
স্বগোতক্তি...
অন্ধ কুকুরের ডাকে অভেদ্য কুয়াশার চাদরও কেঁপে ওঠে, ইতস্তত হাসে কাল্পনিক ইউক্যালিপটাসের গায়ে জড়িয়ে থাকা ২৯ তম শিশিরকণা। আর আমরা হাটতে থাকি এইসব শ্যাওলা ধরা বৃদ্ধ রাতের শরীর জুড়ে। অপসারী মেঘের কুমারীত্ব হরণ করে নির্বিবাদী শঙ্খশাদা জোছনা। রাতের ওপারেই থাকে দৃষ্টি পুড়িয়ে দেয়া শাদা রোদ আর বিভ্রান্ত ছায়ার দল। তখন নগর কোকিলবেশী উন্মাদ জাদুকরের নির্দেশে উড়ে আসে এক একটা আর্কিওপটেরিক্স। গ্যালারীর কোন সুবিখ্যাত পুরাকীর্তি ভেবে অবুঝ অভিবাসীরা ওদের দেখে মুগ্ধ হয়! ওরা জানে না, অ্যাটলাস আর বেশীক্ষণ আকাশ ধরে রাখতে পারবে না! একটু পরেই দপ করে নিভে যাবে সব আলো। তখন আবার আমরা বেরোব। হাটবো শ্যাওলা ধরা বৃদ্ধ রাতের শরীরে। অনন্তকাল ধরে হাটতেই থাকবো। আর কখনো শাদা রোদ হাসবে না।
তার কিছু আগেই জাদুকরের গোপণ কুঠুরিতে...
পৌরাণিক পাপপূজারী অবোধ কাপালিকের মত রোদের সাথে আমার নেই কোন শত্রুতা। তবুও মাঝে মাঝে নীল-সাদা আকাশের ক্যানভাসটাকে সবুজে ভরিয়ে দিতে কার না ইচ্ছে করে? বিশেষত যদি কারো থাকে মেঘ শুষে নেবার চোষ কাগজ বিশেষ! আকাশের এখানে ওখানে কালো রঙ্গে কতগুলো আগুণ-ফুলকি এঁকে দিলে মন্দ হয়না! বস্তুত কালো রঙটা সবখানেই মানিয়ে যায় যায়। আমার ক্লোরোফিলের প্যালেট টা কোথায়? জোছনার তুলিগুলোও কোথায় যেন হারিয়ে ফেলেছি! বুকপকেটে জমিয়ে রাখা আবির গুলো চুপিচুপি ফেলে দিয়ে আসতে হবে। রোদ্দুর লুকিয়ে রাখতে অনেকখানি জায়গা লাগে! আমাকে কি অনেকেই আড়ালে প্রমিথিউস ডাকবে?
অতঃপর প্রাতঃভ্রমণবিচ্যুত অভিবাসীদল...
মৃত রোদের সমাধিতে এসেছি। বিবর্ণ কফিনে শায়িত বৃদ্ধ রোদ-শরীর!
আপাতঃ ভয়ার্ত শিশু রোদেরা এখন ছায়ামেঘ ঢাকা রাতের সুকৌশল আড়ালে।
আঁধার বেড়ে ওঠে শোকের পোশাকে, শুকনো রোদের বুনো গন্ধ লেপ্টে থাকে এলোমেলো পাথুরে মাটিতে। আর আধফোটা ঘাসফুল আমাদের নিয়ে যায়- রোদের আঁচড়ে বিক্ষত হবার দিনগুলোতে, তীব্র তপ্ত দুপুর, দহনময় দিনগুলোতে। ভোরের লাল আকাশের দিনগুলোতে, কিছু না বলা কথার দিনগুলোতে...
কিছু কথা না-হয় আড়ালই থাক তবে- ভয়ার্ত রোদ্দুরকণাগুলোকে বাঁচতেই হবে!
I always know the ending, that is where I start.
- Toni Morrison
© দি ফ্লাইং ডাচম্যান
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মার্চ, ২০১৩ সকাল ১০:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



