২৪টি বছর পার করেছি ।
সস্তা জামা কাপড়, এলো মেলো চুল, সহপাঠীদের তাচ্ছিল্য এবং হাত খরচের পয়সা ছাড়া ভালোই কেটেছে সময় ।
বাবার হিসেবের পয়সা । মায়ের বেহিসেবী আদর । বোনদের অপার স্নেহে বেড়ে উঠেছি । শাক-ভাতে তৈরি হয়েছে ৫ফিট ৮ইঞ্চি শরীর ।
ইন্টারমিডিয়েটের আগে বন্ধু পাইনি । মরুভূমিতে এক পশলা বৃষ্টির মতো হঠাত্ পেয়েছি আরিফ সারোয়ার নামের এক বোকা বন্ধুকে ।
দ্বিতীয় শ্রেণীতে যখন পড়ি এক রোযায় আব্বা আসর নামাজ পড়তে যাবেন এমন সময় আমি আব্বাকে বল্লাম, আমি কবিতা লিখব !
আব্বা নামাযের পাটিতে দাঁড়াবার আগে আমাকে কাগজ কলম এনে দিলেন । আট রাকাত নামায শেষ করে জিজ্ঞেস করলেন- কী লিখেছিস ?
আমি পড়লাম-
" ছাগল ভাই, ছাগল ভাই
ঘরে আছো ?
'ছাগল ভাই ঘরে নাই'
কী বিপদে পরলাম
হায় হায় ।"
আব্বা বললেন- "মাশাআল্লাহ্ , লিখতে থাক ।"
আমার লিখতে ইচ্ছে করে তাই লিখি । সুখ দুঃখ সব কিছুই আমার লেখার উপজীব্য ।
আজকে আমার জন্মদিন । এটা নিয়েও লিখা যায় । কবি, সাহিত্যিক হতে চাই না তবে ছোট ছোট স্বপ্ন দেখি লেখালেখিকে ঘিরেই ।
বন্ধুরা, আজকে ফেসবুকের বদৌলতে আপনাদের অনেকের ভালো বন্ধু আমি । আমার জন্মদিনে আপনারা ভারি ভারি পোষ্ট দিবেন আমাকে নিয়ে এটাই স্বাভাবিক । তবে আমার একটা অনুরোধ বন্ধুরা, সবার পোষ্ট গুলো তুলে নিন ।
কারন ব্যাখ্যা করছি :
আমরা ছিলাম চার বোন এক ভাই । আমি সবার ছোট । ক্রমানুসারে যে বোনটি তৃতীয় স্থানে ছিলেন তাঁর নাম 'মণি' ।
সাত বছর বয়েসে মণি আপু মেনেনজাইটিসে আক্রান্ত হোন । তার এক বছর পর দুটো চোখই পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায় তাঁর ।
তখন স্বৈরাচারী এরশাদের শাসনামল । প্রশাসনে শুরু হয় গণ ছাঁটাই । নামের বিভ্রাটে এক শফিকুর রহমানের জায়গায় চাকরিচ্যুত হোন আব্বা । চরম অর্থ সংকটে পরি আমরা । একান্নবর্তী পরিবারের জমি বিক্রী করতে দেয়নি চাচারা ।
তিন বছর পর আব্বা হারানো চাকরি ফিরে পান । ততদিনে প্রায় বিনা চিকিত্সায় মারা যায় মণি আপু ।
মণি আপুর মৃত্যুর তারিখটা ছিলো ২০ আগস্ট ।
এই দিনটি এলেই দম বন্ধ হয়ে আসে । জন্ম আর মৃত্যুর দোলাচলে আমি থাকি দিশেহারা ।
যাঁরা অভিনন্দন জানিয়েছেন তাঁরা জানবেন- আপনাদের আমি অসম্ভব ভালোবাসি_____
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ রাত ৮:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



