আমার প্রিয় পোস্ট
- অশোকনামা - সিদ্দিক আহমেদ
- পরাধীন ভারতে প্রাচ্যজাগতিক চর্চা ও বুদ্ধিজীবীদের বর্ণ বিদ্বেষ - রঞ্জন বর্মণ
- মুসলমানের দর্শন ও বিজ্ঞান তথা মুক্তবুদ্ধি চর্চা (পর্ব-১১) - পারভেজ আলম
- প্রিয়বরেষু জাহিদুর রহমান মাসুদের জন্য একটি সংক্ষিপ্ত নোট - প্রতিধ্বনি, তুমিতো
- প্রাচীন বাঙলার শ্রীজ্ঞান অতীশ দীপঙ্কর - ভাবসাধক
- স্রষ্টা তার স্পেশ্যাল এজেন্ট এর কাছে কতই না অসহায়.......... - ত্রিদীব
- আবদুল্লাহ্ ইবনে সাবার কল্পকাহিনী ও শীয়া মতবাদ - জাগারণ
- বাঙালি মুসলমানের পরিচয়.. - খারেজি
- কোরান অবিকৃত অবস্থায় সংরক্ষিত হয় নি - সাহোশি৬
- মদিনার তিনটি ইহুদি গোত্রের বিতাড়ণ -এপোলোজেটিক এবং এটাকিং ভার্শন - দুরের পাখি
বাঙ্গালী মুসলমানদের মননের অধোগতি এবং এ বিষয়ে আমার উপলব্ধি------ প্রথম পর্ব
১০ ই আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ২:৩২
"ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা"- আমার মতে এই বাক্যটির প্রতি বাঙ্গালী মুসলমানদের অতিমাত্রায় বিশ্বাস, একে লালন এবং সর্বক্ষেত্রে একে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টাই আমাদের অধোগতি এবং পিছিয়ে থাকার মূল কারণ। শুধুমাত্র অন্ধভাবে মোল্লাতন্ত্রকে অনুসারী প্রতিক্রিয়াশীল জনগোষ্ঠীই নয় অনেক উচ্চশিক্ষিত মুসলমান যারা ধর্মকর্ম তেমন একটা করেন না তাদেরকেও অনেকটা অভ্যাসের বশেই এ বাক্যটি হরহামেশা আওড়াতে দেখা যায়। আর যারা মোল্লাতন্ত্রের অনুসারী তাদের বেলায়তো কথাই নেই। প্রয়োজনে দেশের সব মানুষকে মেরে হলেও রাষ্ট্র ও জীবনের সর্বস্তরে ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। জীবনের মূল্য তাদের কাছে নগন্য। সব মূল্য হচ্ছে ব্যবস্থার। জীবন অবশিষ্ট না থাকলেও চলবে। তবে কাংখিত ব্যবস্থাটি অবশ্যই কার্যকর থাকতে হবে।
এ বাক্যটির দিকে অতিমাত্রায় ঝুকে থাকা বা এর প্রতি মাত্রাতিরিক্ত আকর্ষণের মূল কারণ হচ্ছে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা। আমাদের দেশের শতকরা প্রায় ৯৫ জন শিশুর শিক্ষাজীবন শুরু হয় ধর্মীয় শিক্ষার মধ্য দিয়ে। লজ্জাস্থান ঢাকার মতো জ্ঞান হয়নি এমন শিশুদেরকেও কায়দা হতে দৌড়ে মক্তবে যেতে দেখা যায়। এসব মক্তবের শিক্ষক হচ্ছেন মাদ্রাসার অর্ধশিক্ষিত মোল্লারা। 'চৌদ্দশত বছরের পুরনো সমাজব্যবস্থা বর্তমানের ব্যবস্থার চেয়ে অনেক উত্তম ছিল এবং সে ব্যবস্থা যেকোন মূল্যে কায়েম করতে হবে'- এই মন্ত্রটি একজন কোমলমতি শিশুর মগজে রোপন করেন এই অশিক্ষিত মোল্লারাই। শিশুদেরকে সাম্প্রদায়িক বিভক্তির শিক্ষা দেয়া হয় এখানেই। মানুষ শৈশবে যা শিখে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া সারাজীবনই তা বহন করে। এ কারণেই মুসলমান মাত্রই বিশ্বাস করে একমাত্র ইসলামের অনুসারীরাই সর্বশেষ্ঠ, বাকিরা অভিশপ্ত।
জীবনের শুরুতে মগজে রোপন করা সেই বীজের বৃত্ত থেকে বের হওয়া খুব কম শিশুরই ভাগ্যে জোটে। উপরন্তু মক্তবের এই পাঠ সমাপ্ত করার পর যারা মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত হন তাদের চিন্তা জগৎ রোপিত এই বীজকে মহীরুহে রূপান্তর করে। তাঁদের কর্ম, তাঁদের চিন্তা, তাঁদের ধ্যান সব পরিচালিত হয় তথাকথিত সর্বশ্রেষ্ঠ জীবনব্যবস্থা-কে প্রতিষ্ঠিত করার প্রচেষ্টায়। এর বাইরেও যে আলাদা একটা জগত আছে, ভালভাবে বাঁচার যে আরো অবলম্বন আছে তা তাঁরা মানতে নারাজ। আধূনীক শিক্ষার কোন চিন্তা বা মনন তাঁদের মাঝে নেই। তবুও তাঁরা নিজেদের শিক্ষিত ভাবে এবং অন্যদের নিজের মতের বশে আনতে চায়।
শুধু মাদ্রাসা শিক্ষায় নয়, সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তিরাও সহজে এই বৃত্ত থেকে বের হয়ে আসতে পারেনা। আপনি দেখবেন সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থায়ও মাধ্যমিক পর্যন্ত ধর্মীয় শিক্ষা একরকম বাধ্যতামূলক। ধর্মশিক্ষা বইয়ের বাইরেও অন্যান্য পাঠ্য বিষয়েও একটা না একটা ধর্মীয় কাহিনী ঢুকানো হয়। এই ধর্মশিক্ষা এবং শৈশবের মক্তবকেন্দ্রিক শিক্ষার সমন্বয়ে সে একজন মডারেট মুসলমানে পরিনত হয়, মডারেট মানুষে নয়। আমাদের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে হিজবুত তাহরীর বা তবলীগ জামাতীদের সাম্প্রতিক উত্থান এই মডারেট ইসলামী শিক্ষারই ফসল।
আমাদের ধর্মকেন্দ্রিক এই শিক্ষাব্যবস্থা মননশীল সমাজ গঠনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। সমাজ ও শ্রেণীকে বিভক্ত করেছে। জঙ্গীবাদের প্রেরণা ও সম্প্রসারণ করেছে। দেশকে মানুষের নয় বরং মুসলমানের দেশে পরিনত করেছে। ড. আহমেদ শরীফ, হুমায়ুন আজাদ, তসলিমা নাসরীন, দাউদ হায়দার সহ যারা ভিন্নচিন্তা করার সাহস দেখিয়েছে তাঁদের টুটি চেপে ধরেছে। বিগত সময়ে ধর্মীয় প্রভাবের মাত্রাটা কতোটা বেড়েছে তা আমাদের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দিকে তাকালে স্পষ্ট হবে। প্রগতিশীল ও ধর্মনিরপেক্ষ দল হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিলেও এই দলের নেত্রী তাঁর নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন পীরের মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে। নির্বাচনের শুরুতে প্রতিজ্ঞা করেছেন ক্ষমতায় গেলে ইসলাম বিরুদ্ধ কোন আইন প্রণয়ন করবেন না। মুসলমানদের পক্ষ্যে আনার জন্য বক্তব্যের শুরুতে বিসমিল্লাহ'র সংযোজন করেছেন (এক সময় তাঁরা তা করত না)। শুধু তাই নয়, দেশের ধর্মান্ধ সম্প্রদায়কে সন্তুষ্ট ও শান্ত রাখার তাগিদে এই সরকারের আইনমন্ত্রীকে বলতে হয়েছে যে, দেশ যদি বায়াত্তরের সংবিধান ফিরতও যায় তবুও সংবিধানে বিসমিল্লাহ থাকবে। কি আশ্চর্যের বিষয়, আপনি ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান চালু করবেন অথচ সংবিধানের শুরু করবেন একটি ধর্মীয় শ্লোগান দিয়ে।
আমাদের ধর্মকেন্দ্রিক শিক্ষার ফলে দেশের কওমী মাদ্রাসাগুলো থেকে মানুষ বের হচ্ছেনা, বের হচ্ছেন জঙ্গী। সরকার কর্তৃক স্বীকৃত আলীয়া মাদ্রাসাগুলো মৌলবাদী রাজনীতিবিদ গড়ার এক একটা কারখানা। আর সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো মডারেট মানুষ নয়, মডারেট মুসলমান তৈরী করছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে বাংলাদেশ নিকট ভবিষ্যতেই মডারেট আফগানিস্তানে পরিনত হবে।
কিন্তু আমার বিশ্বাস বর্তমান সরকার এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকগণ দেশটির এ পরিনতি দেখতে চাননা। তাঁরা অবশ্যই একটি মননশীল সমাজ ও রাষ্ট্র দেখতে চান। যদি সত্যিই তাঁরা তেমনটা চান তবে তাঁদের অবশ্যই এই ভোটের রাজনীতির মারপ্যাচ থেকে বের হয়ে আসতে হবে এবং সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তাঁদের অবশ্যই ধর্মীয় বিষয়াদি মুক্ত একটি সুষ্ঠু শিক্ষানীতি প্রণয়ন করতে হবে এবং মাদ্রাসা শিক্ষার প্রসার-কে শক্ত হাতে দমন করতে হবে।
পরবর্তী পর্বে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা আশা রাখি।
------------------------------------------------------------------------চলবে
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ২:৩৪ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
মো. লুৎফর রহমান বলেছেন:
ফালতু মিয়া বলেছেন: হিট বাড়ানোর আরো অনেক কৌশল আছে, সেগুলো চেষ্টা করে দেখতে পারেন। বাঙ্গালী মুসলমানদের মননের অধোগতি এবং এ বিষয়ে আমার উপলব্ধি---- তুমি কোন দেশি?
নাবালক বলেছেন:
ভাল লিখেছেন... ধন্যবাদ
ম্যাক্স পেইন বলেছেন:
এইটা কি আপনার নিজের পোষ্ট?মুক্তমনা ব্লগে কিন্তু অধার্মিকের ধর্মকথা নামে একজন লেখক আছেন
এইটা কিন্তু তার লিখা
লেখক বলেছেন: If you can prove this i will end my blog life here.
If false what you will be?
বক্তব্যের ঐকতান থাকতে পারে। কিন্ত মুক্তমনাতে আমি কোনদিন যাইনি। কোন লেখা পড়িনি।
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন:
ফাক-ই-স্হান হইলো ইসলামের ধারক তাই ঐখানে বোমা খাইয়া অথবা তরবারী দিয়া মুসলমানরা আরেক মুসলমানরে কাটে মাযহাবের নাম কইরা!আফগানিস্তান নামের আরেক মুসলিম দেশের জাতীয় রাজস্ব আসে পপি আফিমের চাষ থিকা
ইরানের মতো দেশে হাড়ে হারামী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার জন্য স্নাইপার দিয়া আরেক জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকান্ড ঘটায় আর সেই বিক্ষোভ থাইমা গেলে গোপনে সেইডার আবার মিথ্যা প্রহ সনের বিচার করে!
ইরাকে সাদ্দাম শাসনামলে ৮০০০০ কুর্দি একত্রিত করে তুর্কির বর্ডারে জমা করে কেমিক্যাল আকির রাসায়নিক অস্ত্র দিয়া বিনা বিচারে জায়গায় মানুষ মারতে!
সৌদির মতো দেশে চরম অব্যাস্হাপনা আর মার্কিনীদের পা চাটা কুত্তা হয়ে নিজের দেশে পেট মোটাদের আখড়া বানানো।
আর পুরা মধ্যপ্রাচ্য অশিক্ষা কুশিক্ষায় সব ক্ষেত্রে পিছিয়ে শুধু তেল বেচে আর সারা বিশ্বে জঙ্গীবাদ ছড়ায়ে সবার জানের হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে!
সেই তুলনায় আমার দেশের মানুষ অনেক ভালো আছে!
মাইনাস এই পোস্টে!
লেখক বলেছেন: দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৬৩টি-টে একসাথে বোমা ফাটাইয়া নিজেদের উপস্থিতি জানানোর পরেও যদি আপনার মনে হয় আমরা ভাল আছি, তাহলে অবশ্যই ভাল আছি। মরুভূমিতে ঝড় আসলে উট তার মাথাটারে বালির মধ্যে গুজে রাখে। তার ধারণা সে ঝড় না দেখলে ঝড় আসবে না। তাই বলে ঝড় কিন্তু থেমে থাকে না।
বিবরতন বলেছেন:
good books with proper logic required to set the relegion in the life. new vision required - not by hamparing the soft - limited beliefe; but with proper logic and reality.
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন:
বিবরতন বলেছেন: good books with proper logic required to set the relegion in the life. new vision required - not by hamparing the soft - limited beliefe; but with proper logic and reality.নয়া পাশ কইরা বয়ান দিবার লাগচে! কম্পু থিকা পাশাইছো নাকি?
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন:
লেখক বলেছেন: দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৬৩টি-টে একসাথে বোমা ফাটাইয়া নিজেদের উপস্থিতি জানানোর পরেও যদি আপনার মনে হয় আমরা ভাল আছি, তাহলে অবশ্যই ভাল আছি। মরুভূমিতে ঝড় আসলে উট তার মাথাটারে বালির মধ্যে গুজে রাখে। তার ধারণা সে ঝড় না দেখলে ঝড় আসবে না। তাই বলে ঝড় কিন্তু থেমে থাকে না।আপনে সেই কথা কইলে অন্যান্য শয়তান মুসমানের দেশ থিকা ভালা আছি। কারন ওর হোতাদের ফাসি দিছি। আর যাই হোউক ঐসব দেশের গ্রামের পর গ্রাম জঙ্গীদের দখলে যায় নাই।
ভাইজান একটা কথা কন তো, নিজের দেশরে অন্যান্য শয়তান মুসলমান দেশের থিকা কুন দিক থিকা খারাপ আছে?
লেখক বলেছেন: হ্যা, খারাপদের মধ্যে ভাল আছি। তাদের হয়তো দুই পা ভাঙ্গছে। আমাগ একটা ভাঙ্গছে। তবে রাশ টাইনা না ধরলে বাকিটাও যে ভাঙ্গবনা তার কোন নিশ্চয়তা আছে কি?
দুরের পাখি বলেছেন:
প্লাস দিলাম ।
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন:
তবে এইটা ঠিক, মাদ্রাসা গুলান ইনস্ট্যান্ট বন্ধ কইরা পুড়ায় ফেলা উচিত!
ধীবর বলেছেন:
লেখক ভাইজান, এইখানেই ক্ষেমা দেন। বাকি টূকু না লিখলেও চল্বো। মাইনাস।
জাতি জানতে চায় বলেছেন:
লেখক@ এত গরজ যখন তখন আপনার মত লোকেরা মাদ্রাসা লাইনে শিক্ষকতা করলেই তো অনেকেই অন্ধকার থাইকা বাঁচিয়া যাইত! হেরা নিশ্চয়ই ব্লগে আসিয়া আপনার লেহা পড়িতেছে না!! নাকি অর্ধশিক্ষিত-অশিক্ষিত মোল্লারা আছে দেইখাই আপনারা এইসব লিখিয়া দু-চার পয়সা ইনকাম হয়?যেসব টল্টুজীবির নাম উল্লেখ করলেন তাদের ভিন্ন চিন্তা এতই ভিন্ন ছিলো যে মরার পরও তাদের জানাযা দিয়া কবর দিতে হয়! ধর্ম বিরোধী জঙ্গী কি চোখে পড়ে না? নাকি চরমপন্থী দলের পক্ষ থেকে এই পোস্ট! যে সরকারের উপর আপনার এত অগাধ বিশ্বাস তারা কিন্তু রাতের আঁধারে কাওমীদের সাথে চুক্তি করে, ঐক্যের রাজনীতিও করে। নাকি এগুলা গিলা খাইয়া ফালাইছেন!!!!!
ম্যাক্স পেইন@ লেখকের আসল পেইন ধরার জন্য ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ম্যাক্স পেইনতো আর ফিরেন নাই। আপনি ফিরবেন কি?
রিয়াজুল ইস্লাম বলেছেন:
আপনি তো মশাই আমার আস্কিতা নিয়ে একটি পোষ্টে কমেন্ট করেছিলেন: চুলকানির পোষ্ট।তো আপনার এই পোষ্টের উদ্দেশ্য কি??
লেখক বলেছেন: দেশের শিক্ষাব্যবস্থা থেকে মোল্লাতন্ত্র দূরীকরণ।
আস্তিকতা বা নাস্তিকতা যার যার বিশ্বাস। অন্যের ক্ষতিসাধন না করে যে কেউ তার বিশ্বাস পালন করতে পারেন। কিন্তু শিক্ষা সর্বজনীন। কোন বিশেষ ধর্মের বা মোল্লাশ্রেণীর নয়।
রিয়াজুল ইস্লাম বলেছেন:
আপনাকে ছোট একটা প্রশ্ন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালেয় যে ক্যাডার বাহিনী...............এরা কি ইসলাম ধর্মের শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার ফসল??
লেখক বলেছেন: আপনি রগ কাটা ইসলামী ছাত্র শিবিরের সুসন্তানদের বিষয়ে বলছেন?
আর বাকি লেখায় অনেক দ্বিমত থাকলেও, যেহেতু সিরিজ আকারে লিখার আশা করছেন সেহেতু পরবর্তী পর্বগুলোর জন্য অপেক্ষা!
নিরাভরন বলেছেন:
ইসলাম পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা এটাতে বিশ্বাস যদি সব সমস্যার মূলে থাকে তবে আপনি একটা পরিপূর্ণ ব্যবস্থার খোঁজ দিন বরং। উপরে আপনি ছাত্রশিবিরের সমালোচনা করেছেন কিন্তু রিয়াজুলের প্রশ্নটি কিন্তু বেশ স্পষ্ট। আপনি কি ইচ্ছা করে তার প্রশ্নটিকে না বোঝার ভান করলেন? ক্যাডার বলতে কেবল ছাত্রশিবিরকে ভাবার কারন টি কি? আপনার কি মনে হচ্ছে ছাত্রদল বা ছাত্রলিগের ক্যাডার বাহিনী নেই/ছিলনা। আপনার অবস্থান পরিষ্কার করবেন দয়া করে।
আপনি বলছেনঃ
"তাঁদের অবশ্যই ধর্মীয় বিষয়াদি মুক্ত একটি সুষ্ঠু শিক্ষানীতি প্রণয়ন করতে হবে এবং মাদ্রাসা শিক্ষার প্রসার-কে শক্ত হাতে দমন করতে হবে"
আপনার কি মনে হয় দেশের বেশিরভাগ মানুষের চাওয়া এরকম? গনতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর কি আপনার আস্থা নেই?
"আমাদের ধর্মকেন্দ্রিক শিক্ষার ফলে দেশের কওমী মাদ্রাসাগুলো থেকে মানুষ বের হচ্ছেনা, বের হচ্ছেন জঙ্গী"- আমার তো মনে হয় এই উগ্রবাদ বিপরিতমুখী উগ্রবাদের উত্তর মাত্র। কই আজ থেকে দশ বছর আগেত মাদ্রাসা গ্র্যাজুএটদের এধরনের আচরন দেখিনি।
মানুষকে মানুষ ছারা অন্যকিছু না ভাবতে পারলে কিন্তু জঙ্গীবাদ তৈরি হতে পারেনা। যাদের প্রতি আজকে ডেমনাইজিং মন্তব্য ছাড়বেন তারা আপনার সংজ্ঞার কারনেই হয়ত কালকে ঘাতক হয়ে উঠতে পারে। সে দায় কিন্তু আপনারও।
লেখক বলেছেন: পূর্নাঙ্গ জীবনব্যবস্থা বলে কোন কথা নেই। ব্যবস্থা সময়ের প্রেক্ষিতে গড়ে ওঠে এবং সময়ের প্রেক্ষিতে বদলায়। যুগের জন্য যা কল্যাণকর তাই গ্রহণ করা উচিত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাডার বাহিনীরা মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত এবং সাধারণ শিক্ষা দুই শিক্ষায় শিক্ষিত আছে। আমাদের সাধারণ শিক্ষাটাও সেমি-রিলিজন বেইজড। তবে ক্যাডার বাহিনীর ক্ষতিটা একটা নির্ধারিত জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকে। সারাদেশে বোমাবাজি নয়।
আমাদের দেশে বিপরীতমুখী উগ্রতা কোথায় দেখলেন?
নিরাভরন বলেছেন:
"আমাদের দেশে বিপরীতমুখী উগ্রতা কোথায় দেখলেন?"আপনার পোস্ট থেকেই তো কোট দিলাম। আপনি বলছেন মাদ্রাসা থেকে যারা পাশ করছে তারা মানুষ নয়। মানুষকে 'মানুষ নয়' ভাবাকে কি বলেন? এটাকেই বলে ডেমনাইজেশন। বলছেন কাওমী মাদ্রাসার কথা। আপনার মতে কাওমী মাদ্রাসা থেকে যারা পড়াশোনা করে তারা জঙ্গী। কিন্তু এটা কি ভেবে দেখেছেন সেকুলাররা তাদের বিশ্বাস বা সংস্কৃতির প্রতি কতটা শ্রদ্ধাশীল? দারি আর টুপিকে সেকুলার কলমের খোঁচায় আজকে একটা ভয়ংকর রূপ দেয়া হয়েছে। মানুষ হিসাবে একজন ধর্মবিশ্বাসী হিসাবে বেঁচে থাকা এই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠের দেশেও কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে। একটা সময়ে এটা ছিল না। পশ্চিমা বুদ্ধিজীবিদেরকে গুরু মানার ফল হিসাবে এখন সেকুলারিসম একটা ফেশন হয়ে দাড়িয়েছে। অনেকে না বুঝে সেই স্রোতে গা ভাসান। নিজের দেশের মানুষকে জঙ্গী আক্ষা দিয়ে আত্মপ্রসাদ পায়।
আপনি যদি মাদ্রাসা শিক্ষা বন্ধ করার কথা না বলে বরং বলতেন সেকুলার শিক্ষার প্রতি একসেসও থাকুক আপনার ভাবনাকে হয়ত উগ্র না ভাবার একটা কারন থাকত। আপনার লাইনে পৃথীবির সবচেয়ে সমাদৃত ডকিন্স সাহেবও আপনার মত ধর্মীয় শিক্ষা বন্ধের কথা বলেনি-যতদূর মনে পড়ে।
"তবে ক্যাডার বাহিনীর ক্ষতিটা একটা নির্ধারিত জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকে। সারাদেশে বোমাবাজি নয়।"
দেশের কোন জেলায় ক্যাডার বাহিনীর দ্বারা ক্ষতি সাধন হয়নি? একটা জেলার নাম বলুন। নিরপেক্ষভাবে পত্রিকা খুলে বসুন। গত পাঁচ বছরের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের পাশাপাশি হিসাব দাড় করান। তারপর দেখুন আপনার মতামত কোন দিকে যাচ্ছে। পশ্চিমে চিন্তা চেতনা ধার করে যখন থেকে আমরা আমাদের সমাজের একটা অংশকে রাজনীতিক কারনে "মানুষ নয়" বলতে শুরু করেছি তার আগে এই জঙ্গীবাদ কোথায় ছিল? ভেবে। আপনার কোন রাজনৈতিক কোন এজেন্ডা থাকে ভিন্ন কথা কিন্তু তা না হলে আপনার অবস্থান পুনর্বিবেচনা করুন। সেকুলার থাকতে চান এদেশের মানুষের ইতিহাসে ধর্মচিন্তার প্রভাবকে খাঁটো করে দেখা থেকে নিজেকে বাচান। দরকার হয় ডকিন্স সাহেবের লেখা পড়ুন। কিছুটা সুস্থতার দেখা পাবেন। যদি বলেন মাদ্রাসা উঠিয়ে দিতে হবে একমত নই। যদি বলেন তাদেরকে বিজ্ঞান দর্শন সম্পর্কে শিক্ষার সুযোগ দিতে হবে সাথে আছি। মানুষকে মানুষ পদবাচ্য হবার অধিকার নাদিয়ে, তার নিজের পছন্দ মত শিক্ষার সুযোগ না দিয়ে যদি তার উত্তরনের কথা ভাবতে হয় সেটাকে একপেশে চিন্তাই ভাবব।
লেখক বলেছেন: ১। বিপরীতমুখী উগ্রতা যদি বলেন তাহলে বলবো ধর্মান্ধরাই তা শুরু করেছে এবং এখনও তা করছে। আপনি উদাহরণ দিতে পারবেন সেক্যুলার মতাবদে বিশ্বাসী কোন ব্যক্তি কোন মোল্লার ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে তাঁকে হত্যা করতে চেয়েছে, তাঁকে আক্রমণ করেছে বা তাঁর ফাঁসী চেয়েছে। কিন্তু মোল্লাতন্ত্রীরা এ ধরণের ঘটনা হরহামেশাই ঘটাচ্ছে
২। যে শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে কোন ব্যক্তি মানুষ হত্যাকে পূণ্য মনে করে আমি তাঁকে কোন অবস্থায়ই মানুষ বলতে পারিনা। তাঁকে শুধু জঙ্গী নয়, জানোয়ার বলা উচিত। মানুষ শিক্ষার মাধ্যমে নিজেকে বদলায়, মানুষের জন্য কাজে আসে। কিন্তু জানোয়ার কখনও বদলাতে পারেনা। বরং সময়ের সাথে তাঁর হিংস্রতা ও স্বার্থপরতা বাড়ে।
৩। আপনাকে ধর্মীয় শিক্ষা নিতে কে নিষেধ করেছে? আপনি পারিবারিকভাবে ধর্মীয় শিক্ষা নেন। কে আপনাকে বাঁধা দিচ্ছে? ধর্মকে পৃষ্ঠপোষকতার জন্য রাষ্ট্র কেন? রাষ্ট্র ধর্মের নয়, রাষ্ট্র সবার।
৪। ডকিন্স সাহেবের বিষয়টা এখানে না এনে নিজের পান্ডিত্যটা না জাহির করলেও পারতেন।
রিয়াজুল ইস্লাম বলেছেন:
@নিরাভরন: ১৬ নং কমেন্টের উত্তরে লেখক যা লিখেছেন তাতেই লেখকের মুক্তমনার দৌড় কতটুকু সেটা প্রকাশ পায়। সুতরাং উলবনে মুক্ত ছড়িয়েন না।অযাযিত উপদেশ হয়ে থাকলে ক্ষমা করবেন।
লেখক বলেছেন: ঠিক আছে, আমি মহামূর্খ আর আপনি মহাজ্ঞানী।
এবার জ্ঞানী সাহেব বলেন আপনার পরিবারের কতজন সদস্য মাদ্রাসায় পড়ে? আপনার সন্তানরা কি মাদ্রাসায় পড়ে? না তাদের পড়াবেন?
উত্তর দেয়া অবশ্য আবশ্যক নয়।
মনির হাসান বলেছেন:
... দারুন লিখেছেন ... অসাধারণ বিশ্লেষন ... ... এই বঙ্গীসমতটের সাম্প্রদায়িক শক্তির গোড়ায় বসে আছে "না শিক্ষিত না ধার্মিক" নামের আজব একটা শ্রেনি ... (এরা নিজেদের দাবী করে "উদার মুসলীম") এদের দায় অনেকাংশে ... এদের ব্যাপারে আলোকপাত করা উচিত ছিল ।
লেখক বলেছেন: লেখার সীমাবদ্ধতা ধরিয়ে দেয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ। ভবিষ্যতে এই সীমাবদ্ধতা উত্তরণের চেষ্টা থাকবে।
অনেক ধন্যবাদ, মনির।
মনির হাসান বলেছেন:
পোস্ট প্রিয়তে ... ভালো ত্থাকুন ...
নিরাভরন বলেছেন:
@রিয়াজুলঃ আপনার অবস্থান বুঝতে পারছি। সুচিন্তিত প্রশ্নের এরকম উত্তর আসলে এমনটা ভাবারই কথা। কিন্তু বিষয়টা যেহেতু দরকারি আর অন্য পাঠকরাও এখানে উকি দিচ্ছেন কাজেই চিন্তার ফাঁক ধরিয়ে না দিলে একটা ভুল ইম্প্রেশন থেকে যেতে পারে। তাছাড়া বলা তো যায় না একসময় তিনি আমাদের রিচার্ড ডকিন্স হয়ে উঠবেন না সেটাই বা কে বলতে পারে। ডকিন্স সাহেবের তত্ত্বে বিশ্বাস করিনা আমি। কিন্তু তার মত কেউ যদি আমাদের মধ্যে থেকে গজিয়ে যায় তাহলে সমাজে বিপরীত চিন্তার লোকেরাও হয়ত একজন উপযুক্ত প্রতিপক্ষ আর চিন্তার খোরাক পেয়ে যেতে পারেন।
নিরাভরন বলেছেন:
@মনির হাসান ... এই বঙ্গীসমতটের সাম্প্রদায়িক শক্তির গোড়ায় বসে আছে "না শিক্ষিত না ধার্মিক" নামের আজব একটা শ্রেনি ... (এরা নিজেদের দাবী করে "উদার মুসলীম") এদের দায় অনেকাংশে ... এদের ব্যাপারে আলোকপাত করা উচিত ছিল ।----------একটু সময় করে আপনি নিজেই না হয় আলোকপাত করুন।
মনির হাসান বলেছেন:
কারেকশন ... বঙ্গীসমতটের = বঙ্গীয়সমতটের
রিয়াজুল ইস্লাম বলেছেন:
@নিরাভরন: আপনি হয়তো নিচের বইটি পড়ে থাকতে পারেন। ডকিন্স সাহেবের তত্ত্বের ফাটলগুলো এখানে বেশ গুছিয়ে তুলে ধরা হয়েছে।Click This Link
নিরাভরন বলেছেন:
@রিয়াজুল ইস্লাম -লিঙ্কটির জন্য ধন্যবাদ । বইটি এখনও পড়া হয়নি। পড়ার চেষ্টা করব। সারমর্ম পড়লাম। ভাল লাগল। যতদূর বুঝি আস্তিকতা বা নাস্তিকতা কোনটিকেই অকাট্যভাবে প্রমান করা যায়না। দিনের শেষে তা ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দের ব্যপারই হয়ে দাঁড়ায়। আর বিজ্ঞানকে ধর্মের বিপরীত ভাবাটাও দর্শনের দিক থেকে একটা ভুল। বিজ্ঞানকে যাই ভাবা হোক এর গন্ডীও সীমিত, এটা অনেক মুক্তমনাই খেয়াল করেননা। অনেক ধন্যবাদ। ভাল থাকুন।
দাম বলেছেন:
ফালতু মিয়া বলেছেন: হিট বাড়ানোর আরো অনেক কৌশল আছে, সেগুলো চেষ্টা করে দেখতে পারেন।আপনার সেক্যুলার শিক্ষা এ বিষয়ে কি বলে? পৃথিবীর কোন দেশে সেক্যুলারিজম সঠিক শিক্ষা দিতে পেরেছে একটু জানাবেন।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।
হোরাস্ বলেছেন:
গুড পোস্ট। +
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।
লড়াকু বলেছেন:
আমাদের দেশে একজন দম নিতে শেখার অনেক আগেই তার গলা টিপে ধরা হয়। অক্সিজেনের স্বল্পতার কারণে তারা স্বাভাবিকভাবে চিন্তাও করতে পারে না। দেশের নব্বই শতাংশ জনগণই এই দুর্ভাগ্যের শিকার।মাদ্রাসা শিক্ষা পুরোপুরি বন্ধ করা জরুরী, কারণ মাদ্রাসা মূলত আমাদের সমাজে বিদ্যমান বৈষম্যের বহিঃপ্রকাশমাত্র। আমাদের তথাকথিত ধর্মীয় নেতারা কিন্তু তাদের সন্তানদের মাদ্রাসাতে পড়ান না, ঠিকই দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেন উন্নততর শিক্ষার জন্য। কিন্তু দেশের গরীব মানুষদের সন্তানদের মাথা ধোলাই করার জন্যে তারা মাদ্রাসা ঠিকই রাখতে চান।
যারা মাদ্রাসা শিক্ষার পক্ষে কথা বলে তারা কি আমাকে দেখাতে পারবে দেশের কোন উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানটিকে মাদ্রাসাতে পাঠানো হয়?
পোস্টে প্লাস।
লেখক বলেছেন: সর্বাংশে একমত।
ড. জাফর ইকবাল একবার বলেছিলেন, একটা পরিসংখ্যান নিয়ে দেখা উচিত যারা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করেন তাঁদের শতকরা কতজন সন্তান মাদ্রাসায় পড়ান।
অনেক ধন্যবাদ।
অ্যামাটার বলেছেন:
কয়েকটা প্রশ্ন করবো, পিছলি কাটবেন না,"এ কারণেই মুসলমান মাত্রই বিশ্বাস করে একমাত্র ইসলামের অনুসারীরাই সর্বশেষ্ঠ, বাকিরা অভিশপ্ত।"---এই ফতোয়া কৈ পাইলেন? কুরআনের কোন সূরা'র কত নম্বর আয়াতে? কোন হাদীসে?
"এ বাক্যটির দিকে অতিমাত্রায় ঝুকে থাকা বা এর প্রতি মাত্রাতিরিক্ত আকর্ষণের মূল কারণ হচ্ছে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা। আমাদের দেশের শতকরা প্রায় ৯৫ জন শিশুর শিক্ষাজীবন শুরু হয় ধর্মীয় শিক্ষার মধ্য দিয়ে। লজ্জাস্থান ঢাকার মতো জ্ঞান হয়নি এমন শিশুদেরকেও কায়দা হতে দৌড়ে মক্তবে যেতে দেখা যায়। এসব মক্তবের শিক্ষক হচ্ছেন মাদ্রাসার অর্ধশিক্ষিত মোল্লারা"--- আমাদের শিক্ষাব্যাবস্থায় তো ইসলামী শিক্ষা শুধুমাত্র মুসলিম ধর্মালম্বীদের জন্য, তাহি হিন্দু-খৃষ্টান-বৌদ্ধ ধর্মালম্বী শিশুদেরও জোড় জবরদস্তি ইসলাম গেলানো হয়? আর আমাদের মেইন স্ট্রীম শিক্ষা ব্যাবস্থায় কারিকুলামে যে ধর্মীয় শিক্ষা চালু তাছে, তা তো অতি পরিশীলিত। সেখানে কেবল মাত্র নৈতিকতা এবং মূল্যবোধ সংক্রান্ত বিষয়গুলোই সিলেবাসে অন্তর্ভূকত। কোনও রকম জেহাদী জোশ তো ঢোকানো হয়নাই। আপনে কি দু'-চারটা লাইনও পড়ে দেখেন নি, নাকি কেবলই সার্কাসের ক্লাউন হতেই দুম করে পোষ্ট মারলেন??
"...আশ্চর্যের বিষয়, আপনি ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান চালু করবেন অথচ সংবিধানের শুরু করবেন একটি ধর্মীয় শ্লোগান দিয়ে।"---এই বুদ্ধি নিয়ে নাস্তিকতার ঝান্ডা উড়ালে যে কেবলই তামাশা'র বস্তুতে পরিণত হতে হবে ভায়া! আসল কথা হল, সংবিধানের শুরুতেই 'বিসমিল্লাহ্' শব্দটা উচ্চারণ করা/না করাতে মহাভারত শুদ্ধ/অশুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে না, তবে উক্ত শব্দের প্রতি কিছু লোকের খুজলি আনন্দদায়ক
কওমি মাদ্রাসা থেকে জঙ্গি বের হচ্ছে, এ' ব্যাপারে অবশ্য একমত।
" আর সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো মডারেট মানুষ নয়, মডারেট মুসলমান তৈরী করছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে বাংলাদেশ নিকট ভবিষ্যতেই মডারেট আফগানিস্তানে পরিনত হবে। "---কিন্তু শেষদিকে গিয়ে অন্তঃসার শূণ্যতা বের হয়ে গেল। গর্দভ, ধর্মীয় স্বীকৃতি রাষ্ট্রীয়ভাবে থাকলেই যদি রাষ্ট্র মৌলবাদেরট প্রতি ঝুঁকে পড়ে, তাইলে ইউরোপের অলমোষ্ট ৯৫% রাষ্ট্রই হল ক্রিশ্চিয়ান সংখ্যাগরিষ্ঠ, ধর্মের চর্চাও সেখানে নির্বিঘ্ন। তাহলে এই একবিংশ শতকে কমসে কম গোটা পঞ্চাশেক উগ্র ধর্মীয় সুপার পাওয়ারের দেখা পাচ্ছি!
শেষমেশ এইটা বোঝাযাচ্ছে, নাস্তিকতার লেবাসধারীদের কেবলমাত্র 'ইসলাম' শব্দটার প্রতিই অ্যালার্জি আছে, আর লেজ ঢাকতে ব্যাবহার করছে ধর্ম নিরপেক্ষতার ঢাল।
লেখক বলেছেন: ১। "এ কারণেই মুসলমান মাত্রই বিশ্বাস করে একমাত্র ইসলামের অনুসারীরাই সর্বশেষ্ঠ, বাকিরা অভিশপ্ত।"---এই ফতোয়া কৈ পাইলেন? কুরআনের কোন সূরা'র কত নম্বর আয়াতে? কোন হাদীসে?"
কুরআন বা হাদীসের কথা বলিনি,মুসলমানদের সাধারণ অনুভূতির কথা বলিছি। আপনি কি এটা অস্বীকার করতে পারেন কোরআন নাজিল হওয়ার পর এই গ্রন্থ যা বিশ্বাস করে বা ধারণ তাঁর বাইরের বিশ্বাসকে মুসলমানের জন্য নিষিদ্ধ বা বাতিল করা হয়েছে । কোরআন বা হাদিস যে বিষয়-কে স্বীকৃতি দেয়না তাঁর বাইরের মতবাদ কি ইসলাম মতে স্বীকৃত?
দুঃখিত, প্রশ্নের বদলে পাল্টা প্রশ্ন হয়ে গেল। তবে প্রশ্নের উত্তরেই আপনার উত্তর খুঁজে পাবেন।
২। মাদ্রাসা শিক্ষার বাইরেও আমাদের যে সাধারণ শিক্ষা আছে তাতে ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক। ধর্ম বইয়ের বাইরেও অন্য যে পুস্তক আছে তাতেও ধর্মীয় কাহিনী ঢুকানো হয়। আমি সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত। আমি মেট্রিক পরীক্ষায় সময় দেখেছি বাংলা সিলেবাসেও অনেকগুলো ধর্মীয় কাহিনী বা জীবনাচারণ ছিল। এক্ষেত্রে একজন অন্য ধর্মের অনুসারীকেও নিতান্তই বাধ্য হয়ে পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তরের জন্য এ ধর্মীয় বিষয়গুলো পড়তে হচ্ছে। আপনি কি এখানে জোর করে অন্য ধর্মের লোককে আপনার ধর্মের বিষয় গিলাচ্ছেন না?
মাফ করবেন, এখানেও প্রশ্নের বদলে পাল্টা প্রশ্ন হয়ে গেল। তবে প্রশ্নের উত্তরেই আপনার উত্তর খুঁজে পাবেন।
৩। আমেরিকার প্রথা মতে বাইবেল হাতে শপথ নেয়া প্রেসিডেন্টের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। তা ব্যক্তিগত ইচ্ছা। শপথ অনুষ্ঠানে মুসলমান সহ সব ধর্মের পুরোহিতরা উপস্থিত থাকেন।
৪। এই প্যারার পরে হঠাৎ করে সম্বোধনটা আপনি থেকে তুমিতে নিয়ে এলেন কেন? প্রথম প্যারাতেতো আপনি বলেই ডাকছিলেন।
৫। আমার লেখায় নাস্তিকতার কি পেলেন? আপনি নিজেই বলছেন কওমী মাদ্রাসা থেকে জঙ্গী বের হচ্ছে। আমিও তা বলেছি। এখন এই সত্য বলাটা (যা আপনিও স্বীকার করলেন) তা কি নাস্তিকতা?
দুঃখিত, প্রশ্নের বদলে পাল্টা প্রশ্ন হয়ে গেল। তবে প্রশ্নের উত্তরেই আপনার উত্তর খুঁজে পাবেন।
ম্যাক্স পেইন বলেছেন:
মুক্তমনায় আপনার মত লেখা আছে, আপনারটা নাতবে আপনি কিছু কিছু জায়গায় লস্ট, এইগুলা ঠিক কইরা ফালান,
তইলে আরও ভাল হইব,আপনার ব্যক্তগত মতামতকে পুরা জাতি গোষ্ঠীর মত হিসাবে চালাইয়েন না
লেখক বলেছেন: এটলিস্ট স্বীকার করার জন্য ধন্যবাদ। এরপর কনফার্ম হয়ে এ ধরণের বিব্রতকর মন্তব্য করবেন। একই মতের লেখা অনেক থাকতে পারে।
আমি কোথায় লস্ট সেটা স্পষ্ট করেন। জাতির উপর চালাইতে চাইনা, নিজের মত প্রকাশ করেছি।
তবে আপনার বক্তব্যের স্টাইলে মনে হচ্ছে আপনি কিছু আমার উপর চাপাইতে চাইতাছেন।
সেজুঁতি বড়ূয়া বলেছেন:
ফাউল পোস্ট!
নিরাভরন বলেছেন:
"ডকিন্স সাহেবের বিষয়টা এখানে না এনে নিজের পান্ডিত্যটা না জাহির করলেও পারতেন"
প্রতিমন্তব্য হতাশাজনক। সমাজপরিবর্তনের এজেন্ডা নিয়ে লেখা দিতে গেলে ভিন্ন মতের ব্যপারে আরেকটু ধৈর্যশিল হওয়া দরকার। এতে পারস্পরিক চিন্তার আদান প্রদান সহজ হয়। আর ডকিন্স সাহেবের কথা উল্লেখ করার মধ্যে পান্ডিত্য কি করে আসতে পারে? আপনি যদি এর মধ্যে আসলেই তার লেখা বা ডকুমেন্টারির সাথে পরিচিত না হয়ে থাকেন তবে সিরিয়াসলি পড়ুন। যে বিষয় নিয়ে আপনি আলোকপাত করার চেষ্টা করছেন তাতে তাঁর মত আলোচিত বর্তমান পৃথীবিতে আর কেউ আছে কিনা সন্দেহ আছে। তবে ডকিন্সের নাম বলাকে যেভাবে আপনি পান্ডিত্য বলছেন তাতে আপনার সদিচ্ছার ব্যপারে সংশয় দেখা দিতে পারে। তবে তারপরও বলছি যদি আসলেই তার লেখা পড়ে না থাকেন তবে পড়ুন। আপনি যা বলতে চাচ্ছেন সেটা কিভাবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা আর যৌক্তিকতার মাধ্যমে বলা যায় সেটা তার ডকুমেন্টারি থেকে জানতে পারবেন।
http://www.youtube.com/watch?v=TSrrpafMakU
পরের খন্ড গুলো এর সাথেই পাবেন।
আমি পন্ডিত নই। তবে জ্ঞানের ব্যপারে আমার কোন এলার্জিও নেই। তাই ডকিন্সের মত সমর্থন না করলেও তার চিন্তা আপনাকে অবলিলায় রিকমেন্ড করছি। আসলে যে কারনে ডকিন্সের নাম বললাম তা হচ্ছে তার "রুট অব অল এভিল" দেখলে যে কেউ বলতে পারবে আপনার এই পোস্টে কোন অরিজিনাল চিন্তা খুঁজে পাওয়া কঠিন। বরং তার মেসেজটাকে কাচা হাতে যেন কপি করার চেষ্টা করা হয়েছে। হয়ত অন্যকোন কপিকারকের কাছ থেকে।যার দরুন মূল আবেদন্ নষ্ট হয়ে গেছে অনেকখানি। ব্যপারটা কাকতাল হতে পারে। আশা করি তাই। আগের মন্তব্যে ভদ্রতা করেই এই অদ্ভুত মিলটার কথা বলিনি। আপনার মধ্যে চিন্তার সহনশিলতা থাকলে ধরে নিতাম "গ্রেট ম্যান থিং এলাইক"। কিন্তু লেখার ধরন আর (প্রতি)মন্তব্যের হাল দেখে ভাবতে কষ্ট হল। ভাল থাকুন। ভাল লিখুন।
লেখক বলেছেন: এ বিষয়ে আপাতত কোন মন্তব্য করতে চাইনা। সিরিজ তখন কথা হবে।
তবে লেখাটা কোথা থেকে কপি করিছি তার প্রমাণটা আপনি দিবেন বলে আশা করি। না পারলে ক্ষমা চাইবেন। আর যা তাও না পারেন তাহলে নিজের ভুলটা স্বীকার করবেন। যেমনটা আপনার পূর্বসূরী ম্যাক্সপেইন সাহেব করে গেছেন।
আপনার ব্লগটা দেখলাম। গত ০৫ মাসে আপনি ২টি লেখা দিয়েছেন। আর সাম্প্রতিক মন্তব্যের কলামে দেখলাম আপনার সব কমেনটগুলো আমার পোস্টে। বুঝা যায়, অন্তত এই নিকটাতে আপনি নিয়মিত না। অরিজিনাল নিকে আসতে হয়তো লজ্জা পান। যাহোক, আসল কথা হচ্ছে একজন পন্ডিত ব্যক্তি হয়ে আপনি কেন এই কাঁচা হাতের লেখাটাতে (আপনার মতে) এতো সময় কেন দিলেন বুঝলাম না।
নিরাভরন বলেছেন:
"লেখাটা কোথা থেকে কপি করিছি তার প্রমাণটা আপনি দিবেন বলে আশা করি। "আপনার লেখাটা কপি না কাঁচা হাতের তার কোনটিই নিয়েই আলোচনা করিনি। কিছু না বলতেই আহত হয়ে যাচ্ছেন? কি বলেছি তা ভাল করে বোঝার জন্য না হ্য় আবার একবার মন্তব্য পড়ে দেখুন।
নিক বলতে যদি ব্লগের নিক বোঝান তবে বলব একাধিক নিকের দরকার হয়ত তখনই পড়ে যখন ব্যক্তিগত রাগ সহব্লগারদের ওপর ঝাড়ার প্রবণতা থাকে।
সামুতে আমি তেমন লিখিনা। সচলায়তনে মাঝে মাঝে লিখি। তাও বড়াই করার মত কিছুনা।
পুনশ্চ: অনেক সময়ে চর্বিত-চর্বনকে পাঠকেরা কপি বলে ভুল করতে পারে। সেরকম হলে পাঠকের চেয়ে লেখকের দায়টাই কিন্তু বেশি। সেক্ষেত্রে রেফারেন্স দিয়ে লেখার চেষ্টা করা যায়।
লেখক বলেছেন: চর্বিত চর্বন চাবানের জন্যতো কোন ছাগলরে দাওয়াত দেইনাই। ছাগলডা কেল্লাইগা বার বার লেজ নাড়াইয়া ফিরা আহে।
নিরাভরন বলেছেন:
কান্ড দেখ! যেই কথাগুলা বলতে চাইনাই (চর্বিত-চর্বন, কপি, কাচা হাত.. ইত্যাদি) সেগুলা খুচায়ে বার করলেন, আবার দইরে ভাবলেন চুন, আর শেষমেষ গাইল পারলেন। মজা পাইলাম।আমি যদি আপনারে একটা টাকা দেই আপনি না নিলে টাকাটা আমারিত থাকল নাকি। এখন আপনার গালিটাও আমি নিলাম না। দেখেন কি দাড়ায়?
যাউগ্গা! ভাল থাকেন। আপনারে আর জ্বালামুনা, আমি একান্তই নির্বিষ মানুষ। তারপরও কাদায় পা আটকে একটু হয়ত বেসামাল হয়ে থাকব। সে রকম ব্যপারগুলোর জন্য দু:খ প্রকাশ করছি।
লেখক বলেছেন: "আমি যদি আপনারে একটা টাকা দেই আপনি না নিলে টাকাটা আমারিত থাকল নাকি। এখন আপনার গালিটাও আমি নিলাম না। দেখেন কি দাড়ায়?"
ডায়ালগটা সক্রেটিস নামক নাটকের। বহুবার আমি দেখছি। বিচারের সময়ে যখন কৌসুলী সক্রেটিস-কে জেরা করেন তখন তিনি উক্ত উক্তিটি করেছিলেন।
যাহোক, আপনার সঙ্গে কথা হচ্ছিল বিপরীতমুখী উগ্রতা নিয়ে। এ নিয়ে আমি আপনাকে একটা প্রশ্নও করেছিলাম। আপনি সেটাকে এড়িয়ে আমার লেখার মান যাচাইয়ে নেমে গেলেন।
ব্যবহারের জন্য দুঃখিত। তবে তার জন্য আপনিও সমান দায়ী।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

















আপনার সেক্যুলার শিক্ষা এ বিষয়ে কি বলে? পৃথিবীর কোন দেশে সেক্যুলারিজম সঠিক শিক্ষা দিতে পেরেছে একটু জানাবেন।