somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাননীয় নেত্রী, আপনি পৃথিবীর অন্যতম গরীব একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী

২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৩:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাননীয় নেত্রী, আপনার ক্ষমতায় আসার কিছুদিন পরের ঘটনা। এক সভায় সরকারি অর্থ সাশ্রয় এবং প্রশাসনে ধীরগতি এড়ানোর জন্য আপনি নাকি সচিববৃন্দকে মাত্রাতিরিক্ত বিদেশ সফর পরিহারের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। দেশের অন্যান্য আমজনতার মতই ঘটনাটি আমি চোখে দেখিনি, পত্রিকায় পড়েছি। সত্যমিথ্যা সাংবাদিক ভাইয়েরা বলতে পারবেন। তবে আপনার দপ্তর থেকে যেহেতু কোন প্রতিক্রিয়া আসেনি তাই ধরে নেয়া যায় সংবাদ বা ঘটনাটি মিথ্যা ছিলনা। সত্যমিথ্যা যাই হোক, আপনার নির্দেশনাটি সত্যিই প্রশংসনীয় এবং সাহসী ছিল। তাই মনে মনে আপনাকে সাধুবাদও জানিয়েছিলাম।

তবে আমার অন্তরের সাধুবাদটা যে অপাত্রে ব্যবহৃত হয়েছিল তা এখন বুঝতে পারছি। আমাদের দেশের সাপেক্ষে এটাই হয়তো স্বাভাবিক ছিল। কারণ এদেশের মানুষ নিজে যা করতে পারেনা তাই অন্যকে করার উপদেশ দেয়। সাহস করে বলেই ফেলি যে, আমার এ কথাগুলো আপনাকে উদ্দেশ্য করে। গতমাসে আপনি সুইজারল্যান্ড এবং আমেরিকাতে গেলেন। গতকালকে গেলেন সুইডেন। এরপরে যাবেন কাতার। আগামী মাসে যাচ্ছেন ভারত, ভুটান এবং নেপাল। একটি গরীব দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটা আপনার অজানা থাকার কথা নয় যে, আপনার এবং আপনার বিপুল সফরসঙ্গীদের এসব সফরে সরকারের তথা জনগণের কত টাকা ব্যয় হয়। সরকারি ব্যয়ের বিষয়টি ছাড়াও আপনার বিদেশ সফরে প্রশাসনে যে গতিহীনতা বা জড়তা সৃষ্টি হয় তাও আপনার অজানা থাকার কথা নয়। আপনার "জী হুজুর, জী আপা, জী নেত্রী" মার্কা ক্যাবিনেটের সদস্যরা যে আপনার অনুপস্থিতিতে সামান্য ক্লারিক্যাল সিদ্ধান্ত দেয়ার সাহসও রাখেননা তা আপনি ভাল করেই জানেন।

সাহস করে যখন এতো কথা বলেই ফেললাম তখন সাহসের মাত্রাটা একটু বাড়িয়ে আরেকটা কথা বলি। মাননীয় নেত্রী, দয়া করে একটু সময় নিয়ে আপনার পাশের দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রীপরিষদের আচার আচরণটা খেয়াল করুন। লক্ষ্য করলে দেখবেন যে দেশটির প্রধানমন্ত্রী একমাত্র যে সম্মেলনগুলোতে দেশের সরকার প্রধান না গেলেই সেসব সম্মেলনগুলোতেই যান। আপনি তিনমাসে যে কয়টি দেশে গেছেন ওনি সারা বছরেও এতোগুলো দেশ সফরে যাননা। আর মন্ত্রীপরিষদের সদস্যরা মন্দা কাটাতে ইকোনমি ক্লাসে ভ্রমণ করেন। বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসেবে দেশের আমজনতা যদি আপনার কাছ থেকেও একই আচরণ আশা করেন তা বোধ করি অযাচিত বা মাত্রাতিরিক্ত হবেনা।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৪:২৬
১১টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শরৎ বন্দনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯


শরৎ এলেই আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের ভেলা
দিনমণি আর মেঘমালার লুকোচুরি খেলা।

রুম ঝুমঝুম নূপুর পায়ে ছুটছে নদীর ঢেউ
ভাটিয়ালি গাইছে গান অচিন সুরে কেউ।

বিলে ঝিলে শাপলা পদ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×