somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রসঙ্গ ফেসবুকঃ দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল অনেক ভাল

৩০ শে মে, ২০১০ সকাল ১০:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফেসবুকে একটা একাউন্ট আমার আছে। তবে সেটার ব্যবহার কখনোই তেমন করা হয়নি। বন্ধুদের অনেককে ব্যবহার করতে দেখতাম। বলা যেতে পারে তাদের দেখাদেখিই এ জগতে প্রবেশ। তবে সত্যি বলতে রোমাঞ্চিত হওয়ার মতো কোন কিছু আমি সেখানে পাইনি। তৃতীয় বিশ্বের একটি দরিদ্র দেশের মানুষ হিসেবে আমার কাছে সর্বদাই সেটাই গ্রহণযোগ্য যা ব্যক্তির আর্থ-সামাজিক অবস্থার অন্তত ক্ষুদ্র পরিবর্তন হলেও ঘটায়। সে বিবেচনায় ফেসবুক না থাকলেও চলে। ফেসবুক না থাকলে দেশে আকাশ ভেঙ্গে পড়বেনা।

বলা হয় ফেসবুক সামাজিক বন্ধনের একটি মাধ্যম। কিন্তু কোন সামাজিক বন্ধন আমার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন? নিঃসন্দেহে আমার বাবা, মা ভাই, বোন, আত্মীয় বা নিকট প্রতিবেশী। পশ্চিমের দেখাদেখি বাবা, মা ভাই, বোন, আত্মীয় বা নিকট প্রতিবেশীদের আমরা ক্রমশ দূরে ঠেলে দিচ্ছি এবং ফেসবুকের মাধ্যমে নতুন বন্ধনের সৃষ্টি করতে চাচ্ছি যা আদৌতে অলীক, একে কখনই ছোয়া যাবেনা। সত্যিকারের সামাজিক বন্ধনকে জোরা লাগাবার মতো অনেক উপলক্ষ্য আমাদের আছে। আমরা বাবা, মা ভাই, বোন, আত্মীয় বা নিকট প্রতিবেশীদের আগের মতোই অর্থাৎ আমাদের পূর্বজদের মতো আপন করে নিতে পারি। এর জন্য প্রয়োজন তাঁদের প্রতি সহানুভূতি, সত্যিকারের ভালবাসা, তাঁদের সাথে মিশা, তাঁদের সুখ বা কষ্ট-কে একান্ত নিজের করে নেয়া। আর এটা কেবল তখনই অর্জিত হতে পারে যখন আমাদের ব্যস্ত সময় থেকে কিছু সময় বের করে তাদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ হব। সম্পর্ক বা বন্ধনের মূল হচ্ছে পরস্পরের সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকা যা নিঃসন্দেহে তথাকথিত ফেসবুকের মাধ্যমে সম্ভব নয়।

হ্যাঁ, ফেসবুক সামাজিক বন্ধন সৃষ্টি করে এবং তার কিছু নমুনাও আমরা দেখাতে পারি। বেশ কিছুদিন আগে পত্রিকায় দেখলাম এক মহিলা কবি আত্মহত্যা করেছেন। নৈতিকতার স্বার্থে আমি তাঁর নাম উল্লেখ করতে চাইনা। ভদ্রমহিলার স্বামী এবং দু'সন্তান বর্তমান। এতদসত্ত্বেও ফেসবুকের পরিচয়সূত্রে তিনি এক বিবাহিত আবৃতিকারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেন। ভদ্রলোক তাঁকে বিবাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে (যা প্রায়ক্ষেত্রেই ঘটে) তা থেকে পিছু হটেন। এ কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা মহিলা কবির ছিলনা। তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিলেন। ভুলে গেলেন তাঁর অনুপস্থিতিতে তাঁর অবুঝ দুৎসন্তানের কি পরিস্থিতি হতে পারে। পরবর্তীতে যথারীতি মানবতাবাদীদের আন্দোলন আর আবৃতিকারের নিজ দোষ অস্বীকার। এ কাহিনী বর্ণনার পিছনে এ ঘটনার জন্য কাউকে দোষী বা নির্দোষ প্রমাণের কোন ইচ্ছা আমার নেই। আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে কেবল ফেসবুক কি ধরণের সামাজিক সম্পর্ক সৃষ্টি করছে তার একটা ধারণা দেয়া। আপনি যদি হিসাব করেন তাহলে দেখবেন এটা সামাজিক বন্ধনের চেয়ে সামাজিক অস্থিতিশীলতাই বেশি সৃষ্টি করছে। পরকীয়া, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক, অসম সম্পর্ক, অলীক সম্পর্কগুলো ফেসবুকেরই অবদান।

ফেসবুক যে সামাজিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে প্রভাবকের ভুমিকা পালন করে তা একটু নিবিড় পর্যবেক্ষণ করলেই বুঝা যায়। প্রায়ই দেখবেন কোন ধর্ম প্রবর্তক-কে নিয়ে ব্যঙ্গ করার কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ফেসবুকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হয়। ক্ষেত্রবিশেষে নিষিদ্ধও করা হয়। ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয় কোন ধর্মকে ব্যঙ্গ করার জন্য নয় বরং তৃতীয় বিশ্বের ধর্মান্ধ দেশগুলোর মৌলবাদী শক্তিকে চাঙ্গা করে সেসব দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবেই এটা করা হয়।

বলা হয়ে থাকে ফেসবুক নাকি সামাজিক আন্দোলনের একটি মাধ্যম। হ্যাঁ, মাধ্যমই বটে। মার্কসের বিপ্লবী সমাজতন্ত্র যখন সমস্ত ইউরোপে সাড়া ফেলে তখন প্রোলেতারিয়েত বিপ্লবের কাছ থেকে নিজেদের নিরাপদ রাখার জন্য আমেরিকান বুদ্ধিজীবীদের প্ররোচনায় বৃটেনে ফেবিয়ান সোসাইটি নামক তথাকথিত একটি সমাজতান্ত্রিক সোসাইটি গড়ে তুলা হয়। তাঁরা তাদেরকে সমাজতন্ত্রী বলেই পরিচয় দিত। তবে পার্থক্য ছিল এই যে, তাঁরা বিপ্লবের পরিবর্তে ধীরগতিতে এবং গণতান্ত্রিক উপায়ে সমাজতন্ত্র কায়েমের স্বপ্ন দেখত। চিরস্থায়ী বিপ্লবের প্রবক্তা লিয়ন ট্রটস্কি এদের-কে আখ্যা দিয়েছিলেন ড্রয়িংরুম সমাজতন্ত্রী হিসেবে। তাঁর মতে এদের কাজ ছিল ড্রয়িংরুমে বসে সমাজতন্ত্র কায়েমের নামে প্রোলেতারিয়েত বিপ্লবকে অনুৎসাহিত করার মাধ্যমে বুর্জোয়াদের স্বার্থরক্ষা করা। ফেসবুকের সামাজিক আন্দোলনকেও ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে ড্রয়িংরুম বিলাস বলেই মনে হয়। এর কোন গন্তব্য নেই।

ফেসবুকের সার্বিক কর্মকান্ডের আলোকে এর কোন সামাজিক গুরুত্ব আছে বলে আমার কাছে মনে হয় না। একে নিষিদ্ধ করা কোন বড় ধরণের অকর্ম বলেও আমি মনে করিনা। বরং এর নিষিদ্ধের বিষয়টিকে আমি পরিচিত সেই বাংলা প্রবাদ অর্থাৎ ‍"দুষ্ট গুরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল অনেক ভাল" এর সাথেই তুলনা করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করব। এ কারণে কেউ যদি আমাকে রক্ষণশীল বলে চিহ্নিত করতে চান তাহলে বিনা দ্বিধায় এ অপবাদ মেনে নিতে আমার কোন আপত্তি নেই।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মে, ২০১০ সকাল ১০:৪৪
২০টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×