আমি একাগ্র চিত্তে শূন্যতাকে লালন করি। আমি অবলীলায় শব্দমালাকে, সঙ্গীকে, বন্ধনকে দূরে ঠেলি। শূন্যতাই আমার প্রথম এবং শেষ বন্ধন। শূন্যতাই আমার প্রথম ও শেষ লক্ষ্য। শূন্যতাই আমার চূড়ান্ত পরিনতি। শূন্যতা আমার অন্তরাত্মাকে একান্তই আমার নিজের করে। নিজেকে নিজের শ্রেষ্ঠবন্ধু বানায়।
আমি শূন্যতার দাস। আমি শূন্যতার সেবক। শূন্যতা বিশাল পৃথিবীর অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদানের চেয়ে আমার কাছে অধিক প্রার্থনীয়, অধিক ইর্ষণীয়। সে বিশালের চেয়েও বিশাল, মহতের চেয়েও মহত। বন্ধনের যেখানে শেষ, শূন্যতার সেখানে শুরু মাত্র। সে আমার খুশিকে শুদ্ধ করে, আমার দৈনন্দিন জীবনাচারণকে একান্তই আমার করে। জগতের আর কারো ভাগ নেই তাতে।
হ্যা, জগত হয়তো আমাকে স্বার্থপর, ভাববাদী, অবাস্তব বলে আখ্যা দিতে পারে। আমাকে হীন এবং দুষ্ট-আত্মা বলেও গালি দিতে পারে। আমার পরিবার, পরিজন এবং তথাকথিত বন্ধুরা আমাকে দায়িত্বহীন বলে ভৎসনা করতে পারে। কিন্তু আমিও জগতের সেই তথাকথিত মহত্ত্ব-কে দেখেছি। সমাজ ও পরিবারের তথাকথিত বন্ধন-কে দেখেছি। চলমান পৃথিবীর বাণিজ্যের মোড়কে মোড়ানো দায়িত্ববোধ-কেও দেখেছি। আসলে এগুলো সবই পোষাকী, সবই আনুষ্ঠানীকতা। ভদ্রতায় জড়ানো এই সুন্দর শব্দগুচ্ছের শেষ পরিনতি হচ্ছে একরাশ স্বার্থপরতা, একরাশ শূন্যতা।
আমি শূন্যতায় মজতে চাই। আমি শূন্যতায় মগ্ন থেকে শুধু নিজের মতকেই নিজের কাছে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। জগত হয়তো আমাকে নিজমতের দাস বলবে। কিন্তু আমিও জগতের পরমতসহিষ্ণুতা দেখেছি। জগতের পরমতসহিষ্ণুতা মানে আমার শক্তিকে স্বীকার কর, নচেৎ বহিস্কৃত হয়। তুমি অচল, তুমি প্রতিক্রিয়াশীল। কোন প্রয়োজন নেই তোমাকে এ প্রগতিশীল সমাজের, এ কল্যাণকামী রাষ্ট্রের। তুমি অস্তিত্বহীন হলেই প্রগতি, তোমাকে বরণ মানেই অধোগতি।
হে শূন্যতা! হে পরম মিত্র! আমাকে একান্তই শুধু তোমার কর। তোমার বিশাল ভূবনে আমাকে স্বার্থপরের ন্যায় একাকী বিচরণের অনুমতি দাও। জগতের সব বন্ধন, সব আনন্দ থেকে বিচ্ছিন্ন কর। হে পরম মিত্র! আমাকে তোমার বিশাল বলয়ে নিজের মতো করে আনন্দ সৃষ্টি করতে দাও। হে পরম মিত্র! হে শূন্যতা! আমাকে চিরদিনের জন্য শুধু তোমার কর।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

