি পর্যায় ক্রমে উঠিয়ে নিচ্ছে। গত বছর তিন দফায় দাম বাড়িয়েছে। এই বছর আরো দুইবার বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা আগেই জানিয়ে রাখছেন অর্থ মন্ত্রী। ডলার বিক্রির উপর কোন নিয়ন্ত্রন থাকছেনা। রাস্তার পুরনো জামা কাপরের মতো দোকানী যত ইচ্ছে দাম চাইবে, এবঙ তাদের ইচ্ছে মতো বিক্রি করবে। আমাদের দেশের সকল ব্যাংকের সর্বোচ্চ সূদের হার ঠিক করতো বাংলাদেশ ব্যাংক। এবার তাও থাকছেনা। ব্যাংক গুলো যত ইচ্ছে সুদ নিতে পারবে। যত ইচ্চে সুদ আদায় করতে পারবে। এবং যত ইচ্চে মুনাফা দিতে পারবে।
কি চমৎকার বিধান, তাই না।
আইএমএফ আমাদের জন্য কত কিছুই না করে। এটাও নিশ্চয় আমাদের ভালর জন্যই করেছে। আমরা তো আর আমাদের ভাল বুঝতে পারিনা তাই আমাদের আইএমএফ এর পরামর্শ উপদেশ নিয়ে চলতে হয়।

তবু একজন খাঁটি বেকুব হিসেবে অনেক বিষয় বুঝতে চেষ্টা করি। আমাদের দেশের সরকার যদি তার জনগনের কোন পণ্যতে ভুর্তিকি দিতে চায় বা দেয় তাতে আইএফএফ এর সমস্যাটা কোথয়? তারা সরকার কে এই বিষয়ে চাপ দেয়ার সময় নিশ্চয় কোন একটা কারন উল্লেখ করেছে। কি সেই কারন?
এই কর্তাদের পরামর্শেই নাইজেরিয়ায় তেলের উপর থেকে ভূর্তুকি উঠিয়ে নিয়েছে। সেই দেশে তেলের দাম বেড়েছে দ্বিগুন। এই নিয়ে চলছে আন্দোলন। আমাদের সরকার তো আর নাইজেরিয়ার মতো এত বোকা না। তাই তারা বাড়াচ্ছে কয়েক দফায়। আস্তে আস্তে। বাঁশ আমাদের দেবে কিন্তু আস্তে আস্তে । ব্যথায় যন্ত্রনায় চিল্লাবো কিন্তু বুঝবার উপায় থাকবে না যে এটা বাঁশ ঢুকানোর কারনে হচ্ছে। এই হচ্ছে আমাদের অনেক ডিগ্রী পাওয়া সরকার।

এই আস্তে আস্তে তেলের দাম বাড়ানোর বাঁশের আর একটা টাইপ বেশি খেতে হচ্ছে জনগনকে। যতবারই তেলের দাম বাড়ে, সেই সাথে বাড়ে বাস ভাড়া।এক স্টেশন থেকে আর এক স্টেশনে কম করে একটাকা বাড়ে। তিন বারে কম করে তিনটাকা বেড়েছে। যদি একবারে বাড়াত তবে এই ভাড়াটা বাড়তো দুই টাকা।এটা অর্থনীতির হিসাব না। সহজ সরল হিসাব।
সরকার এই ভাড়া নিয়ন্ত্রনে কয়েক দফায় ভাষন দেয়। যোগাযোগ মন্ত্রী এই বিষয় নিয়ে সরাদিনই টেলিভিশনের ক্যামেরার সামনে হাসি মুখে বসে থাকেন। টিভিতে দেখানোর একবারের পরিবর্তে তিনবার সুযোগ পাচ্ছেন এটাই কম কিসে।

না আজ সরকারের চালবাজ নীতি নিয়ে কিছু কওনের খায়েশ নেই। এটা তো আমাদের অভ্যন্তরিন বিষয়। আবার হতে পারে আর্ন্তজাতিক বিষয়ও। তারা যে ভাবে আমাদের প্রতিটি কাজে নাক গলায় তাতে সন্দেহ অমুলক নয়। তাদের সাদা চামড়ার শয়তান গুলো যে এই বিষয়ে উপদেশ দেয় নাই তারইবা গ্যারান্টি কি?
কিন্তু কেন? কেন তারা আমাদের জ্বালানী তেলের উপর থেকে ভূর্তুকি তুলে নিতে বলছে?

ডলারে দাম সরকার যদি নিয়ন্ত্রন না করে তবে আইএমএফ এর কি সুবিধা হয়? না করলে তাদের কি সমস্যা হয়?
এমন কি হতে পারে আমাদের দেশে বিদেশি যে কোম্পানি গুলো ব্যবসা করে টাকা কে ডলার বানিয়ে বগল দাবা করে নিয়ে যায়। টেলিফোন কোম্পানি গুলো অন্যতম। তারা তাদের ইচ্ছে মতো ডলার কেনা বেচার সুবিধা পাবে। আমার খুব জানার ইচ্ছে কি বিষয় থাকতে পারে এই ডালারের দামের নিয়ন্ত্রন বাজারের উপর ছেড়ে দিয়ে?

ব্যাংকের ব্যপারটাও বিষ্ময়কর মনে হয়েছে। আমাদের দেশের ব্যাংক গুলোর সর্বোচ্চ সুদের হার যদি বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারন করে না দেয়। তবে প্রত্যেক ব্যাংক তাদের নিজেদের সুবিধা মতো যত বেশি মুনাফা অর্জন সম্ভব, তারা তাই করবে। আগের মহাজনের মতো অধিক সুধে ঋণ দিতে চাইবে। শুধু চাইবে কি ? দিবে। এতে আইএমএফএর কি সুবিধা হবে? বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রন থাকায় তাদের কি অসুবিধা হচ্ছে?

আমাদের দেশের ব্যাংক গুলোতে বিদেশি অর্থায়ন কি পরিমানে? তারা নিজেদের লাভের জন্য আমাদের উপর তাদের ইচ্ছে মতো সুদ অরোপ করে আরো লাভবান হতে চাইছে। এখন আর ইউনোস সাহেব কে বলা যাবে না যে তিনি সর্বোচ্চ সুদ নেন! ইউনুস সাহেবের ভালই সুবিধা হলো। তার উপর থেকে একটা অপবাদ কমলো।

অল্প কিছু ডলারের জন্য সরকার আমাদের দেশটাকে পতিতা বানিয়ে বাজারের হাতে তুলে দিচ্ছে। আর কত ভয়ানক পরিনতি হতে পারে?

আমার জানার খুব শখ হয়। আইএমএফ কোন নীতির ভিত্তিতে দেশের উপর এই নিয়ন্ত্রন আরোপ করে যাচ্ছে? কারা দেয় এই প্রতিষ্ঠানের আদেশ নিষেদ উপদেশ? কাদের মাথা থেকে বের হওয়া চিন্তা গুলো এই দুর্বল রাষ্ট্র গুলোর উপর চাপিয়ে দেয়? সহজ কথায় এই আইএমএফ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটা কাদের? লাভের অংক গুলো শেষ পর্যন্ত কোন তহবিলে জমা হয়? কাদের পেটে হজম হয় শোষনের এত ডলার?
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×