বাংলার দশমিক আর ইংরেজির পয়েন্ট কিন্তু এক জিনিষ না। কথাটা সত্যি ন মিথ্যা তা আমি জানি না। কিন্তু একজন আমাকে কথাটা বলল। কথাটা কি আসলেই সত্যি। আমার না বিশ্বাস করতে ইছা করছে।
আজ অনেক দিন পর ভার্সিটিতে গেলাম। প্লান করলাম আজ রাত বাহিরে কাটাবো। প্রথম এ যাব টঙ্গি। ওখান থেকে কাজ শেষ করে হাটতে হাটতে উত্তরাতে আসব ওখানে চটের বস্তা নিয়ে রাত পার করে দেব। এহেন কথা শুনে হাসবেন না। আমরা পাগল কিসিম এর মানুষ। এক বার কি মনে হল নববর্ষের দিন ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে হেটেই নর্থ সউথ এ গেছি। যাই হোক সব প্লান মাঠে মারা দিতে হল যখন আমাদের পথচলার সঙ্গী হল সামি। আসলে ছাগলা সামি। ছেলেটার সাথে আমার পরিচয়ই আজ এ প্রথম। কিন্তু বিশ্বাস করুন ওর মত এত মিশুক ছেলে আমি আগে দেখিনি। বিশ্ব রোড এসে একবার মনে হল আজ আর মনে হয় যাওয়া হল না। বাস এ যে ভীর। কিন্তু রাহে আল্লাহ মারে কে। কোন মতে একটা বাস এ উঠে পড়লাম। বাস এ ভীর এ অসহ্য লাগছিলো বলে আমি বাস এ ভাড়া দেই নাই। আনামরে বুদ্ধি শিখাইয়া দেওয়াই ও ১৬ টাকার ভাড়া দিল ১০ টাকাই। আমি ক্লাস এর লাস্ট ব্রেঞ্ছ এর আগের ব্রেঞ্ছ এর স্টুডেন্ট হলে ও চোরামী বুদ্ধিতে কেও আমাকে পিছন এ ফেলাতে পারবে না। যাই হোক আসলাম টঙ্গি তে। পথের কাহিনী গুলো বাদ দিলাম। বিরক্ত করতে চাই না। টঙ্গি তে নেমে ছাগলা নিজ বাল্যকাল এ ফিরে গেল। ও নাকি আগে এখানেই থাকত। ওর বাবা রেল এ চাকরি করেন। যাই হোক গল্পে গল্পে বের হইয়ে এল জনখাবার হোটেল এর কথা যেখানে আমার সামি ভাই মিষ্টির প্যাকেট চুরি করসিল। কিন্তু মিষ্টির প্যাকেট ছিল খালি। আমরা আবার ওখানে গেলাম। ১১০ টাকার মিষ্টি খেলাম। সত্যি বলতে আমার আর খেতে ইছা করসিল। ক্ষুধা লাগসিল ও সে রকম। যাই হোক দশ তলা গার্মেন্টস দেখে আসলাম। কিন্তু একটা বিষয় আমার মনক্ষু্ন হল নামে দশ তলা হলে ও গার্মেন্টসটা ৯ তলা। বিশ্বাস করেন আমি ৩ বার গুনে দেখসি।ওখান থেকে বের হইয়ে স্টেশন রোড এ আসলাম। একটা কথ বলাই হই নাই এতখন এ আমি ৫ টা গোল্ডলিফ খাওয়া শেষ করসি। কি করব কি করব ভাবতে ভাবতে সামির মাথা থেকে মজার একটা বুদ্ধি বের হল। প্লান করলাম বাসা যাব ট্রেন এ করে।নামব এয়ারপোর্টে। ছাগল মার্কা বুদ্ধি। তারপর ও রাজি হইয়ে গেলাম। আমি চিগারেত খাচ্ছি। নন স্মোকার দের সাথে ঘুরতে মাঝে মাঝে মজা পাই না। কিন্তু তারপর ও এখান কার কথা আলাদা। আমার ভাই আনাম সাথে। ও যদি কয় আজ বগুড়াই যেতে হবে হেটে তাও আমি রাজি আছি। কারন মজা হওঁই অনেক। রাত ১০ টা। ট্রেন একটা দাঁড়াইয়া আছে। ইঙ্গিন নাকি নষ্ট ওইটার। পরের একটা ট্রেন গেল ভীর এর কারনে উঠি নাই। পরের ট্রেন এসে থামল । অইতা ছারবে ১ ঘণ্টা পর। পরে কিছুক্ষণ পরেই একটা ট্রেন আসলো আনাম আর সামি দৌড় দিয়া ফাকা বগি দেখে ট্রেন এ উঠল। আমি নিচে নির্বিকার ভাবে দাঁড়াইয়া আচ্ছি আর বিড়ি ফুক্তেসি। সামি প্রথম এ উঠল। হঠাৎ নেমে বল লাশ। আনাম না শুইনাই উঠল। বাবা এর অবস্থা আর ও ভয়ানক। এই বেটার নাকে গন্ধ লাগল। উলটা বস্থা থেকে মানুসস এর হাত পা বাহির হওয়া দেখল। ২ জন এরই মাথা ঘুরতে শুরু করল। সামিই ত ভয় এর চোট এ বিড়ি তে ও ২ টান দিয়া দিল। পরে ‘ঠ’ নাম্বার বগিতে করে এয়ারপোর্ট আসলাম। ওখানে সামি আমারে বেন্সন খাওয়ালো। পরে বাস এ করে বসুন্ধারা তে বাসায় চলে আসলাম। আমি ওদের বলিনি। কিন্তু আমাদের তিন জন এর এই ছন্নছাড়া গ্রুপ এর নাম দিসি দশমিক। আর এই হল আমাদের দশমিক এর পথচলা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



