সত্যজিৎ রায় এবং ঋত্তিক ঘটকের যে কোন সিনেমাই দারুন লাগে। এদের ছবি কিছুটা হলেও প্রায়ই সবাই দেখি। এছাড়াও কিছু সিনেমা আছে খুব কমই দেখা হয়ে থাকে। সেগুলো সবার সাথে শেয়ার করার ইচ্ছে নিয়ে নেট ঘাঁট ছিলাম। তেমন মনের মত করে পেলাম না, তাই নিজেই ডাউনলোড করলাম। এখন আপনাদেরও দেখাতে মন চাইল।
প্রথমেই ‘ঝিন্দের বন্দী’(১৯৬১/পরিচালক-তপন সিন্হা) সিনেমার আমার ভিষণ প্রিয় মুহুর্ত হল যখন অরুন্ধুতি দেবী আসেন। অরুন্ধুতি দেবীকে আমার খুব ভাল লাগে। ওনার ব্যক্তিত্ব, গাম্ভীর্য- সবের মধ্যে একটা শান্ত ‘শ্রী’ আছে। ওনার ‘জতু গৃহ’, ‘বিচারক’, ‘ভগিনী নিবেদিতা’র কথাও এপ্রসঙ্গে মনে পরছে। অরুন্ধুতি দেবী ছারাও ‘ঝিন্দের বন্দী’তে উত্তম কুমার, সৌমিত্র-অসাধারণ অভিনয় করেন।
কাবুলিওয়ালা-রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত কাহিনী অবলম্বনে ১৯৫৬এ তপন সিনহার উপহার। এটা সবারই দেখা। ছোট্ট মিনি ও কাবুলিওয়ালারূপী ছবি বিশ্বাসের দৃশ্যগুলি চির স্মরনীয় হয়ে আছে। মা সাজেন মঞ্জু দেবী ইনিও আমার খুব প্রিয়। বাবার ভূমিকায় রাধামোহন ভট্টাচার্য বাস্তবেও নাকি খুব অমায়িক ও পন্ডিত মানুষ ছিলেন। ইনি ‘ঝিন্দের বন্দী’তেও খুব গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন। আর ছোট্ট মিনি হলেন শর্মিলা ঠাকুরের বোন টিংকু ঠাকুর।
‘ভূবন সোম’ বনফুলের গল্প অবলম্বনে মৃণাল সেনের ১৯৬৯এর সিনেমা। এটি হিন্দীতে......তবে বুঝতে খুব অসুবিধে হবে না। ভূবন সোম রূপী উৎপল দত্ত ও গৌরী রূপী সুহাসিনী মূলে এতে অসাধারণ অভিনয় করেছেন।
‘গল্প হলেও সত্যি’ তপন সিনহার ১৯৬৬এর সিনেমা। এতে রবি ঘোষ দুর্দান্ত অভিনয় করেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলছিলেন তার এ সিনেমায় গান করার একটুও ইচ্ছে ছিলনা। কিন্তু তপন সিনহা ওনাকে অনেক বুঝিয়ে প্রায় জোর করেই করান। এ সিনেমায় ওই দু’টি দৃশ্য আমার খুব ভাল লাগে তাই এখানে দিলাম।
মৃণাল সেনের ‘নীল আকাশের নিচে’(১৯৫৯) মঞ্জু দেবী ও কালি ব্যানার্জি অসাধারণ অভিনয় করেছেন।
১৯৩০এর পটভূমি-মঞ্জু দেবী স্বদেশী করেন, যা তার স্বামী বিকাশ রায় বিশেষ পছন্দ করেন না। একদিন রাস্তায় এক চিনে ফেরিওয়ালাকে তিনি বাচ্চাদের দঙ্গল থেকে বার করে আনেন।
চিনে ফেরিওয়ালাই কালি ব্যানার্জি, মেকআপটা মাঝে২ একটু চড়া লাগে কিন্তু সকলে অভিনয় গুণে তা দুর করেছেন।
চিনে ফেরিওয়ালা বাসন্তীরূপী মঞ্জু দেবীর মধ্যে চিনে হারিয়ে ফেলা বোনকে খুঁজে পায়। ফেরিওয়ালার সরলতায় মঞ্জু দেবীও তাকে স্নেহ করতে থাকেন, যা বিকাশ রায়ের অসহ্য লাগে। তিনি ফেরিওয়ালাকে অপমান করেন।
শেষে মঞ্জু দেবীর স্বদেশী করার অপরাধে জেল হয়। তখন চিন-জাপানেরও যুদ্ধ লাগে মঞ্জু দেবীর স্বদেশী ভাবনা ফেরিওয়ালাকে প্রভাবিত করে সেও দেশকে স্বাধীন করার ইচ্ছে নিয়ে চিনে ফিরে যায়।
বাসন্তী দেবী ও ফেরিওয়ালার সামাজিক অবস্থা ভিন্ন হলেও তাদের ভাই-বোনের সম্পর্ক মন ছুঁয়ে যায়।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ১২:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



