খোকা মাকে শুধায় ডেকে —
‘ এলেম আমি কোথা থেকে ,
কোন্খানে তুই কুড়িয়ে পেলি আমারে । '
মা শুনে কয় হেসে কেঁদে
খোকারে তার বুকে বেঁধে —
‘ ইচ্ছা হয়ে ছিলি মনের মাঝারে ।
শুরুটা খুব সাধারণ। দুজনের পরিচয়, তারপর দীর্ঘদিনের প্রণয় এবং পরিণয়। কিছুদিনের মধ্যে ঘর আলো করে জন্ম নেয় ফুটফুটে এক ছেলে সন্তান। অতঃপর তাহারা সুখে শান্তিতে বসবাস করিতে লাগিল, তাই তো হওয়া উচিত! কিন্তু গল্পের শুরু এখান থেকেই। গর্ভে থাকা অবস্থায় অথবা প্রসবকালীন জটিলতায় শিশুটির স্পাইনাল কর্ডে আঘাত লাগে। আর দশটা স্বাভাবিক শিশুর মত তার জন্ম হয়নি। যদিও জন্মের পর প্রথম কয়েক মাস লেগে যায় ব্যাপারটা বুঝতে। অন্য সব শিশুরা যে সময় বসতে শেখে, হাঁটে, বাবা-মাকে ডাকতে শেখে, রীতিমত দৌড়ায় তখনও সে বিছানায় শুয়ে শুয়ে গোঁ গোঁ করা ছাড়া আর কিছুই করতে পারে না। ডাক্তারের কাছে রোজই চলছে তার চিকিৎসা।খুব যে উন্নতি হয়েছে তা বলা যাবে না। ছেলের এরকম অবস্থায় ওর বাবা-মা কোথাও খুব একটা বেড়াতে যান না। এমন ছেলেকে নিয়ে তো মানুষের বাসায় যাওয়া যায় না। আবার ছেলেকে রেখে বেড়াতে ভালো লাগে কোন বাবা-মায়ের? সে ছেলে যেমনই হোক।
কোন এক ঈদের রাতে ছেলেকে নিয়ে তাঁরা আমাদের বাসায় বেড়াতে এলেন। একই পাড়ায় থাকি আমরা। সেই সাথে তাঁরা আমার ভাইয়ার বন্ধু ও বন্ধুর স্ত্রী । অনেকদিন ধরেই তাঁদেরকে আমাদের বাসায় আসার জন্য আসতে বলা হচ্ছিল। অবশেষে সেদিন তাঁরা এলেন আমাদের বাসায়। ছোট্ট ছেলেটাকে আমার ঘরে শুইয়ে রাখা হল। ফুটফুটে একটা ছেলে। মায়ের মতই বড় বড় আর মায়াবী চোখ পেয়েছে। কিন্তু সেই চোখে কোন প্রাণ নেই যেন! অপরিচিত আমাকে দেখে এমন অদ্ভুতভাবে গোঁ গোঁ করতে শুরু করল যে, আমার রীতিমত ভয় লাগা শুরু করল। এই বুঝি ঝাঁপিয়ে পড়ে আমার উপর! কিন্তু না, ছেলেটির নিজে নড়ার ক্ষমতা নেই। নিরাপদ দূরত্বে থেকে আমি একটু ভাব জমানোর চেষ্টা করি। আমাকে ও পছন্দ করল না তবুও। ওর মা (যাঁকে আমি ভাবি বলব এখন থেকে) আমার ঘরে এলেন। ছেলের জন্য খাবার নিয়ে। খাওয়া নিয়েও কি কম হাংগামা? স্বাভাবিক একটা বাচ্চা খাওয়া নিয়ে যে পরিমাণ যন্ত্রণা করে, ওর বেলায় তো সেটা আরো বেশিই হবে। ভাবি তার ছেলেকে কোলে নিয়ে নানা রকম ছড়া-কবিতা-গল্প বলে বলে খাওয়ানোর চেষ্টা করছেন। এ কি করছেন উনি? ছেলে কি মায়ের এত এত ছড়া-কবিতা-গল্প বুঝতে পারে? শুনতে পারে?
ছোটবেলার ভুলে যাওয়া ছড়া-কবিতা-গল্প গুলো একটা সময়ে এসে সব মেয়েরা, সব মায়েরা আবার নতুন করে শিখতে শুরু করে। একটা ইচ্ছে তার ‘’মনের মাঝারে’’ বাসা বাঁধে।
ভাবি তার ছেলেকে যতই আদর করে খাওয়াতে চান, ছেলে ততই জেদ করে ফেলে দেয়। মুখে ফেনা তুলে এক বিচ্ছিরি অবস্থা। মা বলেই সব সহ্য করে যান হয়ত ভাবি। হঠাৎ শুনি ভাবি তার ছেলের সাথে খুব অভিমান করে অনুযোগ করছেন, “এই! তুই আমাকে মা ডাকবি না? বল, মা, বল! তুই আমার কেমন ছেলে? কোন দিন কি তুই আমাকে মা বলে ডাকবি না?’’
সব কিছুই ঘটছিল আমার চোখের সামনে। আমার পক্ষে ভাবির কথাগুলো সহ্য করা সম্ভব হচ্ছিল না। কথায় কথায় সুযোগ পেয়ে আমি তাকে বললাম, ‘’আপনার ছেলের অবস্থা তো এখন আগের থেকে অনেক ভাল। চিকিৎসা যখন চলছে, আর ডাক্তারও যখন বলেছে, ও নিশ্চয়ই হাঁটতে শুরু করবে।‘’
--‘’না, আমি ছেলেকে নিয়ে কোন স্বপ্ন দেখি না। আমার বড় বোন বলেছে, তোকে লোকে নানা রকম সান্ত্বণার কথা শোনাবে। এগুলো শুনে তুই আশা করতে শুরু করবি। কিন্তু তোর আশা পূরণ হবে না। তুই কষ্ট পাবি। এজন্য আমি ওকে নিয়ে কোন স্বপ্ন দেখি না।‘’
এরপরে আমার আর কী বলার আছে?
৭ জুন, ২০১১
আলোচিত ব্লগ
চেগা মিয়া

সকাল ৭ টা। আশ্বির্নের মাঝামাঝি।
হাজী শারাফত আলীর ছেলে মন খারাপ করে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন। রাতে তার ভালো ঘুম হয়নি। তার ভাই বোনদের কথা মনে পড়লেই... ...বাকিটুকু পড়ুন
গল্পঃ চোরের উপরে বাটপারি!!!!!

টুং করে একটা নোটিফিকেশান আসলো।
ফাৎনার নড়াচড়া দেখে বুঝলাম, বড়শিতে একটা 'ব্রাউন ফিস' ধরা পড়েছে। এখন টেনে তোলার আগে খানিকটা খেলতে হবে। মৎস্য শিকারীরা জানে, এই কাজটা খুবই রোমাঞ্চকর... ...বাকিটুকু পড়ুন
তাওরাত ও যুক্তি দিয়ে কথা বলুন - ইহুদীরা আত্মসমর্পন করবেন
গানঃ 'My Name Is Palestine' - Garth Hewitt
লিংকঃ Click This Link

জ্ঞানী মানুষ যুক্তি পছন্দ করেন। জ্ঞানী মানুষ অজ্ঞানতার বেড়াজাল থেকে নিজেকে বের করে যুক্তির মাপকাঠিতে নিজের জীবনকে সাজায় বলে... ...বাকিটুকু পড়ুন
সাময়িক পোস্ট: বিদায়ের আগে

আমি নিজের লেখা ও অনুবাদ করা কিছু বই বের করতে চাই। এক্ষেত্রে কেউ কোনওভাবে সহযোগিতা করতে পারলে জানাবেন। গতকাল একজন নিয়মিত ব্লগারের মন্তব্যে ব্লগ বন্ধ হবার জোর সম্ভাবনার কথা জেনে... ...বাকিটুকু পড়ুন
জিন্নাহকে জানতে হলে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পর্ব-১

পাকিস্তান সৃষ্টির বছরখানেক আগে ১৯৪৬ সালে বোম্বে শহরের দুই নামকরা পার্সি ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আয়ু আর বেশিদিন নেই। ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।