লেখকঃ সংসপ্তক
যথাযোগ্য স্থানে পুণঃপ্রকাশ করা হল
আলোচিত এই বেদের মেয়ে জোস্না দেখার আগে চলুন এর পূর্ববর্তী সিকোয়েল সত্যাশ্রয়ী গল্প অবলম্বনে নির্মিত "খাইছি তোরে" শীর্ষক আংশিক রংগীন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচিত্রের কিছু চুম্বক দৃশ্যের চিত্রনাট্য একবার ফ্ল্যাশব্যাকে দেখে নেই।
চুম্বক দৃশ্য ১: (রঙ্গীন)
তারিখঃ ১০ ই জানুয়ারী, ১৯৭২। রাজার আগমন উপলক্ষে ঢাকা বিমানবন্দরে সাজ সাজ সেট তৈরি। প্রোডাকশন ম্যানেজার আগে থেকেই কিছু ভাড়া করা লোক ফুলের মালা সহ জড়ো করে রাখবে। রাজা বিমানের অবরোহন সিঁড়ির প্রথম ধাপে পা দিয়েছেন, অমনি ছুটে গিয়ে একদল লোক গলায় ফুলের মালা পরিয়ে দিয়ে রাজাকে কদমবুচি করছে। রাজা তার স্বভাবসুলভ ভংগীতে হাত নাড়িয়ে জনতার সংবর্ধনার জবাব দিচ্ছেন। দূর থেকে গাড়ির সারি পর্দায় ভেসে উঠছে। কয়েক সেকেন্ড স্থায়িত্বের পর পর্দা কালো হয়ে দর্শককে জানান দিয়েছে দেশে রাজার আগমন আর এই দৃশ্যের সমাপ্তি।
দৃশ্য ২: (সাদাকালো)
সময় রাত আনুমানিক ৪ টা । ঢাকা আরিচা মহাসড়ক ধরে রক্ষীবাহিনীর একটি জীপ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। জাহাংগীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও সাভার ডেইরি ফার্ম গেইটের কাছাকাছি জংগলাকীর্ণ কোন এক জায়গায় এসে গাড়ির গতি শ্লথ হয়। বাহিনীর লোকজন গাড়ি থেকে একটি লোককে নামিয়ে দিয়ে পালিয়ে যেতে বলে। লোকটি দৌড়ে কয়েক গজ যেতেই চারটি গুলির আওয়াজ। গগণবিদারি কা কা আওয়াজ করে সংলগ্ন এলাকার বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তারে বসে থাকা ভোরের কাকগুলো দিগ্বিদিক উড়ে যেতে থাকে। কাট...।
পরদিন পত্রিকার পাতায় সিরাজ সিকদারের নিহত হবার ফার্ষ্ট লিড নিউজ পর্দায় স্থিরচিত্র আকারে দেখা যাচ্ছে। পরের মুহুর্তে পর্দায় দেখা যাচ্ছে একটি গ্রামীন জনপদের চায়ের দোকান যেখানে জড়ো হয়ে লোকজন রেডিওতে জাতীয় সংসদের কার্যবিবরনীর সরাসরি সম্প্রচার শুনছে। রাজা তার ভাসনের একপর্যায়ে তার স্বভাবসুলভ ধেড়ে গলায় প্রচন্ড অহংকারের সুরে বলছেন - "আজ কোথায় সেই সিরাজ সিকদার..." কাট...।।
দৃশ্য ৩: (এই দৃশ্যটি হবে রঙ্গীন)
স্থানঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল ও DUS সংলগ্ন চত্বর। সালোয়ার কামিজ পরা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুজন ছাত্রী নিতম্ব দুলিয়ে হেঁটে যাচ্ছে যা ক্যামেরার পুরো ফ্রেম তথা পর্দা জুড়ে দেখা যাচ্ছে। হঠাত একটি অর্বাচীন হাত এসে পড়ল একজন ছাত্রীর নিতম্বের উপর। হাত বেয়ে ক্যামেরা যখন হাতের মালিকের চেহারা দেখাবে তখন দর্শক ছিঃ বলে আঁতকে উঠছে। এযে আমাদের গুনধর রাজপুত্র কামাল। মেয়েটি ভয়ে শিউরে উঠবে এবং প্রতিবাদের শক্তি সঞ্চয় করার আগেই রাজপুত্রের লোকজন তাকে অপহরন করে তার গাড়ীতে নিয়ে তুলছে। কাট।
আলো আঁধারির একটি কক্ষে মেয়েটিকে জোর করে আটকে রাখা হবে। কিছুক্ষন পর সে ঘরে শেখ কামালের আগমন। সন্ত্রস্ত মেয়েটি সম্ভ্রম বাঁচানোর চেষ্টায় ঘরের এককোনে জড়সড় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আচমকা তার ওড়না ধরে কামালের টান। মেয়েটি ওড়না ছাড়তে না চাওয়ায় সেই টানে প্রায় শেখ কামালের কাছে চলে এসেছে। শেখ কামাল নাগালে পেয়ে মেয়েটিকে জোরপূর্বক বিছানায় শুইয়ে দিয়ে চুমু দেওয়ার চেষ্টা করে। (সেন্সর বোর্ডের কাঁচির হাত থেকে বাঁচানোর জন্য পরিচালক এ সময় সংঘটিত সিকোয়েন্সটি দর্শকদের বোঝাতে একটি টেকনিক্যাল শর্টের আশ্রয় নিয়েছে) পর্দায় দেখা যাচ্ছে একটে গ্রামীন বাড়ির আংগীনায় একটি সামর্থবান মোরগ মুরগীকে তাড়া করছে। কিছুক্ষন তাড়া করার পর নাগালে পেয়ে মোরগটি মুরগীটির ঘাড়ে ঠোঁট দিয়ে কামড়ে ধরে যৌন কর্মটি সারছে। কয়েক সেকেন্ড স্থায়িত্বের পর মোরগটি মুরগীর গায়ের উপর থেকে নেমে লেজের পেখম নাড়িয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। কাট ...
পর্দায় দেখা যাচ্ছে সেই আলো আঁধারির কক্ষটি। বিছানার উপর এলোচুলে শুয়ে আছে মেয়েটি। লজ্জা, অপমান, আর ধস্তাধস্তির ক্লান্তিতে মৃয়মান। ক্যামেরা তার ক্লোজ আপ শর্টে মেয়েটির দুটো চোখ দেখাচ্ছে। এ সময় দু ফোঁটা অশ্রু তার হেলে থাকা দিকের চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে বিছানার চাদরের উপর। cut...
দৃশ্য ৪: (রঙ্গীন ও সাদাকালোর মিশ্রণ)
প্রেক্ষিতঃ দেশব্যাপী দূর্ভিক্ষ। চারদিকে ক্ষুধার্ত মানুষ আর মৃত্যুর মিছিল। ফুঁসে উঠছে জনতা কিন্তু প্রতিবাদের সাহস নাই। কামাল জামালদের ব্যাংক ডাকাতি আর নারী নির্যাতন দেশব্যাপী এক সর্বজন বিদিত সংবাদ যা রাজাকে বিচলিত করছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া শেখ কামালের ছাত্রী ধর্ষনের ঘটনায় সেই মেয়েটির সংগে কামালের বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজা। দেশব্যাপী দূর্ভিক্ষের মধ্যেও রাজসিক বৈবাহিক আয়োজন।
পর্দায় একান্তরে দেখানো হচ্ছে সোনার জড়োয়া পরে সুলতানা নাম্নী বধুর সলাজ উপস্থিতি আর অপরদিকে রংপুরের জনৈক বাসন্তির জাল পরে লজ্জা নিবারণের দৃশ্য। বউভাতের টেবিলে রাজসিক খাবার কোরমা পোলাউয়ের ছড়াছড়ি আর অপর দিকে ডাষ্টবিনে কুকুরে মানুষে খাবারের জন্য কাড়াকাড়ি। পরস্পর বিপ্রতীপ এই দৃশ্যগুলোর মধ্যে প্রথমগুলি হচ্ছে রংগীন আর দ্বিতীয়গুলি হচ্ছে সাদাকালো। এরকম কিছুক্ষন চলার পর পর্দায় দেখা যাচ্ছে একটি পরিপাটি রাজসিক বাসরঘর। বিছানার মাঝখানে বসে আছে নব পরিণীতা সুলতানা কামাল। কিছুক্ষন পর সে ঘরে শেখ কামালের সলাজ প্রবেশ। নব বধুর ঘোমটা খুলে চোখে চোখ রেখে তাকিয়ে দেখছে তার কামের শিকার এক পূর্ব ধর্ষিতা বধুকে। মেয়েটির চোখে দেখা যাবে প্রচন্ড ঘৃনা মিশ্রিত এক পরাজয়ের ছাপ। শেখ কামাল বউকে শুইয়ে দিয়ে চুমু দিতে উদ্যত। পরিচালক এই সিকোয়েন্সটি দেখানোর জন্য আবার একটি টেকনিক্যাল শর্টের আশ্রয় নিয়েছেন । এ পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে দুটি লাল রক্তজবা ফুল বাতাসে দোল খেয়ে পরস্পরকে টোকাটোকি করছে। kaT....
দৃশ্য ৫:
তারিখ: ১৫ ই আগষ্ট ১৯৭৫। সময়: আনুমানিক ভোর ৪ টা। স্থানঃ ৩২ নম্বর বাড়ী। ধানমন্ডি, ঢাকা।
সাঁজোয়া যান বাড়িটিকে ঘিরে রেখেছে। সেনাপোষাকে কিছু লোক বাড়ির ভিতর প্রবেশ করেছে কোন প্রতিরোধ ছাড়াই। আক্রান্ত হওয়ার খবরে রাজার দিগ্বিদিক টেলিফোন। ঘাতকরা রাজাকে নিচে নেমে আসতে বলছে। রাজা তার স্বভাবসুলভ ধমকের সুরে বলছেন, "এই তোমরা কারা? আমার সংগে বেয়াদবি করছ কেন?" রাজার কথা শেষ হতে না হতেই মেশিনগানের ট্রিগারে চাপ দেয় এক ঘাতক। রাজা লুটিয়ে পড়েন সিঁড়িতে। ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরোয় রাজার দেহ থেকে। অন্য ঘাতকরা তখন খুজে বেড়ায় পরিবারের অন্য সদস্যদের। এক একটা মেশিন গানের ট্রিগারের চাপে সাংগ হয় রাজার পরিবারের একেকজন সদস্যের ভবলীলা। খাটের নিচে লুকিয়ে থাকা শিশু, রাজার ছোট ছেলে শেখ রাসেলকে টেন বের করে আনে এক ঘাতক। গুলি করতে উদ্যত হলে শুনতে পায় যাত্রাপালার অদৃশ্য বিবেক চরিত্রের ন্যায় কে যেন বলছে, " এই শিশুটিকেও?" উত্তরে ঘাতকটি বলে, হ্যাঁ। কারণ, নগর পুড়লে দেবালয় এড়ায় না। মুহুর্তেই চাপ পড়ে ঘাতকটির হাত চেপে থাকা ট্রিগারে। .....কাট
দৃশ্য ৬:
স্থানঃ টুংগীপাড়া, গোপালগঞ্জ । দুটি সামরিক হেলিকপ্টার আকাশে উড়ছে যুতসই স্থানে অবতরনের জন্য। অবশেষে অবতরন। হেলিকপ্টার থেকে নামিয়ে আনা হচ্চে শেখ পরিবারের সদস্যদের লাশ। আগে থেকেই খুঁড়ে রাখা কবেরের সারি দেখা যাচ্ছে পর্দায়। এক এক করে সমাহিত করা হয় লাশগুলো। একটি বিশেষ কবরের উপর ক্যামেরার দৃশ্যধারণ স্থির থাকবে প্রায় আধা মিনিট যেটিতে রাজাকে সমাহিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ইতিহাসের এক একনায়কের করুন জীবনাবসানের বার্তা দর্শকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াস থাকবে।
অন্যদিকে দেখানো হবে ঢাকার চিত্র। স্থান সংসদ ভবন সংলগ্ন মানিক মিয়া এভিনিঊ। বিশাল আকৃতির একিটি পতাকা দন্ডের শীর্ষে পত পত করে বাতাসে উড়ছে লাল সবুজ পতাকা। তারই উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে এক জোড়া শান্তির প্রতীক সাদা পায়রা। ক্যামেরার ফোকাস পতাকা দন্ড বেয়ে নিচে নেমে আসছে। ভূমি সমান্তরালে আসতেই দেখা যাচ্চে লক্ষ কোটি জনতা রাজপতনের খবরে আনন্দে উল্লসিত। মাইকে বেজে চলছে একটি গান যার সাথে জনতা কন্ঠ মিলিয়ে গাইছে- "মুক্তির মন্দির সোপান তলে .........।""সেই সংগে আকাশে ছুঁড়ে তোলা কিছু বিজয়ী হাত। ক্যামেরার ফোকাস তেমনি একটি হাতে এসে স্থির হয়ে যাবে কয়েক সেকেন্ডের জন্য। তারপর পর্দায় দৃশ্যপট কালো দেখা যাবে। কালো পটভূমির উপর সাদা ফন্টে ভেসে উঠবে এই চলচিত্রের Tag line- "এক নেতার এক দেশ, এক রাতেই গুষ্ঠি শেষ।"
****************************************************************
পাদটিকাঃ এই সিরিজের পরবর্তী সিকোয়েল হিসেবে নির্মিত হবে পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি "পালাবি কোথায়" যার শুত মহরত গত ২৫ ও ২৬ ডিসেম্বর ২০০৯ বিডিআরের দরবার হলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে থাকছেন হাসিনা, তাপস, গুরু নানক, আজম, মতিয়া, সাহারা সহ আরো অনেকে। অদূর ভবিষ্যতে এ ছবির সংক্ষিপ্ত কাহিনীসংক্ষেপ আপনাদের জানানোর চেষ্টা করবো। তবে যারা ঐ মুভিটি দেখার আগে ক্লাইমেক্স সম্পর্কে অবহিত হতে চান না তাদেরকে spoiler alert হিসেবে জানিয়ে রাখছি আপনারা আপাতত এই ব্লগারের লেখায় চোখ রাখবেন না। প্লিজ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





