somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নাস্তিকতার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ প্রচারের মাধ্যমে প্রদীপের শেষ মুহুর্তে দপ করে জ্বলে ওঠার প্রচেষ্টা এবং এ প্রেক্ষিতে ব্লগ কর্তৃপক্ষের নিকট অনুরোধ

২৯ শে জুলাই, ২০১০ দুপুর ১২:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আপনারা যারা শহুরে জীবনে বেশি অভ্যস্ত হয়ে গেছেন তাঁদের হয়তো কেরোসিনের বাতির আচরণ সম্পর্কে কোন অভিজ্ঞতা নেই। কিংবা একসময়ে ব্যবহার করলেও এখন সময়ের পরিক্রমায় ঐ বাতির আচরণ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ। কিন্তু আমরা যারা একসময়ে গ্রামে ছিলাম বা এখনো যাই, যাদের সঙ্গে গ্রামজীবনের সম্পর্কটা অত্যন্ত নিবিড় তাঁদের কাছে কেরাসিনের বাতির আচরণ সম্পর্কে নতুনভাবে বলার কোন প্রয়োজন নেই। বাতিটার তেল যখন ফুরিয়ে আসে বা এর অস্তিত্ব যখন মুমূর্ষু পর্যায়ে চলে যায় তখন সে হঠাৎ অনেক আলো নিয়ে আওয়াজ সহকারে জ্বলে ওঠে। বাতিটির আচরণ সম্পর্কে যার পূর্ব ধারণা নেই, তিনি হয়তো এতে উৎকন্ঠিত হবেন না। কিন্তু যারা কোরোসিনের বাতির আচরণ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল তাঁরা নিশ্চিতভাবেই জানবেন যে এই অবস্থায় এটিই বাতিটির শেষ আলো। ঠিক এই অভিজ্ঞতা থেকেই আমাদের পূর্বজরা একটি প্রবচনের সৃষ্টি করেছেন যা লেখাটার শিরোনামে উল্লেখ আছে। বস্তুত এ প্রবচনের দ্বারা আমাদের পূর্বজরা এটাই বুঝাতে চেয়েছেন ব্যক্তির, সমাজ বা প্রতিষ্ঠানের অতিমাত্রায় বা মাত্রাতিরিক্ত মাতামাতি তাঁর বা তাদের আসন্ন সমাপ্তিরই ইঙ্গিত দেয়।

উচ্চ আদালত পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করেছেন। শুধু বাতিলই করেননি এই পঞ্চম সংশোধনী সংযোজনে যারা নিয়ামকের ভূমিকা পালন করেছেন তাঁদের শাস্তিরও সুপারিশ করেছেন। সরকার ইতোমধ্যেই আদালতের রায় বাস্তবায়ন ও অন্যান্য খুটিনাটি দিকসমূহ পর্যালোচনার জন্য একটি সংসদীয় কমিটি গঠন করেছে। সার্বিক অবস্থায় এটা পরিস্কার যে, আনুষ্ঠানীকভাবে পঞ্চম সংশোধনী বাতিল এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। পঞ্চম সংশোধনী বাতিল হলে বর্তমানে প্রচলিত সংবিধানে অনেক মৌলিক পরিবর্তন আসবে। তবে যে পরিবর্তনটির জন্য আমাদের সুধীসমাজ এতোদিন অপেক্ষা করে আছেন অর্থাৎ ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বা রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ- তা এই পঞ্চম সংশোধনী বাতিল হলে কার্যকর হবে। সংগত কারণেই প্রগতিশীল চিন্তা করেন এমন সম্প্রদায় তথা দেশের অধিকাংশ মানুষ এতে খুশি।

তবে একেবারে যে, এর বিপরীত চিন্তা নেই তা বলা যায়না। ধর্মকে নিয়ে ব্যবসা করেন, ধর্মকে আশ্রয় করে রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে চান এমন প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীটি এর বিরোধীতা করবেন বা এ প্রচেষ্টাটি থামিয়ে দিতে চাইবেন, এটাই স্বাভাবিক। খুশির খবর হচ্ছে যে, সরকার এদের বিষয়ে এবার অত্যন্ত সজাগ। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে সরকার যে ভুল করেছিল, এবার তাঁরা তা করবেনা তা তাঁদের প্রাথমিক আচরণেই বুঝা যাচ্ছে। সরকার প্রাথমিক অবস্থায়ই এ সমস্ত হায়েনাদের টুটি চেপে ধরার সমস্ত আয়োজন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করেছে। দেশের প্রগতিশীল ও বুদ্ধিজীবী সমাজও সরকারের এবারকার আচরণে তুষ্ট। গুটিকয়েক পত্রিকা আর বিচ্ছিন্ন কিছু প্রতিক্রিয়াশীল মানুষ ছাড়া তাঁদের পক্ষে এ অবধি কেউ কথা বলেননি। ভবিষ্যতেও বলবেননা, এমনটাই আশা করা যায়।

অর্থাৎ ঘরে-বাইরে সবখানে এই ধর্মভিত্তিক ব্যবাসায়ী শ্রেণীটি বিপর্যস্ত। সোজাবাংলায় বা খোলাভাবে বললে বলা যায়, পুরা দৌড়ের উপরে। এখন দৌড়াতে দৌড়াতে কোন কিনারা না পেয়ে আশ্রয় নিচ্ছে ব্লগ বা ফেসবুকের মতো সোশ্যাল নেওয়ার্কগুলোতে, চালিয়ে যাচ্ছে সংঘবদ্ধ প্রচার। আপনি যদি আজকে ব্লগের পাতাগুলো মনোযোগের সাথে পড়েন তাহলে এই সংঘবদ্ধ প্রচারের কিছুটা নমুনা পাবেন। আর এই প্রচার কাজে তাঁরা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন নাস্তিকতার বিরোধীতাকে। নাস্তিকতার বিরোধীতা করতে গিয়ে তাঁরা আদৌতে সবখানে বিতারিত ধর্মব্যবসা এই ব্লগে প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছেন এবং ব্লগকে অবলম্বন করে একটি প্রচার মাধ্যম গড়ে তুলতে চাইছে।

দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমরা আশা করতে পারি ব্লগ কর্তৃপক্ষ এ ধরণের হীন উদ্দেশ্যের মাধ্যমে হিসেবে ব্যবহৃত হবেন না তথা এদেরকে সর্বাত্মকভাবে প্রতিরোধ করবেন। দেশের সর্বোচ্চ আদালত যে রায় দিয়েছেন তা বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব শুধু সরকারের একার নয়। এ দায়িত্ব সরকারের পাশাপাশি গণমাধ্যম, প্রগতিশীল শ্রেণী, ছাত্র-শিক্ষক, সিভিল সার্ভেন্ট সহ বর্তমানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বহুল জনপ্রিয় সোশাল নেওয়ার্ক সাইটগুলোর উপরও বর্তায়। সে হিসেবে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের প্রতি সন্মান দেখানো এবং তাঁর নির্দেশনাকে বাস্তবায়নের দায়িত্ব জনপ্রিয় ব্লগসাইটগুলোরও। সে প্রেক্ষিত বিবেচনায় ধর্মান্ধ শ্রেণীটি যাতে ব্লগসাইটগুলোকে মাধ্যমে হিসেবে ব্যবহার করে, নাস্তিকতার বিরোধীতার নামে ধর্মভিত্তিক কোন সংঘবদ্ধ প্রচার না চালাতে তার প্রতি খেয়াল রাখা ব্লগ সাইটগুলোর আবশ্যিক দায়িত্ব। আমরা আশা করতে পারি সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের প্রতি সন্মান জানানোর স্বার্থেই তাঁরা তা করবেন।

পাদটিকাঃ ধর্মভিত্তিক একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী বর্তমান ক্ষমতাসীন দলেও আছেন। গত নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার জন্য সরকার এদের সঙ্গে আতাত করেছিল। আশা করব নৈতিকতার স্বার্থে সরকার এ গোষ্ঠীকে তাদের জোট হতে শুধু বিতারণই করবেনা বরং অন্যান্য ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর মতো নিষিদ্ধও করবেন। সরকারের যে কোন দ্বৈতাচরণ এ মুহুর্তে তাদের মহৎ উদ্দেশ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাশাপাশি নিঃসেন্দহে ব্যাহতও করবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুলাই, ২০১০ দুপুর ১২:১৬
১৮টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×