বাবা নিহত হয়েছেন শৈশবে। চারিদিকে চাউর করা হলো, আহা মরার কালে কপর্দকহীন রেখে গেলো পরিবারকে। সম্পদ হিসেবে যা পাওয়া গেলো জরাজীর্ন একখানা গেন্জী, আর গেন্জী বহনের জন্য একখানা স্যুটকেস। তাও জরাজীর্ন। আর কিছুই নয়। সেন্ডু আন্ডুর কথাও জানা যায়নি। অবশ্য এসব পদার্থ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে চাউর করার জন্যেও একটু খটকা লাগে। দৃষ্টিকটু আরকি। তখনকার সময়ে মানুষ অনেক ব্যাকডেটেড ছিল। একালে ডিজিটাল কিংবা প্রাক ডিজিটাল আমলে এসব অহরহই প্রদর্শিত হয়। আরো কত কিছু প্রদর্শিতই হয়।
বাবার জন্মস্থান থেকে আরেক বাবার জন্ম হলো। চতুর বাবা বুঝতে পারেনি, যে বেগম সাহেবা সাজগোজ, বিলাসীতা, সম্ভোগে ব্যস্ত থাকেন তিনিও চলে আসবেন ময়দানে। তাই তিনি ব্যবস্থা করে দিলেন টাকা মুল্যের অভিজাত আবাসন, আর্দালী, চাপরাশী, ভরন পোষনের ব্যবস্থা। মাসুম বাচ্চা গুলোর পড়ালেখার খরচ সবই। ভেবেছিলেন এইতো বেগম সাহেবা নিশ্চুপ।
বিধাতার লীলা খেলা, বেগম সাহেবা সময়ের বিবর্তনে নানান কারনে ময়দানে নেমে এলেন। চতুর বাবা চোখে সর্ষেফুল দেখলেন একসময়।
আসি আসল কথায়, মাসুম বাচ্চা গুলো পিতৃ শোকে সরকারি দয়া দক্ষিনায় লেখাপড়া শুরু করেদিল, স্কুলে যাতায়াত করলো, নানান বন্ধু জুটলো। মা তার স্বভাব জাত জীবন যাপনে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। পাবলিকের অর্থে সব কিছু, ভোগ বিলাস ব্যসন, সবই চলতে লাগলো।
ইতোমধ্যে পিতৃহীন ছেলে গুলোর খারাপ বন্ধু জুটে গেলো। পড়াশোনাও লাটে উঠলো। মায়ের মন, পিতৃ হীন ছেলেগুলোকে অধিক শাসন করতে পারেন না। অথবা নিজেও ততটা সচেতন ছিলেন না। ফলে যা হবার তাই হলো পড়াশোনা গোল্লায় গেলো।
............................................................................................................................................. কালের বিবর্তনে মা আসলেন আমাদের ভাগ্য নিয়ন্ত্রনে। আমরা সবাই দেখলাম, সেই কথিত ভাংগা স্যুটকেস আর ছেঁড়া গেন্জী, যা ভুলতে বসেছিলো সকলে। সবাই দেখলো আলাদিনের চেরাগের পুনরাবির্ভাব, গাঁজাখুরি গল্প থেকে বাস্তবে। চোখের নিমিষেই গাঁজার নৌকা পাহাড় বেয়ে আসা অর্থ সম্পদের স্তুপ। চোখের পলক পড়তে দেরী, ছেড়া গেন্জী আর ভাংগা স্যুটকেসের নতুন কারিশমা হাজির।
পুত্রদ্বয়ও নামলেন আমাদের ভাগ্যবিধাতা হবার পথে। আবির্ভুত হলেন যুবরাজ নামে।
ক্ষমতার পালা বদল
..............................................................................................................................
আবারও আসলেন তিনি, মা করেন রাজ্য শাসন, পুত্র নিলেন সুযোগ। মায়ের প্রশ্রয়ে আবারো পথ ধরলেন বিপথে, বানালেন কুঠি বাড়ি, বাতাস ভবন। মায়ের প্রশাসন যন্ত্রের চেয়ে নতুন শক্তিশালী হিসে আবির্ভুত হলো নতুন বাতাস, ভবন, রাজ্যের যত শয়তান সবাইকে একই ফ্রেমে নিয়ে আসলেন। মায়ের মন, ছেলের দোষ কি আর চোখে পড়ে। আদর দিয়ে দিয়ে বেড়ে উঠে এক ফ্রাংকেষ্টাইন। হেন অপকর্ম বাকি নেই তার দ্বারা সংঘটিত হয়নি।
কমিশন বানিজ্য, জংগী বাহিনীর উত্থান, প্রতিপক্ষকে হত্যা, ঘায়েল, মাফিয়া চক্রের সাথে হাত মেলানো, সব সব কিছুই করে ছাড়লেন, এসব ইলাবোরেট করলে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা তৈরি হবে। অর্থ লুকিয়ে রাখার জন্য পাচার করেন অন্য দেশে। সিনিয়রদের দুমড়ে মুচড়ে দিয়ে হয়ে গেলেনন ২য় কর্নধার। এক লাফে সমুদ্রপারের মত।
এহেন কুপুত্রদ্বয়ের অপকর্মে দেশ যখন ভুলুন্ঠিত। তখন দেশের উপর আসে কাল বোশেখী ঝড়। মুচলেকা দিয়ে পার হন অন্যদেশে, মাথায় চোর, দুর্নীতিবাজ, লোলুপ, বেয়াদব খেতাব নিয়ে।
আজ আড়াই বছর হয়ে গেলো এক গুনধর ভ্রষ্ট পুত্র চিকিৎসার নামে যুক্তরাজ্যে, আরেক গুনধর পুত্র অসুস্থ (লোকে বলে মাদকময়) আছেন ব্যাংককে। আমি জানিনা কিসের এই বিভাজন ভাইয়ে ভাইয়ে একজন লন্ডন আরেক জন ব্যাংককে।
একজন মা সুদীর্ঘ আড়াই বছরেরও বেশী সন্তানকে দেখেন নি, এরচে কষ্ট আর কি থাকতে পারে মায়ের। কত ঝড় ঝন্জা সয়েচেন এর মধ্যে। ২/৪বার অবশ্য বিদেশে গিয়েছেন। সুদীর্ঘকাল সন্তানের মুখ দেখা জরুরী নাকি উমরাহ করা জরুরী, (অবশ্যই উমরাহ), কিন্তু ধর্ম আচারি উমরাহ জরুরী। সন্তানদের আর দেখা হয়না।
অবশেষে মা সিদ্ধান্ত নিলেন না, তিনি দেখতে যাবে তার পু্ত্রকে, হাজার হোক মায়ের মন যতই দুষ্ট হোক না কেন, এর পেছনে নিজের অবদানও কম নয়। সঠিক পরিচালনায় ছেলে অন্তত ভিক্ষার টাকায় সুশিক্ষিত, সদাচরনে মানুষের মত মানুষ হবার কথা ছিলো, হয়নি। কারন অবহেলা, কিংবা অসচেতনতা। এর পেছনে ব্যক্তিগত লোভ লালসা ভোগ বিলাস বলিউডি মুভি, স্টার প্লাস, জিটিভিও কম দায়ি নন। অথবা কি দরকার, সরকারি টাকায় যখন চলে তখন কি দরকার মানুষ হওয়া।
ছেলে দেখতে যাওয়া এক ঢিলে দুই পাখি মারা, দলীয় টাকায় বিদেশে গিয়ে ছেলে দেখা এবং কুরাজনীতি করা। সারা জীবন অন্যেরটাকায় চলেছে, নিজের টাকায় কিছু করার জন্য তখন অন্তর মানেনা। তাই সুদীর্ঘ আড়াই বছর পর মওকা মিললে রথ দেখা কলা বেচা হয়ে যায়।
হাজার হোক মায়ের মন, এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষন, পুত্র জননীর মহা মিলন জাতি প্রত্যক্ষ করলো। মোলায়েম টিস্যু পেপারে নয়নের জল। ফটো সেশন। যতই কুপুত্র হোক, কোন মা কি পারে তার সন্তান যতই খারাপ হোক, যতই বাটপার হোক, ছেলেকে ফেলে দিতে। মায়ের নাড়ী ছেড়া ধন।
জাতি চক্ষে দেখলো, স্বচক্ষে। মা ছেলের মহামিলন।
বিঃদ্রঃ- জীবিত, মৃত, অর্ধমৃত কল্পিত কাহারো সাথে মিলিয়া গেলো লেখক দায়ী নন(পিঠ বাঁচানোর জন্য)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

