কোন রকমে টিকে থাকা শেষ, বেঁচে থাকার শুরু....

নিজের দিকে একটু তাকান - ১

২৩ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৫৬

শেয়ারঃ
0 3 0

একটা স্বাস্থ্য বিষয়ক লেখা সবার সাথে শেয়ার না করে পারছি না। অনেক দিন আগে পেয়েছিলাম। লিফলেটে ছিল। দরকারি মনে হলো। তাই ব্লগে হুবহু দিলাম। কারো কাজে লাগলে এটা যিনি লিখছেন এবং যারা প্রচার করছেন তাদের শ্রম সার্থক হতে পারে।
_____________________________________
সুস্থ হোন, সুস্থ থাকুন

“ভবিষ্যতে চিকিৎসক রোগীকে ওষুধ না দিয়ে তাকে শেখাবেন শরীরের যত্ন নেওয়া, সঠিক খাদ্য নিবার্চন, রোগের কারণ নির্ণয় ও তা প্রতিরোধের উপায়।”
টমাস আলভা এডিসন,মার্কিন আবিষ্কারক।


এডিসন যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন তা আজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলেও শরীরের যত্ন, খাদ্য বিচার ও রোগ ঠেকানোর ব্যাপারেও এখনও যথেষ্ট সচেতন নই।তাই বিভিন্ন মানবদরদী চিকিৎসক ও গবেষকের পরামর্শের ওপর ভিত্তি করে কিছু লেখার এ ক্ষুদ্র প্রয়াস।


০১.
উপযুক্ত ব্যায়াম ও খাদ্যাভ্যাস এবং প্রফুল্ল মনই হচ্ছে সুস্থ থাকার চাবিকাঠি। আসলে আমাদের জীবনে এত দুশ্চিন্তা বা টেনসন থাকে যে, আমরা হাসি খুশি থাকতে পারি না। অথচ কথায় আছে, ক্যান্সার যত না কবর ভরেছে তার চেয়ে বেশি ভরেছে টেনসনে। সুতরাং ভালোভাবে বাচঁতে চাইলে মনকে প্রফুল্ল রাখতে হবে। এ জন্য ভালো চিন্তা ও ভালো কাজের কোন বিরোধ নেই। সেই সাথে নিজেকে জড়াতে হবে কোন সৃজনশীল কাজের সাথে।

০২.
চার বছর বয়স থেকেই ব্যায়াম শুরু করা উচিৎ। ব্যায়াম অনেক রকম। যেমন হাঁটা,সাতাঁর কাটা ও দৌড়ঝাঁপ ইত্যাদি ব্যায়াম,সাইকেল কিংবা অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালিয়ে ও ভারী কিছু ওপরে তোলার মাধ্যমে ব্যায়াম ,দেহের অঙ্গপ্রতঙ্গ মালিশের দ্বারা ব্যায়াম এবং দেহকে বিশেষ ভঙ্গিমায় রেখে যোগ ব্যায়াম। সব ব্যায়ামেই উপকার হয়। তবে বয়স,শারীরিক অবস্থানুযায়ী প্রয়োজন,পরিবেশগত সুবিধা,সময়ের সীমাবদ্ধতা ও মানসিক প্রবনতার কথা ভেবে ব্যায়াম বেছে নেয়া ভালো। কিন্তু কিছু ব্যায়াম আছে যা একেবারে শয্যাশায়ী বা চলাফেরায় অক্ষম না হলে সবার পক্ষেই করা সম্ভব। এ লেখায় সেগুলোর উপর জোর দেয়া হয়েছে।

০৩.
প্রতিদিন ৪৫ মিনিট জোরে হাঁটুন। একবারে না পারলে কয়েকবারে। এতে দেহের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নমনীয় থাকে ও মগজে প্রচুর অক্সিজেন ঢোকায় দুশ্চিন্তা কমে। হাঁটায় মহিলাদের ঋতু বন্ধজনিত হাড়ক্ষয় এবং অন্যান্য জটিলতাও রোধ হয়।

০৪.
অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নড়াচড়া এবং মালিশ করা ভালো ব্যায়াম। কারণ এতে রক্ত সঞ্চালন সহজ হওয়ায় চর্বি জমতে পারে না। এখানে দেহের গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্থানে মালিশের উল্লেখ করা হলো যার দ্বারা কাছের তো বটেই,দূরের অংগ প্রত্যঙ্গও উপকৃত হয়।
ক) যখনই সম্ভব পুরো মাথা মালিশ করলে মাথায় ভালোভাবে রক্ত চলাচল মগজ তথা স্নায়ুকেন্দ্র ভালো থাকে ও সহজে চুল পড়ে না কিংবা পাকে না।
খ) প্রত্যহ ১০ মিনিট হাত ঘুরিয়ে ভেজা কপাল মালিশ করলে শারীরিক বৃদ্ধির জন্য দ্বায়ী পিটুইটারি গ্রন্থি সতেজ থাকে।
গ) কানের সামনে পেছনে মলিশ করলে এবং কানের লতিসহ কান মোচড়ালে পাকস্থলী ভালো থাকে।
ঘ) নাকের ডগা হাতের তালু দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ডললে কিডনি সবল থাকে।
ঙ) শরীর ও মনের প্রথম শিকার হচ্ছে ঘাড়। কজেই ঘাড় মালিশ করলে এবং মাথা ওপর নিচ ও চারপাশে হেলিয়ে ঘোরালে ঘাড় নমনীয় থাকে।
চ) চোয়ালের নিচে গলার দু’পাশে মালিশ করলে থাইরয়েড ও টনসিল গ্রন্থি ভাল থাকে।
ছ) কনুইয়ের জোড়ায় হালকা চাপ দিলে এবং কনুই ও কবজির মাঝখানে স্বাভাবিকভাবে মালিশ করলে হাত খুব সচল থাকে।
জ) নাভির চারপাশে মালিশ করলে দুশ্চিন্তা কমে এবং চিৎ হয়ে এটি করলে সহজে আন্ত্রিক গোলযোগ হয় না।


৫.
শুয়ে পেটের উপর দু’হাত রেখে গভীরভাবে নাক দিয়ে শ্বাস নিয়ে পেট ফুলিয়ে মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়লে ফুসফুসের শক্তি বাড়ে এবং দিনে ২০ মিনিট এটি করলে ভালো ঘুম হয়। দেহের সার্বিক শক্তি বৃদ্ধি ও তারুন্য ধরে রাখার জন্য একটানা যতক্ষণ পারা যায় মলদ্বার সংকোচন করা এবং ছেড়ে দেয়া খুবই ভালো একটি ব্যায়াম ।

০৬.
স্নায়ুতন্ত্রের একটি বড় অংশ শেষ হয়েছে হাতের তালুতে ও পায়ের তলায়। এ জন্য হাততালি দিলে চোখের ছানি দূর হয়,উচ্চ রক্তচাপ কমে এবং স্মরণশক্তি বাড়ে। পায়ের তলা কর্কশ কোন কিছু,ধুন্দুলের ছোবড়া কিংবা প্লাস্টিকের ব্রাশ দিয়ে দিনে মোট ২০ মিনিট ঘষলে দেহের সব অঙ্গ প্রত্যঙ্গই উদ্দীপ্ত হয় , সতেজ থাকে এবং রোগাক্রান্ত হলেও ধীরে ধীরে সুস্থ হয়। বিশেষত অনিদ্রা,হৃদরোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধে এবং মহিলাদের গর্ভাবস্থায় খুব উপকার পাওয়া যায়। পায়ের তলা ঘষার পর আঙ্গুলগুলো ওপর নিচ করে টানুন।

০৭.
মুখ ধোয়ার সময় চোখে পঁচিশ বার পানির ঝাপটা দিন। নাক দিয়ে পানি যতটা পারা যায় টানুন ও ছাড়ুন। এতে সহজে সর্দি-কাশি হবে না। উপরন্তু এটি মাথাব্যথা,সাইনোসাইটিস ও মাইগ্রেইনে খুব উপকারী।

০৮.
আমাদের উপমহাদেশে উদ্ভাবিত যোগ ব্যায়াম আজ সারা পৃথিবীতে সমাদৃত,অথচ আমরা অনেকে এ বিষয়ে অজ্ঞ। তবে যোগ ব্যায়াম উপর অনেক সুলিখিত বই আজকাল পাওয়া যায়। এসব পড়ে এবং সম্ভব হলে কোনো বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে সঠিক ধারনা পেতে পারেন। এ ব্যায়ামের মূল বৈশিষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন দেহ ভঙ্গিমা যাকে আসন বলা হয়। এক-এক আসনে দেহে এক-একভাবে চাপ পড়ে যা দেহের এক এক অংশের উপকার সাধন করে। এসব আসনে কিছুক্ষণ থাকার পর একটি বিশেষ আসনে বিশ্রাম নিতে হয় যাকে বলে শবাসন।

০৯.
মনকে চিন্তামুক্ত রেখে বালিশ ছাড়া চিৎ হয়ে হাত ছড়িয়ে শুয়ে শবাসন করতে হয়। সকালে ঘুম ভাঙ্গলে লাফিয়ে বিছানা থেকে না উঠে কিছুক্ষণ শবাসন করুন। এতে শক্তি ও আত্মবিশ্বাস বাড়ে। প্রতিদিন আধঘন্টা শবাসন করলে মেরুদণ্ড ভাল থাকে, অনেক পরিশ্রম ও মানসিক চাপ সহ্য করা যায় এবং দেহের যেকোন ব্যাথা ও লুকানো সমস্যা দূও হয়। উল্লেখ্য, মেরুদণ্ড ও পাঁজরের হাড়ের মজ্জা থেকে বেশির ভাগ রক্ত উৎপন্ন হয়।

১০.
সকালে নাস্তারআগে আরও দুটি যোগাসন করুন : পবনমুক্তাসন ও ভুজঙ্গাসন। রতে খাবার হজম হওয়ার সময়ে পেটে জমে উঠা বায়ু যাবতীয় রোগের এক-তৃত্বীয়াংশের জন্য দ্বায়ী। ওপরের দু’টি আসন পেট বায়ুমুক্ত করে ও হজম শক্তি বাড়ায়। পবনমুক্তাসন হাঁপানি, পিঠ ও কোমর ব্যথা এবং বহুমূত্র বা ডায়বিটিস রোগের জন্য উপকারী। ভুজঙ্গাসনও সবরকম পিঠ ও কোমর ব্যথা, উচ্চ রক্তচাপ এবং স্ত্রীরোগ উপসম করে। খাওয়ার পর বজ্রাসন ছাড়া আর কোনো যোগাসন করা যায় না। বজ্রাসন হজম ও সুনিদ্রা সহায়ক এবং কোমর থেকে পা পর্যন্ত দেহাংশ মজবুত রাখে।

চলবে...

জেবুন নেসা
চীফ পার্সার
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস
(লেখকের অনুমতি ছাড়াই দিলাম। আশা করি লেখক ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন)

পরের অংশ পড়তে চাইলে:
নিজের দিকে একটু তাকান - ২

 

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুলাই, ২০১০ রাত ৯:৩৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৫৯
রাজসোহান বলেছেন: ওরেব্বাশ

পি।এইচ।ডি করলেন কবে? ;) ;) ;) :P :P
২৩ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:০৭

লেখক বলেছেন: বস বিএসসি ই করলাম না আবার পিএইডি।আহ হা হা।হাসাইলেন।ওটা যার লেখা তার সাথে যোগাযোগ করতে পারলে নিজেরে ধন্য মনে করতাম।অবশ্য পরে যোগাযোগ করবো।

২. ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:০৯
কাঠের খাঁচা বলেছেন: প্লাস দিয়া প্রিয়তে নিলাম।

প্রিয়তে নিলাম দেইখা থ্যাংকু দেয়ার কিসু নাই। আমার প্রিয় দেইখা আস্লেই বুঝবেন
২৩ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:২৩

লেখক বলেছেন: দেখে এলাম।

২৪ শে জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:১২

লেখক বলেছেন: কাজে লাগান তবে।

২৪ শে জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:১৩

লেখক বলেছেন: ভালো

৫. ২৪ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:২০
গরম কফি বলেছেন: । কতটা নির্ভর যোগ্য সে বিষয়ে কিছুটা ইয়ে আছে তবে দারুন তথ্য । +++
২৪ শে জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:১৩

লেখক বলেছেন: ক্ষতি তো নেই।তাই চর্চা শুরু করতে পারেন। আমিও করছি।

৬. ০৪ ঠা মে, ২০১০ সকাল ১১:১৪
মাহবু১৫৪ বলেছেন: +++

এরকম জটিল একটা পোস্ট এও এত কম কমেন্ট!!!!!!!
০৮ ই মে, ২০১০ দুপুর ২:৪৯

লেখক বলেছেন: পাবলিক রিলেশন ভালো না।তাই ভাই।ধন্যবাদ।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০০৬১ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
© লেখকের অনুমতি ব্যতীত এই ব্লগের কোন লেখা, ছবি সম্পূর্ণ বা আংশিকরূপে কোথাও প্রকাশ করা যাবে না।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ