somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভ্রমি বাংলায় (খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে: ৩৬০ আউলিয়ার দেশে) দেশভ্রমণ নিয়ে ধারাবাহিক-১পর্ব

২৮ শে আগস্ট, ২০১০ ভোর ৫:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভ্রমি বাংলায়
খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে: ৩৬০ আউলিয়ার দেশে

সিলেট শাহজালাল (রা) মাজার জেয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী সফর শুরু করাটা ইদানিং শীর্ষ দুই নেত্রীর সংস্কারে পরিণত হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সিলেট শাহজালাল (রা.) মাজার জেয়ারতের মধ্যদিয়ে নবম সংসদের নির্বাচনী প্রচার অভিযান শুরু করবেন। বিএনপি বিটের রিপোর্টার হিসেবে শুরু হলো আমারও সফর। ১২ই ডিসেম্বর সকালে প্রেসক্লাবে তার সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিএনপি বিটের অর্ধশতাধিক সাংবাদিক। দৈনিক করতোয়ার বারী সকালেই একটি তালিকা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়েছিল যে উদ্দেশ্যে তা হচ্ছে- তালিকাভুক্তরা একটি গাড়িতে যাবেন। তবে গাড়ি ছাড়ার মুহুর্তে বারির পরিকল্পনা ভেস্তে যায় ইউএনবি’র মাসুদের কারণে। বারির তালিকা বর্হিভূত মাসুদ নির্ধারিত গাড়িতে ওঠে বসে। যাহোক প্রেসক্লাব থেকে জাহাঙ্গির গেট যেতেই মিডিয়া টিমের একটি গাড়ি বিকল। যাই হোক, মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর মহিউদ্দিন খান মোহন ও বিডি নিউজের সুমন মাহমুদের অনুরোধে আমরা বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের গাড়িতে করে সিলেট রওনা হই। আমি চড়ি সাবেক এমপি মেজর (অব.) আকতারুজ্জামানের গাড়িতে। সিলেট পৌছোতে দুপুর হয়ে যায়। সিলেট নতুন ব্রীজ থেকে কিন ব্রীজ লাগোয়া সার্কিট হাউজ পর্যন্ত রাস্তার দুইপাশে মানুষের প্রচণ্ড ভীড় টেলে বহর সার্কিট হাউজে গিয়ে থামল। সিলেটে আগেই আমার এক সহকর্মী লুৎফর চলে গিয়েছিল। আমাদের সিলেট প্রতিনিধি ওয়েছ খসরু তো আছেই। আমি লুৎফরকে মাজারে চলে যেতে বললাম আর ওয়েছকে তার অফিসে। কথা হলো আমি বহরের সঙ্গে থেকে নিউজ সংগ্রহ করবো তারা সেটি তৈরি করে অফিসে পাঠাবেন। কিন ব্রীজের সঙ্গে আমার শৈশবের বহু স্মৃতি আছে। ছোট বেলায় বাবা আমাদের প্রায় প্রতি বছর সিলেট নিয়ে যেতেন। বাবা ধর্মান্ধ না হলেও কেন যেন শাহজালাল ও শাহপরাণ এর ভক্ত ছিলেন। আশির দশকের শুরু থেকেই সিলেটের সঙ্গে আমার সম্পর্ক। তখন দেখতাম যাত্রীবাহী রিক্সা চুড়ামুখী কিন ব্রীজ ওঠলে পেছন থেকে একজন সহকারী ঠেলে সাহায্য করতেন। আমরা এ কিন ব্রীজের পাশে ঘন্টার পর ঘন্টা হেঁটে বেড়াতাম। বেশীরভাগ সময় ওঠতাম বন্দর বাজারের একটি হোটেলে। এ হোটেলে বসেই একদিন বাংলাবাজার পত্রিকায় পড়েছিলাম ইসরাইলের নিহত প্রধানমন্ত্রী ইসহাক রবিনকে নিয়ে লেখা নির্মলেন্দুগুনের একটি কবিতা। ধান ভানতে শিবের গীতের মত প্রসঙ্গান্তরে চলে যাচ্ছি। তো দুপুরে খাওয়া-দাওয়ার পর খালেদা জিয়া প্রথমে শাহজালাল ও পরে শাহ পরানের মাজারে গেলেন। ফেরার পথে শহর থেকে সামান্য দূরে সুরমার পারে জঙ্গলাকীর্ণ একটি মাজারে গেলেন। এ তো সেই বোরহানউদ্দিনের মাজার। যিনি নির্যাতিত হয়ে ছিলেন হিন্দু রাজা গৌরগোবিন্দের কাছে। যার সূত্র ধরেই সিলেটে ৩৬০ সঙ্গীসহ শাহজালালের আগমন। এবার দেশের দুই শীর্ষ নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কারণে নতুন করে লাইম লাইটে চলে এলো বোরহানউদ্দিনের মাজার। সিলেট শহরে কোন পাবলিক মিটিং নেই। ফলে শহর থেকে বেরিয়ে দক্ষিণ সুরমার একটি মাঠে প্রথম জনসভায় বক্তব্য দিলেন খালেদা জিয়া। লোকজনের উপস্থিতি আশানুরূপ নয়। এরপর ঢাকা ফেরার পথে দয়ামীর বাজারে ছাত্রদলের সাবেক সম্পাদক ইলিয়াস আলীর সমর্থনে আয়োজিত এক জনার্কীণ সভায় বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া। রাস্তা পূর্বপাশে কিছু ভেতরে ঢুকলেই মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল আতাউল গনি ওসমানীর বাড়ি। বর্তমানে তার নামে পুরো এলাকার নাম রাখা হয়েছে ওসমানীনগর। খালেদা জিয়া তার বক্তব্যে কয়েকবার জেনারেল ওসমানীর প্রশংসা করলেন। জেনারেল ওসমানী আবার খালেদা জিয়ার বেয়াই। তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান জেনারেল ওসমানীর চাচাতো ভাইয়ের মেয়ে। দয়ামীর থেকে হবিগঞ্জের আউশকান্দিতে শেখ সুজাত আলীর সমর্থনে আয়োজিত সভা থেকে ফেরার পথেই গাড়ি নিয়ে বিপত্তিতে পড়ে যাই। মেজর (অব.) আকতারের গাড়ি মিস করার কারণে সমস্যায় পড়ে যাই। পরে বৈশাখী টেলিভিশনের গাড়িতে ওঠি। বৈশাখীর রিপোর্টার শফিক আমাকে পছন্দ করেন। আমাকে বললেন, পরের সফরগুলো তার সঙ্গেই করতে। এরপর মিরপুরবাজার, শায়েস্তাগঞ্জ ও হবিগঞ্জ পৌরমাঠে তিনটি সমাবেশ শেষে গাড়ি বহর রওনা হলো হাওড় পরিবেষ্ঠিত বানিয়াচংয়ের উদ্দেশ্যে। বিস্তৃর্ণ হাওড়ের মধ্যদিয়ে কুয়াশাচ্ছন্ন রাতে যখন গাড়িবহর বানিয়াচংয়ের দিকে যাচ্ছিল তখন ছিল একটি অ™ভুত রকম অনুভূতি। আঁকা বাঁকা চিকন রাস্তায় একটির পর একটি সেতু। ভিত্তিপ্রস্তরে খোদাই করা সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের নাম। বানিয়াচংয়ে ..... দীঘির পাড়ে শতবর্ষী ......... (দীঘি ও স্কুলের নাম ভুলে গেছি) মাঠে বিশাল জনসভা। আশপাশেই আমার সহকর্মী লুৎফর রহমানের বাড়ি। সে আমাকে মোবাইলে তার বাড়িতে রাতযাপনের দাওয়াত দিলেও পেশাগত দায়িত্বের কারণে তা সম্ভব হলো না। বানিয়াচং থেকে হবিগঞ্জ ফিরে মাধবপুর হয়ে ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়া যখন পৌছাই তখন রাত একটা। ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়া সরকারি কলেজ মাঠে জেলার বিএনপি দলীয় এমপি প্রার্থীদের সমর্থনে দীর্ঘ বক্তব্য দিলেন খালেদা জিয়া। আমাদের প্রতিনিধি বিজন এসে দেখা করলেন। ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়া সার্কিট হাউজে যখন পৌছাই তখন রাত দেড়টা আর সবার পেটে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এক একটি ক্ষুধার্ত হাঙর। কিন্তু স্থানীয় নেতারা জানালেন, সাংবাদিকদের খাবার প্যাকেট ইতোমধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে। অথচ আমরা কেউ সে খাবার পাইনি। চরম ক্ষুধার্ত অবস্থায় এ ধরনের কথা শুনে সাংবাদিকদের মন এবং মাথা দুটোই খারাপ হয়ে গেল। কারণ বহরে থাকতে চাইলে কেউ ইচ্ছে করলেও কোথাও নেমে থেকে খাবার খেতে পারবে না। ফলে পকেটে টাকা থাকলেও বেগার। বিষয়টি সহজভাবে নিতে পারলেন না মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর মোহন ও যায়যায়দিনের হাবিব। দুইজনই শাহী আয়োজনে ভোজনরত খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সহকারীর দায়িত্বপাওয়া শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস ও সহকারী প্রেসসচিব মারুফ কামাল খান সোহেলের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলেন। আমরা অবশ্যই আগেই ভৈরব এসে হোটেল ঈশাখাঁয় রাতের খাবার খেলাম। ঢাকায় ফিরলাম গভিররাতে। পরদিন বিকালেই আবার হোটেল শেরাটনে দলের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করা হবে। ১২ই ডিসেম্বর।
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:২৫



ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে। এই স্থানটি খুবই নিরিবিলি। দেশের আইন-শৃঙ্খলার অবস্থা খুবই খারাপ। এমন ফাকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×