ঈশ্বর গাধাকে সৃষ্টি করে বললেন, তোমাকে ৪০ বছর আয়ু দেয়া হলো। এতে কি তোমার দ্বিমত আছে?
গাধা উদ্বিগ্ন হয়ে বলল, হে ঈশ্বর, আমাকে তো সৃষ্টি করা হয়েছে, শুধুমাত্র পরিশ্রম করার জন্য। আমার জীবনে না আছে প্রশান্তি, আর না আছে সুখ। এত বছর বেঁচে থেকে আমার লাভ কি? তার চেয়ে আমাকে ২০ বছর আয়ু দেয়া হোক।
ঈশ্বর তার কথাই রাখলেন।
এরপর কুকুরকে সৃষ্টি করে বলা হলো, তোমাকে ৩০ বছর আয়ু প্রদান করা হলো। তোমার মতামত কি?
কুকুর বলল, হে মহান ঈশ্বর, আমার কাজ তো সারা দিন প্রভুর সেবা করা। আর প্রভু খেয়ে দেয়ে যেটুকু রাখবে তা চেটেপুটে খাওয়া। আমার এ জীবনের মূল্য কতটুকু? তার চেয়ে আপনি আমাকে ১৫ বছর আয়ু দিন। যাতে তাড়াতাড়ি মরতে পারি।
ঈশ্বর তার কথা শুনলেন।
এরপর বানরকে সৃষ্টি করে বললেন, তুমি সারাদিন গাছের এ ডাল থেকে ও ডাল লাফালাফি করে অন্য প্রাণীকে আনন্দ দিবে। তোমার জন্য আয়ু নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ বছর। তোমার কিছু বলার আছে?
বানর বলল, হে ঈশ্বর, আমাকে যদি সারাটা জীবন এভাবে লাফালাফি করেই অন্যদের আনন্দ দেয়ার মাধ্যমে জীবন কাটাতে হয়, তাহলে এত বছর বেঁচে থেকে লাভ কি? তার চেয়ে আমার আয়ু ১০ বছর করে দিন?
ঈশ্বর তাই করলেন।
এবার মানুষকে সৃষ্টি করার পর বললেন, পৃথিবীর সব সুখ তোমাকে দেয়া হলো এবং সব প্রাণীকে তোমার অধীন করে দেয়া হলো, যাতে তুমি মাথা উঁচু করে চলতে পার। তোমার আয়ু ২০ বছর। তোমার মতামত কি?
মানুষ বলল, হে মহান ঈশ্বর, আমাকে যদি এত সুখই দেয়া হবে, আর সবাইকে আমার অধীন করেই দেয়া হবে, তাহলে এত কম সময় নিয়ে পৃথিবীতে এসে লাভ কি? তার চেয়ে ঐ যে গাধা, কুকুর আর বানরের যে আয়ু আপনি কমে দিয়েছেন তাদের সেই আয়ু আমাকে দিয়ে দিন।
ঈশ্বর মানুষের কথা রাখলেন।
এরপর মানুষ পৃথিবীবে বসবাস করতে লাগল। আয়ু পেল ২০+২০+১৫+১০=৬৫। যার প্রথম ২০ বছর সে মাথা উঁচু করে সুখে-শান্তিতে বসবাস করল। এরপর ২০ বছর সংসারে গাধার মতো শুধু পরিশ্রমই করে গেল, ফলাফল শূন্য। এরপর ১৫ বছর ছেলে-মেয়েদের বাড়িতে বাড়িতে ঘুরে সময় কাটল। আর ১০ বছর তার কাটল নাতি-নাতনিদের বিভিন্নভাবে আনন্দ দানের মাধ্যমে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



