ভারতের চাপের কাছে নতিস্বীকার করতে হলো বাংলাদেশকে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে সীমান্তের ৫০ গজের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের অনুমতি বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে আদায় করে নিল ভারত। প্রথমে বিডিআর এ কাজে বাধা দিলেও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে কেবল তারা সরেই আসেনি, মাপজোক করে স্থাপনা তৈরির জন্য বিএসএফকে জায়গাও বুঝিয়ে দিয়ে এসেছে। এর আগে বিএসএফ বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্তে জোরপূর্বক কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করলেও এই প্রথম সীমান্তে বেআইনি স্থাপনা নির্মাণে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিডিআর আনুষ্ঠানিক সম্মতি দিল।
এ ছাড়া সীমান্তের ৪৬ টি পয়েন্টে বাংলাদেশের ভূমিতে ঢুকে বেড়া নির্মাণ করার আবদার তুলেছে ভারত। এজন্য বাংলাদেশের ওয়ার্কিং টিম সরেজমিন বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে। কমিটি ৬ টি শর্তসাপেক্ষে সীমান্তের ১২ টি পয়েন্টে বাংলাদেশের জমিতে বেড়া নির্মাণ করতে দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শর্তগুলো হলো, তিনবিঘা করিডোর ইস্যু নিষ্পত্তি করা, ৩২ টি ফেনসিডিল কারখানা সীমান্ত এলাকা থেকে সরিয়ে নেয়া, ছিটমহল সমস্যার স্থায়ী সমাধান, পঞ্চগড় ও বাংলাবান্ধায় পর্যটন সুবিধা দেয়া, দুই দেশের যৌথ সিদ্ধান্তে লক্ষ্মীপুরে নির্মিত ব্রিজের সংযোগ সড়ক নির্মাণ এবং অপদখলীয় ভূমি সমস্যার স্থায়ী সমাধান। অথচ এসব ইস্যুর সমাধান ছাড়াই বাংলাদেশ একের পর এক ছাড় দিয়ে চলেছে।
বিএসএফ আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন অমান্য করে আখাউড়া সীমান্তের ২০১৯ মেইন পিলারের সাব পিলার ৯ এস ও ১০ এস পিলারের মাঝামাঝি আজমপুর সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরেই কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা করছিল। গত শুক্রবার দুপুরে বিএসএফ বেড়া নির্মাণ করতে এলে বিডিআর যথারীতি বাধা দেয়। এতে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। আখাউড়া সীমান্তের ওপারে আগরতলা বিমানবন্দর। ওই বিমানবন্দরের নিরাপত্তার নামে বিএসএফ সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে ৫০ গজের মধ্যে বেড়া নির্মাণের জন্য অনেক দিন থেকেই চেষ্টা করে আসছিল; কিন্তু বিডিআরের তীব্র বাধার মুখে তা বার বার ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত গতকাল বিডিআরকে হার মানতে হয় সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ১৫০ গজের মধ্যে দুই দেশের কেউ কোনো স্থাপনা তৈরি করতে পারে না। আজমপুরে বেড়া নির্মাণের ব্যাপারে নজিরবিহীন ও বেআইনি সমঝোতার বিষয়টি দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত মতে হয়েছে।
বেড়া নির্মাণ নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় বিডিআর-বিএসএফের পতাকা বৈঠক শুরু হয়। সকাল সাড়ে এগারটায় বৈঠক শেষে বিডিআর ১ রাইফেলস ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর মাসরুর আহম্মেদ শিহাব এর ভাষ্যমতে, কোন জায়গায় বিএসএফ বেড়া নির্মাণ করবে তা মাপজোক করে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।
রাইফেলস ব্যাটালিয়ন ১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আবু সালেহ জানা, সরকারের অনুমতি রয়েছে আজমপুর সীমান্তের ওপারে বিএসএফ ৫০ থেকে ১৫০ গজের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করতে পারবে।
বৈঠকে বিডিআরের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ১ রাইফেলস ব্যাটালিয়ন উপ-অধিনায়ক মেজর মাসরুর আহম্মেদ শিহাব। অপরদিকে বিএসএফের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিএসএফ ৬ ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক লে. কর্নেল সঞ্জয় চৌহান।
সুত্রঃ আমার দেশ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

