somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়ে না র্কমচারী কল্যাণ র্বোডে

২১ শে জুন, ২০১১ সকাল ১১:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আফছার আহমদ রূপক: রোববার দুপুরে বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের ১১ তলার প্রধান কার্যালয়ের যৌথবীমা শাখার দরজায় পা রাখতেই এ প্রতিবেদকের দিকে এগিয়ে আসেন একজন কর্মচারী। মুখভর্তি দাড়ি-গোঁফ । মাথায় লম্বা চুল। বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি। প্রশ্ন করলেন, ‘কী চাই?’ পরিচয় গোপন রেখে প্রতিবেদক জানতে চান ময়মনসিংহের সরকারি কর্মচারীদের যৌথবীমার টাকার আবেদনপত্র এখানে জমা নেয়া হয় কিনা। প্রশ্নের জবাব না দিয়ে প্রতিবেদককে হাত ধরে টেনে একটু আড়ালে নিয়ে যান ওই কর্মচারী। বলেন, ১১ তলায় কেবল ঢাকা শহরের সরকারি কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিল ও যৌথবীমার টাকার আবেদন জমা নেয়া হয়। ময়মনসিংহসহ ঢাকা বিভাগের সরকারি কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিল ও যৌথবীমার কাজ হয় তিনতলায় । তবে ঢাকা সিটি করপোরেশনের কমিশনারের কাছ থেকে ঢাকার বাসিন্দা হিসেবে প্রত্যয়নপত্র আনা হলে এখানেই কাজ হবে। ঘুষ দিতে হবে তিন হাজার টাকা। সময় লাগবে দুই মাস।

এত টাকা ঘুষ লাগবে কেন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখানে তো তিন হাজার, তিনতলায় ঘুষ দশ হাজার, সময় লাগবে দেড় বছর। আমি একা ঘুষ নিই না। টেবিলে-টেবিলে দিতে হয়। ঠিক এসময়ই কক্ষে ঢুকছিলেন একজন পর্দানশীন নারী কর্মচারী। তাকে দেখিয়ে এ প্রতিবেদক প্রশ্ন করেন, উনিও কি ঘুষ নেন? জবাব আসে, নেন না মানে, হজ করে এসেছেন; কিন্তু ভাগের বেলায় ‘আমারটা কই’ বলতে দেরি হয় না? একথা বলেই পকেট থেকে একটি ছোট নোটবই বের করেন ওই কর্মচারী। বলেন, এই দেখেন কে কত ঘুষ দিয়েছে এবং বকেয়া কতÑ সব লেখা আছে। আপনাদের ময়মনসিংহের মোহাম্মদ আলী নামের এক যুবকের নামও আছে এখানে। চুক্তি হয়েছে দশ হাজার টাকার; কিন্তু পরিশোধ করেছে পাঁচ হাজার। যুবকের মৃত বাবার যৌথবীমার কাজটি তিনতলার ঢাকা বিভাগীয় অফিস থেকে করাচ্ছি। ওই বেটারা রেট একটু বেশিই চায়। ঘুষ ও জ্বেনা সমান অপরাধ জেনেও এ কাজ করি।

আপনার নাম, পদবি ও মুঠোফোন নম্বরটি দয়া করে বলবেন? প্রথমে নাম ও মুঠোফোন নম্বর দিলেও পদবি দিতে বিব্রতবোধ করছিলেন ওই কর্মচারী। পরে পিয়ন হিসেবে পরিচয় দিলেন।

কেবল ওই পিয়নই নন, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডে ঘুষ ছাড়া ফাইল ছাড়েন না প্রায় বেশিরভাগ কর্মকর্তা ও কর্মচারী। ফলে জীবত কর্মচারী ও মৃত কর্মচারীদের স্বজনরা চরম ভোগান্তি পোয়াচ্ছেন। বেশিরভাগই ধার-কর্জ করে ঘুষের টাকা সংগ্রহ করেন। মৃত ব্যক্তির পরিবারকেই ধার করতে বেশি দেখা যায়।

ঢাকার আশপাশে চাকরি করতেন, এমন একজন মরহুম সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রী জানান, দুইমাস আগে তিনতলার ঢাকা বিভাগীয় অফিসে তার স্বামীর কল্যাণ তহবিল ও যৌথবীমার টাকার জন্য আবেদন করেছিলেন। এখনো কাজ শেষ হয়নি। সেখান থেকে ফোন করে বলা হচ্ছে, ‘আপনি আসেন না, কিছু দেনও না। এভাবে কি কাজ হয়?’ ঘুষের টাকা জোগাড় না হওয়ায় কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডে যেতে পারছেন না বলে জানান তিনি।

ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন জানতে চাইলে বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মো. আলী মোস্তাফা চৌধুরী বলেন, কে ঘুষ নিচ্ছে নির্দিষ্ট করে বলুন, অবশ্যই অ্যাকশন নেব। তিনি বলেন, ‘সবার জন্য আমার দরজা সবসময় খোলা। আমার কক্ষে ঢুকতে অনুমতি নিতে হয় না। যে কেউ যে কোনো সময় ঢুকতে পারে।’

তিনি জানান, শুধু ঘুষ নেয়া নয়, ঘুষ দেয়াও মানুষের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। একজন মৃত পিয়নের স্ত্রী তাকেও নাকি ৫০ টাকা ঘুষ দিতে চেয়েছিলেন। পরে ওই নারীকে বুঝিয়ে-শুনিয়ে চা খাইয়ে বিদায় করেছিলেন তিনি।


সূ্ত্রঃ এখানে পড়ুন।




০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×