মইনুল রোডের এই বাড়িটি সুদীর্ঘ কাল থেকেই বিতর্কিত। কারন নিয়ম না মেনেই এই বাড়িটি বরাদ্ধ দেয়া হয়েছিলো। এবং ক্যান্টনমেন্টের বিশাল এরিয়া নিয়ে বসবাসরত বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতি করে যাচ্ছিলেন যা ক্যান্টনমেন্টের নিয়ম নীতি অনুযায়ী করা যায়না। এই আমি বা আপনি যদি ক্যান্টনমেন্টের ভেতরদিয়ে রাস্তা পার হয়ে যেতে চাই মনে হয় ভিন দেশে প্রবেশ করেছি। ভাগ্য ভালো পাসপোর্ট লাগেনা। কত প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। রাত ১১টা বাজলে কতবার যে গেটথেকে ফেরত এসেছি। আর বেগম জিয়া ও তার ২ যুবরাজ ওখানেই বসে করছেন রাজনীতি, অপরাজনীতিও বলা যায়।
শর্ত অনুযায়ী বসবাস কারিগন বাড়ির কোন পরিবর্তন বা পরিবর্ধন কিংবা বানিজ্যিক কাজে ব্যবহার করতে পারবেন না। নিয়ম নীতির বালাই না মেনে ওখানে ৩ তলা ভবন তোলা হয়েছে। বানিজ্যিক কোম্পানীর ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে বিএনপি জামাত জোটসরকারের আমলেই হাইকোর্টের রায়ে ৫ম সংশোধনী বাতিল হয়ে যায় এবং ১৫ই আগস্ট পরবর্তি সামরিক শাসন বাতিল হয়ে যায়। ঘটনা পরম্পরায় ৫ম সংশোধনী বাতিলের রায়ের আলোকে ৭ম সংশোধনীও বাতিল হয়ে যায়।
এরই মধ্যে বিবিধ শর্ত ভংগের কারনে এবং রাষ্ট্রের নীতি না মেনে বরাদ্ধের কারনে সরকারে আনুকুল্যে ক্যন্টনমেন্ট বোর্ড বেগম জিয়কে নোটিশ প্রদান করেন। তারপরেটা ইতিহাস। বিএনপি/বেগম জিয়া কোর্টে গেলে কোর্ট নোটিশের পক্ষে রায় দেন। কাল বিলম্ব করে আবার আপীল করেন। কিণ্তু বিএনপি/খালেদা জিয়া নিশ্চিত জানেন এ মামলায় হারবেন তাই আদালতে স্তগিতাদেশ না নিয়ে শুধু মুলতবি নেন। স্থগিতাদেশের ব্যপারে কথা উঠলেও খালেদা- আইনজীবিরা নীরব থাকেন। কারন কুটচিন্তা মাথায় নিয়ে তারা আদালতে যান এবং ফেরত আসেন। এর মধ্যে বেগম জিয়া বা বিএনপি ঘোষনা দেন যে তারা স্বেচ্ছায় বাড়ি ছাড়বেন না।
তাহলে ঘটনা দাঁড়ালো তিনি ডেকে এনেছেন তার পরিনতি। তাঁকে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হলো। বাড়িরক্ষা করতে পারবেন না জেনে তিনি শতাধিক কার্টনে করে আগেই মুল্যবান জিনিস পাচার করে ফেলেন। তিনি যাওয়ার সময়ও বেশকিছু মালামাল নিয়ে যান। অথচ তিনি বললেন তাকে এককাপড়ে বের করে দেয়া হয়েছে। যা আমরা বস্তি উচ্ছেদের সময় শুনে অভ্যস্ত। উনার এসব গালগল্প শুনে আমি লজ্জিত।
এরপর উনার বিলাসী জীবন যাপন এবং বাড়ীর শর্ত ভংগ দেখানোর জন্য মিডিয়াকে ওখানে নেয়া হয়, যা দেশবাসি স্তম্ভিত এবং আরো একজন ইমেলদার দেখা পায়। গরীব দেশে এমন বিলাসী নেত্রী, আসলে সেলুকাস।
মিডিয়া দর্শনে তার ব্যক্তগত জীবন প্রকাশ পায়, যেমন মদ, পর্ন ম্যাগ, দামী আসবাব, বিশাল ড্রেসিং টেবিল, বাথরুমে ফ্রিজ(মাথায় আসেনা) ৬৭ দাস দাসী ইত্যাদি। এটা আসলে লজ্ঝার আমাদের সবার জন্যই। এসব প্রকাশ পেয়ে সকলেই লজ্জা পেয়েছেন। এখনো যারা বিএনপি বলতে বালির নীচে মাথা ঢুকিয়ে আছেন তারাও লজ্জা পান এসবের প্রকাশ দেখে।
তাই তারা সমবেত স্বরে মাঠে নেমেছেন কেন এসব দেখানো হলো, একজন ণেত্রীকে কেন এভাবে অপমান করা। শুরু হলো গালাগালি। শাক দিয়ে মাছ ঢাকার প্রানান্ত চেষ্টা। যেন কোন মহা অন্যায় হয়ে গেলো। অথচ উনি অন্যায় অবৈধ ভাবে ১৬৮ কাঠার উপর ৫০০কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ দখল করে ছিলেন সাথে ফ্রী টেলিফোন বিল, কারেন্ট বিল, গ্যাস বিল, কর্মচারী ভাতা, অপদার্থ ছেলেদের লেখাপড়ার খরচ এবং গুলশানের আরেকটি বিলাস বহুল বাড়ি। এই অন্যায় এখন শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে সবাই নেমে পড়েছেন।
উনাকে নাকি এক কাপড়ে জোর করে টেনে হিঁছড়ে কোলে করে গাড়িতে তোলা হয়েছে, অথচ উনি ম্যাচিং করা শাড়ি, ব্লাউজ, ওড়না লিপিষ্টিক, চুলে চিরুনী লাগিয়েছেন সবই উনি নি্যেছেন। টানা হিঁচড়ার ফলে উনার শাড়ির ভাঁজ নষ্ট হয়নি, চুল একটুও আলুথালু হয়নি, যাবতীয় প্রসাধনী উনি কমপ্লিট করেছেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


