তারপরও আওয়ামী লীগের বিকল্প রাজনীতি অনুপস্থিত
২২ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৮:২৯
চিন্তক লেখক আহমদ ছফা বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ যখন নির্বাচনে জেতে তখন একাই জেতে। যখন হারে তখন গোটা বাংলাদেশ হারে। আহমদ ছফা আওয়ামী লীগ রাজনীতির ভাবাপন্ন মানুষ ছিলেন না। আরো বড় অর্থে বলা যায় তিনি কখনই কোনো রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা নিয়ে দাঁড়াতেন না। তিনি দাঁড়াতেন মানুষের পক্ষে। সেই পক্ষপাত যে কোনো সময় যেকোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে বা পক্ষে চলে যেতে পারে। তার এই বিচক্ষণতা জানান দেয়, বাংলাদেশে এখনও রাজনৈতিক দল বলতে আওয়ামী লীগকেই নীতির মানদণ্ডে বিশ্লেষণ করা যায়। পক্ষান্তরে আওয়ামী লীগের সামনে সমমানের রাজনৈতিক দল নেই বলেই নিজের ভুলত্রুটি সংশোধন করার মানসিকতা দলটির ভেতর নেই বললেই চলে। আওয়ামী লীগের ভেতর বহুমতের মানুষজন আশ্রয়-প্রশ্রয় নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ভিন্নতা থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু দলীয়ভাবে দলটি বিশ্লেষণধর্মী রাজনৈতিক-অনুশীলন করা থেকে বিরত থাকতেই পছন্দ করে বেশি। একইভাবে বিএনপিকেও বলা যায়, বহুমতের পথ এসে ক্ষমতারকেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়েছে - যেখানে কেবল ক্ষমতায়ন হওয়াই লক্ষ্য। তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি হলো, আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করা। বিএনপি’র সূচনাকাল যেমনই হোক বড় দল বলতে এই দুটি দলকেই বোঝায়। বাকীরা এদের ঘাড়ে সোয়ার হয়ে ক্ষমতায় যেতে চান বা ক্ষমতার সিড়ি হিসেবে দলদুটোকে ব্যবহার করেন।
প্রসঙ্গ ছিল আওয়ামী ঘরানার রাজনীতি। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দর্শন হলো অসম্প্রদায়িক চেতনা (এখানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সচেতনভাবেই ব্যবহার করা হয়নি)। কাগজে-কলমে এসব বিষয় খুব চাউর হলেও ব্যক্তিগজীবনে এই দলের নেতাকর্মীরাই সবচে বেশি ভিন্নধর্মাবম্বিদের সম্পত্তি (স্বাধীনতার পর) দখল করেছেন। কেবল একটি স্নোগান ‘অসম্প্রদায়িক’ শব্দ কত শক্তিশালী হতে পারে সেটা আওয়ামী লীগ বুঝলেও এর অনুশীলন (ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে) কত বেগবান হতে পারে তা তারা কোনোদিন উপলব্ধি করেননি। বিভিন্ন ধর্মের মানুষ এই একটি মাত্র সেøাগান ‘অসম্প্রদায়িকতা’ শব্দটির জন্য আওয়ামী লীগকে এখনও বিশ্বাস করেন যে দলটি সর্বমতের এবং সর্বধর্মের দেখভাল করার জন্য একমাত্র উপায়।
আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে অনেক সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে বলেই সবধরণের মিডিয়া কোনো না কোনোভাবে আওয়ামী লীগেরই পক্ষপাত হয়ে কথা বলে। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে দলটি এই সুবিধাকে ইতিবাচকভাবে কোনো দিনই ব্যবহার বা কাজে লাগাতে পারেনি। এটি আমাদের জন্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক। একইভাবে সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চায় কবি-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবী-নাট্যকার-শিল্পী-গীতিকাররা কখনও সরাসরি কখনও পরোক্ষভাবে দলটিকে সমর্থন করে যান। আওয়ামী লীগ এটিকেও রাজনৈতিকভাবে অপব্যবহার করলেও এসব ব্যক্তি বা মিডিয়া ব্যক্তিত্বরা এমন একটি ভাব করে থাকেন যেনো তাদের আর কোথাও যাবারও জায়গা নেই। এটি আওয়ামী লীগও বুঝে। এ ধরণের রাজনৈতিক আচরণের ফলে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যথেষ্ট ন্যুব্জ হয়ে যায়। দুই পক্ষেরই এতে ক্ষতি সাধিত হয়। দুপক্ষই এক সময় গ্রহণযোগ্যতা হারাবে। কারণ সময় তো সব সময় একই স্রোতে প্রবাহিত হয় না।
আমাদের মূল সমস্যা রাজনৈতিক আচরণ। রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে কোনো সমস্যার মোকাবেলা করতে আমরা প্রায়ই অপারগ হয়ে পড়ি। আমরা জানি আমাদের প্রত্যেক দলের ভেতর প্রচুর ভুলত্রুটির মিশ্রণ রয়েছে। কিন্তু একে পরিষ্কার করার মানসিকতাই বলে দেবে আমি বা আমরা ভবিষ্যত নিয়ে অনুকম্পিত কি না।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ধারা, এই রাজনৈতিক আচরণ, মিডিয়া আচরণ, লেখক গোষ্ঠীর পৈরবি আচরণ জাতি হিসেবে আমাদের ক্রমশই ক্ষুদ্র করে তুলছে। আমরা জেনেও না জানার ভান করে বসে থাকি। প্রতিটি মূল্যবান সময় আমাদের এ্যনার্জেটিক মানসকিতাকে ক্ষুন্ন করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। বাঙালি জাতি বলে আমাদের শব্দভান্ডার থেকে প্রচুর সাহসী শব্দ উচ্চারণ করতে পারি কিন্তু অনুশীলনে আমরা খুবই পিছিয়ে পড়া এক জাতি - নৃ-ইতিহাস অনেক কিছু বললেও সমসামিয়ককালের পথচলা আমাদের অনেক ভঙুরভাবে অগ্রসর হতে হচ্ছে। ‘অগ্রস’র শব্দ এক্ষেত্রেও খুবই বেমানান। তবু উচ্চারণ করতে হলো। যেভাবে আমরা পিছিয়ে পড়া দেশগুলোকে আত্মসম্মানের খাতিরে অনুন্নত না বলে উন্নয়নশীল দেশ বলে আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তুলি।
আপাতত আমরা এধরণের তৃপ্তিতেই ভাসমান।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১:২৪ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: কী আর করা বলুন। পথ খোলা নেই। আমাদের হাত-পা বাধা পড়েছে নিংতিতে।
ধন্যবাদ পাঠের জন্য।
ফকির ইলিয়াস বলেছেন:
আমি মনে করি আমাদের আওয়ামী রাজনীতির বিকল্প প্রয়োজন ।সেই স্বপ্নটা আমি অন্তত: ১/১১ সময়ে দেখতে চেয়েছিলাম।
কারণ আওয়ামী নেতাদেরকে আমরা খুব ভালো করেই চিনি।
কিন্তু তা দুর্ভাগ্যজনকভাবে তা হয় নাই ।
আওয়ামীলীগ অসৎ রাজনীতিকদেরকে পরিত্যাগ করাটা খুব জরুরী।
শেখ হাসিনাকে আমি , ব্যক্তিগতভাবে অনেকবার না না
প্রশ্ন করেছি ।
উত্তর পেয়েছি মাঝপথে।
আমি বাংলাদেশে রাজাকারবাদ, ডানপন্থী মৌলবাদ , মিথ্যাচার মানি না।
তাই শেষ পর্যন্ত আমার সায়টা সব সময় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কোনো দলের
প্রতি পড়ে।
যেমনটি সমর্থন করেছিলেন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম ।
লেখক বলেছেন: যুক্তি ও ভাবাবেগ সমান্তরাল। বলার কিছু নেই। মৌলবাদ মৌলবাদই সেটার আবার ডান-বাম তফাৎ দেখলেন কেন কবি। চরমপন্থা কি মৌলবাদ নয়?
১/১১ আমি ইচ্ছে করে টানিনি। এমন কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। প্রথমটি যথেষ্ট বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দ্বিতীয়টিকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির দাবীদাররাই 'হাতিয়ার' হিসেবে ব্যবহার করেছেন, সম্মান করেননি। এ জন্যই দুটো প্রসঙ্গ এখানে সচেতনভাবে এড়িয়ে গেছি। আমার লক্ষ্য - আওয়ামী লীগের বিকল্প রাজনীতি নেই দেখিয়ে দেয়া। কিন্তু এটিও যে আমাদের জন্য মোটেই সুখকর নয় তা তো সবাই জানি। কিন্তু যাবেন কোথায়?
যাই হোক, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ করতে পারবো তো? না কি হাস্যকর লেখা হয়ে গেলো?
বিপরীত স্রোত বলেছেন:
আওয়ামিলীগ এর বিকল্প একটি প্রগতিশীল অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিক দল এদেশে দরকার
লেখক বলেছেন: হ্যা, বেশ বিপরীত উচ্চারণ করেছেন। কিন্তু প্রগতিশীল দলগুলো যদি আবার আওয়ামী লীগের তলপিবাহক হয়ে যায় তাহলে কী আর প্রগতিশীলের কোনো গতি হবে?
বুঝুন ক্ষমতা কত কঠিন বস্তু।।
পাঠের জন্য ধন্যবাদ।।
রিয়াজুল ইস্লাম বলেছেন:
আমরা প্রতিনিয়ত ক্রমবর্ধমানভাবে ভীরু, হতাশ এসবে পরিণত হচ্ছি।যদিও অপটিমিস্টিক, কিন্ত মনে হয় সবই আমার/আমাদের ভুল।
লেখক বলেছেন: হ্যা, তবু উত্তরণে যেতে হবে। অগ্রসর হতে হবে। পথ নিজেদেরকেই বের করতে হবে। এগিয়ে আসুন। বিপরীত উচ্চারণে একদিন পথ খুলে দেবে পথের দিগন্ত। আড়ষ্টভাবে যেন আমরা কারোর বিশেষ করে রাজনৈতিক দলের মুখাপেক্ষি না হই।
পাঠের জন্য ধন্যবাদ।।
াহো বলেছেন:
সহমত।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। সহমত নিয়েও খানিকটা ব্যাখ্যা হতে পারতো।
ভালো থাকুন।
বকুল০৮ বলেছেন:
+
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। তবে অলসতা কাটিয়ে উঠুন।
কাইয়ুম আবদুল্লাহ বলেছেন:
সুন্দর ও সাবলিল। যারা চোখ বুজে অন্যের সবকিছুকে অস্বীকার করে অন্ধভাবে নিজেদের পছন্দের দলকে সমর্থন দিয়ে থাকেন তাদের জন্য চিন্তার খোরাক আছে। লেভেল এঁটে দেয়ার রাজনীতি দেখে আমিতো রীতিমতো অবাক। সত্যি বলেছেন মেৌলবাদ ও চরমপন্থ অভিন্ন বিষয় নয়। ওয়েস্টের শেখানো বোল মেৌলবাদ নিয়ে আমাদের কলম সৈনিকেরা জিহাদ শুরু করলেও চরমপন্থার ব্যাপারে কেন নিশ্চুম তাও মিলিয়ন পাউন্ডের প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। বুঝতে বাকি নেই এ সবই সেক্যুলায়স!!!
ভুল হোক আর শুদ্ধ হোক আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে আমি মনে করি যে, বঙ্গবন্ধু এবং প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পর তাদের চিন্তা-চেতনার প্রতিফলন আর ঘটছে না দল দুটোতে। দু'টি দলই মেৌলবাদ ও চরমপন্থীদের দ্বারা আক্রান্ত। যখনই যে গ্রুপের প্রভাব বাড়ে তাদেরই ইচ্ছায় দলগুলোর কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এখানে দল দু'টির দলীয় প্রধান কিংবা দলের আদর্শ বলতে আর কিছু নেই বললেই চলে।
পাঠে অনেককিছু জানলাম। ভালোই ফুটিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষণ।
চিরমঙ্গলার্থে ...
লেখক বলেছেন: আপনার বিশ্লেষণে যুক্তি আছে। সুশান্ত দ্রবিণ আপনার দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন। আশা রাখি খণ্ডাবেন।
চিরমঙ্গলার্থে ...
সুশান্ত দ্রবিণ বলেছেন:
আপনি সব কথা বলে পেলেছেন তবুও বলতে হয় আমরা কি কখনো
নিজের দিকে থাকিয়ে কথা বলি ? যেমন দরুন কাইয়ুম আবদুল্লারহ (কবি, সাংবাদিক) কথাই, উনি নিজে যে পেশায় নিয়োজিত আছেন সেই পেশার কতটুকু দ্বায়িত্ব পালন করছেন । লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের গত নির্বাচনে যারা সদস্য হয়েছেন তাদের বেশির ভাগ অসাংবাদিক ছিলেন।
লন্ডন আওয়ামী লীগের সম্পাদক কখনো কি সাংবাদিকাতা পেশায় নিয়জিত ছিলেন ? উনি কি ভাবে সদস্য হলেন। আসুন আমরা আগে নিজেকে শুদ্ধ করি! তার পর দেশের কথা।
@কাইয়ুম আব্দুল্লাহ
বঙ্গবন্ধু এবং প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পর তাদের চিন্তা-চেতনার প্রতিফলন আর ঘটছে না দল দুটোতে।
জিয়াউর রহমানের পর তাদের চিন্তা-চেতনার প্রতিফলন বলতে কি বুজাচ্ছেন ? একজন খুনি সামরিক শাসকের চেতনা কিসের।
সর্বগ্রাসী ভালো লাগলো আপনার লেখা।
লেখক বলেছেন: কাইয়ূম আবদুল্লাহর দিকে ছুড়ে দেয়া প্রশ্নটির উত্তর দেয়ার জন্য তাকে অনুরোধ করেছি।
মিডিয়ার কথা আমি উল্লেখ করেছি। মিডিয়া কেন শিটিয়ে থাকবে সে বিষয়েও প্রশ্ন উত্তাপন করেছি। স্থানীক মিডিয়াকে আমি আলাদাভাবে উল্লেখ করিনি, সেটা প্রয়োজনও নেই। কোনো মিডিয়াকেই মৌলিকভাবে আলাদা করার কোনো কারণ বর্তায়নি।
ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।
চৌকষ বলেছেন:
আওয়ামী বাকশালীরা নিজের দলছাড়া আর কোনো দলকে রাজনৈতিক দল বলবে না এটা তো জানা কথাই।গাফফার চৌধুরী গং এ ধরণের বিশ্লেষণ করেন নিজেকে নিরপেক্ষ প্রমাণ করার ব্যর্থ প্রয়াশ হিসেবেই। দলবাজী বিশ্লেণে মাইনাস+প্লাসের কোনো যোগ্যতাই রাখে না।
আওয়ামী লীগের সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে আরেকটু পড়াশোনা করুন
লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্য বেশ গোলমেলে
অারমান বলেছেন:
চৌকষ বলেছেন: আওয়ামী বাকশালীরা নিজের দলছাড়া আর কোনো দলকে রাজনৈতিক দল বলবে না এটা তো জানা কথাই।লেখক বলেছেন: গোলমেলের প্রতিধ্বনি। নিজের ব্যাখ্যা ও তফসির নিয়ে আসুন
কাজল রশীদ বলেছেন:
আপনার লেখাটি পড়ে অনেক কিছুই বলার ছিল কিন্তু কবিতার মাঠে একটু
জিরোতে চাই বলে বিস্তারিত এরিয়ে গেলাম।
বাংলাদেশ নামক দেশটি যখন বিশালতম লাশটি কাঁধে নিয়ে দু:খের নদি
পারি দেয় তখন আশা-প্রত্যাশা কিছই থাকে না।
বিশাল ও ভারি লাশটি যখন পড়েছিলো সিঁড়িতে তখন ওসমানি হয়েছিলেন মোশতাকের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আর ভাসানি ১৬ আগষ্টে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন মোশতাক সরকারকে , আল্লাহর কাছে মোনাজাত করেছিলেন নতুন সরকারের জন্য।
তাহের যখন জিয়াকে বাংলাদেশের নব্য মীরজাফর বলেন ।
ম্যাসক্যারেনহ্যাস জানিয়েছেন জিয়ার মতো নির্বিচারে সৈনিক হত্যা কেউ করেননি।
যখন জনগন জেনেশুনে ভোট দেয় খলতাদের তখন প্রতিহিংসা ও পীড়নের নীতি হয়ে উঠে রাষ্ট্রনীতি । জন সচেতনতা অপরিহার্য।
শেষ ভরসা কি প্রতিক্রিয়াশিল ?
সুশান্তদাকে বলছি লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব দুটি পত্রিকার ক্রীড়ানক, খেলার পুতুল একটি কাকতাড়ুয়া মাত্র ,এখানে প্রবিষ্ট হতে নুন্যতম যোগ্যতা ভাঁড়ামো।
লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্য আউট অব ফোকাস।
'বিশাল ও ভারি লাশটি যখন পড়েছিলো সিঁড়িতে তখন ওসমানি হয়েছিলেন মোশতাকের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আর ভাসানি ১৬ আগষ্টে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন মোশতাক সরকারকে , আল্লাহর কাছে মোনাজাত করেছিলেন নতুন সরকারের জন্য।'
উরোল্লেখিত বিষয়টির বিস্তারিত তথ্য দিলে খুশি হবো।
মোহাম্মদ মারুফ বলেছেন:
সুশান্ত দ্রবিণ বলেছেন: ....লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের গত নির্বাচনে যারা সদস্য হয়েছেন তাদের বেশির ভাগ অসাংবাদিক ছিলেন। লন্ডন আওয়ামী লীগের সম্পাদক কখনো কি সাংবাদিকাতা পেশায় নিয়জিত ছিলেন ? উনি কি ভাবে সদস্য হলেন। আসুন আমরা আগে নিজেকে শুদ্ধ করি! তার পর দেশের কথা।
বেশির ভাগ অসাংবাদিক ছিলেন, এ তথ্য তিনি কোথায় পেলেন। আর অসাংবাদিক কেউ সদস্য হলে এটি দেখার দায়িত্ব তো কাইয়ূম আব্দুল্লাহর নয়।
সুশান্ত দ্রবীণ-এর অবগতির জন্য বলছি- লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সকল সাংবাদিক অত্যন্ত সচেতন অসাংবাদিক সদস্যদের ব্যাপারে এবং এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা কাজ করছেন বলেই আমরা জানি।
লেখক বলেছেন: আপনি তো সেই দুর্জনদের শহরেই বাস করেন - যারা অনেক মিথ্যে বুলি নিয়ে প্রবাগান্ডা করে। যদিও এটি এ মুহূর্তে ভাবার বিষয় নয়। অযাচিতভাবে আপনার শহরকে আক্রমণ করার জন্য দুঃখিত।
আসুন দ্রবিণ সম্পর্কে : দ্রবিণের কথার উত্তর শুরুতেই দিয়েছি। তবু তিনি কেন আলাদাভাবে লন্ডন প্রেসক্লাবকে টেনে আনতে উৎসাহবোধ করেন বেশি সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়।
মোহাম্মদ মারুফ বলেছেন:
কাজল রশীদ বলেছেন - সুশান্তদাকে বলছি লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব দুটি পত্রিকার ক্রীড়ানক, খেলার পুতুল
একটি কাকতাড়ুয়া মাত্র ,এখানে প্রবিষ্ট হতে নুন্যতম যোগ্যতা ভাঁড়ামো।পত্রিকা দু'টির উপর কাজল ভাইয়ের ক্ষোভের কারণ বুঝা গেল না।
আর ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে 'ভাঁড়ামো' না বলেও পারতেন...
লেখক বলেছেন: কাজল ভাইয়ের ক্ষোভের কোনো শেষ নাই। বহু আগে বলেছিলাম, কাজল রশীদের রাগের পাটাতনে মূল বক্তব্য অনেক সময় খেই হারিয়ে ফেলে। অতএব ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখুন।
তাছাড়া তিনি নিজেই বলছেন, এ মুহূর্তে তিনি ভীষণ কাব্যঘোরে আছেন। ঘোর কাটুক তখন আলাপচারিতা হবে।
পোস্টের মূল বিষয়ে মন্তব্য ঝাড়ুন।।
চৌকষ বলেছেন:
বেশ জম্পেস আড্ডা হোক। আবার এ খেয়ালে রাখা হোক, কেউ যেন ব্যক্তি আক্রমণে অবতির্ণ না হন। যুক্তির কথাই হোক শবল।
লেখক বলেছেন: হ্যা, যুক্তিই বড় হয়ে আসুক।
তাজা কলম বলেছেন:
আমাদের মধ্যে যারা কোন নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ঘরানার লোক নই, যারা মুক্তচিন্তা করতে ভালবাসি তারা আওয়ামী লীগকে সাপোর্ট করছি মন্দের ভাল হিসেবে। আওয়ামী লীগের অনেক ভন্ডামী আছে, এবং একটি বুর্জোয়া দল হিসেবে এর বেশীরভাগ নেতাই দূর্নীতিবাজ সেকথা জানা। তারপরেও বলা যায় অপর প্রধান দলটির মত এ দলটি ইসলামের নাম নিয়ে সরাসরি রাজনীতি করা কিংবা ধর্মান্ধদের প্রশ্রয় দেয় না।আপনার সুচিন্তিত নিবন্ধটির জন্য ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: তাজা কলম বেশ তাজা কথা বলেছেন। মন্দের ভালো হিসেবে তো সমর্থন করছি সেটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু এটা কতদিন? মন্দের ভালোর যুক্তি তো বেশি টেকে না। আপনি যেটাকে মন্দ বলছেন মানুষজন কতদিন সেটাকে মন্দহিসেবে গ্রহণ করবে? তাছাড়া রাজনীতি মন্দের ভালো হবে কেন? এই সুযোগটাই আওয়ামী লীগ নিতে চাচ্ছে বেশি। মিডিয়াও এই সুযোগ দিচ্ছে।
আমাদের উচিতৎ মন্দের ভালোকে রাইট ট্র্রেকে তুলে দেয়ার জন্য তার ভুলভ্রান্তির কঠোরভাবে সমালোচনা করা যাতে দলটি কখনও না ভাবে যে সে যাই করবে, এরা অপারগ হয়ে আমাদের সমর্থন করে যাবে।
আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
সময়ের ঘড়ি বলেছেন:
আপনি ভালো বলেছেন , আপনার প্রশ্নের ভিতর সান্দাভবে উত্তর খুঁজে পেয়েছি। শেষ ভরসা লীগই । কারণ জামাত আর কম্যুনিষ্ট এক আকাশের
উড়ন্ত কিট।
লেখক বলেছেন: 'কারণ জামাত আর কম্যুনিষ্ট এক আকাশের
উড়ন্ত কিট।'
সন্দেহাতীতভাবে সত্য
কাজল রশীদ বলেছেন:
আমার মন্তব্য আউট অব ফোকাস হলো কিভাবে?
আপনার লেখার শিরনাম ছিল
তারপরও আওয়ামী লীগের বিকল্প রাজনীতি অনুপস্থিত সেই সূত্র ধরেই উপরোক্ত মন্তব্য করেছিলাম । বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে এখন অবধি সেই হিংসা ও পীড়নের নীতি সাধারণ জনগন গ্রহন করে যাচ্ছে । শোষিত হচ্ছে মেধা ও মনন । হত্যা করা হলো জাতির জনককে, সেই ধারাবাহিকতায় এখনো চলছে ভাঁড়ামো নীতি দ্বাসত্বের নীতি...।
প্রেস ক্লাব সম্বন্ধে আমার বক্তব্য অন্তদৃষ্টিত, গত নির্বাচনে কি অনিয়ম হয়নি?
কাজ ও কর্মের মিল থাকা অত্যাবশ্যক।
লেখক বলেছেন: আমি তো প্রেসক্লাব নিয়ে কোনো পোস্ট করিনি। এখানেই তো আউট অব ফোকাস।
তাছাড়া আওয়ামী লীগ নিয়ে পোস্ট দিলেও আমি বিগত রাজনীতিকে টেনে আনতে চাইনি। চেয়েছি আগামীর পথ কোন দিকে যাবে যদি 'রাজনীতির স্থানু চিন্তা' দূর না হয়।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ঘটনা প্রসঙ্গ যতবার বলবেন ততবারই জাতী মর্মাহত হবে, দুঃখ প্রকাশ করবে। তবুও যে আশার কথা পিতৃহত্যার বিচার হাসিনার হাতেই ঘটতে যাচ্ছে। এরচে আনন্দের সংবাদ আর কী হতে পারে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর 'বন্দনা' সারাদিন করলেও তো তাকে ফিরিয়ে আনা যাবে না। তার চেতনাকে ধারণ করেই তো আগামীর পথে অগ্রস হতে হবে। এসব আমরা সবই জানি বলে এই দীর্ঘায়িত বিষয়ে অগ্রসর হইনি।
সাম্প্রতিক বিষয়ভিত্তিক আলোচনা অগ্রসর হোক।
শাহনাজ সুলতানা বলেছেন:
কবি!কবিতার আঙিনা ছেড়ে হঠ্যাং অন্যদিকে কেন কবি? পোষ্টটি ভালো লেগেছে।
তবে এখানে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবকে টেনে আনা ঠিক হবে না।
ভালো থাকুন সর্বদা।
লেখক বলেছেন: বহুদিন পর এ পথে এলেন। আপনার আশির্বাদে এই অধম সর্বদা জাগরত রবে।
আপনিও ভালো থাকুন।
ফিজার কথা বলেছেন:
আপনার পোষ্টটি ভালো লেগেছে।তবে একটা অনুরোধ রইল, ব্লগে আসার পর থেকেই দেখছি একে অপরকে মৌলবাদী, রাজাকার বলে অভিহিত করছেন এবং অনেক ব্লগে এ নিয়ে দীর্ঘ কাঁদা ছোড়াছোড়িও হয়েছে।যেটা রীতিমতো বিরক্তিকর ছিলো। মৌলবাদ কাকে বলে, আর কি ভাবেই বা চিনবো একজন ব্যক্তি মৌলবাদী ? এ নিয়ে আপনার কাছ থেকে একটা সুন্দর পোষ্ট চাইছি।
আশা রাখছি অচিরেই এ নিয়ে আপনার মতামত পাব।
লেখক বলেছেন: আপনার পাঠের জন্য -
Click This Link
এবং শয়তানের প্রতিভু ২ পর্ব পাঠের অনুরোধ রইলো।
কাইয়ুম আবদুল্লাহ বলেছেন:
সুশান্ত দ্রবিণ বলেছেন:....লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের গত নির্বাচনে যারা সদস্য হয়েছেন তাদের বেশির ভাগ অসাংবাদিক ছিলেন।
লন্ডন আওয়ামী লীগের সম্পাদক কখনো কি সাংবাদিকাতা পেশায় নিয়জিত ছিলেন ? উনি কি ভাবে সদস্য হলেন। আসুন আমরা আগে নিজেকে শুদ্ধ করি! তার পর দেশের কথা।
@মোহাম্মদ মারুফ : বেশির ভাগ অসাংবাদিক ছিলেন, এ তথ্য তিনি কোথায় পেলেন। আর অসাংবাদিক কেউ সদস্য হলে এটি দেখার দায়িত্ব তো কাইয়ূম আব্দুল্লাহর নয়।
সুশান্ত দ্রবীণ-এর অবগতির জন্য বলছি- লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সকল সাংবাদিক অত্যন্ত সচেতন অসাংবাদিক সদস্যদের ব্যাপারে এবং এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা কাজ করছেন বলেই আমরা জানি।
সুশান্ত দ্রবীণ'র প্রেসক্লাব সংক্রান্ত জবাবে মোহাম্মদ মারুফের উপরোক্ত জবাবই যথেষ্ট। তবু বলছি প্রেসক্লাবের দায়িত্বশীল যে কেউ এর জবাব আরোভালো দিতে পারবেন।
@ সুশান্ত দ্রবীণ : জিয়াউর রহমানের পর তাদের চিন্তা-চেতনার প্রতিফলন বলতে কি বুজাচ্ছেন ? একজন খুনি সামরিক শাসকের চেতনা কিসের।
এর উত্তরে সংক্ষেপে বলবো : কাউকেই দোষী কিংবা নির্দোষী প্রমাণিত করা কঠিন।
লেখক বলেছেন: আশা রাখি সুশান্ত দ্রবিণ সান্ত্বনা পাইবেন
ধন্যবাদ কাইয়ুম আবদুল্লাহ
লেখক বলেছেন: কেবল সহমত। পোস্ট বিষয়ক না প্রেসক্লাব বিষয়ক? সামু ব্লগের সবচে বড় সমস্যা, বিষয়ের দিকে না গিয়ে অপ্রাসঙ্গিক বিষয়টি মূল বিষয়কে গিলে খায়।
সবুজ থাকলাম।
সুশান্ত দ্রবিণ বলেছেন:
দাদা সান্ত্বনা পাইবো যদি আপনারা প্রতিবাদ করে পদত্যাগ করেন।
পত্রিকার ঝাড়ুদারকেও আপনারা সদস্য করেছেন।
@মারুফ আপনিতো পামর, আব্বাসিও দেশের, আপনার হাজার নিক সম্বন্ধে অবগত আছি।
@কাজল দাদা আপনি সত্য কথা বলেছেন তাই ওদের পাছায় জ্বালা পুড়া হইতাছে। আপনার সত্যের পথে অগ্রযাত্রা অব্যহত থাকুক।
আপনার বক্তব্য আউট অব ফোকাস নয় অতিথ না ঘাটালে বর্তমান সুখময় হয় না। আর কেনইবা আওয়ামী লীগের বিকল্প রাজনীতি অনুপস্থিত। ইমন দাদাকে সাধুবাদ।
লেখক বলেছেন: আপনারও দেখছি দায়ের চেয়ে হাতল মোটা। মুহাম্মদ মারুফ পামরদের শহরের মানুষ বলে তিনি তো আর সেই নষ্টামির সহযাত্রী নন অথবা সেরকম কোনো প্রমাণ আপনি দাড় করাতে পারেননি। কোন আব্বাসের কথা বলছেন, সেই জামাতের আমির (প্রয়াত) নাকি আব্বাসীয় যুগের সেই ইসলামী শাসনের নামের রাজতন্ত্রী সাম্রাজ্যের কথা...? ঝেড়ে বলুন।
কাজল দাদাকে আপনার সমর্থন করা লাগবো না। তিনি একাই একশ। বহুপ্রমাণ তিনি ইতিমধ্যে রেখেছেন। তিনিকে চটাবেন না, না হলে নিকের আড়ালে থাকতে পারবেন না।
গোস্তাজি মাপ করবেন ।।
মোহাম্মদ মারুফ বলেছেন:
সুশান্ত দ্রবীণ বলেছেন: আসুন আমরা আগে নিজেকে শুদ্ধ করি! আমিও বলি নিজের নিক বাদ দিয়ে শুদদ্ধ হয়ে অন্যের হাজারো নিক নিয়ে কথা বলুন। আমি এখানে স্বনামে কথা বলেছি। আপনার ক্ষুব্ধতা যেখান থেকে শুরু, সেখানেও আমি স্বনামে ছিলাম।
দুঃখিত ইমন সরোয়ার। আউট অব ফোকাস এর দায় নিতে চাই না। আমি আপনার সাথে একমত লন্ডনের মিডিয়াকে এককভাবে চিহ্নিত করার প্রয়োজন নেই। কথা বলতে হবে সামগ্রিক বিষয় নিয়ে।
পত্রিকার ঝাড়ুদার বলে সুশান্ত দ্রবীণ কাকে খাটো করতে চাইছেন। না নিজেই খাটো হচ্ছেন জানি না। ঝাড়ুদার সাংবাদিক হতে পারবে না এটা তিনি কোথায় পেলেন।
আওয়ামীলীগের বিকল্প রাজনীতি অনুপস্থিত এটা আমি কেন জানি মানতে পারছি না। আমার ভাবনায় একাত্তর পরবর্তি আওয়ামীলীগ। আমি মনে করি আওয়ামীলীগের বিকল্প রাজনীতি এবং বাংলাদেশের রাজনীতির স্বতন্ত্র ধারা প্রতিষ্ঠার প্রতি ক্রম অগ্রসরমান ছিলেন জিয়াউর রহমান। পরবর্তি সকল সময়, সকল চর্চা ক্ষমতাক্রেন্দ্রিকতা ছাড়া আর কিছুই নয়। এই জায়গায় সব রাজনীতি একই ছিল, আছে।
লেখক বলেছেন: সুশান্ত দ্রবিণের মন্তব্য থেকে সরে আসুন, ধানভাংতে শিবগীত আর কতো? আপনার জবাব যুক্তিসঙ্গত।
আমার পোস্টের সঙ্গে দ্বিমতপোষন করেছেন এতে কোনো দোষের কিছু হয়নি। আপনি যথেষ্ট বুদ্ধিবৃত্তিক বক্তব্য রেখেছেন। দুটো দলই ক্ষমতাকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে এটা ঠিক। ৭১ পরবর্তি আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব কখনও কখনও স্বৈরাচারমানসিকতায় উন্নিত হয়েছিল মেনেও আমি এখনও বলবো, রাজনৈতিক ভাষ্যকার হিসেবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব এখনও অপ্রতিদ্বন্দ্বী। এমন কি ক্ষমতায় যে কয়বার বিজয়ী হয়ে আসতে পারেনি সে সময়কেও আমি বলবো, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিল।
এ বিষয়ে আমি আপনাকে অনেক উদাহরণ টেনে দেখাতে পারবো।
আপনি প্রাবন্ধিক। শখ করে কবিতা/সাংবাদিকতা করেন। আপনি নিশ্চয়ই তত্ত্বগতভাবে বুঝতে পেরেছেন রাজনৈতিক আচরণ বলতে কী বোঝায়? অর্থাৎ রাজনীতির বাহির-ভিতর-সংবাদমাধ্যম-সাংস্কৃতিক আন্দোলন সব ক'টিতেই আওয়ামী লীগ অপ্রতিদ্বন্দ্বী, এবং নেতৃত্ব আওয়ামী লীগের হাতেই থাকে। আশা রাখি বিষয়টি আপনার কাছে খানিকটা খোলাসা হয়েছে।
এর জন্যই আমি বলেছি, আওয়ামী লীগের বিকল্প রাজনৈতিক কোনো দল আমরা দেখতে পাচ্ছি না।
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
মোহাম্মদ মারুফ বলেছেন:
ধন্যবাদ, আপনার বক্তব্য খোলাসা কথার আগেও আমার কাছে পরিষ্কার ছিল। আমি শুধু আপনার লেখার হেডিং ...আওয়ামীলীগের বিকল্প রাজনীতি অনুপস্থিত এর সূত্র ধরে আমার ভাবনা তুলে ধরেছি। এই ভাবনাটি অবশ্যই আপনার লেখার দৃষ্টিকোণের অপর দিক।
আওয়ামীলীগের রাজনীতি-নেতৃত্ব-অবস্থান তথা তাদের বিকল্পহীনতা যে দৃষ্টিকোণ থেকে আপনি তুলে ধরেছেন এ ব্যাপারে আমার বিন্দু মাত্র দ্বিমত নেই।
লেখক বলেছেন: তাহলে একটু ভাবুন, আওয়ামী লীগ বা বিএনপি'র বিকল্পধারা রাজনীতি কি হতে পারে সাধারণ মানুষের জন্য গ্রহণযোগ্য রাজনীতি হিসেবে?
ক্ষুদ্র অংশ হিসেবে চলমান কর্মসূচীর সঙ্গে অন্য তিনিটি রাজনীতি অবস্থান করছে।
১. জাতীয় পার্টি
২. জামাতে ইসলাম
৩. কমিউনিস্ট পার্টি
ক্রমনাম্বারের ধারা বাহিকতা ব্যবহার করেছি তাদের পার্লামেন্টারি আসন প্রাপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে।
প্রথমটির পরিচয় স্বৈরাচার হিসেবে।
দ্বিতীয়টির পরিচয় মৌলবাদী তথা স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে।
তৃতীয়টি সাম্রাজ্যবাদ শক্তির পক্ষপাতপোষ্ট শক্তি (যে শক্তি জনগণের কাছে কোনো গ্রহণযোগ্যতাই নেই, কেবল বিবৃতিবাজ হিসেবেই অধিক পরিচিত)।
এর আলোকে বিচার-বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে হয় আপনাকে নতুন অর্থাৎ তৃতীয় কোনো শক্তির অপেক্ষা বা উদ্ভাবন করতে হবে কিংবা মন্দের ভালো হিসেবে আওয়ামী লীগ বা বিএনপি'র ধারাবাহিকতায় গা ভাসিয়ে দিতে হবে। তাহলে অর্থ দাড়ালো যে লাউ সেই কদু।
এ ব্যাপারে আপনার বিশ্লেষণ চাই।
মোহাম্মদ মারুফ বলেছেন:
তৃতীয় শক্তির অপেক্ষা বা উদ্ভাবন প্রত্যাশা এবং ১/১১ এর অভিজ্ঞতা মিলিয়ে সেই লাউ-কদু-ই সই বলে আমি কোন বিশ্লেষণ নয় বলতে চাই-জাতীয় পার্টি-জামাত-কমিউনিস্ট পার্টিকে একই পাল্লায় নিয়ে আসলেন কোন যুক্তিতে। স্বৈরাচার-মৌলবাদ এর সাথে কমিউনিষ্ট পার্টি কে এক কাতারে নিয়ে আসা যথাযথ কি না এ প্রশ্ন কমিউনিষ্ট পার্টির ইতিহাস থেকে, কমিউনিস্ট সাম্রাজ্যের পতন এবং বর্তমান পৃথিবীর ভারসাম্যহীনতা থেকে বারবার উত্থাপিত হচ্ছে। এ বিষয়ে আরো কথা হতে পারে
লেখক বলেছেন: আপনার কথার মাঝে যুক্তি আছে। তারপরও কথা থেকে যায়। জামাতে ইসলাম এবং কমিউনিস্ট পার্টি এ দুটি সংগঠন কখনও গণতন্ত্র চায় না। তারা বাধ্য হয়ে গণতন্ত্রের কথা বলে। এদের লক্ষ্য গণতন্ত্রমনাদের হাত করে ক্ষমতায় আসা। পূর্ণ ক্ষমতা এলেই তারা একনায়কতন্ত্রই কায়েম করবে। পৃথিবীর কোথাও কমিউনিস্ট রাষ্ট্রে কখনও বহুদলীয় নির্বাচন হতে কি শুনেছেন? তারা বলবে কমিউনিস্ট হয়ে গেলে আর গণতন্ত্র বা নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রয়োজন নেই। জামাতিরাও তাই মনে করে যে, তাদের হাতে পূর্ণ ক্ষমতা এসে গেলে আর গণতন্ত্রের প্রয়োজন নাই। গণতন্ত্রকে তারা সিড়ি হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। প্রক্রিয়া বাঁচিয়ে রাখতে চায় না।
যেহেতু পৃথিবীব্যাপী গণতন্ত্র একটি গ্রহণযোগ্য নীতি - এর বিরুদ্ধে কোনো কথাই মানুষ মানতে রাজি নয়, তাই তারাও এসব বুলি আওড়াতে বাধ্য হয়। এরাই (কমিউনিস্টরা) কৌশলে বঙ্গবন্ধুকে ভুল পথে ঠেলে দিয়েছিল। এর জন্যই আপনি এবং আরো অনেকেই স্বাধীনতা পূর্ব আওয়ামী লীগ আর আজকের আওয়ামী লীগের মধ্যে প্রার্থক্য খুজে। এটি ইতিহাসই খুজতে বাধ্য করে।
উল্লেখ্য যে, আওয়ামী লীগ আবার সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে 'বাকশাল' তথা কমিউনিস্ট নীতি থেকে ফিরে এসে। আওয়ামী লীগ যেহেতু জগণের দল, তাই আওয়ামী লীগ সময়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেও দ্বিধান্বিত হয় না। অনেক পরীক্ষা-নীরিক্ষার মধ্যদিয়েই বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ নিজকে প্রতিষ্ঠা করেছে।
কমিউস্টদের ইতিহাস একদলীয় ইতিহাস। পৃথিবীতে বিভিন্ন রাষ্ট্রে আর্মি শাসনকে তারা কায়েম করেছিল। আর্মিরা যেহেতু সমাজতন্ত্র সমর্থন করেছিল অতএব আর্মিদের শাসনকে জায়েজ করে দিয়েছিল তারা। আর্মি শাসন এভাবে আমেরিকা ও সুভিয়েত ইউনিয়নের কাছ থেকে আসকারা পেয়ে তৃতীয় বিশ্বকে নাকাল করে ছেড়েছে। আমরা এখন মানসিক দৈন্যতার মধ্যেই জীবনযাপন করছি।
স্বৈরাচার আর জামাতদের সম্পর্কে আর বলে কোনো লাভ নেই যেহেতু তাদের অবস্থান সম্পর্কে আপনি সচেতন রয়েছেন।
ধন্যবাদ।।
ধীবর বলেছেন:
ধন্যবাদ আপনার লেখার জন্য। যদিও আহমেদ সফা আমার প্রিয় লেখকদের মাঝে অন্যতম একজন, এর পরেও আঃ লিগ নিয়ে তার ওই উক্তির সাথে সহমত নেই। এর অনেক কারণ আছে। সেই কাহনে না গিয়ে শুধু একটা কথাই বলবো, নোংরা মানসিকতার নোংরা কিছু মন্তব্যকারির জন্য প্রাণবন্ত এবং খোলামেলা আলোচনার পথটা বন্ধ হয়ে গেলো। আশা করবো, নিজ ব্লগের মঙ্গলের জন্যই লেখক এই সব বস্তাপচা মন্তব্যকারিদের তার নিজের পোস্টগুলিকে মুক্ত রাখবেন। ধন্যবাদ আপনার আমন্ত্রনের জন্য।
লেখক বলেছেন: আহমদ ছফার বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত থাকতেই পারে। কেন সেই দ্বিমত বা এর বিপরীতে যুক্তিই বা কী তা প্রকাশ হতে পারে।
হ্যা, পোস্টকে নষ্টমন্তব্য থেকে মুক্ত রাখা সবার কর্তব্য। প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকুক।
আসুন সুস্থ আলোচনায় সময় দেই।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















সহমত।