যারা মাস্তানী আর চাদাবাজি করে পেট চালান তাদেরকে বলছি। এখনো সময় আছে এই সব বন্ধ করুন। মানুষ ক্ষেপে গেলে কিন্তু খবর আছে!
নীচের খবরটি দেখুন। এটি ১৯ জুলাইয়ের দৈনিক আমাদের সময়ে প্রকাশিত হয়েছে। আমি জনতাকে অভিনন্দন জানাই যারা এই সাহসী কাজটি করেছেন। সারাদেশের সবাই যদি সাহসী হয় তাহলে দেশ থেকে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতী, রাহাজানি আর থাকবে না। তাই আসুন, সবাই সাহসী হই! ---------------------------------
গাজীপুরে গণপিটুনিতে ৬ ডাকাত নিহত
অনিল মন্ডল, গাজীপুর থেকে: গাজীপুরে গতকাল রোববার ভোরে ডাকাতি করে পালিয়ে যাওয়ার সময় গণপিটুনিতে ৬ ডাকাত নিহত ও অপর ৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন ঘটনাস্থলে এবং বাকি ৪ জন গাজীপুর সদর হাসপাতালে মারা যান।
নিহত দুজন হলেনÑ গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাঘমারা গ্রামের আব্দুল্লার ছেলে শুক্কুর আলী ও একই উপজেলার কাওরাইদ গ্রামের চাঁন মিয়ার ছেলে কামাল হোসেন। গুরুতর আহতরা হলেনÑ ব্রাক্ষণবাড়ীয়ার কটিচৌমুহনী গ্রামের আলী আকবরের ছেলে আব্দুল্লাহ, মানিকগঞ্জের দাইচপাড়া গ্রামের আনছার আলীর ছেলে আসলাম, নোয়াখালীর ধর্মপুর গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে নুরউদ্দিন, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বড়ইবাড়ি গ্রামের ইউনুস আলী খানের ছেলে লুৎফর রহমান খান, শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ গ্রামের সোলেমান শেখের ছেলে রফিক এবং শেরপুরের বাসন্তি গ্রামের নায়েব আলীর ছেলে সুজন। গুরুতর আহত ডাকাতদের পুলিশ পাহারায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাত দুইটার দিকে প্রায় ২০ জনের সশস্ত্র ডাকাতদল কালিয়াকৈর উপজেলার গাছবাড়ি গ্রামের মোটরসাইকেল ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে হানা দেয়। ডাকাতরা বাড়ির কলাপসিবল গেইট ও দরজা ভেঙে প্রবেশ করে এবং বাড়ির লোকদের মারপিট ও হাত-মুখ বেঁধে মাটিতে ফেলে রেখে লুট করে ১৮ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ২৫ হাজার টাকা। এরপর তারা একই গ্রামের মাছের খাদ্য বিক্রেতা আজমত আলীর বাড়িতে হানা দেয়। সেখানে একই কায়দায় ঘরে প্রবেশ করে নগদ সাড়ে ৫ লাখ টাকা ও আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে। এরপর ডাকাতরা প্রভাতী-বনশ্রী পরিবহনের একটি বাসে (ঢাকা-জ-১৪-০৩৮৪) ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মৌচাকের দিকে পালিয়ে যেতে থাকে।
এদিকে মোবাইল ফোনে ডাকাতির ঘটনা এলাকাবাসী কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমির হোসেনকে জানালে পুলিশ ফুলবাড়িয়া-মৌচাক সড়কে ফটিক মার্কেটে, ভান্নারা রেলক্রসিংয়ে এবং মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির সামনে ব্যারিকেড দেয়। ভান্নারা রেলক্রসিংয়ের ব্যারিকেড ভেঙে ডাকাতরা মৌচাকের দিকে এগিয়ে গিয়ে মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির সামনে আটকা পড়ে। সেখানে ডাকাতরা বাস থেকে নেমে দৌড়ে পালিয়ে যায়। ভোর ৪টায় পলায়নরত ডাকাতরা প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার দক্ষিণে গাজীপুর সদর উপজেলার কাশিমপুরের পশ্চিম এনায়েতপুর এলাকার একটি জঙ্গলে আশ্রয় নেয়। এ সময় ওই এলাকায় গরু চুরি রোধে পাহারারত লোকজন সন্দেহজনকভাবে এক ডাকাতকে আটক করে। অন্যরা জঙ্গল থেকে বের হয়ে আটককৃত ডাকাতকে উদ্ধার করতে এলে পাহারাদারদের ডাক-চিৎকারে গ্রামবাসী চারদিক থেকে ডাকাত দলকে ঘিরে ফেলে। এ সময় ডাকাতরা অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করার হুমকি দেয়। কৌশলে গ্রামবাসী অস্ত্রসহ ১২ ডাকাতকে আটক করে এবং অন্য ডাকাতরা পালিয়ে যায়।
পুলিশ ডাকাতদের ব্যবহৃত বাসটি আটক এবং তাদের কাছ থেকে একটি ওয়ান শুটার গান, লুণ্ঠিত কিছু স্বর্ণালংকার, নগদ ২০ হাজার ৫শ টাকা এবং ৬শ ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়া, ৭ মালয়েশিয়ান রিংগিট উদ্ধার করে। গতকাল রোববার দুপুরে গাজীপুরের পুলিশ সুপার এসএম মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান তার কার্যালয়ে এক প্রেসব্রিফিংয়ে ডাকাতির ঘটনা বর্ণনা করেন। এ ঘটনায় জয়দেবপুর ও কালিয়াকৈর থানায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



