--‘’আম্মু, সত্যি আমি এ প্লাস পেতে পারব!’’
--একশ বার। তবে এ জন্য তোমাকে পড়ালেখায় আরো বেশি সময় দিতে হবে। টিভি দেখা কমিয়ে দিতে হবে।
--আম্মু, আমি টম এন্ড জেরি না দেখে থাকতেই পারব না।
-- তুমি অবশ্যই টম এন্ড জেরি দেখবে। কিন্তু এই কার্টুন কি সারাক্ষণ টিভিতে দেখায়?
--নাহ।
--তাহলে? তুমি এক কাজ কর। টিভির প্রোগ্রামগুলো দেখে লিস্ট করে ফেল কখন এই কার্টুনটা দেখায়। ঐ লিস্টটা আমাকে দেবে। তারপর লিস্ট দেখে তুমি আমি দুজনে মিলে না হয় কার্টুন দেখব। ঠিক আছে?
--আচ্ছা।
--এই তো লক্ষ্ণী ছেলে। এখন বল, স্কুল থেকে এসে কী করার কথা ছিল?
--খাবার খাওয়ার কথা।
--তার আগে?
--ওহ, হাত মুখ ধুয়ে নিতে হবে।
--গুড। তাহলে তোমার কাজগুলো করে নাও। বিকেলে মার্কেটে যাব, মনে আছে? বাবার জন্মদিনের উপহার কিনতে হবে না?
--আম্মু, বাবার জন্য আমি পছন্দ করে উপহার কিনব।
--তাই? কী কিনবে ঠিক করেছ?
--একটা বড় রঙ পেন্সিলের সেট।
মিনহাজের সাথে তার মায়ের একটি সুন্দর সহজ বন্ধুত্বের সম্পর্ক রয়েছে। এমন বাবা-মায়েদের মনোবিজ্ঞানীরা ভারসাম্যপূর্ণ অভিভাবক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদেরকে Authoritative parentsও বলা হয়ে থাকে। এ ধরনের বাবা/মায়েরা সন্তানের উপর জোর করে কিছু চাপিয়ে দেন না। গনতান্ত্রিক মনোভাব তাদের মধ্যে দেখা যায়। সন্তানের মতামত বা সিদ্ধান্তের গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। সন্তানের প্রতি তাদের অনেক প্রত্যাশা থাকে। সেগুলো পূরণের জন্য সন্তানকে নানাভাবে উৎসাহ, প্রেরণা, দিক নির্দেশণা ও সহযোগিতা করে থাকেন। প্রত্যাশা পূরণের জন্য সন্তানের সামর্থ্যের দিকেও তারা খেয়াল রাখেন। শৃংখলা ও নিয়ম কানুন ঠিক করে দিয়ে ছোটবেলা থেকেই সেগুলোতে সন্তানদের অভ্যস্ত হতে সাহায্য করে থাকেন। সন্তানের কোন কাজেই খুব বেশি প্রশ্রয় বা খুব বেশি কঠোর হন না। সন্তানের ভুল হলে কঠোর শাস্তি দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। বরং ভুলগুলো শোধরানোর জন্য সুযোগ, সময় ও সহযোগিতা করে থাকেন। প্রয়োজনে শাস্তি দিয়ে থাকলেও তার কারণ ব্যাখ্যা করে দেন। সন্তানদের কাজের মনিটরিং করে থাকেন। এ ধরনের বাবা/মা সন্তানদেরর খুব বেশি নিয়ন্ত্রণ করেন না, তবে সীমা নির্ধারন করে দেন। সন্তানের চাহিদা, অনুভূতির প্রতি সজাগ থাকেন। সন্তানের প্রতি ভালবাসা প্রকাশ করে থাকেন। সন্তানের সুষম বিকাশের জন্য এধরনের প্যারেন্টিং স্টাইল অনুসরণ করা উচিত।
এবার জেনে নেওয়া যাক, এ ধরনের বাবা-মাদের সন্তানদের বৈশিষ্ট্যঃ
আত্ন-নিয়ন্ত্রণে দক্ষ হয়ে থাকে। নিজের আবেগ (রাগ, কান্না, ভয় ইত্যাদি) সহজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
সামাজিক দক্ষতা থাকে।
আত্ন-বিশ্বাসী হবার সহজেই নতুন কিছু শেখা বা করার প্রতি আগ্রহী থাকে
দুঃশ্চিন্তামুক্ত থাকে বলে সহজে সফলতা অর্জন করে থাকে।
দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা নিজেই সমাধান করতে পারে।
২২ জানুয়ারি, ২০১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

