চেইন্দ্যা রাজার দেশে
চেইন্দ্যা রাজার দেশে মৈনটঙে পুন্যবীর্যের ফুল
সম্রাজ্ঞীর দূর্বোধ্য হাসিতে পায় পরম স্বীকৃতি
ঋতুর খোলস ফেটে উঁকি দেয় অভিযাত্রী মুখ
গর্ভের আঁধার জয়ী জ্যোতির্ময় নক্ষত্র পুরুষ।
বিশ্বাসের চিলা টান তূণে জমে জিজ্ঞাসার তীর
রাজার বিস্ময় মেপে শিশুপূত্র বিমূখ শিকারে
কপালে সন্ন্যাস এঁকে হন্য প্রাণে ছোটেন কেয়াজু
গৃহস্থ ভূমিকা মেনে অন্যজন শ্মশান ঘাটায়।
উত্তরে উত্তর খুঁজে সিদ্ধি লাভে কিবা পরাজয়ে
দক্ষিণের পথ ধরে ফিরে ভিু চন্দ্রজ্যোতি নামে
সীতাচক্র পার হয়ে ডলুতীরে উত্তর হরিণা
ডানপাশে পদ্মবিল বামে থাকে ধোপা ভাঙা কুম।
কিরাতের বংশধর পুষ্পজলে ধুয়ে দিলে গ্রাম
অশ্বত্থের ছায়ামুগ্ধ চন্দ্রজ্যোতি রাখেন বিশ্রাম।
এখানে মগধ রাজ্যে বিচিত্রিত রক্তে বেড়ে উঠি
বাঘিনীর নাতি আমি ছুঁড়ে দিই অন্য পরিচয়
আমার পৈথানে কুম শিয়রেই আলোবতী ক্যাঙ
কণ্ঠলগ্না ডলুনদী বালুচরে বিছানা চাড়াল।
প্রতেœর বাজার
ধিক এ কৃষ্ণের দেশ! কৃষ্ণ মানে আজো কালো জ্ঞান
বাদামী ত্বকের প্রতি প্রভুদের কামার্ত নয়ন।
আমাদের লজ্জা আজ অনাহুত দূরের ইশারা
পাশ্চাত্য দর্শন পাঠে প্রাজ্ঞ হবে প্রতিমা বিজ্ঞান।
নিঠুর পিতার গৃহে বেড়ে উঠা ঐতিহ্য কুমারী
সৃজন লালন শেষে আতœজাকে যে জনক নিজে
তুলে দেয় রাজার বাজারগামী দস্যুর ঘোড়ায়।
মূর্খপতি নির্দ্বিধায় অর্ধাঙ্গিনী বিকোয় বাজারে।
কালো বিড়ালের চোখ, বজ্রাহত পুরুষের হাড়
বিলাতি পিলার আর বাল ছাল ডলারের দেশে
বাঙালী ললনা রাধা পারবে কি নজর এড়াতে?
বাজার ফেরত তার সখীসহ পাব কি কুমারী?
দূর দেশে নির্দ্বিধায় রাধা ও কি লজ্জাহীন হবে
নর্তন কুর্দন শেষে ক্যাটওয়াকে কোমর দোলাবে?
অভিজাত মোহ ছেড়ে কৃষ্ণকলি ফিরবে কি ঘরে
ভয়ে মরি শিল্পভ্রাতা অর্থস্রোতে বিশ্ব বেশ্যায়নে।
শিল্পীতীর্থে অর্থবহ শিল্পের আকাল! কৃষ্ণকালে
মুখোশ খসলে কি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীরই মুখ
উঁকি দেবে? ধীরে ধীরে চুপিসারে বস্তুর বৈরাত
বাজারে পাচার হবে মাতৃভক্তি বোনের সম্ভ্রম?
নিজস্ব বেদনা শষ্য
সসঙ্কোচে সমূহ সন্ধ্যায় এক পথশিশু মেয়ে
সযতেœ ছিন্ন ফ্রকের কোঁচড়ে সে কাঁপা কাঁপা হাতে
তুলে নেয়, কর্মকাতর শুকনো ঘামের বাহুল্য।
তার হাওয়ার মতোন বয়সের মৃমন্দ কম্পনে
শঙ্খখচিত স্তনশামুকের প্রতিশ্রুতির চিহ্ন
ধরিত্রীর উপমা সে, সচকিত চিত্রল হরিণী।
জীবনানন্দ পাঠের স্বেচ্ছাচারে কূট কান্তপ্রাণ
পথশিশুটির দণি বাহুতে বহু ক্ষতচিহ্ন
বাস্তবের ভূঁয়োদর্শী, এ সমস্ত চিত্র ভূঁয়োজ্ঞান।
পুরোনো পাতার মত নরম আতœার অভিজ্ঞানে
নিজস্ব বেদনা শষ্যে এবং উচ্ছিষ্টে নিরন্তর
পাখির ডানায় ওড়ে, পথশিশু সময়ের টিস্যু।
পৃথিবীর পথদৃশ্য আমার দুয়োরে
একদিন দরোজা খুলেই দেখি পৃথিবীর সব পথ এক হয়ে একা, শুয়ে আছে আমার দুয়ারে। একি! মূক আমি। সৌজন্যের অভিধানে একটিও সম্ভাষনের শব্দ অবশিষ্ট নেই। কোথা থেকে এলো? কার পদে এলো? কাকে নিয়ে এলো? মরুদিগন্ত, বায়ুবসন্ত, জলখেলন্ত ঢেউয়ে। এ আমার শূন্যের মন্দিরে। ভাবি নিরালায়, কোন পথে যাব? কতটুকু যাব এ কাল চলন্তির ঘুরন্ত ভূবনে? দেখি একি আমিও চলিঞ্চু এ কালের কলায়। আমরাই বা কবে থেকে হয়ে ওঠলাম পথ চলাতেই সদানন্দ! একটি ঝরাপাতা ভাসতে ভাসতে ভীড়ে গেল মেরুবর্তী নতুন বন্দরে আর সেখান থেকে উড়ে এল একটি পাখি এবং জীবজগতের পদচ্ছাপে দিগন্তব্যাপী গড়ে ওঠল; রাস্তাজাল। ফিরতি পথের দূরত্ব একটি আয়ুস্কাল আর চলতি পথ ফুরোতেই চায় না। তবে ঘুরতি পথের সংজ্ঞা এসে জলস্থলে দিশে মিশে যায়। তবু ও পথের অজেয় কিছু নেই। পথে পথে বাউল কীর্তন করে শ্রীমান লালন। পদে-পায়ে, প্রতিদিন দরোজা খুলেই দেখি পৃথিবীর সব পথ আমার দুয়ারে!
বাজার
কাঁচি ও ফ্যাশনে
ঘোড়াশাল উৎপাদিত অশ্বশ্বাস
যতিচিহ্নহীন, জন্মদিন
নামের মহাতœ
পালানোর কৌশল
মুখর পরিচ্ছেদে নানামত ভাজা
বিস্তর ইশারা
পন্য হয়ে ওঠার আনন্দ
ম্যানগ্রোভ মন
এখন বাজারে, মূল্যহ্রাসে
শশব্যস্ত শহরে পুনর্বার।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

