মাহিন যে শহরে বাস করে সেখানে তার মতো গুটিকয়েক মানব শ্রমিক টিকে আছে। তাদের শহরে আরো আছে যন্ত্রমানব। মাহিনরা অনেক ভাল কাজ করতে পারে, কিন্তু যন্ত্রমানবের ক্ষমতা অনেক। পাহাড়সম বোঝা-ও তাদের কাছে বোঝা বলে মনে হয়না। তারা দৌড়াতে পারে ঘন্টার পর ঘন্টা। কাজ করতে পারে দিনের পর দিন। অপরিসীম শক্তির অধিকারি তারা।
মাহিন শহরের সেরা শ্রমিক। সে যেমন খাটতে পারে তেমনি তা করতে পারে নিপুন দক্ষতায়। কিন্তু তারপরও পেরে ওঠে না যন্ত্রমানবের সাথে। যন্ত্রমানবের অমিত শক্তির কাছে সে নিতান্তই ঠুনকো।
‘কতটা দুর্বল আমি’ তার অক্ষমতা নিয়ে ভাবে সে, ‘এ হাত কতো সহজে অসার হয়, কতো সহজে গ্রাস করে ক্লান্তি!’ সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয় না তার। চোখ বন্ধ করে ছুরি চালায় সে, ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হয়ে আসে। মাটিতে পড়ার আগেই তা শুকিয়ে যায়। হাত দুটি বিচ্ছিন্ন করে সেখানে বসিয়ে দেয় দুটি যন্ত্র। অবিকল যন্ত্রমানবের হাতের মতো।
খুশির আতিসাহ্যে আত্মহারা হয়ে উঠে সে। এখন কোনকিছুই তার কাছে ভারি মনে হয় না। যন্ত্রমানবের হাতের শক্তি এখন তার হাতে। সে এখন আগের থেকে অনেক শক্তিশালি, অনেক ভাল শ্রমিক।
খুব শীঘ্রই সীমাবদ্ধতা উপলদ্ধি করে সে। পদযুগলকে বড়ই দুর্বল মনে হয় তার। এগুলোকে মুহুর্মুহু স্পর্শ করে ক্লেশ। সে পিছিয়ে পড়ে ক্ষণে ক্ষণে। সে রক্তমাংসের পা বদলে বসায় যান্ত্রিক পা।
ভীষণ খুশি মাহিন। অসীম শক্তি পা দুটোয়, যন্ত্রমানবদের মতো দৌড়ানো যায় সেগুলো দিয়ে। ঠোঁটের কোণে তার তৃপ্তির হাসি খেলে যায়।
কিন্তু সে অনুভব করে ক্লান্তি এখনও তাকে গ্রাস করে। এখনও তার ঘুমের প্রয়োজন হয়, বিভোর হয় স্বপ্নে। আয়নায় তাকায় ক্লান্ত চোখে। গ্রীবা বরাবর ছুরি চালায় সে। মস্তক সরিয়ে বসায় যন্ত্র।
সে এবার আরো খুশি। সে এখন আরো পরিশ্রমী, আরো শক্তিশালি। হৃষ্টচিত্তে সে যন্ত্রমানবের সাথে পাল্লা দিতে পারবে এখন।
কিন্তু অন্য মানব কর্মীরা তাকে তাড়িয়ে দেয়, ‘তুমি রোবট, রোবটদের সাথে কাজ করো গে!’
‘আমি তো এখন রোবট-ই!’ সে মনে মনে ভাবে। যন্ত্রমানবের সাথে তার আর কোন তফাৎ নেই। তাদের মতো হাত, তাদের মতো পা, তাদের মতোই মাথা। তাদের মতোই শক্তিশালি সে। ক্লান্তি তাকে কাবু করতে পারে না, ঘুম তাকে হাতছানি দেয় না, ক্ষুধা তাকে গ্রাস করেনা।
কিন্তু যন্ত্রমানবদেরও আপত্তি, ‘তুমি মানুষ! আমাদের মাঝে তোমার স্থান নেই!’
মাহিনও দুর্বিনীত উত্তর করিল, “তোমাদের মতো আমারও তো যান্ত্রিক হাত আছে, পা আছে, মাথা আছে। মানবজাতির আর কারো আমার মতো শক্তি নাই।‘ তার কন্ঠে ঔদ্ধত্যের সুর ‘তবে কেনো আমি তোমাদের সাথে কাজ করতে পারবো না?’
‘কারণ তোমার শরীরে এখনও আছে মানব সত্ত্বা। তোমার চিন্তা ভাবনা তাদের মতোই। তোমাকে পরিত্রাণ পেতে হবে সে সত্ত্বা থেকে। তবেই তুমি হবে আমাদের লোক।’ মাহিনের হাতে তারা তুলে দেয় একটা ছোট্ট মেশিন।
যন্ত্রমানবই ঠিক। মাহিন ছুরি চালায় বুকের ঠিক মাঝ বরাবার। বের করে আনে প্রায় নিস্তেজ হৃদযন্ত্রটা। ঠিকঠাক বসিয়ে দেয় চকচকে সপ্রভ মেশিনটা। মূহুর্তেই নিজেকে অনেক শক্তিশালি মনে হয় তার।
এখন সে সদর্পে যন্ত্রমানবদের সাথে কাজ করতে পারে। তার মাঝে অতিমাত্রিক বা মাত্রাহীন এক সত্ত্বা, যান্ত্রিক সত্ত্বা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


