A house divided against itself cannot stand.
Abraham Lincoln
উপরে কথাটি জনপ্রিয় জননেতা, ঘৃন্য দাস প্রথা রদকারী , ডেমোক্রেসির সংজ্ঞা দানকারী আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের। লিংকনের এই কথাটি হাউজ বলতে জাতি কেও বুঝানো হয়ে থাকে। অর্থাৎ যে জাতি নিজেরাই বিভক্ত তারা নিজেরা কখনও দাঁড়াতে পারেনা। আজ সকাল থেকে ভারতপ্রেমী আর পাকি প্রেমী অসংখ্য নির্লজ্জ ব্লগার দেখে আমার এ কথাটি মনে পড়ে গেলো। বাংলাদেশ আজ স্পষ্টত ২ ভাগে বিভক্ত। এক দিকে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের দল, যাদের একটি বিশেষ দলের অনুসারী হতে হবে, না হলে রাজাকার বা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী দল। ব্যাপার টা শুধু এখানে থেমে থাকলে কোন কথা ছিলো না, কিন্তু গোলটা বাধে তখনই যখন মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের দলের থাকার প্রথম শর্ত হিসাবে ভারতকে সমর্থন করতে হয়, এ ব্যাপারটা প্রাত্যহিক জীবন ছাড়াও খেলার মধ্যেও টেনে আনা এখন নিয়ম হয়ে দাড়িয়েছে। এখানে উল্লেখ্য যারা যে সমস্ত ব্লগার ভারতকে বা পাকিস্তানকে কাউকেই সমর্থন দিতে চান না, তারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী হয়ে যান! আমি ব্যাক্তিগত ভাবে ভারত বা পাকিস্তান কারোই সমর্থক না। পাকিস্তানকে তো সমর্থন করার কোন প্রশ্ন আসে না, এ যেন নিজে মায়ের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা, কিন্তু ভারতকে সমর্থন করা কেনো? আজ স্বাধীনতার ৪০ বছরে এসে আমার একটা নিরীহ প্রশ্ন,
স্বাধীনতার ৮ মাসের মরণপরণ যুদ্ধ করার পর, শেষ মাসে দাদাগিরি সুলভ কৃতিত্ব দেখানো ছাড়া ভারত আমাদের আর কি করেছে?
বরং আসেন দেখি ভারত অন্যায় করছে-
১. ফারাক্কা বাঁধ নির্মান , যার কারনে উত্তরবঙ্গ আজ মরু প্রায়, নিজ চোখে না দেখলে যার ভয়াবহতা বোঝা যাবে না।
২. টিপাইমুখ বাঁধ নির্মান প্রকল্প
৩. অস্হিতিশীল সীমান্ত, অহরহ মানুষ হত্যা উদাহরন না দিলেও চলে।
৪. বাংলাদেশে সমস্ত টিভি চ্যানেল ভারতে নিষিদ্ধ
৫. অবৈধ চোরাচালানে উৎসাহ প্রদান
৬. ভারতের এক্সিম ব্যাংক কর্তৃক উচ্চ সুদে ঋন নিতে বাধ্য করা, এবং নিম্ন মানের মালামাল কিনতে উৎসাহ প্রদান।
এরকম আরো অনেক উদাহরন, যা অনেক সময় মিডিয়াতে ও আসে না। কেন ভারতে খেলা নিয়ে এত খুশি এত উৎসব। মানলাম সামু তে ওপার বাংলার কিছু সমর্থক আছে, তারা তাদের আবেগ দেখাতেই পারে, কিন্তু একজন বাংলদেশী হয়ে আপনি কেন??? কোন বাবা মার ঔরসে জন্ম নিয়েছেন আপনি যে এরকম একটি বিবেক বর্জিত, সুবিধালোভী প্রতিবেশী রাষ্ট্রের জন্য সমর্থন দিবেন?? আপনার কি নিজের বিচার বুদ্ধি নাই?
তাহলে কেন সেই ভারত কে নিয়ে এত উন্মাদনা?
অন্যদিকে পাকিস্তান, যার নামের মধ্যেই আছে নাপাক ব্যাপার। যার জন্ম হয়েছে শু্যোর খাওয়া এক নামে মাত্র এক মুসলিম, জিন্নাহর হাত দিয়ে।এরা এমনই এক বর্বর জাতি, যারা আজও জানে না ক্ষমা কি করে চাইতে হয়। কিছুদিন আগে ফেসবুকে এক ভিডিও দেখলাম এক বাংলাদেশী াবাল এক পাকিস্তানী বেজন্মার কাছে পাকি জার্সির জন্য কাকুতিমিনতি করছে। সত্যি কি এ দৃশ্য দেখার জন্য ৩০ লক্ষ অকুতভয় যোদ্ধা নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন? কি লাভ হলো এ দানের? যে ছেলেটি এই জার্সিটি পেলো, তার কাছে কি স্বাধীনতা শুধুই কি চার অক্ষরের একটি শব্দ? স্বকীয়তার মানে কি সে বুঝে? কষ্টের কথা হলো এরকম হাজার হাজার লাখ লাখ বোধহীন, জারজ পাকিপ্রেমীর ছড়াছড়ি আমাদের দেশে। ঘুনপোকার মতো নিঃশেষ করে ফেলছে আমাদের অর্জন কে।
কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, এখনো সময় শেষ হয়ে যায়নি। দেশের তরুন সমাজ নিশ্চয় এই আত্মত্যাগের মূল্যায়ন করবে। দেশ আজ নিজে বিভক্ত। সুক্ষ ষড়যন্ত্রের আভাস আজ সবদিকে। দেশ কে বিভক্ত করার আয়োজন সম্পন্ন। মুক্তিযুদ্ধকে সামনে রেখে, দেশকে ভুল দিকে কি নেয়া হচ্ছে? নিজেদের মধ্যে ঐক্যতার বদলে, আমরা বিভেদ জাগ্রত করছ না তো?? আবারো প্রথম কথায় তাহলে ফিরে যেতে হয়, যে জাতি নিজেরাই বিভক্ত তারা নিজেরা কখনও দাঁড়াতে পারেনা। আমার মনে হয় আজ সময় এসেছে ভারত পাকিস্তান এ জুজু দূরে ছুড়ে ফেলে দিয়া নিজেদের জাতীয়তাবাদে উদ্ভুদ্ধ হবার। অন্য দেশে পদলেহন না করে নিজের দেশের প্রতি দায়িত্ব পালন করার।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মার্চ, ২০১১ রাত ২:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




