১৯৯৩-৯৪-৯৫ আমার জীবনের সবচেয়ে ইভেন্টফুল বছর। বেশ মজার সময় ছিল সেটা। পিতৃদেবের চাকরীর সুবাদে কেবল চট্টগ্রাম থেকে মফস্বল শহর বগুড়াতে এসেছি। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষাটা দাঁতভাঙ্গা হওয়ায় রপ্ত করতে পারিনি। বলতে পারতাম না, তবে বুঝতে পারতাম। কারণ শব্দাবলীর বেশিরভাগ প্রচলিত বাংলাভাষার সাথে মিলে না। কিন্তু বগুড়ায় এসে বেশ মজা পেয়ে গেলাম। এখানকার মানুষের কথা বলার টোনটা ভাল লেগে গেল। আর প্রচলিত বাংলাভাষার সাথে মিল থাকায় ৫/৬ মাসের মধ্যেই বন্ধু-বান্ধবের পাল্লায় পড়ে আমার সাড়ে সর্বনাশ হয়ে গেল।নেটিভ টানে বগুড়ার ভাষায় কথা বলতে পারতাম।
কিছু মজার ব্যাপার পরে লক্ষ্য করেছি, যেমন বগুড়ায় মামা শব্দটি বেশ সম্মানজনক উপাধি। অন্যান্য জায়গায় যে অর্থে "দোস্ত" শব্দটি ব্যবহার করা হয়, একই সমার্থক হিসাবে "মামা" শব্দটি ব্যবহৃত হয় বগুড়ায়। "ক্যাংকা আছু মামা?" মানে "কেমন আছিস দোস্ত?" তেমনি ক্রিয়ার শেষে উ কার যোগ করাটা বগুড়ার মানুষের আভিজাত্য বলে মনে করি। যেমন- গেছু, খাছু, নিছু (গিয়েছিস, খেয়েছিস, নিয়েছিস)। ভালোই লাগত। এমনকি শিক্ষকরাও ক্লাসে আঞ্চলিক টানে কথা বলতেন। তাই বেশি সময় লাগেনি ভাষাটা রপ্ত করতে।
১৯৯৬ সালে যখন ঢাকায় আসি, তখন আমি পুরোদস্তুর বগুড়ার টানে কথা বলি। তাই নতুন স্কুলের সহপাঠীরা দারুণ মজা পেয়ে গেল। বেশ বিব্রতকর পরিস্হিতি। পরবর্তীতে প্রায় ৬ মাস লেগে গিয়েছিল ঢাকার আঞ্চলিক টানে অভ্যস্ত হতে। নানারকম শর্ট স্ল্যাংগুলো ভালই লাগত ও এখনও লাগে-
জম্পেশ
ছিল্লা লবন লাগায় দিমু
জোস
ঝাক্কাস
ঝাকানাকা
কঠিন
জটিল
খাইছি তোরে
কু কু
আবার জিগায় (এটা আজকাল হয়ে গেছে আবার জিগস)
বাপের গায়ে জ্বর (এটা সেদিন এক নাটকে শুনলাম)
আরও অনেক কিছু। চ-বর্গীয় শব্দগুলোর তো ভান্ডার এত সমৃদ্ধ যে লিখতে গেলে ডিকশনারি লেখা হয়ে যাবে। স্কুলে পড়ার সময় শিক্ষকদের চ-বর্গীয় গালি দেওয়ার জন্য পোলাপান কতরকম টার্ম যে বের করেছিল, তার কোন সীমারেখা নেই। ক্লাসের মধ্যে পিছন এসব নামে ডাকা হতো স্যারদের। উনারা বুঝতে পারতেন না। কিন্তু ক্লাসের বাকিদের মাঝে হাসির রোল পড়ে যেত।
বহুরকম স্ল্যাং। সব মনে রাখা সম্ভব না। তাছাড়া কালক্রমে অনেকগুলো ব্যাকডেটেড হয়ে গেছে, তেমন ব্যবহার করা হয় না আজকাল। হয়ত বাজারে নতুন সংলাপও এসেছে। কিন্তু দেশের বাইরে থাকায় শুনতে পারি না বা ব্যবহার করি না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

