আমি কোন নিয়মিত ব্লগার না। তবে অনিয়মিত হলেও গত এক বছরে পঞ্চাশটিরও বেশি লেখা পোস্ট করা হয়েছে। পোস্টগুলো যে খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছে তা কোনক্রমেই বলা যাবেনা। তবে আমি তুষ্ট এই কারণে যে, আমি যা বিশ্বাস করি তাই অকপটে বলেছি। নিজের বিবেকের কাছে যা সত্য বা প্রাসঙ্গিক বলে মনে হয়েছে শুধুমাত্র তাঁর পক্ষেই বলেছি। পাঠক, পরিচিতজন বা সময়ের স্রোতকে খুশি করার চেষ্টা করিনি। নিজের ইচ্ছাকে বা দৃষ্টিভঙ্গিকে খুশি করেছি। আমার এই লেখাটিও তাঁর ব্যতিক্রম নয়।
পরশু রাতে বেগুনবাড়িতে একটি পাঁচতলা ভবন ধ্বসে পড়ায় এ পর্যন্ত ২২জন নিহত হয়েছে। আলমগীর নামে এক হতভাগা স্ত্রীসহ তিন সন্তান-কে হারিয়েছেন। স্ত্রী, সন্তানের মৃতদেহও এখনও মিলেনি। ঠিক এই মহুর্তে আমাদের জাতীয় জীবনে এই মর্মস্পর্শী ঘটনাটিই হতে পারত সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। এটাই হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু না তা হয়নি। শ্রেণীস্বার্থের কারণে এ সংবাদটি তেমন গুরুত্ব পায়নি। গুরুত্ব পেয়েছে গোষ্ঠীগত স্বার্থ অক্ষুন্ন রাখতে পারে এমন কয়েকটি সংবাদ।
আপনি যদি বিষয়টি ব্লগের সাপেক্ষ্যে তুলনা করেন তাহলে দেখবেন গতকালকের পোস্টগুলোর শতকরা ৯৫ শতাংশ পোস্টই ছিল মাহমুদুর রহমান বা তাঁর পত্রিকার সার্কুলেশন বাতিল হওয়া সংক্রান্ত। বেগুনবাড়ির মর্মস্পর্শী ঘটনাটি এখানে কোন পাত্তাই পায়নি। শ্রেণীস্বার্থের সাথে সংশ্লিষ্ট এ সংবাদিটিকে ফুলিয়ে ফাপিয়ে বড় করে দেখানোর এমন কোন প্রচেষ্টা নেই যা সংশ্লিষ্টরা করেননি। জনৈক মাহবুব মোর্শেদ নামের এক ব্লগারকে দেখলাম সরকারের এ সিদ্ধান্তকে রঙ্গ করে একটি পোস্ট দিতে। আবার তাঁর পোস্টটি প্রথম পাতায় থাকতেই কৌশিক নামের এক ব্লগারকে দেখা গেল তাঁকে (মাহবুব মোর্শেদ) তেলানোর জন্যই হোক বা বিষয়টি আরো আলোচিত করার জন্য একই পোস্টের বিষয়বস্তু নিয়ে আরেকটি পোস্ট দিতে। বিষয়টি হুজুগ নাকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তা বুঝা কষ্টকর।
মাহমুদুর রহমান কে আমি বিএনপিতে আশ্রয় নেয়া একজন জামাতপন্থী বুদ্ধিজীবী ছাড়া আর কিছুই মনে করিনা। জোট সরকারের সময়ে তিনি প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় প্রথমে বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান পরবর্তীতে একটি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রফেশনাল সাংবাদিকতার কোন অভিজ্ঞতা না থাকলেও দলীয় লেজুরবৃত্তির কারণে এখন তিনি একটি দলীয় পত্রিকার সম্পাদক। এ পত্রিকাটির মালিকও বহু বিতর্কিত এবং অবিসংবাদিত এক দুর্নীতিবাজ। তাঁর অপকর্মের ব্যাপারে কোন রাখঢাক নেই। ঠিক এ কারণে পত্রিকার মালিক বা সম্পাদকের প্রতি আমার কোন সহানুভুতি নেই। সহানুভুতি আছে শুধুমাত্র পত্রিকার সার্কুলেশন বাতিল হওয়ার কারণে যে সমস্ত সাংবাদিক বা কর্মকর্তারা তাঁদের চাকরী হারালেন তাঁদের প্রতি। পত্রিকার মালিক বা সম্পাদক মহোদয়ের প্রতি যদি সরকার আরো কঠোর হয় তাহলে তা আমাকে অখুশি করবেনা। কারণ গণতান্ত্রিক আচরণ তাঁরাই পেতে পারে যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। নরম জামাতীই হোক বা কঠোর জামাতীই হোক কিংবা মাহমুদুর রহমানের মতো আশ্রিত জামাতীই হোক তাঁদেরকে কঠোর হস্তে দমন করা সরকারের জন্য ফরজ।
কয়েকদিন আগে ঠিক এমনই ধরণের একটি হুজুগ সৃষ্টি হয়েছিল ফেসবুক বন্ধ করার কারণে। কতিপয়ের প্রতিক্রিয়া মনে হয়েছিল যে দেশে আকাশ ভেঙ্গে পড়ল, উন্নতি আর প্রগতির সব মাধ্যম বুঝি বন্ধ হয়ে গেল। না, কিছুই হয়নি। ফেসবুক বন্ধের কারণে অন্তত কেউ দু'বেলা না খেয়ে থাকেনি। যদি কেউ না খেয়ে থাকে তবে তা তাঁর দারিদ্রতার কারণে, ফেসবুক বন্ধ করার কারণে নয়।
বাংলা ব্লগের ইতিহাসটা খুব দীর্ঘ না হলেও অন্তত ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের কাছে এটি স্বল্পসময়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এই জনপ্রিয়তাটাকে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ব্যবহার করা বাঞ্চনীয়। এখানে জাতীয় জীবনের বিভিন্ন সমস্যা, সরকারের নীতি ও পরিকল্পনার দুর্বলতা, দুর্যোগের মহুর্তে সরকারের করণীয় এসব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। সমসাময়িক আলোচিত বিষয়গুলোও উপস্থাপিত হতে পারে। কিন্তু তা না করে কেউ যদি হুজুগ তুলে নিজেদের শ্রেণীস্বার্থে ব্লগটাকে ব্যবহার করতে চায় তবে একটি সময়ে দেখা যে এটি ঐ বিশেষ শ্রেণীর মুখপাত্রে পরিনত হয়েছে। আমার মনে হয় ব্লগের স্বার্থেই সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুন, ২০১০ সকাল ১০:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





