somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দীনেশ দাস, আপনি কি সাত্ত্বিক পুরুষ হতে পেরেছেন?

০৯ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ৩:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার জন্মদিনে চিরপ্রয়াণের দেশে চলে গেলেন প্রিয় দীনেশ দাস। যখন পেশাগত কাজে রোড মার্চে যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছি তখনই পেলাম খবরটা। দীনেশ দাসকে কেড়ে নিয়েছে বেপরোয়া চালক। শুনে বিশ্বাস করতে পারলাম না। এটা কেমন করে হয়। দীনেশ দাস তো এত বেখেয়ালী ছিলেন না যে রাস্তায় বেঘোরে, অসময়ে, বিনা কারণে নিজের জীবনটি বিলিয়ে দেবেন!
দীনেশ দা এটা কি হলো? একদিন আগে না আপনার সঙ্গে দুপুরের খাবার খেলাম! হ্যাঁ, মৃত্যুর একদিন আগে অর্থাৎ ৪২ঘন্টা আগে ৬ই জানুয়ারী শুক্রবার দুপুরে আমরা পাশাপাশি বসে একসঙ্গে খাবার খেয়েছি। সেদিন আমরা ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির হাউজিংয়ে সমিতির এজিএম-এ উত্তরখান পোলার টেকে সারাদিন কাটিয়েছি। দুপুরে খেয়েছি একই টেবিলে বসে। আমার ডান পাশে ইন্ডিপেনডেন্ট টিভির ইলিয়াস হোসেন, বামে ইনকিলাবের রফিক মুহাম্মদ এবং দীনেশ দাশ। তার বাম পাশে আমার দেশ-এর কবি হাসান হাফিজ। ওই টেবিলে ছিলেন কুদ্দুস আফ্রাদসহ আরও কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক। দুপুরে খাবারের চেয়ে গল্পই হয়েছে বেশী।
দীনেশ দাশ সনাতন ধর্মে বিশ্বাসী। ফলে তিনি গরুর গোস্ত খান না। কিন্তু একই টেবিলে আমরা অন্যরা খাচ্ছি। টেবিলে মাংসের বাটিটা ছিল দীনেশ দা’র সামনে। আমি বললাম, কথায় বলে ঘ্রাণেই অর্ধভোজন। মাংসের বাটি সামনে রেখে দাদা কি ঘ্রাণের অর্ধভোজন সারছেন নাকি। জবাবে দাদা আমার মুখ চেয়ে মুচকি হেসেছেন। ইলিয়াস ভাই বললেন, দাদা বোধহয় সাত্ত্বিক...। জবাবে দীনেশ দা বললেন, সাত্ত্বিক পুরুষ হতে চাই। দাদা আপনি কি সাত্ত্বিক পুরুষ হতে পেরেছেন?
খাবারের পর রিপোর্টার্স ভিলেজের সাইনবোর্ডের নিচে ছবি তুলছিলাম আমরা। আপনি পাশে এসে ছবি তুলেছেন। বলছিলেন, যত দ্রুত সম্ভব পোলারটেকে আমাদের আবাসন প্রকল্পটির বাস্তবায়ন করতে পারা উচিত। দাদা, এটা কেমন হলো! পোলার টেক কি সেদিন আপনার ওপর অভিমান করেছিল। সেখানে আপনাকে বসবাসের সুযোগ দেবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্রকৃতি অথবা ঈশ্বর।
আমি যখন ঢাকায় ফিরব তখন আপনার লাশ চিতা দাহ হয়ে যাবে। আপনার দূর্ঘটনা কবলিত বিকৃত লাশটি আমাকে দেখতে হবে না। যদিও আপনার সঙ্গে আমার অতবেশী মাখামাখি ছিল না। তবে আমার মানসপটে আপনার কৃষ্ণ কিন্তু আভিজাত্যপূর্ণ চেহেরাটি চির জাগরুক থাকবে। তবে সাংবাদিকতার নানা মুহুর্তে আপনার কথা মনে পড়বে। মনে পড়বে সে দুপুর বেলার খাবার টেবিলের গল্প। যদি পোলারটেকে আমার কখনো বসবাস করার সুযোগ হয় তবে আপনার কথা তো ভুলতেই পারবো না।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×