somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এবার তাহলে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমাটা বাড়ান

০২ রা জানুয়ারি, ২০১২ সকাল ৮:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের দেশে সরকার যখন কোন ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয় তখন এটাকে জায়েয বা শুদ্ধ করার জন্য সে বিষয়ে প্রতিবেশী দেশের একটি তুলনামুলক চিত্র উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন। যখন সরকার জ্বালানী তেলের দাম বৃদ্ধি করেন, যখন বাজার দর নিয়ে প্রশ্ন ওঠে তখন সরকার বা তাঁর অনুগতরা সামগ্রীক বিষয়টিকে যৌক্তিক করার জন্য প্রতিবেশী দেশের বাজার দর বা তাদের সিদ্ধান্ত-কে উদাহরণ হিসেবে টেনে আনেন। তবে এক্ষেত্রে বেমালুমভাবে ভুলে বা চেপে যাওয়া হয় প্রতিবেশী দেশটির মাথাপিছু আয়ের বিষয়টি। বস্তুত পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশেই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম আমাদের চাইতে হতে পারে। তাই বলে কিন্তু এটা বলা যাবেনা যে আমরা তাদের চেয়ে স্বস্তিতে আছি। কারণ এখানে দামের সাথে আরো যেটা বিবেচনায় আনা উচিত তা হচ্ছে জনগণের ক্রয়-সামর্থ্য।

সরকার সম্প্রতি সরকারি কর্মচারীদের অবসরের বয়সসীমা ৫৭ থেকে বাড়িয়ে ৫৯ করেছে। এক্ষেত্রে অনেকগুলো যুক্তির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে প্রতিবেশী দেশের কর্মচারীদের অবসরের বয়সসীমা। সরকারের মতে প্রতিবেশী দেশের কর্মচারীরা যদি ৬০ বছর পর্যন্ত চাকরী করার সুযোগ পান তবে আমাদের কর্মচারীরা কেন তা পাবেন না। ঠিক আছে, সরকার যদি মনে করে তার কর্মচারীরা ৫৯ বছর পর্যন্ত চাকরী করলে সে এবং কর্মচারী উভয়েরই লাভবান হবেন তবে সেক্ষেত্রে বলার কিছু নেই। তবে এক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্তে অন্যান্য যে পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে তা নিরসন করার দায়িত্বও সরকারের। সরকার হচ্ছে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় অভিভাবকত্বের চূড়ান্ত পর্যায়। একজন নীতিবান অভিভাবক যেমন তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন সবাইকে সমান দৃষ্টিতে দেখেন তেমনি সরকারেরও উচিত হবে তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন সকলকে সমভাবে সুবিধা দেয়া।

সরকারের এই সিদ্ধান্তে সমায়িকভাবে হয়তো বয়স্ক কিছু কর্মচারী বা কতিপয় উর্ধ্বতন আমলা লাভবান হবেন, তবে সামগ্রীকভাবে দেশে বেকার সমস্যা বৃদ্ধি পাবে। প্রাথমিকভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে যারা শিক্ষাজীবন সমাপ্ত করে বর্তমানে চাকরীতে প্রবেশের চেষ্টায় আছেন। স্বাভাবিকভাবে শিক্ষাজীবন সমাপ্ত করতে একজন শিক্ষার্থীর ২৫-২৭ বছর চলে যায়। উপরন্তু আগামী দু’বছরে স্বাভাবিক অবসরে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি একেবারে বন্ধ থাকার কারণে চাকরী প্রাপ্তিতে স্থবিরতা দেখা দিবে। কাজেই এখন যারা চাকরীতে প্রবেশের ক্ষেত্রে বয়সসীমার শেষ পর্যায়ে আছেন তাদের জন্য চাকরীর বয়সসীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি ক্ষতিকর।

চূড়ান্ত অভিভাবক হিসেবে সরকারের উচিত হবে এ সমস্ত চাকরি প্রার্থীদের দিকে বিশেষ নজর দেয়া। এক্ষেত্রে সমাধান হিসেবে সরকার চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা অন্তত দু’বছর বৃদ্ধি করতে পারেন। সরকার যেমন চাকরীর বয়সসীমা বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশের ব্যবস্থাকে উদাহরণ হিসেবে নিয়েছে তেমনি চাকরীতে প্রবেশের বয়সসীমার ক্ষেত্রেও প্রতিবেশী দেশের একটি রাজ্যের সিদ্ধান্তকে এদেশের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে পারেন। সম্প্রতি পশ্চিবঙ্গের রাজ্য সরকার তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর সরকারি চাকরিতে যোগদানের বয়স ৪০ বছর করেছে। এক্ষেত্রে আগের বয়সসীমার সাথে আট বছর বেশি করা হল। রাজ্য সরকারের এ সিদ্ধান্তে তফসিলি জাতি ও উপজাতির বয়সসীমা ৪২ থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৫ বছর। ওবিসি ও প্রতিবন্ধীদের বয়সসীমা ৪০ থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪৩ বছর।

বর্তমান প্রেক্ষিত বিবেচনায় সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি সংক্রান্ত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের উক্ত সিদ্ধান্তটি আমাদের দেশের ক্ষেত্রেও যথার্থভাবে প্রযোজ্য হতে পারে। সরকার যদি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের উল্লেখিত সিদ্ধান্তটি উদাহরণ হিসেবে গ্রহণ করে আমাদের দেশেও সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা অন্তত ২ বছর বৃদ্ধি করেন তাহলে সরকারি চাকরির বয়স বাড়ানোর কারণে ইমিডিয়েট ক্ষতিগ্রস্থরা কিছুটা হলেও তাদের ক্ষতিটা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পাবেন। সংগত কারণেই আমার মনে হয় এ বিষয়টা নিয়ে ভাববার মতো পর্যাপ্ত দায়বদ্ধতা সরকারের নীতি-নির্ধারকদের রয়েছে।
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×