somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লাশকাটা ঘর

৩০ শে জুলাই, ২০১২ দুপুর ১:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কলেজের সবচাইতে উত্তরের ঘরটা।মাঝখানে সিমেন্টে বাঁধানো সাদা টেবিল।ঢুকতেই আগরবাতি ধুপ আর ফিনাইলের মিশ্রনে একটা উৎকট গন্ধ।এই গন্ধটা নাকে এসে লাগতেই ব্রেইনের একটা অংশ যেন আপনা থেকেই সক্রিয় হয়ে উঠে। একটা ভয় যেন ঝুপ করে মনটাকে জেকে বসে। মৃত্যু ভয়। কলেজের লাশকাটা ঘর।
কলেজ জীবনের প্রথম দিন থেকেই এই ঘরটার প্রতি সবার একটা অজানা আকর্ষন থাকে। মৃত্যু আর বিভৎসতার প্রতি মানুষের আকর্ষনটা বোধহয় সহজাত। তাইতো ফার্স্ট ইয়ারের ছাত্ররা ছুটে যায় লাশকাটা ঘরে। অভিজ্ঞতাটা মোটেও সুখকর নয়। এ দৃশ্য বেশি সময় সহ্য হয় না। স্নায়ুর উপর একটা চাপ সৃষ্টি হয়। ফার্স্ট ইয়ারের স্নায়ু এতটা শক্ত হয়ে উঠেনি এখোনো। তৈরি হয় ছোট্ট ঘরটার প্রতি একটা প্রবল বিকর্ষন। অবচেতন মন ঘরটাকে এড়িয়ে চলতে চায়। তাইতো থার্ড ইয়ারে কারিকুলামে post mortem থাকলেও তা আর দেখা হয়ে উঠে না।
মেহেদী রাঙা হাতের অভিমানি কিশোরী, ট্রেনে বাড়ি ফিরতে গিয়ে নিখোঁজ ছেলেটা কিংবা নৌকাডুবির তিনদিন পর খুঁজে পাওয়া লোকটা। নিথর দেহ, সাদা সিমেন্টের টেবিলে একা পড়ে থাকা লাশ। মুখ গুলোর দিকে তাকালে মনেই হয়না মানুষ গুলো বেঁচে নেই।একটা নিশ্বাসের এত মূল্য! নিথর দেহগুলোর মুখের দিকে না তাকালে বোঝা যায় না। ঐ যে ছেলেটা, গাছ থেকে পড়ে গিয়েছিল।তাকালেই মনে হয় যেন ঘুমিয়ে পড়েছে। ঘুমটা ভাঙলেই আবার দুষ্টামি করে মাতিয়ে রাখবে গ্রামটা। কিংবা মেহেদী রাঙা হাতের মেয়েটা, এক্ষুনি চোখ মেলে অভিমানি গলায় বলতে শুরু করবে তার অভিমানে চলে যাবার না বলা গল্পটা।
মিলন মামা। ডোম। ছোটখাটো মানুষটা। দেখা হলেই হাতের বিড়িটা লুকিয়ে বলে “ভালা নি মামা”। লাশ কাটা ঘরে তার অন্যরূপ। তার চোখগুলো দেখলে শিউরে উঠতে হয় তখন। কতদিন ভেবেছি জিজ্ঞেস করি কেমন করে এ পেশায়। হয়ে উঠেনি। হয়তবা ইচ্ছা করেনি। গত ২০ বছর যিনি দিনের পর দিন একের পর এক লাশ কেটে যাচ্ছেন তার অভিজ্ঞতা নিশ্চয় সুখকর কিছু নয়।
হোস্টেলে যাবার পথে দেখা যায় ঘরটার সামনের দিক। একটা লোক কাঁদছে। আরেকটা লাশ এসেছে। প্রতিদিন আসে। লাশ গুলো ফেরত যায় চাঁটাই মুড়িয়ে ঠেলা গাড়িতে, অথবা টেম্পোতে। যারা বেঁচে থাকে দারিদ্রে আর অবহেলায় তাদের শেষ যাত্রাটাও যে হবে অবহেলার এটাইতো নিয়ম। মাঝে মাঝে দুএকটা গাড়ি আর একদল হোমড়া-চোমড়া মানুষও চোখে পড়ে।কিন্তু ঘরটার ভিতরের দৃশ্য কিন্তু একই।ছোট্ট অন্ধকার ঘর,মাঝখানে একটা সাদা সিমেন্টের টেবিল, আর পড়ে আছে নিঃসঙ্গ, একা একটা নিথর দেহ।
আজও নিশ্চয় সবকিছু আগের মতোই আছে। বাইরে প্রিয় জনদের জটলা, এনাটমি ডিসেকটিং হলের সামনেই হয়তোবা আগের মতো কিছু ছাত্র জটলা বেঁধেছে।তারা সাহস সঞ্চার করছে লাশকাটা ঘরে ঢেকার। কিন্তু আজ আমার খুব নিঃসঙ্গ লাগছে।আজ আমি নিজেই লাশকাটা ঘরে,লাশকাটা টেবিলে শুয়ে।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুলাই, ২০১২ দুপুর ২:৫৭
১৪টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আর্মি এখনও ব্যারাকে ফিরে যাচ্ছেনা কেন?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৪৫

“শেখ হাসিনার পতনের মূল কারণ ছিল চীনের দিকে অতিরিক্ত ঝুঁকে পড়া, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই ভূরাজনৈতিক অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে, দেশের অভ্যন্তরে একটি পরিকল্পিত পরিবর্তন... ...বাকিটুকু পড়ুন

পৃথিবীর কোথাও কেন রাত নামে না, আবার কোথাও সূর্য ওঠে না

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:০৩

পৃথিবীর কোথাও কেন রাত নামে না, আবার কোথাও সূর্য ওঠে না

ছবি অন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত।

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা, ভৌগোলিক প্রভাব এবং আধ্যাত্মিক প্রতিফলন

আমরা প্রতিদিন যে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখি, সেটাকে এতটাই স্বাভাবিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাংবাদিক নারীরা কি টিপিক্যাল, চিন্তার গভীরতা কি ওদের কম??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০



সাংবাদিক নারী বা সাংবাদিকতার সাথে সম্পর্কিত পেশায় জড়িত মেয়েরা কি একটু টিপিক্যাল টাইপের হয়??
আমার তো তা-ই মনে হয়! এছাড়া, চিন্তার গভীরতা ওদের একটু কমও মনে হয়েছে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দুনিয়ার আহার যোগাই, আমরা না পাই খাইতে

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:৩৪



সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাওন হাওরের বর্গাচাষি আলী আকবর। কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ কৃষিকাজ করি খালি বাঁইচ্যা থাকার লাগি। কোনো লাভ নাই।’ হিসাব কষে বলেন, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×