আমার প্রিয় পোস্ট

আমায় প্রশ্ন করে নীল ধ্রুবতারা, আর কত কাল আমি রব দিশেহারা।

এলডোরাডো- এক সোনালি মিথ

২৮ শে জুন, ২০০৮ সকাল ৭:৪৬

শেয়ার করুন:                   Facebook


স্বর্ণের প্রতি লোভ মানুষের চিরদিনেরই। আর এই লোভের বশবর্তী হয়ে কত মানুষ নিজের জীবন বিপন্ন করে ছুটে গেছে দূর-দূরান্তে, মৃত্যুর ভয়কে তুচ্ছ করে সদর্পে এগিয়ে গেছে। তৈরী হয়েছে বহু কাহিনী। আর এসবের মধ্যে সবচেয়ে বিস্ময়কর অভিযানের কাহিনী হচ্ছে এলডোরাডো বা প্রাচীন স্বর্ণনগরী অভিযানের কাহিনী।

এলডোরাডো ম্যানিয়া শুরু হয় ১৫৩০ সালে স্প্যানিশ অভিযাত্রী ফ্রান্সিসকো পিজরোর মাধ্যমে। তিনি পানামা থেকে নৌবহরে করে পাড়ি জমান প্রাচীন ইনকা সভ্যতার পীঠস্থান পেরুতে। কিন্তু সফল হতে পারেননি তিনি। এরপর ১৫৩৫ সালে সেবাস্তিয়ান ডি বেলকাজার, ইকুয়েডর এর রাজধানী কুইটো নামের প্রবর্তক একজন ইন্ডিয়ানের সাথে পরিচিত হন, যে তাকে এলডোরাডো সম্পর্কে জ্ঞাত করে। সে সেবাস্তিয়ানকে বলে যে প্রাচীন ইনকা সভ্যতার রাজা গোসল করতেন সোনা ভর্তি এক হ্রদে। এই কথার মাধ্যমেই এলডোরাডো কথাটির মানে তিনি স্বর্ণশহর থেকে পরিবর্তন করে রাখেন স্বর্ণমানব। তবে এখন পর্যন্ত এই নিয়ে দন্দ্ব থেকেই গেছে এলডোরাডো শব্দের আসল অর্থের।

এর পরবর্তী এলডোরাডো অভিযানের কাহিনী ১৫৩৬ সালে ৯০০ নাবিকসহ গন্জালো জিমেনেজের। ম্যালেরিয়া আক্রান্ত জিমেনেজের দল কলম্বিয়া থেকে সিবেহাস দ্বীপে পৌছালে সেখানকার স্প্যানিয়ার্ডরা তাকে একটি হ্রদের সন্ধান দেয় যেটির সাথে এলডোরাডোর হ্রদের অনেক খানি মিল পাওয়া যায়। কিন্তু এরপর আর বেশি দূর অগ্রসর হতে পারেননি তিনি। ম্যালেরিয়া এবং জ্বরে আক্রান্ত হয়ে তার দলের বহু লোকের মৃত্যু হয়। ফলে অপর্যাপ্ত মানুষ ও রশিদের জন্য তিনি ফিরে যেতে বাধ্য হন। ১৫৯১ সালে আবার অভিযান। এবারের প্রবর্তক বেরিও। কিন্তু তার আর কোন হদিস এরপর পাওয়া যায় নি।

শেষ স্প্যানিশ অভিযানের নায়ক ডিয়েজ ডি লা ফুয়েন্তি। তিনি ভেনিজুয়েলা থেকে শুরু করেন তার অভিযান। তিনি পারিমা হ্রদের সন্ধান পান। কিন্তু এরপর ইনডিয়ানদের আক্রমণে ভেস্তে যায় তার অভিযান। মাত্র কয়েকজন অভিযাত্রী নিয়ে ফিরে আসতে বাধ্য হন তিনি। কিন্তু এর পরও থেমে থাকেনি এলডোরাডো অভিযান। ১৯১২ সালে একটি বৃটিশ কন্সট্রাক্টর কোম্পানি পারিমা হ্রদের আশেপাশে অভিযান চালিয়ে রূপা, বক্সাইট ও ম্যাঙ্গানিজের সন্ধান পায়। কিন্তু সোনা আর পাওয়া যায় নি।

এলডোরাডো সম্পর্কে শেষ খবর শোনা যায় ১৯৬৯ সালে দক্ষিণ আমেরিকার বোগোতাতে। একটি গুহার পাশে কিছু শ্রমিক কাজ করছিল। হঠাৎ একজন চিৎকার করে উঠে, "এলডোরাডো", "এলডোরাডো"। খেঁাজ নিয়ে জানা যায় সেই শ্রমিকটি একটি খঁাটি সোনার মডেল পেয়েছে, যেটায় দেখা যাচ্ছে এক লোক তার রক্ষীবাহিনী দ্বারা সুরক্ষিত এবং সে গোসল করছে। এরপর এলডোরাডো সম্পর্কে আর কোন কাহিনী শোনা যায় নি। কিন্তু মানুষকে এখনও ভাবিয়ে তোলে এই এলডোরাডো। সত্যিই কি ছিল এই স্বর্ণশহর বা স্বর্ণমানব? এ এক সোনালি মিথ।

এলডোরাডো সম্পর্কে আরো জানতে ব্যারোনেস ওর্কজির 'এলডোরাডো' বইটি পড়ুন।

(লেখাটি কিছুটা এডিট করে ২৫ জুন যায় যায় দিনে ছোটদের পাতায় প্রকাশিত হয়েছে)

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): স্বর্ণনগরী ;

 

  • ১৮ টি মন্তব্য
  • ৩১৯ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৮ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ২৮ শে জুন, ২০০৮ সকাল ৭:৫৩
comment by: আশরাফ মাহমুদ বলেছেন: প্রিয়তে রাখলাম। পরে পড়ব। এখন যাই।
২. ২৮ শে জুন, ২০০৮ সকাল ৭:৫৪
comment by: দূরন্ত বলেছেন: শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
২৮ শে জুন, ২০০৮ সকাল ৮:১৯

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ পড়ার জন্য।

৩. ২৮ শে জুন, ২০০৮ সকাল ৭:৫৭
comment by: আসিফ আহমেদ বলেছেন: এডভেন্চার ....
৪. ২৮ শে জুন, ২০০৮ সকাল ৮:০৪
comment by: নতুন বলেছেন: চলেন আমরা বের হই... এলডোরাডো খোজে... ;)

কেঠা কেঠা জাইবেন হাত তোলেন..
২৮ শে জুন, ২০০৮ সকাল ৮:২০

লেখক বলেছেন: খরচ আপনার।

৫. ২৮ শে জুন, ২০০৮ সকাল ৮:২৩
comment by: পথিক!!!!!!! বলেছেন: ভাল জিনিস জানলাম তোমার কাছ থেকে
ধন্যবাদ
৬. ২৮ শে জুন, ২০০৮ সকাল ৮:২৫
comment by: নতুন বলেছেন: ২৮ শে জুন, ২০০৮ সকাল ৮:২০
লেখক বলেছেন: খরচ আপনার।



তাইলে কিন্তু খুইজা পাবার পরে ... ভাগ চাইতে পারবেন না... ;)

খুইজা পামু তাতো নিস্চিত.. :)

এখন কন কি করবেন..
২৮ শে জুন, ২০০৮ সকাল ৮:২৮

লেখক বলেছেন: ঠিক আছে..রাজি..:)

৭. ২৮ শে জুন, ২০০৮ সকাল ৯:৪৮
comment by: নেমেসিস বলেছেন: একেবারেই কি মিথ ? মনে হয় না । যা রটে তা ত কিছু বটে :)
৮. ২৯ শে জুন, ২০০৮ রাত ১২:৫১
comment by: ফারহান দাউদ বলেছেন: ভাল হইসে।
৯. ০৭ ই জুলাই, ২০০৮ ভোর ৪:২৮
comment by: নিহন বলেছেন: জাক্কাচ লেগেছে ।
০৮ ই জুলাই, ২০০৮ বিকাল ৫:৫৫

লেখক বলেছেন: জাক্কাছ একখান ধন্যবাদ।

১০. ০৮ ই জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০০
comment by: যীশূ বলেছেন: আপনি তো জিনিয়াস!
০৮ ই জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০৪

লেখক বলেছেন: বাহ! আনন্দ অনুভব করছি। কিন্তু কথা হচ্ছে আমি বিভিন্ন যায়গা থেকে লেখাগুলো সংগ্রহ করেছি। তাহলে..

১১. ০৮ ই জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০৩
comment by: যীশূ বলেছেন: স্যরি, অন্য লেখার মন্তব্য এখানে করে ফেলাইছি। আপনারে ধন্যবাদ।
১২. ০৭ ই আগস্ট, ২০০৮ ভোর ৪:২১
comment by: সিকদার আলি আহসান বলেছেন: ......সে সেবাস্তিয়ানকে বলে যে প্রাচীন ইনকা সভ্যতার রাজা গোসল করতেন সোনা ভর্তি এক হ্রদে......

কিছু তথ্য সম্ভবত একটু এদিক ওদিক হয়ে গেল। যখন স্প্যনিশরা সেন্ট্রাল কলম্বিয়ার হাইল্যান্ড দখল করে ওই সময় এলাকাটা মুইসকা (Muisca Confederation) দ্বারা চালিত হত যার দু’জন রাজা – ‘Zipa’ - দক্ষিন অংশের (বর্তমান বোগোটা) আর ‘Zaque’- উত্তর অংশের (বর্তমান তুনজা) । ‘Zipa’ হল রাজার টাইটেল, নাম নয়। রাজার অবস্থান এত উপরে ছিল যে উচ্চ বংশের সবাই তার দিকে তাকিয়ে কথা বলত না। Muisca বলতে চিবচান গোষ্টীকে বোঝানো হত। এই জিপাকে দেবতাদের তুষ্ট করার কাজটা করতে হত এবং এই জন্য তিনি গায়ে সোনার ধুলা মেখে পবিত্র লেকের (কলম্বোর লেক গুয়াতাভিতা) মাঝখানে গোসল করতেন। মুইসকার (চিবচান গোষ্টী) এই ট্রাডিশ্যান-ই এলডোরাডো লিজেন্ডের উৎস। কোনো একসময় কলম্বিয়ায় চিবচান ভাষা ব্যবহৃত হত যা প্রায় বিলুপ্ত। এখনো বোগোটার আশেপাশে কিছু অঞ্চলে এই ভাষা ব্যবহৃত হয় এবং কোটা নামের একটি শহরে একটি পাবলিক স্কুলে প্রতিবছর ১৫০ জন ছাত্রকে এই ভাষা শেখানো হয়। এই লিজেন্ড ও চিবচা সম্রাজ্যের বিশদ বিবরন পাবেন রাফায়েল মার্টিন ও জোসে পুয়েনটেস লেখা বই Indigenous Cultures of Colombia বইতে। অবশ্য স্প্যানিসদের দখলের পর তারা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেছে এই লিজেন্ডের মুল উৎসকে বিলুপ্ত করতে।

ধন্যবাদ
১৩. ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ ভোর ৪:৫৯
comment by: স্বপ্নকথা বলেছেন: এলডোরাডো নিয়ে সুন্দর একটি এ্যনিমেটেড ছবি আছে।road to aldorado.ওটা দেখার পোর আমারো খুব ইচ্ছা হোয়েছিলো এলডোরাডো খুজে বের করার

 



 


সবসময়ই চাই মানুষের পজিটিভ সাইড গুলো উন্মোচন করতে। কারন আজকের সমাজে যে নিন্দিত, তারও ভাল গুন আছে। মানুষের কাজে কর্মে...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ১৮১৭২