বাসায় ফিরে আরাফাত বইগুলো মেঝেতে এলোমেলো করে ফেলে ঘরময় ছুটোছুটি করতে শুরু করল। ছেলের শিশুসুলভ উচ্ছলতা মিসেস জান্নাত প্রাণ ভরে যতটুকু পারেন দেখে নেন। কলিং বেলের শব্দে ধ্যান ভাংগে তাঁর। পাশের বাসার ভাবী এসেছেন তাঁর হাতে বানানো আচার নিয়ে। অনেক দিন পরেই এলেন তিনি। আরাফাতকে দেখে আদর করে কাছে ডাকলেন। কিন্তু সেদিকে ওর কোন ভ্রুক্ষেপই নেই। নিজের মত হৈ হৈ করছে। খেলনাগুলো এলোমেলো করছে। মিসেস জান্নাত আদরমাখা কণ্ঠে ছেলে কাছে ডাকলেন, আন্টিকে সালাম দিতে বললেন। ছেলে সেদিকে কান দিল না। পাশের বাসার ভাবীকে বললেন, ‘’লজ্জা পাচ্ছে। একটু পরে ঠিক হয়ে যাবে। এমনিতে কিন্তু ও সব বোঝে। খুব বুদ্ধি ওর।‘’ ছেলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে গেলেন জান্নাত। এর মধ্যেই আরাফাত এসে বাটিতে রাখা আচার ওর ময়লা হাতে ঘুঁটে গেল। মিসেস জান্নাত কিছুই বললেন না।
মিসেস জান্নাতের মত বাবা-মায়েদের মনোবিজ্ঞানীরা প্রশ্রয়দানকারী অভিভাবক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সন্তানের যে কোন কাজেই তারা আশকারা দিয়ে থাকেন। সন্তানের প্রতি তাদের আচরণ অনেক উদার, কোমল ও ক্ষমাশীল। সন্তানের সাথে তাদের সম্পর্ক পিতামাতার চেয়েও অনেক বেশি বন্ধুর মত থাকে। সন্তানের প্রতি ভালবাসা নিঃসংকোচে তারা প্রকাশ করতে পারেন। সন্তানের কাছে তাদের তেমন কোন প্রত্যাশা থাকে না। সন্তানের যেকোন চাহিদা তারা যেভাবেই হোক পূরণ করেন। কিন্তু সন্তানকে সাধারণত শৃংখলাগুলো শেখানো হয় না। এধরনের বাবা/মায়ের নিজেদের মধ্যেই পরিপক্কতা ও আত্ন-নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কম থাকে বলে এমন আচরণ করে থাকেন। অনেক বাবা/মা সন্তানের সাথে সংঘর্ষ বা দ্বন্দ্ব এড়িয়ে চলার জন্য বিনা বাক্যে তাদের আবদার রক্ষা করে থাকেন। প্রায় সময় বিভিন্ন ধরনের উপহার যেমন খেলনা, মজার খাবার, জামা ইত্যাদি কিনে দেবার প্রবনতা এমন বাবা/মায়ের মধ্যে দেখা যায়।
এমন বাবা-মায়ের সন্তানদের কিছু বৈশিষ্ট্য চলুন দেখে নেওয়া যাকঃ
খুব বেশি বায়না করে থাকে
সামাজিক দক্ষতা কম থাকে
বাবা-মা তেমন ভাবে শৃংখলা শেখান না বা নিয়ম কানুন ঠিক করে দেন না বলে, সন্তানের মধ্যে শৃংখলা মেনে না চলার প্রবনতা থাকে
চাহিদা (যেমন-হাত খরচ) অনেক বেশি
নিজেকে নিয়েই বেশি নিমগ্ন থাকে
ভিন্ন পরিবেশের সাথে নিজেকে মিলিয়ে চলতে পারে না। গাইডেন্স না থাকলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে থাকে।
২২ জানুয়ারি, ২০১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

