টাকা পয়সার খুবই সমস্যা যাচ্ছে। মাস শেষে এমন নিয়মিতই যায়। গকাল রাতে এক হাজার টাকা ধার চাইলাম। তিনি ঝকঝকে একটা একহাজার টাকার নোট দিলেন। আমি মিনমিন করে বল্লাম ভাংতি থাকলে....। তিনি এমন ভাবে তাকালেন আমি আর কিছু বলার সহাস পেলাম না। পকেটে আগের ত্রিশ চল্লস টাকা ছিল। সব মিলিয়ে বুক ফুলিয়ে হাঁটছি। হাজার টাকার নোট পকেটে থাকলে একটা ভাব তো থাকবেই(নিয়মিত পকেটে হাজার টাকার নোট রাখার সুযোগ হয়না তো)।
ছোটখাট কেনা কাটা করতে করতে ভাংতি সব টাকাই শেষ হলো। এবার হাজার টাকার নোটটা একলাই মানি বেগে বসে আছে। আমার মনটাও ফুরফুরা।
রাতে আর হাজার টাকার নোটের উপর দিয়ে কোন ঝামেলা যায়নি। সকালে নাস্তা করতে গেলাম। ডিম পরুটা দিয়ে পেট ভরে খেলাম।কড়া করে এক কাপ রংচা ।বিল দিতে গিয়ে পড়লাম বিপদে। ভাঙ্গতি নেই, আমি ছাদের দিকে তাকিয়ে আছি । হোটেল ম্যানেজার জানতে চাইল ভাঙ্গতি নাই? নাহ এটা থেকেই রাখতে হবে।
আমি ভাল করেই জানি,এত সকালে সে কোথা থেকে ভাঙ্গতি আনবে? পারবেনা। হোটেলের ছেলেটাকে পাঠাল ভাংতি আনতে। সে ঘুড়ে এসে জানাল পায়নি। আমি উদাস গলায় বল্লাম তাহলে কি করা?
এবার ম্যানেজার বরক্তি মিশ্রিত হাসি দিয়ে বল্ল পরে দিলেই হবে। না থাকলো তো আর জোরের কিছু নাই।আস্তে আস্তে বেড়িয়ে আসলাম। যাক আজ নাস্তাবাবদ কোন টাকাই খরচ হয়নি। পুরো এক হাজার টাকাই রয়ে গেছে।
কলেজ গেটে এক চানাচুড় বিক্রেতা আমাকে দেখে ডাকতে লাগলো। মামা দিমু নাকি দশটাকার? না থাক। আরে দেই? আচ্ছা ঝাল বেশি করে দিয়ে দে? দুজন মিলে দশটাকার চানাচুর খেয়ে। বাড়িয়ে দিলাম হাজার টাকার নোট? এবার চানাচুর ওয়ালা একবার আমার দিকে তাকায় আবার নোটের দিকে। এইডা কি দিলেন? আমি তার দিকে তাকিয়ে :কি দিলাম দেখস না? তোর কি মনে হয় এইডা জাল টাকা? না জাল তো বলি নাই। তবে সমস্যা কি? ভাঙ্গতি দে?
চানাচুরওয়ালা গেছে ভাঙ্গতি আনতে। আমি গাড়িতে বসে পাঝুলাচ্ছি। তার পর যা হওয়ার তাই হলো। সে টাকাটা আমার হাতে দিয়ে বল্ল ঠিক আছে। পরে দিয়েন। আচ্ছা পরে মনে করে নিস।
বুঝলাম সাধারন কোন টাকা না। মনে হয় আমার হাতে আসার আগে কোন পীর ফকিরের হাত হয়ে এসেছে। বড়ই বরকতদার টাকা। এইটা পকেটে থাকলে বছরখানেক মনে হয় টাকা ছাড়া চলতে পারবো। আমার এবার কিছুটা ফূর্তি লাগছে। পকেটে এক হাজার টাকা অথচ কেউ টাকা রাখছেনা। নিজের মনেই বললাম আমার কি দোষ? আমি তো সবারেই টাকা দিচ্ছি? কেউ ভাংগাতে পারেনা আমি কি করবো?
দুপুরে হিন্দু মেসে খেতে গেলাম।এবার শুরোতেই বলে নিলাম একহাজার টাকার নোট ভাঙ্গতি হবে? ম্যাসের বাবু কিছু বলার সুযোগ পেল না ।বলত বলতে হাত ধুয়ে বসে পরলাম। না খেয়ে তো আর থাকা যাবে না। আজ নিলাম মাছের সাথে মোরগ। টাকাটা যদি ভাংতি হয়? খাওয়ার শেষে বল্লাম পাঠান কাউকে ভাংতি নিয়ে আসুক। বাবু বল্ল,আমার তো পাঠানোর মতো কোন লোকজন নেই। ঠিক আছে পরে দিয়েন। আপনি তো প্রায়ই আসেন। আমি মাথা ঝাকুনি দিয়ে বললাম তা ঠিক তা ঠিক। টাকা নিয়ে তো আর ভেগে যাচ্ছিনা?
নতুন বই আসায় লাইব্রেরি থেকে একটা বই নিলাম। স্যার কে টাকাটা দেখাতেই তিনি হেসে দিলেন। শেষ পর্যন্ত খাতাতে আমার নামে লিখে রাখলেন। একটা সপ্তাহিক একতা পত্রিকা কিনলাম, এভাবেই পরিশোষ করেছি।
রাতে আবার সেই মেসে হাজির। বাবু এবার নিশ্চয় ভাঙতি হয়েছে।সে এবার আর কথা বাড়ালনা। বল্ল খেয়ে যান এক সাথেই দিয়ে দিয়েন। বলেই খাতায় লিখে রাখলো।
সব শেষে বাসায় উঠার আগে নিচের দোকান থেকে এক প্যাকেট বিস্কুট নিয়ে বাসায় উঠলাম।
পকেটে এখনো একহাজার টাকার নোট টা আছে।সরকার কে ধন্যবাদ এক হাজার টাকার নোট ছাপানোর জন্য।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

