বিদেশি অহেতুক সাহায্যের প্রকল্প বাতিল করে দিলে পরিবেশ সচিব, বিদু্যৎ সচিব ওএসডি হয়ে যান, এটা দেশের নির্ভরশীল অর্থনৈতিক অবস্থার কারণেই ঘটতে পারে বলে মেনে নিয়েছি। দেশের উন্নয়ন বাজেট বিদেশি প্রকল্পের বিদেশি পরামর্শকরাই তৈরি করেন এটা জানার পর আঁতকে উঠলেও সে আতংকের পারদ নামতে সময় নেয়নি। কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের মাঝে ভিনদেশি কূটনীতিকরা ঘুঁটি চেলে সরকার সাজাবে, এটা বোধের গভীরে গিয়ে আঘাত করে। নিজেকে, নিজের দেশ ও জাতিকে বড় বেশি অথর্ব করে তোলে নিজের কাছে। আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গন ও ক্ষমতা নিয়ে রাজনীতিকরা সরব সংঘর্ষ করছেন এই দ্বন্দ্বকে আমি অগ্রগতির স্বাভাবিক স্তর মনে করি। কিন্তু ঘুঁটিবাজির সরকার যতই সোনার ডিমের আশ্বাস দেক, আত্মসম্মানবোধটুকুকে চৌচির করে দেয়।
নেপালের রাজা জ্ঞানেন্দ্র ষড়যন্ত্র করে পুরো পরিবার নিশ্চিহ্ন করে দেয়। আমি ভাবি, বাংলাদেশ অতো বর্বর নয়। বিন লাদেন সৌদি থেকে উড়ে এসে আফগানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। আমি ভাবি বাংলাদেশ অতো সহজ ভূমি নয়। মাহাথির ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নের সূচক দেখিয়ে সহকর্মী আনোয়ারকে জেলে পুরে ফেলে। আমি ভাবি বাংলাদেশ অতো বোকাদের দেশ নয়। উর্দি চাপিয়েই পারভেজ মোশাররফ একটি দেশের সিইও হয়ে যায়। আমি ভাবি, গন্ডমুর্খরা আরো কতো সার্কাস দেখাবে। অথচ 2006 সালে বাংলাদেশের ক্ষমতায় দেখতে হলো এমন এক সরকার যাদেরকে সরকার না বলে ব্রোকার বলাই ভালো।
সাম্রাজ্যবাদের পুরাতন রূপে হয়তো চলছে না পুঁজিবাদের। যুক্তরাষ্ট্র সরকার হয়তো শিক্ষা নিচ্ছে প্রাইভেট সেক্টর থেকে। মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানি থেকে। সে কারণেই হয়তো তারা এখন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সরকার বানাচ্ছে বিজনেস এন্টারপ্রাইজের আদলে। কর্পোরেট কালচারের যুগ এখন। বিশ্বব্যবস্থায়ও বোধ হয় ঢুকে গেল কর্পোরেট সিস্টেম। দেশগুলো এখন বাণিজ্য-প্রতিষ্ঠান। দেশগুলো চালাচ্ছে এখন কর্পোরেট হেড অফিসের ঠিক করে দেয়া ম্যানেজমেন্ট বোর্ড। সরকার প্রধানরা এখন থেকে চিহ্নিত হবে চিফ এঙ্িিকউটিভ বা টপ বস হিসেবে।
ঘাস খোঁজা ভেড়ার পাল অনেকেরই হয়তো এতে কিছু যায় আসে না। এসব সার্কাসে তারা ঘাস থেকে মুখই তোলে না। আমি কিন্তু নিজের কাছে নিজে আরো ছোট হয়ে যাই।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


