somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কথাচ্ছলে মহাভারত - ২৮

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেবযানীর বিবাহঃ

এভাবে দেবযানী নানা আনন্দে দিন কাটাতে লাগলেন। দৈত্যরাজ নন্দিনী শর্মিষ্ঠা তাকে সেবা করতে লাগলেন।


আবার একদিন সহস্র দাসীসহ দেবযানী চৈত্রবনে বেড়াতে গেলেন। তিনি কিশলয়–শয্যায় শয়না, দৈত্য-রাজকন্যা শর্মিষ্ঠা তার পদ সেবায় রত।

দৈবের লিখন ঠিক সে সময় পুনরায় যযাতি সেখানে উপস্থিত হলেন।
তিনি দেবযানীর ও শর্মিষ্ঠার পরিচয় জানতে চাইলেন। দেবযানী পরিচয় দিলেন।

রাজা অবাক হলেন এমন সর্বাঙ্গসুন্দরী অসুররাজকন্যা কি করে দাসী হলেন।
দেবযানী বলেন -সবই দৈবের বিধানে ঘটে, এর দাসীত্বও সেই কারণে ঘটেছে।
দেবযানী আরো বলেন –রাজন, পূর্বে তুমি অন্ধকূপ থেকে আমাকেই হাত ধরে উদ্ধার করেছিলে। এখন আমার হাত গ্রহণ কর–আমায় বিবাহ কর।

রাজা জানান দেবযানী ব্রাহ্মণশ্রেষ্ঠ গুরু শুক্রাচার্যের কন্যা, তিনি ক্ষত্রিয়-সে কারণে দেবযানীর যোগ্য নন।

দেবযানী বলেন –কোন ভয় নেই, আমি স্বেচ্ছায় তোমার কাছে ধরা দিচ্ছি।
তবু যযাতি শুক্রাচার্যের ভয়ে ভীত হন। জানান গুরু শুক্র যদি অনুমতি দেন তবেই এ বিবাহ সম্ভব।

দেবযানী পিতাকে সব কথা জানালেন। শুক্রাচার্য নিজে যযাতির কাছে উপস্থিত হলেন।

ব্রাহ্মণকন্যাকে বিবাহ করলে পাপ হবে কি না তা জানতে চান যযাতি।
শুক্র বলেন –ব্রাহ্মণকন্যা অপর তিন শ্রেণীর জননী তুল্য।
তবু যযাতি এ বিবাহ করুক। কাচের শাপে দেবযানীর স্ববর্ণে বিবাহ হতে পারে না। তপোবলে তিনি যযাতির সব দোষ খন্ডন করবেন।


এরপর তিনি যযাতির সাথের কন্যা দেবযানীর বিবাহ দেন এবং সাবধান করেন দৈত্য-কন্যা দাসী শর্মিষ্ঠাকে যেন শয়নের সময় কখনও ডাকা না হয়। দৈত্যরাজ শর্মিষ্ঠাসহ সহস্র দাসীর জন্য অশোকবনে রাজা বসতি স্থাপন করেন।

দেবযানী হলেন রাজার প্রধান পাটেশ্বরী। দেবযানী আনন্দে রাজার সাথে অবস্থান করলেন। দশমাস পর দ্বিতীয় চন্দ্রসম তাদের পুত্র হল। নাম রাখা হল যদু।


এ সময় দৈবের নির্দেশে দৈত্যকন্যা শর্মিষ্ঠা ঋতুমতী হলেন। ঋতুস্নান করে কন্যা চিন্তিত হলেন। ভাবলেন, নিজের দোষে তিনি স্বামীহীনা হলেন। দাসীরূপে পুত্রহীনা হয়ে তার যৌবন বৃথা গেল!

এসব ভাবতে ভাবতে তিনি ঠিক করলেন দেবযানী তার ঈশ্বরী, দেবযানীর ঈশ্বর যযাতি। সুতরাং যযাতি তারও অধিকারী।

যযাতি ছিলেন সংসারে সত্যব্রত নামে বিখ্যাত।

সে সময় রাজা সে বনে একা ভ্রমণ করতে এলেন। শর্মিষ্ঠা তার সামনে উপস্থিত হয়ে প্রার্থণা করলেন তাকে কাম ভাবে গ্রহণ না করে ধর্ম রক্ষার্থে তার ঋতুরক্ষা করুন, রাজন।

রাজা বলেন বিবাহের সময় তিনি গুরু শুক্রকে কথা দিয়েছেন শয়নকালে কখনও শর্মিষ্ঠাকে গ্রহণ করবেন না।

শর্মিষ্ঠা বলেন –রাজা, ধর্ম মতে আমি তোমারই। তোমার স্ত্রী আমার সখী এবং ঈশ্বরীও বটে! তাই তুমিই আমার অধিকারী।


শর্মিষ্ঠা যযাতির কাছে ধর্ম রক্ষার্থে সন্তান ভিক্ষা করেন।
রাজাও বলেন –আমিও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে যা চাইবে তাকে তাই দেব। এই বলে তিনি শর্মিষ্ঠাকে গ্রহণ করলেন। কেউ একথা যানতে পারল না। তিনি আপন আলয়ে ফিরে গেলেন।


দশমাস দশদিন পর শর্মিষ্ঠার হস্ত-পদে চক্র শোভিত অপূর্ব পুত্র জন্মাল। সকলে সে কথা আলোচনা করতে লাগল। দেবযানী সে কথা শুনে তাকে দেখতে বনে এলেন এবং কামে মত্ত হয়ে সতীধর্ম নষ্ট করায় শর্মিষ্ঠাকে গাল দিলেন।

শর্মিষ্ঠা বলেন দৈবের লিখনে তার ঋতুকালে এক অপরূপ ঋষি বনে উপস্থিত হন এবং ধর্ম রক্ষার্থে তাকে গ্রহণ করেন। দেবযানী ঋষির পরিচয় যানতে চান। শর্মিষ্ঠা বলেন তার সূর্যের মত তেজ দেখে সাহস হয়নি পরিচয় জানবার।

দেবযানী বলেন –সখি, তুমি পূণ্যবতী। ঋষির বরেই তোমার চন্দ্রের মত পুত্র হল।

এই বলে দেবযানী অন্তঃপুরে ফিরে গেলেন। এর কিছুদিন পর দেবযানীর দ্বিতীয় পুত্র হল। নাম রাখা হল তুর্বসু। এভাবে দেবযানীর দুই পুত্র হল-যদু ও তুর্বসু।



অন্যদিকে শর্মিষ্ঠার গর্ভে রাজার তিনটি পুত্র জন্মাল। তারা হলেন-দ্রুহ্যু, অনু ও সর্ব কনিষ্ঠ সর্ব গুণাধার পুরু। রাজার কুমাররা এভাবে বড় হতে থাকেন। দেবযানী জানেন তারা ঋষির কুমার।
..........................................
উৎসর্গ: সকল ব্লগার বন্ধুকে
..........................................
আগের পর্ব:
কথাচ্ছলে মহাভারত - ২৭
Click This Link
২৫টি মন্তব্য ২৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চাপালিশ গাছের ফল চাম কাঠাল এর উপকারিতা

লিখেছেন রবিন.হুড, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:০৮


চাপালিশ, চামল, চাম্বল, চাম্বুল, টোপোনি (মগ), বলস্রাম (গারো), কাঁঠালি চাম বা চাম কাঁঠাল (বৈজ্ঞানিক নাম: Artocarpus chama; আর্টোকার্পাস চামা) হচ্ছে মোরাসি পরিবারের কাঁঠাল-জাতীয় একটি বন্য প্রজাতির ফল। বিপন্ন এই বৃক্ষটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাদা নীল জার্সি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪২


গায়ে ভাই রে সাদা নীল জার্সি
গন্ধ বাতাসে উম্মুখ হয়ে আছি;
কখন হবে- কণ্ঠ নালীর মিছিল-
তারপর- তারপর- সজোরে কিক
গোল- গোল শব্দটা আনন্দ মুখর!
আমার জার্সির রঙগুলো আত্মহারা
রাতজাগা পাগলাপাড়া ফুটবল খেলা
নয়ন জলে টলমলে- স্মৃতির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাইরে এসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

এসো, বৃত্তবদ্ধ খাঁচা ছেড়ে বাইরে এসো,
কল্পনাতীত উদাত্ত আকাশে চোখ পেতে
দুজনে বসি ঘাস গালিচাতে আজ পাশাপাশি ,
দেখ, পুস্প-ফলে বৃক্ষদের একাগ্র তপস্যা
দেখ, পূর্নিমাকে অর্থ দেয় বিপরীত অমাবশ্যা ।

দেখ, সাপ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×