somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আপনি কেমন বাবা-মা? ১

২০ শে জানুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৩:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মিতুর ক্লাসে আজ পরীক্ষার খাতা দিয়েছে। এই খাতা বাসায় বাবা বা মাকে দেখিয়ে সাইন করিয়ে আনতে হবে। কিন্তু পরীক্ষায় সে মাত্র ৬৫ পেয়েছে। এই খাতা ও কীভাবে বাবাকে দেখাবে? ৮০ এর নিচে নাম্বার পেলে খাতায় সাইন করা তো দূরের কথা, স্কুলে পড়ানোই বন্ধ করে দেবে বাবা। এমনটাই বলেছিলেন তিনি মিতুকে। ও খাতা ভাল করে দেখতে থাকে, কীভাবে নাম্বার বাড়ানো যায় এই চিন্তায়। ক্লাসে মিসের কাছে যেয়ে একটা প্রশ্নে আরেকটু নম্বর বাড়িয়ে দেবার জন্য কান্নাকাটি করতে শুরু করল। মিতুর এমন অযাতিত আবদার শুনে মিসও বিরক্ত হলেন। অবশেষে মিতুকে খাতায় নাম্বার না বাড়িয়েই বাড়ি ফিরতে হয়। বাসায় ফিরে ভয়ে ভয়ে মাকে খাতাটা দেখাতেই তিনি রাগে ফেটে পড়লেন। খাতাতে টিচারের লাল কালিতে কাটা ভুলগুলো দেখতে পেয়েই ‘’ কেন ভুল করেছিস? মানুষের কাছে এখন আমি কীভাবে বলব তুই মাত্র ৬৫ পেয়েছিস?’’ বলে মিতুর গালে কষে চড় লাগিয়ে দিলেন। মিতু কাঁদতে শুরু করল। বাকিটা সময় ওর মা ভালভাবে কথা পর্যন্ত বলে নি। বিকেলে ওর খেলতেও যাওয়া হল না। সন্ধ্যায় ওর বাবা বাসায় ফিরলে আরেক প্রস্থ ঝড় বয়ে গেল। বাবা-মা দুজনে মিলে সিদ্ধান্ত নিলেন, আজ থেকে মিতুকে খেলতে যেতে দেবেন না।


সেদিন থেকে মিতুর খেলতে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেল। যতদিন না পরীক্ষায় ৮০ এর উপরে নম্বর পাবে, ততদিন ওর উপর এই অধ্যাদেশ বলবৎ থাকবে। বাসায় পড়ায় চাপও বেড়ে গেছে এখন ওর উপর। ইচ্ছে না থাকলেও খেলার সময়েও পড়তে বসতে হয় । মিতু খুব চেষ্টা করে পড়া মনে রাখবার। কিন্তু পরীক্ষার সময় ওর কি যে হয়! জানা জিনিসটাও লিখতে পারে না ঠিক মত। আগের মতই ভুল হতে থাকে ওর। আর সেজন্য শাস্তি তো বরাদ্দ আছেই। ইদানিং ক্লাসের মিসগুলোও যেন ওর শত্রু হয়ে গেছে। সেদিন বাবা মাকে ডেকে ওর অবাধ্যতা আর শৃংখলা ভংগের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। বাবা মাও সুযোগ পেয়ে মিসকে বিচার দিয়ে গেছেন, মিতু নাকি কিচ্ছু পড়ালেখা করে না। মিতুর কান্না পেতে থাকে।


এখানে মিতুর পরীক্ষায় কম নম্বর পাওয়া, স্কুলে যেয়ে শৃংখলা ভংগ, অবাধ্যতা, পরীক্ষার সময় নার্ভাসনেস ইত্যাদি সমস্যার জন্য ওর বাবা-মায়ের আচরণ বিশেষ প্রভাব ফেলেছে। এ ধরনের বাবা-মায়েদের মনোবিজ্ঞানীরা কর্তৃত্বপরায়ন অভিভাবক হিসেবে বিবেচিত করে থাকেন। সন্তানের কাছ থেকে তাদের প্রত্যাশা থাকে অনেক বেশি এবং সেগুলো তারা সন্তানের উপর চাপিয়ে দেন। এসব প্রত্যাশা তাদের কাছে এক ধরনের প্রেস্টিজ ইস্যু। প্রত্যাশা পূরণ করার মত সামর্থ্য সন্তানের আছে কিনা তা তারা বিবেচনায় আনেন না। আর প্রত্যাশা পূরণ না হলে সন্তানদের কঠিন শাস্তি দিয়ে থাকেন। শাস্তি দিয়ে থাকলেও সন্তানের ভুল সংশোধন করার জন্য কোন পদক্ষেপ নেন না। এছাড়াও সন্তানদের জন্য অনেক কঠিন নিয়ম কানুন তারা প্রবর্তন করেন, কিন্তু এগুলো কেন করছেন তার ব্যাখ্যা কখনো দেন না। সন্তানেরা বাধ্য হয়ে এসব মেনে চলে, কিন্তু মন থেকে মেনে নেয় না । সন্তানের পছন্দ-অপছন্দের কোন মূল্য তারা দেন না। আর সব বাবা-মায়েদের মত তারাও সন্তান্দের ভালবাসেন, কিন্তু তা সন্তানদের সামনে কখনো প্রকাশ করেন না। সন্তানের যেকোন কাজকেই নেতিবাচক দৃষ্টিতে মূল্যায়ন করে থাকেন। যেমনটা মিতুর বাবা-মাও করেছেন। মিতু পরীক্ষায় ৬৫ পেলেও, তারা তা গ্রাহ্য করেন নি। ভুলগুলো ঠিক করে দেন নি। আরো ভাল ফলাফল যে মিতু করতে পারে, সেজন্য কোন রকম উৎসাহ, প্রেরণা যোগান নি। উলটো তাকে খেলতে না দিয়ে চাপের মধ্যে ঠেলে দিয়েছেন। ফলে পরীক্ষার সময় নার্ভাসনেসের কারণে আগের মতই ভুলগুলো হতে থাকে ওর। এছাড়াও স্কুলে শৃংখলা ভংগ করার প্রবনতা দেখা যায়।

এমন কর্তৃত্বমূলক বাবা-মায়ের প্রভাব সন্তানের সামাজিক ও একাডেমিক কর্মকাণ্ডে পড়ে। এ ধরনের বাবা-মায়ের সন্তানদের কিছু বৈশিষ্ট্য দেওয়া হলোঃ

 ভীতু বা লাজুক হয়ে থাকে
 ঘরে বাবা-মায়ের কঠোর অনুশাসন মেনে চললেও বাইরে গেলে আক্রমণাত্নক আচরণ করে থাকে
 দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন সামাজিক অবস্থাতে সমস্যায় পড়ে থাকে এবং সেগুলো মোকাবেলা করতে পারে না
 আত্নবিশ্বাস কম থাকে
 বড় হলে নিজের কোন ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না
 যে কোন কাজে উৎসাহ বা কৌতুহল থাকে না বা কম থাকে। চ্যালেঞ্জ নিয়ে চায় না।
 অল্পতেই হতাশাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে

আজ শুধু কর্তৃত্বপরায়ন বাবা-মা ও তাদের সন্তানদের সম্পর্কে বলা হল। পরে পর্বগুলোতে আরো বাবা-মায়ের কথা বলার ইচ্ছে রইল। বিভিন্ন ধরনের বাবা-মায়ের সাথে আপনিও নিজেকে মিলিয়ে দেখতে পারেন।

২০ জানুয়ারি, ২০১২
৮টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল: আমার বৈষয়িক ভাবনা

লিখেছেন জীয়ন আমাঞ্জা, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৩০

এবার এসএসসিতে ৬ লাখ ৯০ হাজার পরীক্ষার্থী ফেল করেছে। ২২৬ মাদ্রাসায় একজনও পাশ করতে পারেনি। স্কুল মাদ্রাসা মিলিয়ে মোট সাড়ে তিনশোর কাছাকাছি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজনও পাশ করেনি, শতভাগ ফেল!

এ নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

র-প্রধানের ঢাকা সফর: খবর শুনেই হাসপাতালে ভর্তি পাকিস্তানের হাইকমিশনার !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:১৭


রসিকতা বাদ দিয়ে বলি, দুটি ঘটনাই সত্যি। বাংলাদেশে RAW এর প্রধান পরাগ জৈন এসেছেন এবং পাকিস্তানের হাইকমিশনার এখন হাসপাতালে আছেন। দুটি ঘটনা আসলে পরস্পরবিচ্ছিন্ন, একটার সঙ্গে আরেকটার কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভেষজ চায়ের সঙ্গে আমার অব্যাহত প্রেম!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৩



ভেষজ চায়ের সঙ্গে আমার অব্যাহত প্রেম!

জীবনে অনেক কিছুই শেষ করেছি- কিন্তু ভেষজ চায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখনও শেষ হয়নি!
সবুজ চা, লেবু-আদা-তেজপাতা, দারুচিনি, এলাচ-লবঙ্গ, গোলমরিচ, পুদিনা-রোজেলা, জাফরান, জেসমিন থেকে শুরু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আশা রাখি: কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ রাষ্ট্রপতি হবেন

লিখেছেন অপলক , ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৪০



আমার দেখা সকল রাষ্ট্রপতিগন ছিলেন ডায়াবেটিকস রোগীদের মত। যাদের রাজনৈতিক জীবনীশক্তি ছিল না বললেই চলে। প্রধানমন্ত্রীর অলিখিত আজ্ঞাবহ মাত্র। ফর্মালিটি আছে কিন্তু কাজের স্বকীয়তা ছিল না। কোন আইকোনিক ডিসিশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ মায়া

লিখেছেন সামিয়া, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:২৩


মানুষের জীবনে এমন কিছু মানুষ থাকে যাদের সঙ্গে সম্পর্কের কোনো পরিচয় দেওয়া যায় না। তাদের সঙ্গে ভালোবাসা থাকে, অথচ তাকে ভালোবাসা বলা যায় না। শ্রদ্ধা থাকে, অথচ শুধু শ্রদ্ধা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×