সকলে ই হয়তো ঈদের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যাস্ত।গরু না হয় খাসী।যাই কিনুন দেখে কিনুন।ঠিক মত চামড়া ছাড়াবেন।মনে রাখবেন চামড়া বৈদেশিক মুদ্রার অনেক বড় উৎস।

আমার আজকের আলোচনা আপনাদের ঈদ আনন্দে একটু বাড়তি মশলা যোগ করা।
বিষয়: বার বি কিউ।
যারা শহরে থাকেন তারা শব্দটার সাথে কমবেশী সকলেই পরিচিত।তবে যারা গ্রামে থাকেন তারা অনেকই এই বার বি কিউ শব্দটাকে বাংলায় নতুন মনে করতে পারেন।
যাই হোক, এবারের ঈদে আপনার যা কাজই থাকুক না কেন।ঈদের দিন সন্ধ বেলায় বাড়ির ছোট ছেলে মেয়ে দের নিয়ে আয়োজন করে ফেলুন মজাদার এক বার-বি-কিউ পার্টি।পিচ্চিগুলারে বলুন বিকেলে মজার একটা পার্টি হবে,দেখবেন সারাদিন আপনার পিছনে ঘুরঘুর করবে।এই ফাকে ছোট খাট কিছু কাজ তাদের দিয়ে করিয়ে নিন।
শীতের সন্ধ্যায় ঝলসানো খাবারে আড্ডাটা দারুণ জমে যাবে আমি নিশ্চিত।
আয়োজন করাটাই মজার।
কিভাবে করবেন?
দরকারী উপকরণ সবই ঈদের দিনে আপনার হাতে কাছে পাবেন।শুধু কয়েকটা লোহার শিক ম্যানেজ করতে হবে।পাশের যে কোন রড-গ্রীলের দোকান থেকে ১০০ টাকার মধ্য বানিয়ে নিতে পারবেন।
অথবা রিকশ-ভ্যানের গ্যারেজ থেকে ও মোটা শিক নিয়ে নিতে পারেন।

রেসিপি:
ঈদে মাংসের জন্য তো আলাদা ভাবনা নেই।
মাংস ভুনা করে রান্না করতে যে উপকরণ লাগে তাই,আলাদা শুধু এখটু টক দই দিবেন।
তবে আয়োজন করার ৩/৪ ঘন্টা আগ থেকেই মাংসে মশলা মাখিয়ে নিবেন।
গরু বা খাসির মাংসe আকার ঠিক রেখে কাটতে হবে। দুই ইঞ্চি দৈর্ঘ্য ও দুই ইঞ্চি প্রস্থে তুলনামূলক পাতলা করতে হবে মাংসের টুকরো। মাংসের টুকরোগুলো একটু থেঁতো করে নিতে হবে।শিল-পাটায়ও কাজ চালিয়ে নেওয়া যায়।
এ ব্যাপারে বাড়ীর মহিলা বৃন্দের সাহায্য নিতে পারেন। আগে থেকেই তাদের কে রুটি বানিয়ে রাখতে বলতে পারেন অথবা পাশের কোন হোটেল থেকে তেল ছাড়া পরাটা আনিয়ে নিতে পারেন।
![]()
চুলার ছবি।
এবার শিকের মধ্য মাংসের টুকরা গুলোকে গেথে নিয়ে কয়লার চুলার উপর চাপিয়ে দিন।
যাদের বার-বি-কিউ ট্রে নেই তারা দুটি বড় কাঠ বা রড এর উপর শিক গুলো বসাতে পারেন।
শুরু হোক চুটিয়ে আড্ডা:
বার বি কিউ এর অন্যতম অংশ আড্ডা।কেউ গান যানলে গান ও হতে পারে।আর না জানলে সবাই মিলে গানের কলি খেলা শুরু করে দিন।
তবে খেয়াল রাখবেন আগুনের দিকে।
শেষ হলে এভাবে পরিবেশন করুন।
![]()
বার-বি-কিউ আর কাবাব মোটামুটি একরম।নেট থেকে নেয়া একটা রেসিপি দিয়ে দিলাম।ট্রাই করে দেখতে পারেন।
গরুর মাংসের কিমা কাঠি কাবাব
যা যা লাগবেঃ
গরুর মাংসের কিমা- ১/২ কেজি,
পিঁয়াজ কুচি- ১/২ কাপ,
কাঁচামরিচ কুচি- ২ চা চামচ,
টমেটো কেচাপ- ২ টেবিল চামচ,
আদা বাটা- ১ চা চামচ,
গরম মশলা বাটা- ১ চা চামচ,
লেবুর রস- ১ চা চামচ,
কাবাব মশলা- ১ টেবিল চামচ,
দুধ- ৪ টেবিল চামচ,
পাউরুটি- ২ পিস,
তেল- ১ কাপ,
গোলমরিচ গুঁড়া- ১/২ চা চামচ,
বসেল লিফ- ১ চা চামচ,
সয়াসস- ১ টেবিল চামচ,
লবণ স্বাদমতো।
যেভাবে করবেনঃ
দুধে পাউরুটি ভিজিয়ে নরম হলে কিমার সঙ্গে ভালো করে মেখে নিন। এতে বাকি সব মশলা দিয়ে ভালোভাবে মেখে ১ ঘণ্টা রেখে দিন। এবার মুঠি মুঠি করে কাবাব তৈরি করে কাঠিতে গেঁথে নিন। এবার চুলায় কড়াই দিয়ে এতে তেল দিন। তেল ভালো মতো গরম হলে কাবাব লাল করে ভেজে গরম গরমই পরিবেশন করুন।
**************************
দৈনিক যুগান্তর, ১৮ ডিসেম্বর ২০০৭
সংবিধিবদ্ধ সর্তকীকরণ:
আড্ডায় আবার সাবধানতা কী! তবে অবশ্যই সাবধান থাকতে হবে আগুন নিয়ে।সাথে ছোট বাচ্চাদের দিকেও।আগুনের তো আর বুদ্ধুশুদ্ধি নাই। খুব বাতাসে চুলা জ্বালাবেন না। যেখানে চুলা থাকবে, তার আশপাশে যেন খড়কুটো বা অন্য কোনো দাহ্য পদার্থ না থাকে। বার-বি-কিউ করা শেষ হলে পোড়া কয়লায় বেশি করে পানি দিয়ে চুলা নিভিয়ে দিতে হবে অবশ্যই। মনে রাখতে হবে, জ্বলজ্বলে কয়লার টুকরো বাতাসে ছিটকে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে।
সবশেষে:
গরু কিংবা খাসী
গরম কিংবা বাসী।
যে যেটাই খান না,
সালামী যাই পান না।
একটু খানি খেয়াল করে
শুনবেন পাশের গরীব ছেলেটার কান্না।
আনন্দময় হোক সকলের ঈদ আনন্দ।
ভালো থাকুন গার্নিয়ার

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


