আমার প্রিয় পোস্ট

মুসলিমদেরকে কোরআনের মত স্মার্ট হতে হবে--১

২২ শে জুলাই, ২০০৯ সকাল ১০:১৬

শেয়ারঃ
0 11 0

দীর্ঘদিন ধরে উভয় পক্ষের ডিবেট পর্যালোচনা করে কোরানে বিশ্বাসীদের মধ্যে কিছু দুর্বলতা পরিলক্ষিত হয়েছে, যেটা কোরানের সাথে কোনভাবেই ম্যাচ করে না। যদিও অনেক পরে এসে সেটা বুঝা গেল। কোথায় কোরান (The smartest book in the World) আর কোথায় তার ফলোয়াররা! আবুল কাশেম, কামরান মির্জা, আযগর, আলী সিনা, ইবনে ওয়ারাক ও আয়ান হিরসি আলীর মত প্যাগান মেন্টালিটির লোকজন সাধারণত ফলোয়ারদের দিয়ে ধর্মকে বিচার করে। বিশেষ করে ৯-১১ নাটকের পর ইসলামকে টেররিজম, এক্সট্রিমিজম, ভায়োলেন্স, সুইসাইড বোম্বিং ইত্যাদির সাথে লিঙ্ক করার পর থেকে এই ট্রেন্ড চালু হয়েছে (মনে হচ্ছে ৯-১১ নাটকের ঠিক পূর্ব মুহূর্ত থেকে কোরানের বিষাক্ত ও ধারালো নখ-দাঁত-হাত-পা-ইত্যাদি গজানো শুরু হয়েছে)! এর পেছনে যৌক্তিক কারণও আছে। নাম্বার-১ কারণ হচ্ছে অন্যান্য ধর্মের অসারতা। একদিকে অন্যান্য ধর্মের অসারতা ঢাকার জন্য এবং অন্যদিকে ইসলামের ইভলুশন প্রতিরোধকল্পে একটি মহল অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ইসলামকে টেররিজম, এক্সট্রিমিজম, ভায়োলেন্স, সুইসাইড বোম্বিং ইত্যাদির সাথে লিঙ্ক করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আর তাদের সাথে যোগ দিয়েছে মুযলিম ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আবুল কাশেম, আলী সিনা, কামরান মির্জা, আযগর, ইবনে ওয়ারাক ও আয়ান হিরসি আলীর মত কিছু পা-চাটা দাস-দাসী। অথচ ইসলাম এসেছে এগুলোকে প্রতিহত করতে। কোরানে তার ডজন ডজন উদাহরণ আছে। কোরানের একটি বড় অংশ জুড়ে অতীত টেররিজম, এক্সট্রিমিজম, ফ্যানাটিসিজম ও ভায়োলেন্সকে এ্যাড্রেস করা হয়েছে। আজ থেকে চৌদ্দশত বছর আগেই কোরানে ‘ওয়ার অন টেরর অ্যান্ড অপ্রেসর’ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে (নমুনা দেখুন : ৪:৭৫, ২২:৩৯-৪০, ৯:১৩, ৪২:৩৯-৪৩, ২:১৯০-১৯৩)। পাসাপাসি হত্যা ও সুইসাইডকেও অত্যন্ত জোরালোভাবে কনডেম করা হয়েছে (৫:৩২, ২:১৯৫, ৪:২৯-৩০, ৪:৯২-৯৩, ১৭:৩৩, ৬:১৫১, ২৫:৬৮, ৩:২১)। মুসলিমরা আসলে পলিটিক্স জানে না। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে, নন-মুসলিমরা কোরানের আইডিয়া নিয়ে ইসলামকেই উল্টোদিকে আক্রমণ করে! যেমন : ফ্রীডম-অব-ফেইথ (১০:১০৮, ৬:১০৪, ১০:৯৯, ৩৯:৪১, ১১:১২১, ৭৩:১৯, ৪৩:৮৮-৮৯, ২:২৭২, ৭৬:২৯, ১৮:২৯, ৪২:৪৮, ৭৬:৩, ৩:২০, ৮৮:২১-২২); ফ্রীডম-অব-রিলিজিয়ন (২:২৫৬, ১০৯:৬, ২২:৬৭-৬৯, ৪২:১৫, ১০:৪১, ২:১৩৯, ৪২:৬); মুক্তচিন্তার অধিকার (১৫:৩, ১৭:৮৪, ৬:১১০, ১০:১১, ১১:১২১, ৫২:৪৫); নারীর মর্যাদা ও অধিকার (৪:১, ৪:৪, ৪:৭, ৪:১৯, ৪:৩২, ৪:১২৪, ৩:১৯৫, ৯:৭১, ১৬:৯৭, ৩০:২১, ৩৩:৩৫, ৪৯:১৩, ৪০:৪০, ২৪:৪, ২৪:২৩); এতিম, মিসকীন ও বিধবাদের অধিকার (২:১৭৭, ২:২১৫, ২:২২০, ২:২৪০-৪১, ৪:২, ৪:৮, ৪:১০, ৪:৩৬, ৯:৬০, ১৭:২৬, ১৭:৩৪, ৯৩:৯-১০, ৮৯:১৭-১৮, ১০৭:১-৩); দাস-দাসী মুক্তি (৯০:১২-১৩, ৯:৬০, ৫:৮৯, ২:১৭৭, ৪:৩, ৪:২৫, ৪:৯২, ২৪:৩৩, ৫৮:৩, ৮:৬৭); সন্তান হত্যা (১৬:৫৮-৫৯, ৬:১৪০, ৬:১৫১, ১৭:৩১, ৬:১৩৭, ৮১:৮-৯); অন্যের অর্থ-সম্পদ গ্রাস (২:১৮৮, ৪:১০, ৪:১৬১); পৌরোহিত্য ও ধর্মব্যবসা (২:৪১, ২:৭৯, ২:১৭৪, ৫:৪৪, ৩:১৮৭, ৯:৯, ৯:৩১, ৯:৩৪, ১২:১০৪); অসাম্প্রদায়িকতা ও সাম্যতা (৪৯:১৩, ৪:১, ২:২১৩, ১০:১৯, ১৭:৭০); সহনশীলতা (৬:১০৭-১০৮, ৪৯:১১, ৬০:৭-৯, ৩৯:৩, ১৬:১২৬-১২৮, ৭৩:১০, ১৯:৪৬-৪৭); সার্বজনিনতা (২:৬২, ২:১১১-১১২, ৫:৬৯, ২২:১৭, ১০৩:১-৩, ৩৪:২৮, ২১:১০৭, ২২:৬৭, ১০:৪৭, ৩৫:২৪, ১৬:৩৬, ৬৮:৫২); ন্যায় বিচার (৪:১৩৫, ৫:৮, ৪:৫৮, ৫৭:২৫, ৩৯:৬৯-৭০, ৪০:১৭, ২১:৪৭, ৩৬:৫৪, ২:২৮১, ৭:২৯, ১৬:১১১, ১৭:১৩-১৫, ২০:১৩৪-১৩৫); লাভ-দয়া-ক্ষমা (১:১-২, ৮৫:১৪, ২১:১০৭, ৬০:৭, ৪:১৭, ৭:১৯৯, ৩৯:৫৩, ১৬:১১৯, ৩:১৫৯, ১৫:৮৫, ১৬:১১৯, ১৯:৯৬, ২:১৬০, ২:১৬৩, ৪:২৭-২৮); জ্ঞান আহরণ ও প্রশ্নে উৎসাহ (১৭:৩৬, ৩৯:৯, ৪৭:২৪, ২৫:৩৩, ৩৮:২৯, ১৭:৮৫, ২১:৭, ২:২১৫-২২০); ভ্রমণে উৎসাহ (২৯:২০, ২২:৪৬, ৬:১১, ৪০:২১, ৪৭:১০, ৩০:৪২, ৩:১৩৭); প্রমাণ দাবি (২:১১১, ৬:১৪৩, ৬:১৪৮, ১০:৩৬); ক্রিয়েটরে অবিশ্বাসীদের জন্য যুক্তি (২২:৫, ৭৫:৩৬-৪০, ২২:৭৩, ২৩:৯১, ২:২৮, ১৭:৯৯, ১৯:৬৬-৬৭, ২১:২২, ২৯:৪৬, ৬:৯৯, ৫২:৩৩-৩৬); কোরানে সংশয়বাদীদের জন্য ফলসিফিকেশন টেস্ট ও চ্যালেঞ্জ (৪:৮২, ১৭:৮৮, ২:২৩-২৪, ১০:৩৭); যাদুবিদ্যা প্রত্যাখ্যান (২:১০২, ৫:৯০); গোল্ডেন রুল (২:৪৪, ১১:৮৮, ৬০:৭-৯, ৬১:২-৩, ৮:৬১, ৪১:৩৪; সহী বুখারী ৮:৭৩:২৬, ১:২:১২); ইত্যাদি। তার মানে কিন্তু এই নয় যে, অন্য কোন ধর্মগ্রন্থে এগুলো একদমই নেই। তবে অন্যান্য ধর্মগ্রন্থে এগুলোর অনেক কিছুই নেই এবং কোরান-ই এগুলো বিষয়ে অগ্রদূত।

যাহোক, সবাই যে দুর্বল তা কিন্তু নয়। তবে বেশীরভাগই দুর্বল। পাসাপাসি তারা : কিছুটা এ্যাপোলোজেটিক মাইন্ডেড (কোরানে বিশ্বাস করে এ্যাপোলোজেটিক হওয়ার তো কিছু নাই); প্রতিপক্ষকে আপারহ্যান্ড নেওয়ার সুযোগ করে দেয়; বল ঠেলে ঠেলে নিজের কোর্টে নেওয়ার চেষ্টা করে; কোরানের ভাইট্যালিটি ও মেসেজ সম্বন্ধে ততটা অবগত নয়; ইসলামের থিওলজির সাথে অন্যান্য ধর্মের থিওলজির পার্থক্য তেমন একটা বোঝে না; অন্যান্য ধর্মগ্রন্থের উপর তেমন একটা দখলও নাই; সর্বোপরি, কার সাথে কীভাবে ডিবেট করতে হবে সে বিষয়ে অনেকটাই অপরিপক্ক।

এই লেখাতে কিছু টিপস দেওয়া হবে যেগুলো ফলো করলে কোরানে বিশ্বাসীদের সাথে ডিবেটে কেহই দাঁড়াতে পারবে না। আমি নিজে যেহেতু কনভিন্সড, অর্থাৎ সত্য বলে যদি কোন ধর্ম থেকে থাকে তাহলে সেটা হবে নিঃসন্দেহে ইসলাম (Peace and surrender to Creator’s Will), সেহেতু টিপসগুলো দেওয়া হচ্ছে। অন্যথায় দিতাম না। কারণ কোরান ক্রিয়েটরের বাণী না হওয়া মানে সেটা হবে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বিস্ময়! যে কেহ নিরপেক্ষ মন-মানসিকতা নিয়ে কোরান স্টাডি করলে একই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার কথা।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ নোট : কোরানে কোন ধর্মকে যেমন ফলস বলা হয়নি তেমনি আবার কোন ধর্মকে সরাসরি বাতিল ঘোষণাও করা হয়নি, যেটা অনেকেই জানে না। কোরান বরঞ্চ তার পূর্বের কিতাবগুলোর সত্যায়নকারী ও সংরক্ষণকারী (৫:৪৮, ৩:৩, ৩৫:৩১, ১০:৩৭, ১২:১১১) (Quran is the culmination of the previous revelations in the process of evolution)। এমনকি কোরানে কোন মেসেঞ্জার বা অবতারের বিরুদ্ধে কোনরকম সমালোচনাও করা হয়নি। বরঞ্চ কোরানে সকল মেসেঞ্জারদের সমান মর্যাদা দেওয়া হয়েছে (৩:৮৪, ২:২৮৫, ৪:১৫২, ৩৭:৩৭)।

কোরানের কোথাও যেমন ‘বাইবেল চেঞ্জ করা হয়েছে’ লিখা নেই; তেমনি আবার ‘বাইবেল চেঞ্জ করা হয়নি’ এ কথাও সরাসরি লিখা নেই। প্রকৃতপক্ষে ‘বাইবেল’ বলে কোন শব্দই কোরান ও বাইবেলে নেই! বাইবেলের অথেন্টিসিটি প্রমাণ করার দায়িত্ব খ্রিস্টানদের। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, বাইবেল চেঞ্জ হয়েছে কি-না তাতে মুসলিমদের কিছুই যায় আসে না। কারণ বাইবেল চেঞ্জ না হলেও তো যীশুখ্রীস্ট (একজন মানুষ) এই মহাবিশ্বের ক্রিয়েটর বা ক্রিয়েটরের জন্মদাতা পুত্র হয়ে যাচ্ছেন না! ট্রিনিটিও সত্য প্রমাণিত হচ্ছে না। অনুরূপভাবে, বেদ-গীতা-রামায়ণ-মহাভারত-ইত্যাদি ধর্মগ্রন্থ চেঞ্জ না হলেও এবং তাদের মধ্যে কিছু বৈজ্ঞানিক স্টেটমেন্ট থাকলেও শ্রীরাম বা শ্রীকৃষ্ণ কিন্তু এই মহাবিশ্বের ক্রিয়েটর হয়ে যাচ্ছেন না। এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি অনেকেই বুঝতে সক্ষম হয়নি। ফলে বাইবেল, বেদ, গীতা, রামায়ণ, মহাভারত ইত্যাদি ধর্মগ্রন্থে যদি সত্যি সত্যি কিছু বৈজ্ঞানিক স্টেটমেন্ট থেকে থাকে সেগুলো মেনে নিতে মুসলিমদের কোনই সমস্যা থাকার কথা নয়। এক্ষেত্রে ইমব্যারাসমেন্ট তো দূরে থাক তাতে বরং মুসলিমদের খুশিই হওয়ার কথা। কারণ কোরানে অত্যন্ত পরিষ্কার করেই বলা আছে যে, প্রত্যেক জাতির মধ্যে মেসেজ সহ মেসেঞ্জার পাঠানো হয়েছে (১০:৪৭, ৩৫:২৪, ১৬:৩৬, ৪০:৭৮, ৪:১৬৪)। অন্যদিকে কোরানের বৈজ্ঞানিক স্টেটমেন্টগুলো মেনে নিতে কিন্তু নন-মুসলিমদের সমস্যা আছে। কারণ মুহাম্মদ (সাঃ) এর মেসেঞ্জারশিপ প্রমাণের জন্য অনেক পয়েন্টের মধ্যে এটিও একটি পয়েন্ট। আর এ কারণেই কোরানের বৈজ্ঞানিক স্টেটমেন্টগুলোর বিরুদ্ধে এত্তসব অপপ্রচার! এবার বিষয়টি সবার কাছে পরিষ্কার হওয়ার কথা।

‘বাইবেল’ বলে কোন নাম বাইবেলে নেই। ‘জুদাইজম’ ও ‘খ্রিস্টানিটি’ বলে কোন নামও বাইবেলে নেই। মোজেস ‘জুদাইজম’ নামক কোন ধর্ম প্রচার করেননি। যীশুখ্রীস্ট ‘খ্রিস্টানিটি’ নামক কোন ধর্ম প্রচার করেননি। তিনি কখনো ‘ট্রিনিটি’ ও ‘অরিজিনাল সিন’ বলেও কিছু প্রচার করেননি। তিনি নিজেকে কখনো ক্রিয়েটর বলে দাবি করেননি এবং তাঁকে ওয়ার্শিপের কথাও বলেননি। বর্তমান বাইবেল (ওল্ড ও নিউ টেস্টামেন্ট) ক্রিয়েটরের বাণী কি-না তার স্বপক্ষে তেমন কোন যুক্তি-প্রমাণ পাওয়া যায় না। বরঞ্চ বিপক্ষেই কিছু সলিড যুক্তি-প্রমাণ আছে।

‘ঋগ্বেদ’ বলে কোন নাম ঋগ্বেদে নেই। ‘ভগবত গীতা’ বলে কোন নাম ভগবত গীতাতে নেই। ‘হিন্দু’ ও ‘হিন্দুইজম’ বলে কোন নাম বেদ-গীতাতে নেই। ‘ঈশ্বর’ বা ‘ভগবান’ বলে কোন নাম বেদ-গীতাতে আছে বলে মনে হয় না। শ্রীরাম ও শ্রীকৃষ্ণ ‘হিন্দুইজম’ নামক কোন ধর্ম প্রচার করেননি। তাঁরা নিজেরা কোন ধর্মগ্রন্থও লিখে যাননি। প্রকৃতপক্ষে হিন্দু ধর্মের কোন অবতারই ‘হিন্দুইজম’ নামক কোন ধর্ম প্রচার করেননি। এমনকি ‘সনাতন ধর্ম’ বলে কোন নাম বেদ-গীতাতে আছে বলেও মনে হয় না। তাছাড়া ‘সনাতন ধর্ম’ তো আসলে কোন ধর্মের নামও হতে পারে না। বেদ-গীতা আদৌ ক্রিয়েটরের বাণী কি-না তার স্বপক্ষে কোন যুক্তি-প্রমাণ পাওয়া যায় না।

পক্ষান্তরে ‘কোরান’, ‘ইসলাম’ ও ‘মুসলিম’ নাম তিনটি কোরানে অনেকবার উল্লেখ করা হয়েছে (২:১৮৫, ৪:৮২, ৫:৩, ২:১২৮, ২:১৩১, ২২:৭৮)। মুহাম্মদ (সাঃ) যে নিজেকে ক্রিয়েটরের মেসেঞ্জার হিসেবে দাবি করেছেন তাতে মনে হয় নন-মুসলিমদেরও কোন দ্বিমত নেই। কারণ এটি একটি ফ্যাক্ট।

প্রশ্ন : মোজেস, যীশুখ্রিস্ট, শ্রীরাম, শ্রীকৃষ্ণ … প্রমূখ ব্যক্তিবর্গ কোন্‌ ধর্ম প্রচার করেছেন? মুসলিমরা কেন অন্যান্য ধর্মে বিশ্বাস করতে যাবে, যে নামগুলো তাদের ধর্মগ্রন্থেই নেই! ডাজ ইট মেক এনি সেন্স?

এবার যুক্তির খ্যাতিরে সবগুলো ধর্মের মূল গ্রন্থকে যদি ‘ডিভাইন’ ধরা হয় সেক্ষেত্রে ইসলাম-ই একমাত্র ‘ডিভাইন রিলিজিয়ন’ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার কথা। কারণ একমাত্র কোরান ছাড়া অন্য কোন ধর্মগ্রন্থে সেই ধর্মের নাম পাওয়া যায় না। এক্ষেত্রে ধর্মের নাম কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোরান তো তাহলে ঠিকই বলেছে (৩:১৯, ৩:৮৩-৮৫)। এখানে আবেগ বা পক্ষপাতদুষ্টতার কোন স্থান নেই! তিক্ত শুনালেও সত্যকে বা বাস্তবতাকে মেনে নিতেই হবে।

ইসলাম হচ্ছে ‘বেসব্যান্ড সিগনাল’ এর মত। এই ‘বেসব্যান্ড সিগনাল’ এর সাথে যুগে যুগে কিছু ‘নয়েজ’ যোগ হয়ে বিভিন্ন নামে আত্মপ্রকাশ করেছে মাত্র। ফলে ধর্ম নিয়ে যারা স্টাডি করেনি তারা মনে করে এই পৃথিবীতে অনেকগুলো ধর্ম ও ক্রিয়েটর আছে! প্রকৃতপক্ষে এই পৃথিবীতে একটিই ধর্ম ছিল এবং এখনো আছে আর সেটি হচ্ছে ইসলাম (Peace and surrender to Creator’s Will)। গীতা ও বাইবেলেও ইসলাম (Surrender to Creator’s Will) শব্দ আছে (Gita 12:11, 18:66; John 5:30)।

আস্তিক-নাস্তিক নির্বিশেষে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে একটি গ্রুপ যেখানে বিভিন্ন চোরা গলির আশ্রয় নিয়ে ইসলামকে ধ্বংস করার জন্য লেগে আছে, মুসলিমরা কিন্তু কখনোই তা করে না। মুসলিমরা মূলতঃ অন্যান্য ধর্মগ্রন্থের আলোকেই তাদের মৌলিক বিশ্বাসকে সংশোধন করার চেষ্টা করে, যেটা এই লেখাটি পড়লে অনেকটা পরিষ্কার হওয়ার কথা। মুসলিমরা কখনোই অন্যান্য ধর্মকে ধ্বংস করার চেষ্টা করে না; কারণ তারা নিশ্চিত যে, অন্য যে কোন ধর্ম সত্য হলেও সেটা ইসলামকে কোনভাবেই ফলসিফাই করতে পারে না, বরঞ্চ বিপরীতটাই সত্য হতে পারে।

নাস্তিকদের সাথে ডিবেট : নাস্তিকদের সাথে ডিবেটের শুরুতেই তাদেরকে স্ব-স্ব ধর্ম ত্যাগের যৌক্তিক কারণ জিজ্ঞেস করতে হবে। কেহ যদি কারণ বলতে না চায় তাহলে বুঝতে হবে যে সে আসলে নাস্তিক নয়, প্রতারক। এরকম প্রতারক কিন্তু অনেক আছে। যাহোক, যারা এই মহাবিশ্বের ক্রিয়েটরে বিশ্বাস করে না তাদেরকে প্রথমেই কিছু প্রশ্ন ছুঁড়ে দিতে হবে। যেমন : তারা কেন এই মহাবিশ্বের ক্রিয়েটরে বিশ্বাস করে না; তাদের বিশ্বাসের স্বপক্ষে সলিড যুক্তি-প্রমাণ আছে কি-না; কী ধরণের যুক্তি-প্রমাণ দেখালে তারা ক্রিয়েটরে বিশ্বাস করবেন এবং কেন। এই প্রশ্নগুলো ছুঁড়ে দেওয়ার সাথে সাথে দেখবেন যে তাদের পৃথিবী ছোট হয়ে শূন্যের কাছাকাছি চলে এসেছে! অর্থাৎ নাস্তিকদের সাথে প্রথমে ডিবেট করতে হবে ক্রিয়েটরের অস্তিত্ব নিয়ে। এ বিষয়ে পজেটিভ উপসংহারে না পৌঁছা পর্যন্ত কোরানে যাওয়াটা কিন্তু একদমই অর্থহীন। তবে কোরানকে একটি রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু কোরান ক্রিয়েটরের বাণী কি-না - এ নিয়ে তাদের সাথে বিতর্কে যাওয়া যাবে না। নাস্তিকরা যেহেতু ক্রিয়েটরেই বিশ্বাস করে না সেহেতু তাদের অবস্থান এই ডোমেইনের বাহিরে। এবং তাদের যেহেতু কোন মাপকাঠিও নেই সেহেতু তারা কিন্তু বলতেও পারবে না যে, কোরান ক্রিয়েটরের বাণী নয়। এমন কথা বলতে হলে যৌক্তিক কেস দাঁড় করাতে হবে, যেটা তারা পারবে না। সর্বশেষে তাদেরকে একটি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়া যেতে পারে : কোরানকে অত্যন্ত জোর দিয়ে ক্রিয়েটরের বাণী বলে দাবি করা হয়েছে এবং তার স্বপক্ষে অনেক যুক্তি-প্রমাণও আছে - এর পরও তারা কোরানে বিশ্বাস করে না কেন? অর্থাৎ বল সবসময় তাদের কোর্টেই রাখতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, আস্তিকদেরকে অফার করার মত নাস্তিকদের হাতে কিছুই নেই এবং কোনদিন থাকবেও না। নাস্তিকতা আসলে একটি ইল্লজিক্যাল, ইরাশনাল ও আন-প্র্যাগম্যাটিক বিশ্বাস - একদমই অন্ধ বিশ্বাস।

কামরান মির্জা, আবুল কাশেম, আযগর ও আলী সিনার মত স্বঘোষিত ইযলামিক মুরতাদদের ধরাশায়ী করার সহজ একটি উপায় হচ্ছে, তারা আদৌ কখনো মুসলিম ছিল কি-না তার স্বপক্ষে যুক্তি-প্রমাণ সহ তারা কেন ইসলাম ত্যাগ করেছে তার উপর কোরানের আলোকে অবজেক্টিভ কেস দাঁড় করাতে বলা। (নোট : ইহুদী পরিবারে জন্মগ্রহণ করে ইহুদী হওয়া গেলেও মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেই কিন্তু মুসলিম হওয়া যায় না! কারণ ‘মুসলিম’ কোন রেস নয়। মুসলিমত্ব অর্জন করতে হয়।) অবজেক্টিভ কেস দাঁড় করাতে বললেই দেখবেন যে তাদের হাঁটু কাঁপাকাঁপি শুরু হয়ে গেছে! আমি এ পর্যন্ত কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করেছি কিন্তু কেহই সাহস করে এগিয়ে আসেনি। তাদের মধ্যে কামরান মির্জা ও আযগর অন্যতম। কারণ এই প্রভুভক্ত দাস-দাসীরা খুব ভালভাবেই জানে যে তারা জনগণের সামনে ধরা খেয়ে যাবে! ফলে প্রভুদের কাছে তাদের আর কোন মূল্য থাকবে না! আগেই বলেছি, মুসলিম ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে মানুষ অজ্ঞতাবশত নাস্তিক বা ধর্মান্তরিত হয়। কেহই গবেষণা করে ইসলাম ত্যাগ করে না। বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক কারণে (যেমন : ৯-১১ নাটক, মিডিয়া প্রোপাগান্ডা, লোভ-লালসা, তিক্ত অভিজ্ঞতা, ইত্যাদি) ইসলাম ত্যাগের পর ‘গবেষণা’ শুরু করে তাদের না-বিশ্বাসকে জাস্টিফাই করার বৃথা চেষ্টা করে। সেই সাথে আবুল কাশেম, কামরান মির্জা, আলী সিনা, আযগর ও আয়ান হিরসি আলীর মত দাস-দাসীরা আবার বিভিন্ন প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে প্রভুদের খুশী করার জন্যও আপ্রাণ চেষ্টা করে! তারপর বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে ইচ্ছে হলেও আর ফেরা সম্ভব হয় না। মজার বিষয় হচ্ছে, এই পা-চাটা দাস-দাসীরা ইসলাম ত্যাগের ঘোষণা দিয়ে একদিকে যেমন ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা, বিদ্বেষ ও অপপ্রচার চালাতে থাকে অন্যদিকে আবার প্রভুদের ধর্মকে ডিফেন্ড করারও চেষ্টা করে! এমনকি বুশের মত ম্যাস মার্ডারারকেও তারা প্রকাশ্যে সমর্থন করতে দ্বিধা করে না। অন্য কোন ধর্মে এরকম অস্বাভাবিক মুরতাদ খুঁজে পাওয়া যায় না। আর এ কারণেই ইযলামিক মুরতাদদের এত বেশী ডিম্যান্ড! এই ফুলহার্ডি দাস-দাসীদের মহা-জ্ঞানী, মহা-বিজ্ঞানী, মহা-দার্শনিক, মহা-মানবতাবাদী ইত্যাদি খেতাবে ভূষিত করে ভাঙ্গা কুলার মত ব্যবহার করা হচ্ছে!

আগামী পর্বে সমাপ‌্য (লেখাটি রিপোষ্ট)

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

৩. ২২ শে জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৩:৪০
অলস ছেলে বলেছেন: আয়াত নাম্বারগুলো আমার এই সপ্তাহেই দরকার ছিলো। কি আজব। অনেক ধন্যবাদ। আপনারে একবেলা নাস্তা করাইতে মন চাইলো।
৫. ২৫ শে আগস্ট, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০৬
এস. এম. রায়হান বলেছেন: অন্য একজন ব্লগারের ফেভারিটে লেখাটির শিরোনাম দেখে চমকে উঠলাম। ক্লিক করে দেখি আমারই লেখা! ইসলাম বিষয়ক ভালো লেখা পেলে আমিও বিভিন্ন ফোরামে পোস্ট করার চেষ্টা করি তবে যথাযথ সোর্স উল্লেখ করে। আমিও চাই আমার লেখা যে কেউ অন্যের সাথে শেয়ার করতে পারেন। কিন্তু সৌজন্যতা বলে একটা কথা আছে। লেখকের নাম বা নিদেনপক্ষে লেখার সোর্স উল্লেখ করা উচিত। এই লেখাটি সদালাপ সাইটে প্রথম পোস্ট করা হয়েছিল :

http://www.shodalap.com/R_smart_like_Quran.htm

এই ব্লগে লেখাটি এখনও পোস্ট করি নাই কারণ কিছু এডিটিং ও মডিফিকেশন করতে হবে।
২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৩২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। আমি লেখাটি অন্য সাইটে পেয়েছি। শেষ পর্বে সেটার উল্ল্যেখ করবো ভেবেছিলাম।

৬. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৫৭
মহাজাগতিক বলেছেন: এককথায় চমৎকার। চোখ খুলে দেওয়ার মত। ধন্যবাদ।
৭. ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১১ বিকাল ৪:৪১
টিয়াপাখি বলেছেন: লেখাটা অসাধারণ। কিন্তু অন্যের লেখা এভাবে না বলে না দেওয়াই কি উচিত না? যেখানে লেখাটা এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে লেখা?

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৮০৬ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
মডারেশনের সকল অস্বচ্ছ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাই
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ