মালেগাঁও, মোদাসা ও সমঝোতা এক্সপ্রেসসহ আরো নানা স্খানে বিস্ফোরণ ও হত্যাযজ্ঞের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে সাধবী প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর, লেফটেন্যান্ট কর্নেল শ্রীকান্ত প্রসাদ পুরোহিত, শঙ্করাচার্য স্বামী অমৃতানন্দ ওরফে দয়ানন্দ পাণ্ডেসহ সংঘ পরিবারের সাথে যুক্ত বেশ কয়েক জনকে অ্যান্টি টেরোরিজম স্কোয়াড (এটিএস) গ্রেফতার করার পর বিজেপি ও সমমনা সংগঠনগুলো বিব্রত বোধ করে প্রথম দিকে নীরব থাকলেও এখন এই সন্ত্রাসীদের সমর্থনে শুধু বক্তব্য নয়, প্রবল আন্দোলন শুরু করেছে। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে সংঘ পরিবারের সাথে যুক্ত সাংবাদিক, আইনজীবী ও বুদ্ধিজীবীরা বলছেন, যদি এই হিন্দুরা বিস্ফোরণের সাথে যুক্তও থাকে তবুও তাদের সন্ত্রাসী বলা যাবে না। মুসলিম সন্ত্রাসবাদীরা ভারতের বিরুদ্ধে নাশকতা ও বিস্ফোরণে যুক্ত, কিন্তু হিন্দুরা প্রত্যেকেই দেশপ্রেমিক। কাজেই এদের এক করে দেখলে চলবে না। এই ‘তত্ত্বের’ সাথে আরো একটি ধারা যোগ করেছে সংঘ পরিবার। তা হলো কোনো অবস্খাতেই হিন্দুদের সন্ত্রাসবাদী বলা যাবে না।
বিজেপি নেতা এবং সংসদের দলের চিফ হুইপ বিজয়কুমার মালহোত্রা সোমবার দিল্লিতে বলেছেন, হিন্দুরা কখনো সন্ত্রাসবাদী হতে পারে না। কারণ হিন্দুদের চরিত্রে এবং জিন বা বংশানুতে সন্ত্রাসের কোনো যোগ নেই। মহারাষ্ট্র পুলিশের এটিএস মিথ্যা কথা বলেছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শিবসেনা ও অন্য হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্যরা নাসিকের আদালতে হাজির হয়ে মামলার প্রতিদিনই গ্রেফতারকৃত সন্ত্রাসীদের পক্ষে সেöাগান দিচ্ছে। এ ছাড়া তারা প্রকাশ্য সমাবেশ করে এই সন্ত্রাসবাদীদের সমর্থনে অর্থ সংগ্রহ করছে। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মহাত্মা গাìধীর হত্যাকারী নাথুরাম গডসের ভাগ্নী হিমানী সাভারকার।
এ দিকে অনেকে অভিযোগ করেছেন, তদন্তকারী সংস্খা এটিএস তাদের মনোভাব নরম করতে শুরু করেছে।
তদন্তকারী দল এটিএস এখনো সাধারণ আইনে এই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে। যদি মহারাষ্ট্রের বিশেষ অপরাধ ও সন্ত্রাস দমন আইন মোকা তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা না হয়, সে ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সব অভিযুক্ত জামিন পেয়ে যাবে। ‘মোকা’ প্রয়োগ করলে ছয় মাস অভিযুক্তদের জেলহাজতে বন্দী রেখে তদন্ত করা যেত এবং চার্জশিট দেয়ার জন্য ৯০ দিনের পরিবর্তে ১৮০ দিন সময় পাওয়া যেত। কিন্তু এটিএস প্রথমে মোকার কথা বললেও এখন আর এ বিষয়ে কোনো উচ্চবাচ্য শোনা যাচ্ছে না।
এ দিকে ভারতের বিখ্যাত ইংরেজি পত্রিকা ‘আউট-লুক’ আরো জানিয়েছে, জেরার সময় লেফটেন্যান্ট কর্নেল শ্রীকান্ত প্রসাদ পুরোহিত ও অন্য অভিযুক্তরা আরো স্বীকার করেছে, লেফটেন্যান্ট কর্নেল শ্রীকান্ত প্রসাদ পুরোহিত পাকিস্তান ও বাংলাদেশেও উগ্রপন্থী হিন্দুদের মধ্যে তার সাম্প্রদায়িক নেটওয়ার্ক প্রসারিত করার চেষ্টা করেছিলেন। এই দুই দেশের হিন্দু জঙ্গিদের সাথে তার সম্পর্ক স্খাপিত হয়েছিল। আরো একটি তথ্য সামনে এসেছে। বাংলাদেশের জঙ্গি হিন্দু সংগঠনের সদস্যদের সাথে কলকাতায় লেফটেন্যান্ট কর্নেল শ্রীকান্ত প্রসাদ পুরোহিত শুধু বৈঠকই করেননি, বেশ কয়েকজন বাংলাদেশী হিন্দু নেতা ‘ভোঁসলা হিন্দু মিলিটারি স্কুলে’ অনুষ্ঠিত অস্ত্র প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশও নিয়েছিলেন। ‘আউট-লুক’ পত্রিকা এ বিষয়ে আরো তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


