শেষ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ বিভাগে ভর্তি হতে পারছে না মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা। ভিসি অধ্যাপক আআমস আরেফিন সিদ্দিক জানিয়েছেন, ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ীই এবারের ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি আদালতের নির্দেশের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইও চালাবে কর্তৃপক্ষ। অথচ আদালত এ ভর্তি নীতিমালা স্থগিত করেছেন। এ অবস্থায় ভুক্তভোগীরা ফের আদালতে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, ভর্তি কার্যক্রম শুরুর পর তারা আদালত অবমাননার মামলা করবেন বলে জানা গেছে।
গত বছরও ভর্তি প্রক্রিয়ার বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আদালতের মাধ্যমেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে। গত বছরের মতো এবছরও ভর্তি নির্দেশিকায় কলা অনুষদভুক্ত ‘খ’ এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ঘ’ ইউনিটের ১০ বিষয়ে (ইংরেজি, বাংলা, ভাষাতত্ত্ব, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, সমাজবিজ্ঞান, উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, গার্হস্থ্য অর্থনীতি, উন্নয়ন অধ্যয়ন) অনার্সে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে শর্তারোপ করে। শর্ত হচ্ছে- এইচএসসি বা সমমান পর্যায়ের পরীক্ষায় বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে পৃথক ২০০ নম্বর থাকতে হবে। এর আগে ২০০৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সিন্ডিকেটে এ শর্তারোপের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ফলে বাংলা ও ইংরেজিতে ১০০ নম্বর পড়ে আসা এইচএসসি সমমান আলিম পাস করা মাদ্রাসা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা আরোপিত ১০টি বিভাগে ভর্তির যোগ্যতা হারায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মাদ্রাসা পড়ুয়া তিন শিক্ষার্থী জাহিদ আল মামুন, মেহেদুল হাসান ও মহিউদ্দিন হাইকোর্টে রিট করে। রিটের শুনানি শেষে ১১ নভেম্বর বিচারপতি মোঃ মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী এবং বিচারপতি কাজী রেজা-উল-হকের বেঞ্চ সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদের সমান অধিকার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৭৩-এর অধ্যাদেশের আর্টিকেল ২৫, ৪০, ৪১ ও ৪৬ অনুসারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আরোপিত শর্ত স্থগিত করেন। একই সঙ্গে কেন ওই শর্ত অবৈধ হবে না এজন্য কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শাতে বলেন। ২২ নভেম্বর সোমবার সন্ধ্যায় হাইকোর্টের আদেশের কপি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে। ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে ভর্তি নির্দেশিকায় যে শর্তারোপ করা হয়েছে সে অনুযায়ী ভর্তি প্রক্রিয়া চলবে। তবে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছেন আমরা তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইনজীবীদের পরমর্শানুযায়ীই আইনি লড়াই চালানো কিংবা পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হবে।
এদিকে আদালত ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করলেও একদিন পর ২৭ নভেম্বর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলবে খ' ইউনিটে মেধা তালিকা অনুযায়ী উক্তীর্ণদের সাক্ষাৎকার। কাল-পরশু আদালত বন্ধ। এই অবস্থায় শেষ পর্যন্ত কি সমাধান হয় সেটা বোঝা মুশকিল।
তথ্যসূত্রঃ যুগান্তর- ২৫ নভেম্বর
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে নভেম্বর, ২০১০ বিকাল ৪:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



