যখন শহীদ মুনীর চৌধুরী বা শহীদুল্লাহ কায়সারকে আল বদররা ধরে নিয়ে যাচ্ছিলো - তখন নিশ্চয় উনারা অবাক হচ্ছিলেন - পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর যুদ্ধাবস্থার অধীনে বাঙ্গালী হয়েও কিভাবে একজন বাংগালীকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে! তাদেরকে মারা হয়েছে - সামান্য সন্মানও দেখায়নি মৃতদেহ গুলোর প্রতি। (স্বাধীনতার চার দশক পরও মানুষ ওদের একই চেহারা দেখলো রাজশাহীতে - যেখানে মানুষ মেরে ওরা ম্যানহোলে ফেলে রাখে)।
এরা কি আসলে মানুষ?
বাংলাদেশের মানুষ যখন প্রান বাঁচানোর জন্যে - সম্ভ্রম বাঁচানোর জন্যে দেশের একপ্রান্ত থেকে পালিয়ে অন্য প্রান্তে যাচ্ছে। প্রানপন চেষ্টা করছিলো পাকিস্তানী দখলদার হায়েনাদের কবল থেকে নিজেদেরকে - নিজের পরিবারকে বাঁচানোর জন্যে একটু আশ্রয় খুঁজে প্রত্যান্ত অঞ্চলে গিয়ে - তখন এই আলবদর - রাজাকাররা পাকিস্তানী হায়েনাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে গেছে - ধরে এনেছে মুক্তিকামী মানুষদের - ভোগের জন্যে ধরে এনে দিয়েছে আমাদের মা বোনদের - এরা এখন হাইকোর্টের আশ্রয় নিয়ে মানবাধিকারের বানী শুনায়।
জামাতের নেতারা দেখছি বলে দেশে নাকি সভ্য আইন নাই - তাইলে সভ্য আইন কোথায় আছে? সেলিনা পারভিনকে শুধুমাত্র একটা স্বাধীন দেশের স্বপ্ন দেখার অপরাধে যেভাবে হত্যা করে মৃতদেহ ফেলে বধ্যভূমিতে ফেলে রেখেছিলো নরপশুর দল - এই অপরাধ করলে সৌদি আরবে তাদের মাথা শরীর থেকে অনেক আগেই আলাদা করে ফেলা হতো। আরো সভ্য দেশের কথা শুনবেন - আমেরিকা তৈরী করে রেখেছে গুয়ন্তানামো বে আর কানাডা দেয় সিকিউরি সার্টিফিকেট - যার আপিল করা যায় না। বাংলাদেশতো এখন ওদের কোর্টে নিয়ে বিচার করছে - সেইটাই সভ্যতার সবচেয়ে বড় নির্দশন।
হাইকোর্টের বিচারকদেরও মনে রাখা উচিত - উনারা চাঁদে বসে বিচার করছেন না। উনারা যে দেশের সংবিধানের অধীনে শপথ নিয়েছেন - এরা সেই সংবিধানের শত্রু - এরা ঘাতক - দালাল - খুনী - লুটেরা। বিচারকগন মানবাধিকারের যদি পশুদের অধিকার এক করে ফেলেন - তবে বিরাট ভুল হবে। সেই ভুলের মানুষ প্রজন্ম ধরে শোধ করতে হবে।
সভ্য সমাজে পশুদের যে অধিকার দেওয়া হয় - ৭১ এর আলবদর আর রাজাকারদের এই অধিকার পেতে পারে। কারন এরা যখন অপরাধ করেছে তণ পশুর পর্যায়ে নেমে গিয়ে ছিলো। এদের কারনে দেশের নদীতে লাশ ভেসেছে - তৈরী হয়েছে শত শত গনকবর।
সুতরাং যারা মানবাধিকারের নামে ইউটোপিয়ান স্বপ্নে বিভোর - সেই সব সুশীলদের বলি - পশুর অধিকারের বিষয়ে যদি না জানা থাকে - তবে টরন্টো ইউমেইন সোসাইটির সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। কখনও মানবাধিকারের সাথে পশুর অধিকার মিলাবেন না। তাহলে ইতিহাস আপনাদের ক্ষমা করবে না। এর আগেও অনেক বুদ্ধিজীবি পশুদের পক্ষে কথা বলে নিজেদের ধিকৃত করেছে। সুতরাং সাধু সাবধান।
বাংলাদেশ সরকারের রাজাকার আলবদরদের পিটানোর প্রতি একান্ত সমর্থন জানচ্ছি। এরা ক্ষমতায় থেকে জংগীদের দিয়ে দেশে অনেক নিরীহ মানুষকে হত্যার সময় মানবাধিকারের কথা যে মন ভাবেনি - র্যাব বানিয়ে যেমন বিনাবিচারে হত্যাকে জায়েজ করেছে - তাদের জন্যে একটা মানবাধিকারের বাক্য বলে মানুষকে ছোট করা থেকে বিরত থাকবো আমরা সবাই।
মুল পোষ্ট আর মন্তব্য-প্রতি মন্তব্যগুলো একটু পড়ে দেখবেন সময় পাইলে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

