মাননীয় নেত্রী, আপনার ক্ষমতায় আসার কিছুদিন পরের ঘটনা। এক সভায় সরকারি অর্থ সাশ্রয় এবং প্রশাসনে ধীরগতি এড়ানোর জন্য আপনি নাকি সচিববৃন্দকে মাত্রাতিরিক্ত বিদেশ সফর পরিহারের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। দেশের অন্যান্য আমজনতার মতই ঘটনাটি আমি চোখে দেখিনি, পত্রিকায় পড়েছি। সত্যমিথ্যা সাংবাদিক ভাইয়েরা বলতে পারবেন। তবে আপনার দপ্তর থেকে যেহেতু কোন প্রতিক্রিয়া আসেনি তাই ধরে নেয়া যায় সংবাদ বা ঘটনাটি মিথ্যা ছিলনা। সত্যমিথ্যা যাই হোক, আপনার নির্দেশনাটি সত্যিই প্রশংসনীয় এবং সাহসী ছিল। তাই মনে মনে আপনাকে সাধুবাদও জানিয়েছিলাম।
তবে আমার অন্তরের সাধুবাদটা যে অপাত্রে ব্যবহৃত হয়েছিল তা এখন বুঝতে পারছি। আমাদের দেশের সাপেক্ষে এটাই হয়তো স্বাভাবিক ছিল। কারণ এদেশের মানুষ নিজে যা করতে পারেনা তাই অন্যকে করার উপদেশ দেয়। সাহস করে বলেই ফেলি যে, আমার এ কথাগুলো আপনাকে উদ্দেশ্য করে। গতমাসে আপনি সুইজারল্যান্ড এবং আমেরিকাতে গেলেন। গতকালকে গেলেন সুইডেন। এরপরে যাবেন কাতার। আগামী মাসে যাচ্ছেন ভারত, ভুটান এবং নেপাল। একটি গরীব দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটা আপনার অজানা থাকার কথা নয় যে, আপনার এবং আপনার বিপুল সফরসঙ্গীদের এসব সফরে সরকারের তথা জনগণের কত টাকা ব্যয় হয়। সরকারি ব্যয়ের বিষয়টি ছাড়াও আপনার বিদেশ সফরে প্রশাসনে যে গতিহীনতা বা জড়তা সৃষ্টি হয় তাও আপনার অজানা থাকার কথা নয়। আপনার "জী হুজুর, জী আপা, জী নেত্রী" মার্কা ক্যাবিনেটের সদস্যরা যে আপনার অনুপস্থিতিতে সামান্য ক্লারিক্যাল সিদ্ধান্ত দেয়ার সাহসও রাখেননা তা আপনি ভাল করেই জানেন।
সাহস করে যখন এতো কথা বলেই ফেললাম তখন সাহসের মাত্রাটা একটু বাড়িয়ে আরেকটা কথা বলি। মাননীয় নেত্রী, দয়া করে একটু সময় নিয়ে আপনার পাশের দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রীপরিষদের আচার আচরণটা খেয়াল করুন। লক্ষ্য করলে দেখবেন যে দেশটির প্রধানমন্ত্রী একমাত্র যে সম্মেলনগুলোতে দেশের সরকার প্রধান না গেলেই সেসব সম্মেলনগুলোতেই যান। আপনি তিনমাসে যে কয়টি দেশে গেছেন ওনি সারা বছরেও এতোগুলো দেশ সফরে যাননা। আর মন্ত্রীপরিষদের সদস্যরা মন্দা কাটাতে ইকোনমি ক্লাসে ভ্রমণ করেন। বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসেবে দেশের আমজনতা যদি আপনার কাছ থেকেও একই আচরণ আশা করেন তা বোধ করি অযাচিত বা মাত্রাতিরিক্ত হবেনা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


