তাঁর সাথে আমার পরিচয় আমার বাসাতেই। আগে কখনো দেখিনি। অথচ কি আশ্চর্য! আমার শত আপত্তি সত্বেও তাঁর স্থান হল আমারই ঘরে। কেউ আমার কথা শুনলোই না। নিতান্ত নিরূপায় হয়ে আমি শেষ পর্যন্ত হাল ছেড়ে দিলাম। ভাল করে তাকিয়ে দেখলাম ওর দিকে। সৌন্দর্যের সাথে খানিকটা অহংকার মিশে আছে। আর তা তাকে মানিয়েও যায়। আমার নিভৃত নির্জনতায় প্রথম দু’ একদিন এই হঠাৎ কারো উপস্থিতিতে চমকে চমকে উঠেছি। তারপর ধীরে ধীরে অভস্ত হয়ে গেছি।
স্বভাবটা তার চুপচাপ। তারপরও সারাদিনের বাউন্ডুলেমি শেষে অনেক রাতে ঘরে ঢুকে আলো জ্বাললেই তার স্পষ্ট বিরক্তি টের পাওয়া যায়। আমি স্বভাবসুলভ সেদিকে মনোযোগ না দিয়ে নিজের মাঝে ডুবে যাই। আমার জীবনধারায় সে এখনো অভ্যস্ত হয়ে ওঠেনি।
আমার চাইতে তার প্রতি পরিবারের আর সবাই অনেক বেশী মনোযোগী। কি খেতে, কিভাবে থাকতে পছন্দ করে না করে সেদিকেই সবার যৌথ আগ্রহ আমাকে ঈর্ষান্বীত করে। বেচারা আবার নিরামিশ একদমই পছন্দ করেনা। তাই তার জন্য প্রতিদিনই মাংসের ব্যবস্থা।
যখন নিজের ঘরে থাকি, আমাকে আড়চোখে লক্ষ্য করে সে। হয়তো বা বোঝার চেষ্টা করে আমায়। আমিও করি। নিজের যায়গা ছেড়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশে ভিন্ন সত্ত্বাদের সাথে তার নতুন সময়ের বসবাস; কিছুতো আলাদা হবেই। হয়তো অনেকটা। তাই তার চোখে কখনো গাঢ় বিষাদ ছেয়ে থাকে। আমি নিজের মনেই নিজেকে চোখ রাঙাই। আমি কখনো নিজের স্বাধীনতা বিসর্জন দেবার কথা ভাবতেও পারিনা। তাই তার অবস্থা আমাকে বিহ্বল করে।
এই অসম সহাবস্থান হয়তো তার প্রাপ্য নয়। কিন্তু কি আর করা। নিয়তিবাদী না হয়েও আমাকে তার অবস্থার জন্য নিয়তিকেই অন্বেষন করতে হয়। তবুও ভাবি -
একদিন হয়তো সে আর থাকবেনা এই নিভৃত কোনে। নীল আকাশ তারে ডাকে। ডানায় রোদ্দুরের ঘ্রাণ মেখে উড়ে যাবে মেঘের ছায়ায় -
ঝড়ে কুড়িয়ে পাওয়া ডানা ভাঙ্গা এই বাজ পাখি টা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

