somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অতঃপর কবি ও সেই নারী

২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কবি:দেখলেন তো কথায় আছে ইচ্ছে থাকলেই উপায় হয়।
নারী:হুম
কবি: এত হুম হুম কেনো? মন খারাপ প্রিয় মানুষটির সাথে আসতে পারেননি তাই?
নারী:হুম?
কবি:এত অন্যমনস্ক কেনো আপনি। আরে ভাই ভুলে যান অতীতের কথা। অতীত নিয়ে কেউ পড়ে থাকেনা। জীবন অনেক সুন্দর! সুন্দর এই অপার ধরিত্রী।
নারী:রাখুন আপনার হাইথট।
কবি: হা হা হাইথট বলাটা কি আপনার মুদ্রাদোষ বলুন তো?
নারী: জানিনা
কবি:ঐ পারে যাবেন?
নারী:কোন পারে?
কবি:মানে এই ক্ষেত পেরিয়ে ঐ সবুজ দিগন্তে। আপনার প্রেমিকের মত কলাই এর ক্ষেত না পাই সবুজ বনানী দেখিয়ে আনতে পারি । যাবেন?
নারী: আচ্ছা চলুন যাই।


নারী:শহরের এত কাছে এমন জঙ্গল এলাকা? আমার ধারনাই ছিলোনা।
কবি:এই বিশ্মব্রমান্ডের কতটুকু আর ধারনা পেয়েছেন বলুন? জীবনের আরওকত বাকী!
নারী: আপনি না খুব বুড়োদের মত কথা বলেন। আমার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।
কবি: হা হা ওকে আর কথাই বলবোনা। ঠিক আছে?
নারী: না ঠিক নেই।
নারী:আচ্ছা ওটা কি হরিয়াল পাখি? ঐযে রঙ্গিন.......
কবি: না ওঠা হরিয়াল না,ওটা কাঠঠোকরা। উডপেকার। মাথায় ঝুঁটি.....
নারী: ওহ হা মনে পড়েছে। এতে হাসির কি হলো?জায়গাটা কেমন অন্ধকার ঝুপসী। আচ্ছা এইখানে কি গুই সাপ আছে?
কবি: গুই সাপ? কি জানি থাকতেও পারে।
নারী: কি বলেন? চলেন ফিরে যাই।
কবি: হা হা ভয় পাবেন না। গুইসাপেরা আমার মত মানে হার্মলেস আর তারাও মনে হয় শীতনিদ্রা দেয়।
নারী: না না আমার ভয় লাগছে।চলুন ফিরে যাই।
কবি: ভয়? আরে কেনো? আচ্ছা আমার হাতটা ধরবেন?
নারী: কেনো?
কবি: ভয় কমতে পারে।অথবা.......
নারী: অথবা কি?
কবি:বলবো?
নারী:বলেন
কবি: অথবা প্রেমিক বা স্বামীর সাথে এমন বনানীতে ঘুরে বেড়ানোর মনো বাসানা পূর্ণ না হবার দুঃখটুকু হয়তো কিছুটা লাঘব হবে।
নারী:মানে?
কবি: মানে আর কিছু নয়। আমার হাতটা ধরুন। না হয় কিছুটা সময়ের জন্য দুঃখ ভুলুন। সারাজীবনের অপ্রাপ্তির দুঃখগুলো। কিছুটা সময়রের জন্য না হয় হারিয়ে যাক ঐ সুদূরে। ভুলে থাকুন সকল অপ্রাপ্তি, বঞ্চনার কষ্ট।


কবি: আপনার হাত বড্ড নরম। ঠিক যেন শিশির ভেজা পদ্ম কোরোক।
নারী:ধ্যাৎ। কি যে বলেন
কবি: লজ্জা পেলেন?
নারী:একটু
কবি:লজ্জা পেলে আপনি রাঙ্গা হয়ে যান। ভাবছেন একা পেয়ে এসব বলছি? জানেনই তো আমি কিছু লুকাতে জানিনা। মানুষ কষ্ট পায় স্যাকরিফাইজ করে করেই। স্যাক্রিফাইজ খারাপ না তবে খারাপ যেটা সেটা মনের কষ্টগুলোকে পুষে রাখা। এতটুকু জীবনে কতকিছুই না পাবার দুঃখ রয়ে যায়। আপনি তো একদম চুপ হয়ে গেলেন । কি ভাবছেন?
নারী:কিছুনা।
কবি: হা হা আপনি আপনাতে নেই । আপনার মন ঘুরে বেড়াচ্ছে কোথায় বলেন তো? আচ্ছা এক কাজ করেন সেই গানটা গান। দূরে কোথাও দূরে দূরে .........আমার মন বেড়ায় ঘুরে..........

কবি: আপনার গলা খুব সুন্দর! আপনার ইচ্ছে পূরণ করতে গিয়ে আপনিও আজ আমাকে উপহার দিলেন সুন্দর কিছু মুহুর্তের। সুন্দর এই কবিতার মত দিনটি আমার মনের ফ্রেমেও বন্দী হয়ে রইবে সারাজীবন। হা করে কি দেখছেন?
নারী: নাহ কিছুনা। আপনি খুব অন্য রকম। আর দশটা মানুষের সাথে মেলেনা আপনার প্রকৃতি। আমি ঠিক মেলাতে পারিনা।
কবি: হা হা হা হা হা আমি ছন্নছাড়া, ভবঘুরে এবং বন্য
নারী: বন্য!
কবি: হা হা হা হা ভয় পেলেন? ভয় পাবেন না আমি ভালোমানুষ। কখনও কারো ক্ষতি করিনি।
নারী:ঠিক তো!
কবি: হুম ঠিক ঠিক ঠিক । হা হা হা
কবি:আপনাকে একটা চুমু খেতে পারি?
নারী: কক্কি!!!
কবি: হা হা আৎকে উঠলেন? হাহাহা হা হা হা আৎকাবেন জানতাম তবে এতটা আৎকাবেন তা বুঝিনি। দেখুন আমি অনুমতি চেয়েছি। নিজেকে বন্য বলেছি বলেই বুনোর মত ঝাঁপিয়ে পড়বো এমন ইচ্ছে নেই আমার। আপনি অনুমতি দিলেই শুধু একবার চুমু খাবো।
দী--র্ঘ---চুম্বন। আজকের এই সুন্দর দিনটির স্মৃতিময় চুম্বন।


এরপর আগামীকাল-
১৪টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অন্ধের দেশে আয়না বিক্রি করতে এসেছিলেন ইউনুস স্যার!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৩৪



অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ছেড়ে গেলেও নতুন বাংলাদেশ গড়ার সার্বিক দায়িত্ব আমার, আপনার, আমাদের সবার। দীর্ঘ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন কিরকুট, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৫৪

*** জামাত শিবির এর যারা আছেন তারা দয়ে করে প্রবেশ করবেন না ***


বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ এখন আর কেবল একটি দলের ভাগ্যের প্রশ্ন নয় এটি রাজনৈতিক ভারসাম্য, গণতান্ত্রিক কাঠামো... ...বাকিটুকু পড়ুন

পৃথিবীর বুকে এই দুর্যোগ যেন কোনওদিন না আসে

লিখেছেন অর্ক, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২২



পৃথিবীর বুকে এই দুর্যোগ যেন কোনওদিন না আসে। দুর্ধর্ষ মাফিয়া একটি রাষ্ট্রের মালিক হতে যাচ্ছে। দেশ সীমানা ভূখণ্ডের গণ্ডি পেরিয়ে, পৃথিবীর জন্যই অত্যন্ত বিপদজনক। অবশ্য নির্মম বাস্তবতা হলো, আগাগোড়া অসভ্য,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবশেষে দেশে গণতন্ত্র কায়েম হইলো

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৩

দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে এখন আমাদের আর কোন টেনশন রইলো না। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের বিজয়ী প্রার্থীদের আজ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই মূলত দেশ আবার গণতন্ত্রের ট্রেনে যাত্রা শুরু করলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রঙিন ডালিম ফলের একটি ব্যতিক্রমি অঙ্গ বিশ্লেষন ( Anatomy of Pomegranate )

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১১


সবুজ পাতার আড়াল ভেঙে
ডালিম ঝুলে লাজুক রঙে
বাইরে রক্তিম খোলস কঠিন
ভিতরে দারুন জীবন রঙিন।
শত দানার গোপন ভুবন
একসাথে বাঁধা মধুর টান
হৃদয়ের হাজার স্বপ্ন যেন
লুকিয়ে থাকা রক্তিম গান।

উপরে প্রচ্ছদ চিত্রে রেনেসাঁ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×