somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এই লেখাটা অনিক'র জন্য!

৩০ শে জুলাই, ২০১১ রাত ১:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





অনিক। অনিক এলাহী। আমার বন্ধু। খুব কাছের না, কিন্তু খুব প্রিয় একজন বন্ধু। যে বন্ধুটি আজ আর আমাদের মাঝে নেই। গত বছর ঠিক এই দিনে সে আমাদের ফেলে চলে গিয়েছে ওই ওপারে আরেকটা জগৎ আছে সেখানে!

অনিক ছিল দারুণ সদালাপী একজন মানুষ। আমি বরাবরই উল্টোটা। সহজে কারো সাথে মিশতে পারতাম না। আমি আর অনিক অবশ্য একই স্কুলে পড়তাম না। আলাদা স্কুলে পড়লেও প্রাইভেটে দেখা হত আমাদের। প্রাইভেট শেষ করে ওদের বাসার সামনের ছোট্ট মাঠটায় ক্রিকেট খেলা হত ( যাতে প্রায়ই আমার দায়ীত্ব থাকত আম্পায়ারের। ক্রিকেট খেলাটা বেশি এনজয় করতাম না।) ওভাবেই আমাদের পরিচয়। ওর সাথে দারুণ সখ্যতা গড়ে উঠেছিল। এমন সাবলীল একটা ভঙ্গি ছিল ওর ভেতর, আকৃষ্ট না হয়ে উপায় ছিল না। নানান বিষয়ে কথা হত ওর সাথে। একদিন ও কথায় কথায় জানল আমি বাংলা ব্যান্ডের গান শুনি না। শুনিনা বলতে আসলে মেইন্সট্রিম ব্যান্ড গুলোর বাজারী গান শুনতে শুনতে আমি খুবই বিরক্ত! তখন পড়ি ক্লাস এইটে। ওর অবস্থা তখন দেখে কে! "তুই কি মানুষ!" ও যেন আকাশ থেকে পড়ল। আমি বাইরের ব্যান্ডের গান শুনি, অথচ দেশে এত দারুণ দারুণ আন্ডারগ্রাউন্ড ব্যান্ড থাকতেও আমি তাদের গান কেন শুনিনা এইটাই ওর প্রধান চিন্তা হয়ে গেল! অবশেষে যে আমার ভেতর একটা আন্ডারগ্রাউন্ড ব্যান্ড কে ইনজেক্ট করে দিতে সক্ষম হল, যে ব্যান্ডটাকে আমরা ব্ল্যাক বলে জানি।

ব্ল্যাকের গানের অদ্ভুত একটা প্রভাব আছে আমার জীবনে, এটা আমি কখনোই অস্বীকার করতে পারব না। ব্ল্যাকের সাথে আমার পরিচয় পুরোটাই অনিকের হাত ধরে। এর আগে আন্ডারগ্রাউন্ড সম্পর্কে তেমন একটা ভাল ধারণা ছিল না। কিন্তু অনিক যখন দরজাটা খুলে ধরল, সবকিছু অনেক সহজ মনে হয়েছিল।

এস, এস, সি'র পর অনিকেরা সপরিবারে ঢাকা চলে যায়। ওখানে গিয়ে ভর্তি হয় বি এ এফ শাহীনে। আস্তে আস্তে আমাদের যোগাযোগ কমে যায়। মাঝে কোন যোগাযোগই ছিল না। এরপর হঠাৎ করেই ওকে ফেসবুকে খুজে পেলাম। অনেক দিন পর চ্যাটে অনেক কথা হল। মোবাইল নাম্বার নিলাম। অনেক দিন পর ওকে খুজে পেয়ে ভাল লাগছিল।

অনিক অনলাইন সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত ছিল। চিটাগং নিউজ ডট অর্গ নামে একটা প্রতিষ্ঠানে যুক্তও ছিল। আর পড়ালেখা করছিল ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি তে। কবিতা লিখত অনিক। ওর লেখা পড়ে আমি মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। দারুণ একটা শক্তি ছিল ওর লেখনীতে। আর পড়ালেখার পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডেও ওর সাবলীল অংশগ্রহন ছিল চোখে পড়ার মত।

কিন্তু সৃষ্টিকর্তার মনে বোধহয় অন্য কিছুই ছিল! তিনি বোধহয় চেয়েছিলেন এই পঙ্কিলতায় ভরা পৃথিবীতে অনিক কে রাখবেন না! তাই অনিক কে তিনি নিয়ে নিলেন নিজের কাছে!

২৯ জুলাই, ২০১০। অনিক ও তার এক বন্ধু টঙ্গী গিয়েছিল অন্য এক বন্ধুর সাথে দেখা করতে। রিকশায় যাচ্ছিল তারা। একটা বেপরোয়া বাস এসে ছোট্ট রিকশাটায় ধাক্কা দেয়। অনিক ও তার বন্ধুটি ছিকটে পড়ে। রাস্তায় বিভৎস ভাবে থেতলে যায় অনিকের মাথা। ঘটনাস্থলেই মারা যায় সে। অন্য বন্ধুটির সামান্য কাটাছেড়া ছাড়া আর কিছু হয়নি।

এর কিছুদিন আগেই অনিক রাজশাহী এসেছিল। বন্ধুদের সাথে দেখা করতে। আমার তখন পরীক্ষা চলছিল। আমি রাজশাহী যেতে পারিনি। ওর সাথে তাই দেখাও হয়নি। ২৮ তারিখেই ওর সাথে চ্যাটে কথা হয়েছিল, অথচ ২৯ তারিখে এসে সব কিছুই একটা বিশাল প্রহসন হয়ে গেল!

ভাবছিলাম ওর শেষকৃত্যে যাব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যাইনি। ওর বুদ্ধিদিপ্ত উজ্জ্বল চোখ আর হাস্যোজ্জ্বল মুখের চেহারাটাই থাকুক আমার কাছে।

"জানি হারিয়ে যাবো...জানি হারাতেই হবে...তবুও মুখ লুকাই শুভ্র মেঘে...মেঘ,আমায় উড়িয়ে নিয়ে যাও...আমি তো হারাতে চাইনা...কখনই চাইনি...আমায় লুকিয়ে রাখো তোমার শুভ্রতায়...কালো মেঘে আমার অনেক ভয়...আমার দু'চোখ বড় ক্লান্ত...আর ঝড় নয়...আর নয় দু'চোখে মুষলধারে বৃষ্টি..."

ওর কথাগুলোর মতই ও হারিয়ে গেছে আমাদের ছেড়ে। বহুদুরে। কিন্তু যখনই এটা মনে পড়ে তখনই মনে হয় আমরাই ওকে কেড়ে নিয়েছি! ওর মার বুক খালি করেছি! ওই বেপরোয়া বাসটার ড্রাইভার তো আমিও হতে পারতাম!

প্রতিভাবান মানুষরা নাকি বেশিদিন বাঁচে না! কথাটা কি খুব সত্যি???

অনিক, অনেক ভাল আছিস জানি দোস্ত! আরো অনেক ভাল থাক। অনেক ভাল। অনেক অনেক ভাল...



আপনারা সবাই অনিকের জন্য দোয়া করবেন। আর প্রার্থনা করবেন যেন আর কাউকে এরকম অসময়ে চলে যেতে না হয়!
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুন, ২০১৩ দুপুর ১:৪৮
২৩টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×