আপনি মনে-প্রাণে দেশকে ভালবাসেন। দেশের দুর্দিনে একা নিভৃতে দেশের কথা ভাবেন।আপনার কষ্ট হয় যখন দেখেন দেশটা শকুনে ছিড়েছিড়ে খাচ্ছে অথচ আপনি কিছুই করতে পারছেন না। দেশের সম্পদ বুক দিয়ে আগলে রাখেন। আপনি নিজেকে দেশ প্রেমিক বলতে ভালবাসেন। এবং আপনার এই ভালবাসার মাঝে কোন রকমের কর্পোরেটিয় ফাঁকি বাজি নেই। তাই আপনাকেই বলছি, আপনি যদি দেশের বৈদেশিক নীতি, অর্থনীতি এবং কর্পোরেট বেনিয়াদের সম্পর্কে সতর্ক না হন।আপনি যদি মুক্তবাজার সম্পর্কে সাম্যক বুঝতে ব্যর্থ হন। তবে আপনার কোন একটা স্লোগান হয়তো আপনার অজান্তেই রাষ্ট্রের বিপক্ষে কর্পোরেটের পক্ষে চলে যেতে পারে। তাই ভালবাসার দেশটিকে বাঁচাতে আরো সতর্ক হয়ে পক্ষ নিন।
আমি "আসুন ভারতীয় পণ্য বর্জন করি[আমাদের প্রতিবাদ]" নামক একটি গ্রুপে আলোচনা করতে গিয়ে নানা ধরনের মতামত পাচ্ছি। কোনটা পক্ষে কোনটা বিপক্ষে। মানুষ যত তার মতামতও ততই থাকবে। কিন্তু আর একটা পক্ষ আছে যারা আমার সাথে আছে আবার বিপক্ষেও আছে। তারা এই দেশটাকেও ভালবাসে।দেশের উন্নতি চায়। আবার ভারতকেও কিন্চিত ভালবাসে। ভারতীয় পণ্য দেখলে তাদের মনে শান্তি লাগে। যে হেতু তারা দেশকেও ভালবাসে এমন বলে তাই এই গ্রুপে তারা বিপক্ষে যেতে পারেনা। তাই নানা রকমের প্রশ্ন করে। যেমন আপনি কেন টেলিটক ব্যবহার করেন না? আপনি কেন বাংলালীংক ব্যবহার করেন, কেন গ্রামীন ফোন ব্যবহার করেন এটা তো নরওয়ের। আপনার কি মনে হয় মানুষ এসব কথা শুনে ভারতীয় পণ্য ব্যবহার বন্ধ করবে? আপনার কি মনে হয় এসব আন্দোলনে ভারতের কিছু হবে? ভারত এসবের কোন ধারই ধারেনা। তাদের একটা াল ও ছিড়া যাবেনা।
তারা এমন ভাবে কথা বলে যে মনে হয় তারা বাংলাদেশ কিংবা ভারতের কেউ নয়। আমেরিকা থাকে বিষয়টা পর্যবেক্ষন করে আমাদের উপদেশ দিচ্ছে। এসব কি পারবেন? আপনাদের কথা কে শুনবে? ভারতের চ্যানেল কি বন্ধ হবে? মানুষতো দেখবেই?
ইত্যাদি ইত্যাদি।
মেজাজটা খুবই খারাপ হয়। দেশটা আমার আমি বন্ধ করার চেষ্টা করছি। যিনি এসব তর্ক করছে সে কি এটাকে নিজের দেশ মনে করছে? এখন নাম ধরেই যদি বলি তবে হাজী সাহেবের মুখ খারাপ হয়ে যায়।
যারা মনে করেন ভারতীয় পণ্য বর্জন মানে আপনার কেনা টাটা গাড়িটা আগুনে পুরে ফেলতে হবে। অথবা বাজাজ মোটরসাইকেলটি পানিতে ফেলে দিতে হবে। তাদের সাথে তর্ক করা সাজে না। আপনার একটি এয়ারটেল সিম আছে তাতে ৫০০টাকা আছে। এই টাকাটা তো আপনি ফিরিয়ে আনতে পারবেন না। এখন যদি ব্যবহার বন্ধ করেন তবে কি আপনার বা দেশের কোন লাভ হলো? এই সহজ কথাটা বুঝতে কিছুটা সময় নিচ্ছেন। তারা যে বুঝে না তা আমি বিশ্বাস করিনা। ভালই বুঝে,কেবল সুযোগে থাকে কি ভাবে বিরুধিতা করে সুশিল সাজা যায়। আজকাল সুশিলদের খুব নাকি কদর। যে কোন একটা কিছুর বিরুধিতা করতে পারলেই হলো। তাই দেখা যায় যুদ্ধপরাধীদের বিচার নিয়ে এক দল ালের সুশিল নিরপেক্ষ বিচার চাইছে। আবার আর একদল ালের সিশিল মানবাধীকার নিয়ে মাতম করছে। আমরা এদের ভালকরেই চিনি। এসব যে দেশি মোড়কে ভারত পাকিদের ভুত।
চলবে..........
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১০:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


