যুদ্ধাপরাধ বিচারে গঠিত ট্রাইব্যুনাল বাতিল এবং এর কার্যক্রম বন্ধে এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের অনাস্থা জানালো বিএনপি। সেই সঙ্গে কামনা করলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ। দলের পক্ষে স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং দলে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বিরোধী বলে খ্যাত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সংবাদ সম্মেলনে যেসব যুক্তি তুলে ধরেছেন তা শেয়ার করলাম। পাল্টা যুক্তি থাকলে কমেন্ট করুন। পরবর্তি সময়ে তাকে প্রশ্ন করার সুযোগ নেব।
================================
৩ ডিসেম্বর ২০১১
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বহুবার বলেছেন যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানের হতে হবে এবং সার্বজনীন মৌলিক অধিকার সমুন্নত রাখতে হবে।
সরকার বিভিন্ন রকম টালবাহানা করে এই ট্রাইবুনালকে দেশীয় আদালত (ডোমেষ্টিক কোর্ট) হিসেবে অভিহিত করছে কিন্তু অভিযুক্তকে সম অধিকার প্রদানের নিশ্চয়তা দেয় এমন সব দেশীয় আইনগুলোকে (ডোমেষ্টিক ল’জ) স্থগিত করেছে। তারা অভিযুক্তদের মৌলিক অধিকারসমূহ কেড়ে নিয়েছে বিচার কার্যক্রম শুরুর পূর্বেই। এহেন কার্যক্রম পূর্ব নির্ধারিত ছক অনুযায়ী লোকদেখানো বিচার সম্পাদন ও ফরমায়েশী সাজা প্রদানেরই নামান্তর।
আপনারা জানেন যে, যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত মার্কিন বিশেষ রাষ্ট্রদূত (এ্যাম্বাসেডর এ্যাট লার্জ) জনাব ষ্টিফেন র্যাপ এই ট্রাইবুনাল ও এর বিশেষ আইনসমূহ পর্যালোচনার জন্য বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক আমন্ত্রিত হয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন। গত সপ্তাহে তিনি তৃতীয়বারের মত বাংলাদেশ সফর করে গেছেন। তিনি দু:খ প্রকাশ করে বলেছেন যে, এই ট্রাইবুনালকে ন্যায়পরায়ণ এবং স্বচ্ছ করবার ল্েয তার প্রদত্ত অনেক সুপারিশই সরকার ও ট্রাইবুনাল উপো করছে। মার্কিন বিশেষ রাষ্ট্রদূত জনাব ষ্টিফেন র্যাপ জোরালো সুপারিশ করেছেন যে, (১) ’মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বলতে কি বোঝায় তা সংজ্ঞায়িত করুক এই ট্রাইবুনাল’। (২) অভিযুক্তরা যেন ’একই পরিমাণ সময় এবং সুযোগ-সুবিধা পায় তাদের আত্মপ সমর্থনের প্রস্তুতি নেবার জন্য’ (৩) অভিযুক্তরা যেন ’একই পরিমাণ সময় এবং সুযোগ-সুবিধা পায় চলমান বিচার প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করবার জন্য যেমনটি অন্যান্য মামলার েেত্র অভিযুক্তরা পেয়ে থাকে’ (৪) ’বিচারিক কার্যক্রম যেন টেলিভিশন ও রেডিওতে প্রচার করা হয়’ (৫) ’বিদেশী কৌশুলী বা আইনজীবিদের যেন বিচার প্রক্রিয়ায় পরামর্শক হিসেবে সম্পৃক্ত হবার অনুমতি দেয়া হয়’ (৬) সর্বোপরি, সম্ভবত মার্কিন বিশেষ রাষ্ট্রদূত জনাব র্যাপ এর উত্থাপিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই যে, ’অন্য কোন ফৌজদারী অপরাধে অভিযুক্ত বাংলাদেশী নাগরিকেরা যে সব অধিকার পেয়ে থাকেন সে সব অধিকারের নিশ্চয়তা যেন এই ট্রাইবুনালে অভিযুক্তরাও পান’
মার্কিন বিশেষ রাষ্ট্রদূত জনাব ষ্টিফেন র্যাপ এর সুপারিশসমূহের জবাবে সরকার বলার চেষ্টা করছে যে, এই ট্রাইবুনালটি দেশীয় (ডোমেষ্টিক)। এই প্রসঙ্গে আমাদের তিনটি বিনীত প্রশ্ন সরকারের কাছে:
- এটি যদি দেশীয় আদালতই (ডোমেষ্টিক কোর্ট) হবে তবে আপনারা মার্কিন বিশেষ রাষ্ট্রদূত জনাব ষ্টিফেন র্যাপকে এই ট্রাইবুনাল বিষয়ে তার পরামর্শ দেবার জন্য আমন্ত্রণ জানালেন কেন?
- এটি যদি দেশীয় আদালতই (ডোমেষ্টিক কোর্ট) হবে তবে আপনারা রোম বিধিমালা (জড়সব ঝঃধঃঁঃব) ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের অঙ্গীকারনামায় (ঈড়াবহধহঃং ড়ভ ঃযব ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ঈৎরসরহধষ ঈড়ঁৎঃ) স্বার করেছিলেন কেন আর সেগুলো স্বার করবার পর তা আবার জাতীয় সংসদে ভূতসাপে অনুমোদনই বা করলেন কেন?
- এটি যদি দেশীয় আদালতই (ডোমেষ্টিক কোর্ট) হবে তবে আপনারা সেখানে গুরুত্বপূর্ণ দেশীয় আইন (ডোমেষ্টিক ল) ফৌজদারী পেনাল কোড (সিআরপিসি) এবং স্ব্যা আইনের প্রয়োগ করছেননা কেন?
আমরা মার্কিন বিশেষ রাষ্ট্রদূত জনাব ষ্টিফেন র্যাপ এর সাথে সম্পূর্ণ একমত পোষণ করি। তদুপরি আমরা এও মনে করি যে, তার সুপারিশকৃত পরিবর্তনগুলো কার্যকর করা ছাড়া ট্রাইবুনালটি মোটেও ন্যায়পরায়ণ, স্বাধীন এবং স্বচ্ছ হতে পারবেনা। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পরিবর্তে এই ট্রাইবুনালটি রাজনৈতিক প্রতিপকে নির্মূল করবার হাতিয়ার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
আমাদের সহকর্মী, জাতীয় সংসদ সদস্য এবং বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য জনাব সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বর্তমানে এই ট্রাইবুনাল কর্তৃক আটকাবস্থায় রয়েছেন বিগত এক বছর যাবৎ এবং তার বিরুদ্ধে এখনো কোন অভিযোগ গঠন করা হয়নি। আপনারা জানেন যে, ট্রাইবুনালে গত সাত মাস ধরে অনেকগুলো শুনানি করা হয়েছে তাকে আদালতে হাজির না করেই এমনকি এসকল শুনানি সম্পর্কে তাকে কোন নোটিশ না দিয়েই। তার অনুপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বিগত সাত মাসের শুনানি চলাকালে জনাব সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী কারাগার থেকে এই ট্রাইবুনাল বরাবর ২৩টি আবেদন পাঠিয়েছেন। এই সব আবেদনের অনেকগুলো এখনো গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পড়ে আছে আর বাকীগুলো গায়েব করে দেয়া হয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নাকি আমলে নিয়েছেন বিচারকদের খাস কামরায় রাষ্ট্রপরে সাথে বসে আলাপরত অবস্থায়, অভিযুক্ত জনাব সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুপস্থিতিতে এবং তাকে কোন নোটিশ না দিয়েই।
৩০ নভেম্বর ২০১১ তারিখে জনাব চৌধুরী তার অনুপস্থিতিতে ট্রাইবুনাল কর্তৃক তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয়ার ঘটনাকে চ্যালেঞ্জ করেন। তিনি একে সংবিধান ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল আইন ২০০৯ এর ধারাসমূহের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন। রাষ্ট্রপ মামলার প্রস্তুতির জন্য যতটুকু সময় পেয়েছে জনাব চৌধুরীও মামলার প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য সেই একই পরিমাণ অর্থ্যাৎ ১১ মাস সময় চেয়েছেন। বিশেষ বিধিসমূহ অনুসারে ট্রাইবুনাল তাকে মাত্র তিন সপ্তাহ পর্যন্ত সময় মঞ্জুর করতে পারে। প্রকৃতপে ট্রাইবুনালের বিশেষ বিধিসমূহ তাকে শুনানী শুরুর পূর্বেই স্বাীদের ঠিকানা ও বক্তব্য সহ পূর্ণাঙ্গ তালিকা দাখিলে বাধ্য করতে চাইছে। আমরা সকলেই বুঝতে পারছি - কেন তা করা হচ্ছে?
জনাব সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী সে জিনিসগুলোই দাবী করেছেন যা মার্কিন বিশেষ রাষ্ট্রদূত জনাব ষ্টিফেন র্যাপ সুপারিশ করেছেন। সুপারিশকৃত পরিবর্তনগুলো কার্যকর করা না হলে জনাব চৌধুরী এই ট্রাইবুনালকে কোন আইনসম্মত, স্বাধীন ও ন্যায়পরায়ণ আদালত হিসেবে স্বীকার না করবার ঘোষণা দিয়েছেন। ফলস্বরূপ উপরোক্ত পরিবর্তনগুলো না ঘটা পর্যন্ত আমাদের সহকর্মী জনাব সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পে ট্রাইবুনালের কার্যক্রম বর্জন করা ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই। তিনি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন এমনটা জেনেই যে, তার এই অবস্থান গ্রহণের ফলে একতরফা শুনানি ও বিচার কার্যক্রমের মাধ্যমে তাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হতে পারে। তিনি বিশ্বাস করেন যে, বাংলাদেশী অন্য সব নাগরিকের মত সমহারে তার প্রাপ্য মৌলিক অধিকার তাকে না দিয়ে একতরফাভাবে পপাতদুষ্ট ট্রাইবুনালের মাধ্যমে যদি তাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়, তবে তা হবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডেরই শামিল।
এই ট্রাইবুনালের আইনী কাঠামো ও বিচার কার্যক্রমের ওপর বিএনপি’র কোন আস্থা নেই। বিএনপি বিশ্বাস করে যে, বিদ্যমান আইনী কাঠামোতে ট্রাইবুনাল একটি আজ্ঞাবাহী প্রতিষ্ঠান ব্যতীত আর কিছুই নয়। এই ট্রাইবুনালের প্রহসনমূলক কার্যক্রমে অংশগ্রণের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপকে ঘায়েল করবার ল্েয চালানো এহেন বেআইনী ও অসাংবিধানিক বিচার কার্যক্রমকে বৈধতা দেয়ার অর্থ হয়না।
বিএনপি দাবী করছে যে, অবিলম্বে এই ট্রাইবুনালের কার্যক্রম বাতিল করা হোক এবং মার্কিন বিশেষ রাষ্ট্রদূত জনাব ষ্টিফেন র্যাপ এর সুপারিশসমূহ বাস্তবায়ন করা হোক। বিএনপি এও দাবী করছে যে, জনাব সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে অবিলম্বে নি:শর্ত মুক্তি দেয়া হোক এবং তার ন্যায়সঙ্গত মৌলিক অধিকারসমূহ তাকে ফিরিয়ে দেয়া হোক। বিএনপি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহবান জানাচ্ছে যেন তারা জরুরী ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল কর্তৃক বিচার বহির্ভূত পন্থায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে আপত্তি জানায় এবং যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ও বিধিমালায় বাংলাদেশের স্বারের মাধ্যমে প্রদত্ত অঙ্গীকারসমূহ প্রতিপালনে মতাসীন সরকারকে যথাযথ চাপ প্রয়োগ করে।
সংযুক্তি : পাদটিকা ও ষ্পষ্টীকরণসমূহ
১। কিভাবে ট্রাইবুনাল অভিযুক্তের মৌলিক অধিকারসমূহ কেড়ে নেয়?
আমাদের সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের যে কোন নাগরিক সাধারণভাবে কিছুসংখ্যক মৌলিক অধিকার নিয়েই জন্মগ্রহণ করে। এ সকল অধিকার সার্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণাপত্র থেকে উদ্ভূত যাতে বাংলাদেশ অন্যতম স্বারদাতা রাষ্ট্র। এ সব অধিকারের মধ্যে অন্যতম হল বাকস্বাধীনতা, চিন্তার স্বাধীনতা, জীবন ধারণের অধিকার প্রভৃতি।
১৯৭৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন পাশ করা হয় যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের েেত্র চার ধরণের ব্যক্তিবর্গের বিচার করবার ল্েয। এই চার ধরণের ব্যক্তিবর্গ হলো যথাক্রমে সামরিক বাহিনীর সদস্যবৃন্দ, আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যবৃন্দ, সহযোগী বাহিনীর সদস্যবৃন্দ এবং যুদ্ধবন্দীবৃন্দ। এই আইনটি করা হয়েছিল সুনির্দিষ্টভাবে উপরোক্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিবর্গকে সাধারণভাবে তাদের প্রাপ্য সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে বিচার করবার ল্েয। এই সকল স্থগিতকৃত সাংবিধানিক অধিকারের মধ্যে রয়েছে: আইনের সুরা পাবার অধিকার, ভূতপূর্ব কোন আইনের সুরা পাবার অধিকার, কোন স্বাধীন ও নিরপে আদালতে দ্রুত এবং প্রকাশ্য বিচার পাবার অধিকার, এবং মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা পাবার অধিকার প্রভৃতি। এই অধিকারগুলো দেশীয় আইনে (ডোমেষ্টিক ল) সকল অভিযুক্তের জন্যে নিশ্চিত করা আছে। এছাড়াও উপরোক্ত ১৯৭৩ সালের আইনে অভিযুক্তের েেত্র সর্বোচ্চ আদালতে (সুপ্রীম কোর্ট) নিজের সাংবিধানিকভাবে প্রাপ্য অধিকারসমূহ পুনরুদ্ধারের জন্য আবেদন করার সুযোগ রহিত করা আছে।
২০০৯ সালে মতাসীন সরকারের খেয়ালখুশীমত চিহ্নিত কিছু বিরোধীদলীয় রাজনীতিবিদকে বিচারের আওতায় এনে হেনস্থা করার ল্েয ১৯৭৩ সালের উপরোক্ত আইনটিকে সংশোধন করে পঞ্চম আরেকটি ধরণ যুক্ত করা হয় - ’যে কোন ব্যক্তি অথবা ব্যক্তিবর্গ’।
২। মৌলিক অধিকার হারানোর মানে কি দাঁড়ায়? কিভাবে তা বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে?
আইনের সুরা পাবার অধিকার চলে যায়; অভিযুক্ত ব্যক্তিটি এমন কোন আইন ভাঙ্গার অপরাধে বিচারের মুখোমুখি হতে পারেন যে আইন কথিত অপরাধটি সংঘটনের সময়ে প্রচলিত ছিলনা; অভিযুক্ত ব্যক্তিটি কোন স্বাধীন ও নিরপে আদালতে দ্রুত এবং প্রকাশ্য বিচারের অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন; এবং অভিযুক্তের মৌলিক অধিকারসমূহের কোন নিশ্চয়তা পাবার সুযোগ থাকেনা - এক কথায় বলা যায় যে, অভিযুক্তের পে একটি ন্যায়পরায়ণ বিচার প্রক্রিয়া দাবী করার কোন সুযোগ থাকেনা। একধরণের অন্যায় ও পপাতদুষ্ট বিচারই যেন আইনসম্মত হয়ে ওঠে।
উপরোক্ত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল এর স্বপ্রণীত ১০টি বিধির উদাহরণ নীচে তুলে ধরা হল:
- অভিযুক্তকে শুনানির জন্য আদালতে হাজির করবার কোন প্রয়োজন নেই।
- অভিযুক্ত বা তার আইনজীবিকে শুনানির জন্যে কোন নোটিশ দেবার প্রয়োজন নেই।
- আদালতের বিচার প্রক্রিয়ার কোন কার্যবিবরণী বা মৌখিক রেকর্ড সংরণের কোন ব্যবস্থা নেই কিংবা প্রয়োজনীয়তা নেই। কি যুক্তিতর্ক উপস্থাপিত হয়েছিলো বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করবার জন্যে তা জানার কোন পথ নেই।
- বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন এই ট্রাইবুনালেরই বিচারকদের কাছে ব্যতীত অন্য কোথাও তাদের প্রদত্ত কোন আদেশের বিরুদ্ধে সংুব্ধ হয়ে আপীল করবার কোন সুযোগ নেই ।
- কেবলমাত্র ট্রাইবুনালের রায় ও দন্ড ছাড়া আর কোন কিছুর বিরুদ্ধে আপীল করবার সুযোগ নেই।
- এই ট্রাইবুনালের আওতা বা অধিত্রে, এতদসংক্রান্ত সংশোধিত আইনটি কিংবা কোন বিচারকের নিয়োগ নিয়ে কোন আপত্তি জানানোর সুযোগ নেই।
- আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় কোনরকম পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই এবং তাদের আইনজীবির অনুপস্থিতিতে।
- অভিযুক্তদের আইনজীবির সাথে একান্তে আলাপচারিতা, পরামর্শ বা যোগাযোগের অনুমতি নেই।
- অভিযুক্তকে বিচার প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য মাত্র তিন সপ্তাহ সময় মঞ্জুর করা হয়েছে অভিযোগ গঠনের তারিখ থেকে।
- মামলা শুরুর পূর্বেই অভিযুক্তকে তার স্বাীদের ঠিকানা ও বক্তব্য সহ পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে বলা হয়েছে।
৩। কি ধরণের ট্রাইবুনাল এটি? আন্তর্জাতিক নাকি দেশীয়?
এটি আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল নয়। কারণ এটি বাংলাদেশ কর্তৃক স্বারিত বা ভূতসাপে অনুমোদনকৃত কোন আন্তর্জাতিক চুক্তি, বিধিমালা কিংবা অঙ্গীকারনামা মানেনা। এই ট্রাইবুনাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল নামটি গ্রহণ করেছে, কারণ যে অপরাধের তারা বিচার করবেন তা আন্তর্জাতিক চরিত্রের - অর্থ্যাৎ দুটি দেশের মধ্যে যুদ্ধ সম্পর্কিত। কিন্তু এই ট্রাইবুনালের জন্য প্রণীত আইনসমূহ আন্তর্জাতিক আইন নয়। এমনকি অপরাধের সংজ্ঞা - ’মানবতার বিরুদ্ধে অপারাধ’ এর সংজ্ঞাও আন্তর্জাতিক আইন এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এটি দেশীয় ট্রাইবুনালও নয়। কারণ দেশীয় সাংবিধানিক আইনসমূহ স্থগিত করা হয়েছে এই ট্রাইবুনালের েেত্র, বিশেষ করে সে সমস্ত আইনগুলো স্থগিত করা হয়েছে যা ন্যায়পরায়ণ বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে পারে - উদাহরণস্বরূপ ফৌজদারী পেনাল কোড (সিআরপিসি) এবং স্ব্যা আইন এর উল্লেখ করা যেতে পারে।
এটি একটি সংপ্তি আদালত - দুটো বিশেষ কারণে। এটি সাংবিধানিক আইনসমূহকে স্থগিত করেছে যা নিশ্চিত করতে পারত ন্যায়পরায়ণ বিচার প্রক্রিয়া এবং এটি অভিযুক্তের ন্যায়পরায়ণ বিচার প্রক্রিয়া পাবার মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকারসমূহ কেড়ে নিয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন আদালত বিভিন্ন ধরণের আইন এবং বিধিমালা অনুসরণ করলেও আশা করা হয় যে তারা সবাই একটি সাধারণ নীতি অনুসরণ করবে - আর সেই নীতিটি হল ন্যায়পরায়ণ হওয়া। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত একটি ন্যায়পরায়ণ বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে বাধ্য নয় এবং এই ট্রাইবুনালে অভিযুক্তের ন্যায়পরায়ণ বিচার প্রক্রিয়া দাবী করারও কোন অধিকার নেই। এটিই হলো উপরোল্লিখিত সংপ্তি আদালতের সংজ্ঞা।
যুদ্ধাপরাধ বিচারের ট্রাইব্যুনাল বাতিল এবং আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ কামনায় বিএনপির যেসব যুক্তি (সংবাদ সম্মেলনের কপি)
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে।

ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে। এই স্থানটি খুবই নিরিবিলি। দেশের আইন-শৃঙ্খলার অবস্থা খুবই খারাপ। এমন ফাকা... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল
আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন
Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ
![]()
প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।