একটা ছোট বাচ্চা তার বাবার সাথে দোকানে গেছে টিভি কেনার জন্য। টিভির শোরুম এ অনেক রকম টিভি সাজানো আছে। ভদ্রলোক ঠিক যাচাই করতে পারছেন না কোন টিভিটা কিনবেন।কিন্তু হঠাৎ তার ছোট বাচ্চাটা তার শার্ট ধরে টানতে শুরু করল। কারন অনুসন্ধানে লোকটি বাচ্চার পিছু পিছু গিয়ে দেখলেন বাচ্চা তাকে বলছে বাবা এই টিভিটা কেন, এটাতে ডোরেমন দেখা যায়।
ভদ্রলোকটি শেষ পর্যন্ত ওই টিভিটাই কিনেছিলেন কিনা তা ঠিক জানা যাইনি। কিন্তু এটা নিতান্তই একটা কৌতুক। কিন্তু কৌতুক এর কথা গুলো কিন্তু আমাদের সমসাময়িক ঘটনাবলি কে কেন্দ্র করেই। বাংলাদেশ এর অধিকাংশ শহর গুলোতেই দেখা যাই ৫-১০ বছর এর অধিকাংশ বাচ্চারা ডোরেমন নামক জ্বরে আক্রান্ত। কি এই ডোরেমন? এই প্রশ্নটি আপনি যে কোন বাচ্চার কাছেই করেন না কেন উত্তর সব বাচ্চা একটাই দেবে -ডোরেমন হল সেই কার্টুন চরিত্র যা ডিজনি নামক চ্যানেল এ আসে এবং সবার মন জয় করে নিয়েছে।কিন্তু কি এই ডোরেমন? এই প্রশ্ন আপনি এই সব বাচ্চার বাবা মায়ের কাছে করেন খুব কমন একটা উত্তর পাবেন- যতসব আজগুবি পেট মোটা একটা জিনিষ।
আমি আমার লেখাই আপনাদের বলতে চাই না “আঙ্কেল ওই টিভিটা কিনুন ওটাতে ডোরেমন দেখা যাই”।আমী আপনাদের সামনে কিছু প্রশ্ন নিয়ে আস্তে চাই
১। বলেনত আপনাদের মধ্যে কজন আপনার বাচ্চা কে মাঠে খেলতে পাঠিয়েছেন?
২। কত জন বাবা মা আমার এ লেখা পরছেন যারা নিজ বাচ্চা কে “Humpty-Dumpty” না পড়িয়ে “ওই দেখা যায় তাল গাছ” এই ছড়া পড়িয়ে শুনিয়েছেন?
আমার উপর এর ২ টা প্রশ্নের উত্তর নিজেকে দেয়ার চেষ্টা করুন তার পর বিদেশি সংস্কৃতির আগ্রাসন থামাতে আসুন।
আমার দেশের এখন অধিকাংশ বাচ্চা “শিরিন-ফরহাদ” এর নাম জানার আগে “রোমিও-জুলিয়েট” এর নাম জানে। আমার কিছু পরিচিত কিছু বন্ধু আছে যারা নিজেদের নাম বাংলাই লেখতেও তাদের ৫ মিনিট সময় লাগে। কিন্তু তারাই আবার নিজেদের গেঞ্জিতে “চে গুয়েভারা”-র প্রতিকৃতি আকিয়ে বিপ্লব এর কথা বলে। তাদের বিপ্লব পশ্চিমা সংস্কৃতির বিরুদ্ধে। কে জানে হয়ত বুদ্ধিজীবিরা এর সমাধান বের করতে পাড়বে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


